Al-A'raf
আল-আরাফ: 104
7 আল-আরাফ Al-A'raf · 206 আয়াত الأعراف
মূল আরবি
وَقَالَ مُوسَىٰ يَـٰفِرْعَوْنُ إِنِّى رَسُولٌ مِّن رَّبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ
English Translations
And Moses said, "O Pharaoh, I am a messenger from the Lord of the worlds
And Musa (Moses) said: "O Fir'aun (Pharaoh)! I am a Messenger from the Lord of the 'Alamin (mankind, jinns and all that exists).
Mūsā said, “O Pharaoh, I am a messenger from the Lord of all the worlds;
And Moses said: '0 Pharaoh! I am a Messenger from the Lord of the universe.
Moses said: O Pharaoh! Lo! I am a messenger from the Lord of the Worlds,
Moses said: "O Pharaoh! I am a messenger from the Lord of the worlds,-
বাংলা অনুবাদ
মূসা বলেছিল, হে ফির‘আওন! আমি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত রসূল।
মূসা বলল, ‘হে ফির‘আউন, আমি তো সকল সৃষ্টির রবের পক্ষ থেকে রাসূল।’
মূসা বললঃ হে ফির‘আউন! আমি বিশ্বের রবের একজন রাসূল।
আর মূসা বললেন, ‘হে ফির’আউন! নিশ্চয় আমি সৃষ্টিকুলের রবের কাছ থেকে প্রেরিত।’
মূসা বলল: ‘হে ফির‘আউন! আমি তো জগতসমূহের প্রতিপালকের পক্ষ হতে প্রেরিত রাসূল।
১০৪. যখন আল্লাহ তা‘আলা মূসা (আলাইহিস-সালাম) কে ফিরআউনের নিকট পাঠালেন তখন তিনি বললেন: হে ফিরআউন! নিশ্চয়ই আমি সকল সৃষ্টির স্রষ্টা এবং তাদের মালিক ও তাদের সমূহ ব্যাপার নিয়ন্ত্রণকারী আল্লাহর পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল।
তাফসীর
১০৪-১০৬ নং আয়াতের তাফসীর: এখানে আল্লাহ তাআলা মূসা (আঃ) ও ফিরাউনের মধ্যকার মুনাযারা বা তর্ক-বিতর্কের সংবাদ দিচ্ছেন। ফিরাউনের দরবারে ও তার সম্প্রদায়ের কিবতীদের সামনে স্পষ্ট নিদর্শনাবলী প্রকাশ করা হচ্ছে এবং দলীল ও হুজ্জত পেশ করা হচ্ছে। মূসা (আঃ) ফিরাউনকে সম্বোধন করে বললেনঃ “হে ফিরাউন! আমি সেই আল্লাহর পক্ষ থেকে রাসূলরূপে প্রেরিত হয়েছি যিনি সারা জাহানের সৃষ্টিকর্তা এবং সব কিছুরই মালিক। আমার অবশ্য কর্তব্য হচ্ছে সত্য কথা পেশ করা। কেউ কেউ (আরবী) -এর অর্থ (আরবী) নিয়েছেন এবং বলেছেন যে, (আরবী) ও (আরবী) অক্ষর দু’টি একে অপরের পরিবর্তে এসে থাকে।
যেমন (আরবী) অথবা (আরবী) এবং (আরবী) বা (আরবী) ব্যবহৃত হয়। আবার কোন কোন মুফাসসির (আরবী) দ্বারা (আরবী) উদ্দেশ্য বা ভাব নিয়েছেন। অর্থাৎ 'আমি সত্য কথা বলারই লোভী। কোন কোন মাদানী মুফাসসির বলেন যে, এ শব্দটি (আরবী) না হয়ে (আরবী) হবে। তখন অর্থ হবে- “আমার উপর ওয়াজিব ও হক যে, আমি সত্য কথা ছাড়া অন্য কিছুই বলবো না। আমি আল্লাহর পক্ষ থেকে। অকাট্য দলীল প্রমাণাদি নিয়ে তোমাদের নিকট আগমন করেছি। বানী ইসরাঈলকে আমার সাথে দিয়ে দাও। তাদেরকে বন্দী জীবন থেকে মুক্তি দিয়ে স্বাধীন জীবন দান কর। কেননা, তারা হচ্ছে ইসরাঈল (আঃ) অর্থাৎ ইয়াকুব ইবনে ইসহাক (আঃ)-এর বংশধর।” তখন ফিরাউন বললো- “আমি তোমার রিসালাত ও নবুওয়াতের দাবী মানি না।
যদি তুমি সত্য সত্যই নবী হও এবং কোন মু'জিযা এনে থাক তবে তা প্রদর্শন কর। তাহলে তোমার কথা ও দাবী সত্য বলে মেনে নেয়া যেতে পারে।”
আর মূসা বললেন, ‘হে ফির’আউন [১]! নিশ্চয় আমি সৃষ্টিকুলের রবের কাছ থেকে প্রেরিত।’
[১] মিসরীয় শাসকরা শাসন ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হবার পর প্রত্যেকটি শাসক নিজেদের জন্য “ফিরআউন” (ফারাও) উপাধি গ্রহণ করে দেশবাসীর সামনে একথা প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করেছে যে, আমি-ই তোমাদের প্রধান রব বা মহাদেব। পরবর্তীতে ফিরআউন শব্দটি অহংকারী দাম্ভিক অর্থে ব্যবহৃত হতে থাকে। কেউ যদি অহংকারী ও দাম্ভিকতা প্রদর্শন করে তখন বলা হয়, (تَفَرْعَنَ فُلَانٌ) বা অমুক দাম্ভিকতা, অহংকার ও সীমালঙ্ঘনের চুড়ান্ত পর্যায়ে উপনীত হয়েছে। [কাশশাফ] কোন কোন মুফাসসির বলেন, প্রত্যেক চক্রান্তকারী ও ষড়যন্ত্রকারীকে (تَفَرْعَنَ) বলা হয়। [ফাতহুল কাদীর]
[সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ১০৪ থেকে ১১২] পূর্ণ পৃষ্ঠা
মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর আমি তাদের পরে প্রেরণ করেছি) অর্থাৎ নূহ, হূদ, সালিহ, লূত ও শুআইব (আলাইহিমুস সালাম)-এর পরে। (মূসা) অর্থাৎ মূসা ইবনে ইমরানকে (আমাদের নিদর্শনাবলি সহকারে) অর্থাৎ আমাদের মুজিজাসমূহ সহকারে। (অতঃপর তারা তার প্রতি জুলুম করল) অর্থাৎ তারা কুফরি করল এবং নিদর্শনগুলোকে সত্য বলে স্বীকার করল না। আর জুলুম হলো: কোনো বস্তুকে তার অযোগ্য স্থানে রাখা। মহান আল্লাহর বাণী: (অতএব লক্ষ্য করো, ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কেমন হয়েছিল) অর্থাৎ তাদের শেষ পরিণতি কী হয়েছিল। [সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ১০৪ থেকে ১১২]আর মূসা বলল, "হে ফেরাউন!
নিশ্চয়ই আমি বিশ্বজগতের রবের পক্ষ থেকে একজন রাসূল (১০৪)। আমি এ বিষয়ে সুদৃঢ় যে, আল্লাহ সম্বন্ধে সত্য ব্যতীত কিছু বলব না। তোমাদের রবের পক্ষ থেকে আমি তোমাদের কাছে সুস্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছি; সুতরাং বনী ইসরাঈলকে আমার সাথে পাঠিয়ে দাও (১০৫)। সে বলল, "তুমি যদি কোনো নিদর্শন নিয়ে এসে থাকো, তবে তা উপস্থাপন করো, যদি তুমি সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও" (১০৬)। অতঃপর তিনি তার লাঠি নিক্ষেপ করলেন, অমনি তা এক জলজ্যান্ত অজগরে পরিণত হলো (১০৭)। আর তিনি তার হাত বের করলেন, অমনি তা দর্শকদের কাছে শুভ্র উজ্জ্বল প্রতিভাত হলো (১০৮)।ফেরাউনের সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ বলল, "নিশ্চয়ই এ তো এক সুদক্ষ জাদুকর!" (১০৯)।
সে তোমাদেরকে তোমাদের দেশ থেকে বহিষ্কার করতে চায়; এখন তোমরা কী পরামর্শ দাও? (১১০)। তারা বলল, "তাকে ও তার ভাইকে অবকাশ দিন এবং শহরে শহরে সংগ্রাহকদের পাঠিয়ে দিন (১১১), তারা আপনার কাছে প্রত্যেক সুদক্ষ জাদুকরকে নিয়ে আসবে" (১১২)।"হাকীকুন আলা" এর অর্থ ওয়াজিব বা অপরিহার্য। আর যারা "আলা আল্লা" পাঠ করেছেন, তাদের নিকট এর অর্থ হলো: আমি যেন সত্য ব্যতীত কিছু না বলি সে বিষয়ে আমি অত্যন্ত যত্নশীল। আব্দুল্লাহর কিরাতে "আলা" বর্জন করে "হাকীকুন আল্লা আকুলা" রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন: এখানে "আলা" অব্যয়টি "বা" (অনুসর্গ) এর অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ "হাকীকুন বি-আল্লা আকুলা"।
অনুরুপভাবে উবাই ও আমাশের কিরাতে রয়েছে "বি-আল্লা আকুলা"। যেমন বলা হয়: "রামাইতু বিল কাওসি" এবং "আলাল কাওসি" (ধনুক দিয়ে নিক্ষেপ করলাম)। এই মতানুসারে "হাকীক" শব্দটি এখানে "মাহকুক" (যোগ্য বা সাব্যস্ত) অর্থে ব্যবহৃত। আর "সুতরাং বনী ইসরাঈলকে আমার সাথে পাঠিয়ে দাও" এর অর্থ হলো তাদের মুক্ত করে দাও। সে (ফেরাউন) তাদের দিয়ে কঠিন পরিশ্রমসাধ্য কাজ করাত। (অতঃপর তিনি তার লাঠি নিক্ষেপ করলেন) 'নিক্ষেপ করা' শব্দটি বস্তু ও ভাব উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। এর আলোচনা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আর "সু'বান" হলো বিশাল আকৃতির পুরুষ সাপ, যা সাপের মধ্যে সবচেয়ে বড়।
(সুস্পষ্ট/প্রকাশ্য)(১) 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে এরূপ রয়েছে। অন্যান্য মূল পাঠে রয়েছে: 'নামূদ'।(২) নাফে'-এর কিরাত।(৩) 'আইন' পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: 'তিনি তাদের ব্যস্ত রাখতেন'।(৪) দেখুন: ৪র্থ খণ্ড, পৃষ্ঠা ২৩২। [ ..... ]
