Al-A'raf
আল-আরাফ: 109
7 আল-আরাফ Al-A'raf · 206 আয়াত الأعراف
আরবি
قَالَ ٱلْمَلَأُ مِن قَوْمِ فِرْعَوْنَ إِنَّ هَـٰذَا لَسَـٰحِرٌ عَلِيمٌ
English Translations
Said the eminent among the people of Pharaoh, "Indeed, this is a learned magician
The chiefs of the people of Fir'aun (Pharaoh) said: "This is indeed a well-versed sorcerer;
The chiefs of the people of Pharaoh said, “This man is certainly a sorcerer of great knowledge.
The elders of Pharaoh's people said: 'Surely this man is a skilful magician
The chiefs of Pharaoh's people said: Lo! this is some knowing wizard,
Said the Chiefs of the people of Pharaoh: "This is indeed a sorcerer well-versed.
বাংলা অনুবাদ
ফির‘আওন গোষ্ঠীর প্রধানরা বলল, নিশ্চয় সে বিজ্ঞ যাদুকর।’
ফির‘আউনের কওমের সভাসদরা বলল, ‘নিশ্চয় এ হল বিজ্ঞ যাদুকর।’
ফির‘আউন সম্প্রদায়ের প্রধানরা বললঃ নিঃসন্দেহে এ ব্যক্তি বড় সুদক্ষ যাদুকর।
ফির’আউন সম্প্রদায়ের নেতারা বলল, ‘এ তো একজন সুদক্ষ জাদুকর,’
ফির‘আউন সম্প্রদায়ের প্রধানগণ বলল: ‘এ তো একজন সুদক্ষ জাদুকর,
১০৯. যখন নেতৃস্থানীয়রা মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর লাঠিটিকে সাপ এবং শ্বেত রোগ ছাড়া তাঁর হাতকে অধিক সাদা হতে দেখলো তখন তারা বললো: বস্তুতঃ মূসা যাদু বিদ্যায় শক্তিশালী একজন যাদুকরই মাত্র।
তাফসীর
১০৯-১১০ নং আয়াতের তাফসীর: যখন ঐ লোকদের ভয় দূরীভূত হলো এবং স্বাভাবিক অবস্থা ফিরে আসলো তখন ফিরাউন তার সভাষদবর্গকে একত্রিত করে বললোঃ মূসা তো একজন বড় সুদক্ষ যাদুকর। দরবারের লোকেরা সবাই তার কথা সমর্থন করলো এবং পরামর্শের জন্যে বসে পড়লো যে, এখন এই ব্যাপারে কি করা যায়? কিভাবে মূসা (আঃ)-এর আলো নিবিয়ে দেয়া যায়? কিরূপেই বা তাকে বশীভূত করা যায়? সে যে মিথ্যাবাদী এ কথা প্রমাণ করার তদবীর কি আছে? তারা আশঙ্কা করলো যে, জনগণ তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তার যাদুর দিকে ঝুঁকে পড়বে। ফলে তিনি জয়যুক্ত হবেন এবং তাদেরকে তাদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দিবেন। কিন্তু যে বিষয়ে তারা আশঙ্কা করছিল সেটাই হয়ে পড়লো। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ “ফিরাউন ও হামান ঐ ভয়েরই সম্মুখীন হলো যে ভয় তারা করছিল।” যখন ঐ লোকগুলো হযরত মূসা (আঃ)-এর ব্যাপারে পরামর্শের কাজ শেষ করলো তখন সর্বসম্মতিক্রমে তাদের একটা সিদ্ধান্ত গৃহীত হলো, যার বর্ণনা আল্লাহ তা'আলা নিম্নের আয়াতে দিচ্ছেন।
ফির’আউন সম্প্রদায়ের নেতারা বলল, ‘এ তো একজন সুদক্ষ জাদুকর [১],’
চৌদ্দতম রুকূ’
[১] (ملا) শব্দটি ব্যবহৃত হয় কোন সম্প্রদায়ের প্রভাবশালী নেতৃবর্গকে বুঝানোর জন্য। অর্থ হচ্ছে, ফিরআউন সম্প্রদায়ের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিরা এসব মু'জিযা দেখে তাদের সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে বললঃ এ যে বড় পারদর্শী জাদুকর। তার কারণ প্রত্যেকের চিন্তা তার নিজ যোগ্যতা অনুসারেই হয়ে থাকে। সে হতভাগারা আল্লাহর পরিপূর্ণ কুদরাত ও মহিমা সম্পর্কে কি বুঝবে, যারা জীবনভর ফিরআউনকে রব আর জাদুকরদেরকে নিজেদের পথপ্রদর্শক মনে করেছে এবং জাদুকরদের ভোজবাজীই দেখে এসেছে। কাজেই তারা এহেন বিস্ময়কর ঘটনা দেখার পর এছাড়া আর কিইবা বলতে পারত যে, এটা একটা মহাজাদু। কিন্তু তারাও এখানে (ساحر) এর সাথে (عليم) শব্দটি যোগ করে একথা প্রকাশ করে দিয়েছে যে, মূসা আলাইহিস সালামের মু'জিযা সম্পর্কে তাদের মনেও এ অনুভূতি জন্মেছিল যে, এ কাজটি সাধারণ জাদুকরদের কাজ থেকে স্বতন্ত্র ও ভিন্ন প্রকৃতির। এজন্যই স্বীকার করে নিয়েছে যে, তিনি বড়ই বিজ্ঞ জাদুকর।
বস্তুতঃ আল্লাহ্ তা'আলা সর্বযুগেই নবী-রাসূলগণের মু'জিযাসমূহকে এমনি ভঙ্গিতে প্রকাশ করেছেন যে, দর্শকবৃন্দ যদি সামান্যও চিন্তা করে আর হঠকারীতা অবলম্বন না করে তাহলে মু'জিযা ও জাদুর মাঝে যে পার্থক্য তা নিজেরাই বুঝতে পারে। জাদুকররা সাধারণতঃ অপবিত্রতা ও পঙ্কিলতার মধ্যে ডুবে থাকে। পঙ্কিলতা ও অপবিত্রতা যত বেশী হবে তাদের জাদুও তত বেশী কার্যকর হবে। পক্ষান্তরে পবিত্রতা ও পরিচ্ছন্নতা হল নবী-রাসূলগণের সহজাত অভ্যাস। তাছাড়া মু'জিযা সরাসরি আল্লাহ্ তা'আলার কুদরাতের কাজ। তাই কুরআনুল কারীমে এ বিষয়টিকে আল্লাহ্ তা'আলার সাথে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। যেমন (وَلٰكِنَّ اللّٰهَ رَمٰى) “এবং আল্লাহ তা'আলাই সে তীর নিক্ষেপ করেছিলেন”। [সূরা আল-আনফাল: ১৭]
সারমর্ম এই যে, ফিরআউনের সম্প্রদায়ও মূসা আলাইহিস সালামের মু'জিযাকে নিজেদের জাদুকরদের কার্যকলাপ থেকে কিছুটা স্বতন্ত্রই মনে করেছিল। সেজন্যই একথা বলতে বাধ্য হয়েছিল যে, এ তো বড় বিজ্ঞ জাদুকর, সাধারণ জাদুকররা যে এমন কাজ দেখাতে পারে না।
