Al-A'raf

আল-আরাফ: 205

7:205
টেক্সট কপি

মূল আরবি

وَٱذْكُر رَّبَّكَ فِى نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَخِيفَةً وَدُونَ ٱلْجَهْرِ مِنَ ٱلْقَوْلِ بِٱلْغُدُوِّ وَٱلْـَٔاصَالِ وَلَا تَكُن مِّنَ ٱلْغَـٰفِلِينَ

English Translations

Sahih International

And remember your Lord within yourself in humility and in fear without being apparent in speech - in the mornings and the evenings. And do not be among the heedless.

Muhsin Khan

And remember your Lord by your tongue and within yourself, humbly and with fear without loudness in words in the mornings, and in the afternoons and be not of those who are neglectful.

Taqi Usmani

Remember your Lord in your heart with humility and awe, and without speaking loudly, in mornings and evenings, and do not be among the heedless.

Abul Ala Maududi

And remember [O Prophet] your Lord in your mind, with humility and fear, and without raising your voice; remember Him in the morning and evening, and do not become of those who are negligent.

Pickthall

And do thou (O Muhammad) remember thy Lord within thyself humbly and with awe, below thy breath, at morn and evening. And be not thou of the neglectful.

Yusuf Ali

And do thou (O reader!) Bring thy Lord to remembrance in thy (very) soul, with humility and in reverence, without loudness in words, in the mornings and evenings; and be not thou of those who are unheedful.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

তোমার প্রতিপালককে মনে মনে বিনয়ের সঙ্গে ভয়-ভীতি সহকারে অনুচ্চস্বরে সকাল-সন্ধ্যায় স্মরণ কর আর উদাসীনদের দলভুক্ত হয়ো না।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর তুমি নিজ মনে আপন রবকে স্মরণ কর সকাল-সন্ধ্যায় অনুনয়-বিনয় ও ভীতি সহকারে এবং অনুচ্চ স্বরে। আর গাফেলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

শাইখ মুজিবুর রহমান

তোমার রাব্বকে মনে মনে সবিনয় ও সশংক চিত্তে অনুচ্চস্বরে প্রত্যুষে ও সন্ধ্যায় স্মরণ করবে, আর (হে নাবী!) তুমি এ ব্যাপারে গাফিল ও উদাসীন হয়ো না ।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর আপনি আপনার রবকে নিজ মনে স্মরণ করুন সবিনয়ে, সশংকচিত্তে ও অনুচ্চস্বরে, সকালে ও সন্ধ্যায়। আর উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।

ফাতহুল মাজীদ

তোমার প্রতিপালককে মনে মনে বিনয়ের সঙ্গে ভয়-ভীতিসহকারে অনুচ্চস্বরে সকাল-সন্ধ্যায় স্মরণ কর আর উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

মুখতাসার

২০৫. হে রাসূল! আপনি নিজ প্রতিপালককে স্মরণ করুন বিনয়ী, নম্র ও ভয়ার্ত হৃদয়ে। আর আপনি দিনের শুরু ও শেষে দু‘আর সময় না উঁচু স্বরে, না একেবারেই নিচু স্বরে বরং মধ্যম পন্থা অবলম্বন করুন। কারণ, এ দু’ সময়ের শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। উপরন্তু আল্লাহর স্মরণ থেকে কখনো গাফিল হবেন না।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

২০৫-২০৬ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে নির্দেশ দিচ্ছেন- দিনের প্রথমভাগে এবং শেষ ভাগে আল্লাহকে খুব বেশী বেশী করে স্মরণ কর। যেমন তিনি এই দু’ আয়াতের মাধ্যমে এই দু’সময়ে তার ইবাদত করার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলেছেনঃ সূর্যোদয়ের পূর্বে এবং অনুরূপভাবে সূর্যাস্তের পূর্বে আল্লাহর প্রশংসা ও গুণকীর্তন কর। এটা শবে মিরাজে পাঁচ ওয়াক্ত নামায ফরয হওয়ার পূর্বের কথা। এটি মাক্কী আয়াত । গুদুল্লুন শব্দের অর্থ হচ্ছে দিনের প্রথম ভাগ। আর (আরবী) শব্দটি (আরবী) শব্দের বহুবচন। যেমন (আরবী) শব্দের বহুবচন।অতঃপর নির্দেশ দেয়া হচ্ছে- তোমার প্রতিপালককে অন্তরেও স্মরণ কর এবং মুখেও স্মরণ কর।

তাঁকে ডাকো জান্নাতের আশা রেখেও এবং জাহান্নামের ভয় করেও। উচ্চশব্দে তাকে ডেকো না। মুসতাহাব এটাই যে, আল্লাহর যিকির হবে নিম্ন স্বরে, উচ্চৈঃস্বরে নয়। রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে জনগণ জিজ্ঞেস করেঃ “আল্লাহ আমাদের থেকে কাছে। রয়েছেন, না দূরে রয়েছেন? যদি তিনি নিকটে থাকেন তবে আমরা তাঁকে চুপে চুপে সম্বোধন করবো। আর যদি দূরে থাকেন তবে তাকে উচ্চৈঃস্বরে ডাকবো।” তখন আল্লাহ তা'আলা এ আয়াতটি অবতীর্ণ করেনঃ আমার বান্দারা তোমাকে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করছে (আমি নিকটে আছি না দূরে আছি), তুমি তাদেরক বলে দাও আমি খুবই নিকটে রয়েছি। যখন তারা আমাকে ডাকে তখন আমি তাদের ডাকে সাড়া দিয়ে থাকি।হযরত আবু মূসা আশআরী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, কোন এক সফরে জনগণ উচ্চশব্দে দুআ করতে শুরু করে।

তখন নবী (সঃ) বলেনঃ “হে লোক সকল। নিজেদের জীবনের উপর দয়া প্রদর্শন কর। তোমরা কোন বধির বা অনুপস্থিত সত্তাকে ডাকছো না । যাকে ডাকছো তিনি শুনতে রয়েছেন এবং তিনি নিকটে রয়েছেন। তিনি তোমাদের গ্রীবার শাহ্ রগ থেকেও নিকটে রয়েছেন।” এই আয়াতের ভাবার্থ নিম্নের আয়াতের মতও হতে পারে- “তোমরা দুআ ও নামায খুব উচ্চ শব্দেও পড়ো না এবং খুব নিম্ন শব্দেও না, বরং এর মাঝামাঝি শব্দে পড়।” কেননা, মুশরিকরা যখন কুরআন শুনতো তখন তারা কুরআনকে, কুরআন অবতীর্ণকারীকে এবং কুরআন আনয়নকারীকে ভালমন্দ বলতো। তখন আল্লাহ পাক নির্দেশ দান করলেনঃ তোমরা খুব উচ্চ শব্দে কুরআন পড়ো না যাতে মুশরিকরা কষ্ট না পায়।

আবার এতো নিম্ন স্বরেও পড়ো না যে, তোমার সঙ্গীও শুনতে পায় না। এই আয়াতে কারীমায় এই বিষয়ই রয়েছে- তোমরা তোমাদের সকাল-সন্ধ্যার ইবাদতে উচ্চ স্বরে পড়ো না এবং মূর্খদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যেয়ো না। উদ্দেশ্য হচ্ছে, কুরআনের শ্রোতাকে হুকুম দেয়া হবে যে, এই ঢঙ্গে নামায পড়া ও ইবাদত করা উচিত। এটা খুব দূরের কথা এবং এটা ধীরে পড়ার হুকুমের পরিপন্থী। আবার এর ভাবার্থ এটাও যে, এই হুকুম নামাযের সাথে সম্পর্কযুক্ত, যেমন পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। এটা নামায ও খুত্বার সাথে সম্পর্কযুক্ত। আর এটা স্পষ্ট কথা যে, এরূপ সময়ে যিকির অপেক্ষা নীবর থাকাটাই উত্তম।

এই যিকির উচ্চ স্বরেই হাক বা নিম্ন স্বরেই হাক। এ দু’জন যা বর্ণনা করেছেন তা অনুসৃত নয়। বরং উদ্দেশ্য হচ্ছে বান্দাদেরকে সকাল-সন্ধ্যা সব সময় অধিক যিকিরের কাজে উৎসাহিত ও উত্তেজিত করা। যেন তারা কোন অবস্থাতেই আল্লাহর যিকির থেকে বিস্মরণ না হয় এবং উদাসীন না থাকে। এ জন্যেই ঐসব ফেরেশতার প্রশংসা করা হয়েছে যারা সকাল-সন্ধ্যায় আল্লাহর যিকিরের কাজে ঔদাসীন্য প্রদর্শন করেন না। তাই আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যারা তোমার প্রভুর সান্নিধ্যে থাকে (অর্থাৎ ফেরেশতামণ্ডলী) তারা অহংকারে তার ইবাদত হতে বিমুখ হয় না। যেমন হাদীসে এসেছে“ফেরেশতারা যেমন আল্লাহর ইবাদতের জন্যে সারিবদ্ধভাবে দাড়িয়ে যান, তদ্রুপ তোমরা সারিবদ্ধভাবে দাঁড়াও না কেন।

প্রথম সারিওয়ালাদের অন্যান্য সারিওয়ালাদের উপর প্রাধান্য ও মর্যাদা রয়েছে। তাঁরা সারি বা কাতারকে সোজা করার প্রতি খুবই খেয়াল রাখতেন।” এখানে যে সিজদায়ে তিলাওয়াত রয়েছে এটা হচ্ছে কুরআনের সর্বপ্রথম সিজদায়ে তিলাওয়াত। এটা আদায় করা পাঠক ও শ্রোতা সবারই জন্যে শরীয়তসম্মত কাজ। এতে সমস্ত আলিম একমত । সুনানে ইবনে মাজাহ্র হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এই সিজদাহূকে কুরআন কারীমের সিজদাহ্ সমূহের অন্তর্ভুক্ত বলেছেন।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর আপনি আপনার রবকে নিজ মনে স্মরণ করুন [১] সবিনয়ে, সশংকচিত্তে ও অনুচ্চস্বরে , সকালে ও সন্ধ্যায়।আর উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না।

[১] স্মরণ করা অর্থ নামাযও এবং অন্যান্য ধরনের স্মরণ করাও। চাই মুখে মুখে বা মনে মনে যে কোনভাবেই তা হোক না কেন। সকাল-সাঝ বলতে সুনির্দিষ্টভাবে এ দু’টি সময়ও বুঝানো হয়ে থাকতে পারে। আর এ দু' সময়ে আল্লাহর স্মরণ বলতে বুঝানো হয়েছে সকালের ও বিকালের নামাযকে। [তাবারী] অনুরূপ অর্থে অপর সূরায় এসেছে, “এবং আপনার রবের সপ্রশংস পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করুন সূর্যোদয়ের আগে ও সূর্যাস্তের আগে” [সূরা কাফ: ৩৯] পক্ষান্তরে সকাল-সাঁঝ কথাটা “সর্বক্ষণ" অর্থেও ব্যবহৃত হয় [কাশশাফ] এবং তখন এর অর্থ হয় সবসময় আল্লাহর স্মরণে মশগুল থাকা। এর উদ্দেশ্য বর্ণনা প্রসংগে বলা হয়েছে, তোমাদের অবস্থা যেন গাফেলদের মত না হয়ে যায়।

দুনিয়ায় যা কিছু গোমরাহী ছড়িয়েছে এবং মানুষের নৈতিক চরিত্রে ও কর্মকাণ্ডে যে বিপর্যয়ই সৃষ্টি হয়েছে তার একমাত্র কারণ হচ্ছে, মানুষ ভুলে যায়, আল্লাহ তার রব, সে আল্লাহর বান্দা, দুনিয়ার জীবন শেষ হবার পর তাকে তার রবের কাছে হিসাব দিতে হবে।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ২০৫] পূর্ণ পৃষ্ঠা

মুজাহিদ (রহ.) থেকে আরও বর্ণিত হয়েছে যে: তারা সালাতের মধ্যে তাদের প্রয়োজনে কথাবার্তা বলত, ফলে আল্লাহ তাআলার এই বাণী নাযিল হয়: "যাতে তোমরা অনুগ্রহপ্রাপ্ত হও।" আর ইমামের পেছনে মুক্তাদীর কিরাআত পড়ার ব্যাপারে মতপার্থক্য সূরা আল-ফাতিহার আলোচনায় অতিবাহিত হয়েছে। আর জুমার খুতবার বিধান সূরা 'আল-জুমুআহ' (১)-তে আসবে, ইনশাআল্লাহ। ‌‌[সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ২০৫]আর তুমি তোমার প্রতিপালককে স্মরণ করো মনে মনে বিনয় ও ভীতি সহকারে এবং উচ্চৈঃস্বরে নয় এমন অনুচ্চ স্বরে, সকালে ও সন্ধ্যায়; আর তুমি গাফেল বা উদাসীনদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না (২০৫)আল্লাহ তাআলার বাণী: (আর তুমি তোমার প্রতিপালককে স্মরণ করো মনে মনে বিনয় ও ভীতি সহকারে); এর সমার্থবোধক আয়াত হলো: "তোমরা তোমাদের প্রতিপালককে বিনয় ও সংগোপনে ডাকো (২)", যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।

আবু জাফর আন-নাহহাস বলেন: "আর তুমি তোমার প্রতিপালককে স্মরণ করো মনে মনে"-এই আয়াতাংশের অর্থ যে দুআ করার ক্ষেত্রে, সে ব্যাপারে কোনো দ্বিমত নেই। আমি বলছি: ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, এখানে যিকির দ্বারা সালাতের কিরাআত উদ্দেশ্য করা হয়েছে। আর কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ হলো কুরআন পাঠ করো অনুধাবন ও চিন্তাগবেষণার সাথে। 'তাদাররুআন' (বিনয় সহকারে) শব্দটি একটি মাসদার (ক্রিয়ামূল), তবে এটি 'হাল' (অবস্থা) হিসেবেও ব্যবহৃত হতে পারে। 'খিফাতান' (ভীতি সহকারে) শব্দটি এর ওপর সমম্বিত হয়েছে। 'খিফাহ' শব্দের বহুবচন হলো 'খিওয়াফ', কারণ এটি 'খাওফ' (ভয়) অর্থেই ব্যবহৃত হয়—এটি নাহহাস উল্লেখ করেছেন।

'খিফাহ' শব্দের মূল রূপ ছিল 'খিওয়াহ্', কিন্তু পূর্ববর্তী বর্ণে কাসরা (জের) থাকায় 'ওয়াও' বর্ণটি 'ইয়া'-তে রূপান্তরিত হয়েছে। কোনো লোক যখন ভয় পায় তখন আরবী ক্রিয়ারূপে 'খাফা-ইয়াখাফু-খাওফান-ওয়া-খিফাতান-ওয়া-মাখাফাতান' বলা হয়, তখন তাকে বলা হয় 'খাইফ' (ভীত)। আর এর বহুবচন মূল রূপ অনুযায়ী 'খুওয়াফ' এবং শব্দরূপ অনুযায়ী 'খুইয়াফ' হয়ে থাকে। আল-ফাররা বর্ণনা করেছেন যে, 'খিফাহ' এর বহুবচনে 'খাইফ'ও বলা হয়। আল-জাওহারী বলেন: 'খিফাহ' অর্থ ভয়, যার বহুবচন হলো 'খিয়াফ' এবং এর মূলে ছিল 'ওয়াও'। (উচ্চৈঃস্বরে নয় এমন অনুচ্চ স্বরে) অর্থাৎ কথা বলার সময় আওয়াজ বেশি উঁচু না করা।

অর্থাৎ কেবল নিজেকে শোনানো, যেমনটি আল্লাহ বলেছেন: "এবং এর মধ্যবর্তী পথ অন্বেষণ করো (৩)", অর্থাৎ উচ্চৈঃস্বর ও অতি নিম্নস্বরের মাঝামাঝি পথ। এটি প্রমাণ করে যে, যিকিরের সময় উচ্চস্বরে চিৎকার করা নিষিদ্ধ, যা ইতিপূর্বে একাধিক স্থানে বর্ণিত হয়েছে। (সকালে ও সন্ধ্যায়); কাতাদাহ ও ইবনে যায়িদ বলেন: 'আল-আসাল' অর্থ বিকেল বা সন্ধ্যার সময়গুলো। আর 'আল-গুদুউ' হলো 'গুদওয়াহ' শব্দের বহুবচন। আবু মিজলায 'বি-আল-গুদুউয়ি ওয়া-আল-আইসাল' পড়েছেন, যা 'আসালনা' (আমরা সন্ধ্যায় উপনীত হয়েছি) ক্রিয়ার মাসদার। আর 'আল-আসাল' হলো 'উসুল' শব্দের বহুবচন, যেমন 'তুবুন' থেকে 'আত্নাব' হয়; সুতরাং এটি হলো বহুবচনের বহুবচন।

এর একবচন হলো 'আসীল', যার বহুবচন হয় 'উসুল'—এটি আয-যাজ্জাজ থেকে বর্ণিত।(১). ১৮ খণ্ড ৯৭ পৃষ্ঠা ও পরবর্তী অংশ দেখুন।(২). এই খণ্ডের ২২৩ পৃষ্ঠা দেখুন।(৩). ১০ খণ্ড ৩৪২ পৃষ্ঠা ও পরবর্তী অংশ দেখুন।

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা

অর্থাৎ আপনার কিরাআতের মাধ্যমে, যার ফলে মুশরিকরা তা শুনতে পায় এবং কুরআনকে গালি দেয়। আর আপনি আপনার নামাযে অতিশয় নিচু স্বর করবেন না আপনার সাহাবীদের নিকট থেকে, অন্যথায় তারা আপনার থেকে কুরআন গ্রহণ করতে পারবে না। আর এ দুয়ের মধ্যবর্তী পথ অন্বেষণ করুন তিনি বলেন: উচ্চস্বর ও নিচুস্বরের মাঝামাঝি একটি পথ।ইবনে ইসহাক, ইবনে জারীর, তাবারানী এবং ইবনে মারদাওয়াই ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন নামাযে উচ্চস্বরে কুরআন তিলাওয়াত করতেন, তখন মুশরিকরা তাঁর কাছ থেকে দূরে সরে যেত এবং তা শুনতে অস্বীকার করত।

ফলে কোনো ব্যক্তি যদি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নামাযে যা তিলাওয়াত করছেন তার কিছু অংশ শুনতে চাইত, তবে তাদের ভয়ে সে গোপনে কান পেতে শুনত। যদি সে দেখত যে মুশরিকরা বুঝতে পেরেছে যে সে শুনছে, তবে তাদের পক্ষ থেকে কষ্টের আশঙ্কায় সে চলে যেত এবং আর শুনত না।আবার যদি রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) স্বর নিচু করতেন, তবে যারা গোপনে তাঁর কিরাআত শুনতে চাইত তারা কিছুই শুনতে পেত না।তখন আল্লাহ নাযিল করেন: আর আপনার নামাযে অতি উচ্চস্বর করবেন না যাতে তারা আপনার থেকে দূরে সরে যায়, আর তাতে অতিশয় নিচু স্বরও করবেন না ফলে যারা তা গোপনে শুনতে চায় তাদের আপনি শোনাতে পারবেন না, অথচ হয়তো তারা যা শুনছে তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করে উপকৃত হতে পারত।

আর এ দুয়ের মধ্যবর্তী পথ অন্বেষণ করুন।ইবনে মারদাওয়াই ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মক্কায় উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করতেন, যার ফলে মুশরিকরা তাঁকে কষ্ট দিত। তখন আল্লাহ নাযিল করেন: আর আপনার নামাযে অতি উচ্চস্বর করবেন না।ইবনে আবি শায়বা 'আল-মুসান্নাফ'-এ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন কাবার নিকট নামায পড়তেন, তখন উচ্চস্বরে কিরাআত পাঠ করতেন। ফলে মুশরিকরা তাঁকে কষ্ট দিত। তখন অবতীর্ণ হয় আর আপনার নামাযে অতি উচ্চস্বর করবেন না—এই আয়াতটি।আবু দাউদ তাঁর 'নাসিখ'-এ এবং ইবনে মারদাওয়াই ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন নামায পড়তেন তখন উচ্চস্বরে শব্দ করতেন।

এতে মুশরিকরা কষ্ট দিত, ফলে তিনি এবং তাঁর সাহাবীগণ তাঁদের নামাযের শব্দ নিচু রাখতেন।সেজন্যই আল্লাহ বলেছেন: আর আপনার নামাযে অতি উচ্চস্বর করবেন না এবং তাতে অতিশয় নিচু স্বরও করবেন না। আর তিনি সূরা আল-আরাফে বলেছেন: আর আপনার রবকে মনে মনে স্মরণ করুন (সূরা আল-আরাফ, আয়াত: ২০৫) শেষ পর্যন্ত।তাবারানী এবং বায়হাকী তাঁর 'সুনান'-এ ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে আল্লাহর এই বাণী: আর আপনার নামাযে অতি উচ্চস্বর করবেন না এবং তাতে অতিশয় নিচু স্বরও করবেন না সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: কোনো ব্যক্তি যখন নামাযে দুআ করত তখন সে তার আওয়াজ অনেক উঁচু করে দিত।তাবারানী এবং ইবনে মারদাওয়াই ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: মুসাইলামাতুল কাযযাব নিজের নাম 'আর-রহমান' রেখেছিল।

তাই নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যখন নামাযে উচ্চস্বরে 'বিসমিল্লাহির রহমানির রাহীম' পাঠ করতেন, তখন মুশরিকরা বলত: তিনি ইয়ামামার ইলাহের (উপাসকের) উল্লেখ করছেন।তখন আল্লাহ নাযিল করেন: আর আপনার নামাযে অতি উচ্চস্বর করবেন না