Al-A'raf
আল-আরাফ: 115
7 আল-আরাফ Al-A'raf · 206 আয়াত الأعراف
মূল আরবি
قَالُوا۟ يَـٰمُوسَىٰٓ إِمَّآ أَن تُلْقِىَ وَإِمَّآ أَن نَّكُونَ نَحْنُ ٱلْمُلْقِينَ
English Translations
They said, "O Moses, either you throw [your staff], or we will be the ones to throw [first]."
They said: "O Musa (Moses)! Either you throw (first), or shall we have the (first) throw?"
They said, “O Mūsā, would you throw (first) or are we to throw?”
Then they said: '0 Moses, will you [first] throw your rod, or shall we throw?'
They said: O Moses! Either throw (first) or let us be the first throwers?
They said: "O Moses! wilt thou throw (first), or shall we have the (first) throw?"
বাংলা অনুবাদ
তারা বলল, ‘হে মূসা! তুমিই কি (প্রথমে যাদু) ছুঁড়বে, না আমরাই ছুঁড়ব?’
তারা বলল, ‘হে মূসা, হয় তুমি নিক্ষেপ করবে, নয়তো আমরাই নিক্ষেপ করব।’
অতঃপর যাদুকরেরা বললঃ হে মূসা! তুমি কি তোমার লাঠি নিক্ষেপ করবে, নাকি আমরাই (প্রথমে) নিক্ষেপ করব?
তারা বলল, ‘হে মূসা! তুমিই কি নিক্ষেপ করবে, না আমরাই নিক্ষেপ করব?’
তারা বলল: ‘হে মূসা! তুমিই কি নিক্ষেপ করবে, না আমরাই নিক্ষেপ করব?
১১৫. যাদুকররা মূসা (আলাইহিস-সালাম) এর বিপরীতে নিজেদের সফলতার ব্যাপারে আস্থাশীল হয়ে অহংকার করে বললো: হে মূসা! তুমিই বেছে নাও: তুমি কি প্রথমে যাদু দেখাবে, না আমরা দেখাবো?
তাফসীর
১১৫-১১৬ নং আয়াতের তাফসীর: এখানে হযরত মূসা (আঃ) ও যাদুকরদের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও সংগ্রাম সম্পর্কীয় কথোপকথনের বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। যাদুকররা হযরত মূসা (আঃ)-কে সম্বোধন করে বললোঃ “হে মূসা (আঃ)! তুমিই কি প্রথমে তোমার বিস্ময়কর বস্তু নিক্ষেপ করবে, না আমরাই প্রথমে নিক্ষেপ করবো?” হযরত মূসা (আঃ) উত্তরে বললেনঃ “তোমরাই প্রথমে নিক্ষেপ কর।” এতে মূসা (আঃ)-এর নিপুণতা এই ছিল যে, প্রথমে জনগণ যাদুকরদের কলাকৌশল পর্যবেক্ষণ করবে এবং ঐ ব্যাপারে চিন্তা গবেষণা করবে। যখন তাদের এই প্রতারণামূলক কার্যকলাপের মহড়া শেষ হবে তখন তারা হযরত মূসা (আঃ)-এর সত্য ও বাস্তব কার্যকলাপের দিকে মনোযোগ দেবে যার জন্যে তারা অপেক্ষমান ছিল এবং সেটা তখন স্পষ্টরূপে তাদের সামনে প্রকাশিত হয়ে পড়বে।
কেননা, সত্য ও বাস্তব জিনিস অনুসন্ধানের পর তা প্রাপ্ত হলে সেটা অন্তরের উপর বেশী দাগ কেটে থাকে। আর হলোও তাই। এখন আল্লাহ বলেনঃ “যখন যাদুকরগণ তাদের দড়ি ও লাঠিগুলো মাটিতে নিক্ষেপ করলো তখন তারা যাদুর মাধ্যমে দর্শকদের নযরবন্দী করে দিলো। তারা তখন এমনভাবে দেখতে থাকলো যে, যা কিছু তারা দেখতে আছে তা যেন সবই বাস্তব। অথচ ঐ লাঠিগুলো ও রজ্জ্বগুলো প্রকৃতপক্ষে লাঠি ও রজ্জ্বই ছিল। দর্শকদের শুধুমাত্র এটা ধারণা ও খেয়াল ছিল যে, ঐগুলো সাপ।” তাই ইরশাদ হচ্ছে- “তাদের যাদুর কারণে মনে হচ্ছিল যে, ওগুলো পিল পিল করে চলছে। এ দেখে মূসা (আঃ) আতংকিত হয়।
তখন আমি (আল্লাহ) বললাম, ভয় করো না, জয়যুক্ত তুমিই হবে। তোমার লাঠিখানা তুমিও মাটিতে ফেলে দাও। এটা সাপ হয়ে গিয়ে ঐ সাপগুলোকে গিলে ফেলবে। এ যাদু তো প্রতারণা মাত্র। এই যাদুকরগণ কৃতকার্য হতে পারে না।” মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (রঃ) বলেন যে, পনেরো হাজার যাদুকর সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়েছিল। প্রত্যেক যাদুকরের সাথেই দড়ি ও লাঠি ছিল। মূসা (আঃ) তার ভাই হারূন (আঃ)-কে নিয়ে লাঠি খাড়া করে বেরিয়ে পড়লেন এবং প্রতিযোগিতার মাঠে হাযির হলেন। ফিরাউন সভাষদবর্গসহ সিংহাসনে উপবিষ্ট ছিল। যাদুকরগণ সর্বপ্রথম যাদু দ্বারা হযরত মূসা (আঃ)-এর ন্যরবন্দী করে।
তারপর ফিরাউন ও জনগণের চোখে ভেলকি লাগিয়ে দেয়। তারপর প্রত্যেক যাদুকর স্বীয় রঞ্জু ও লাঠি নিক্ষেপ করে। ওগুলো সাপ হয়ে যায়। সারা ময়দান সাপে ভরে যায়। একের উপর এক পিল পিল করে চলতে থাকে। সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, যাদুকরদের সংখ্যা ছিল ত্রিশ হাজারেও বেশী। সবারই সাথে ছিল লাঠি ও রঞ্জু। সর্ব সাধারণেরও ন্যরবন্দী হয়ে যায়। সুতরাং মাঠের এই দৃশ্য দেখে সবাই ভীত হয়ে পড়ে। ইবনে আবি বাররাহ (রাঃ) বলেন যে, ফিরাউন সত্তর হাজার যাদুকরকে আহ্বান করেছিল। সর হাজার রঞ্জু ও সত্তর হাজার লাঠি সর্পের আকার ধারণ করে পিল পিল করে চলছিল। এ জন্যেই আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ তারা খুব বড় রকমের যাদু দেখিয়েছিল।
তারা বলল, ‘হে মূসা! তুমিই কি নিক্ষেপ করবে, না আমরাই নিক্ষেপ করব [১]?’
[১] অর্থাৎ প্রতিদ্বন্দিতার জন্য যখন মাঠে গিয়ে সবাই উপস্থিত, তখন জাদুকররা মূসা ‘আলাইহিস্ সালামকে বললঃ হয় আপনি প্রথমে নিক্ষেপ করুন অথবা আমরা প্রথম নিক্ষেপ করি। সম্ভবত তারা নিজেদের নিশ্চয়তা ও শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করার জন্যই তা বলেছিল। উদ্দেশ্য যেন এই যে, এ ব্যাপারে আমাদের কোন পরোয়াই নেই, যে ইচ্ছা প্রথমে তার কর্মকাণ্ড প্রদর্শন করুক। মূসা ‘আলাইহিস্ সালাম তাদের উদ্দেশ্য উপলব্ধি করে নিয়ে নিজের মু’জিযা সম্পর্কে আশ্বস্ততার দরুন প্রথম তাদেরকেই সুযোগ দিলেন। বললেন, “তোমরাই প্রথমে নিক্ষেপ কর”। কারণ, তাদের কর্মকাণ্ডের পর মু’জিযা বের হলে সেটা তাদের অন্তরে কঠোরভাবে রেখাপাত করতে বাধ্য হবে। [ইবন কাসীর; সা’দী]
[সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ১১৫ থেকে ১১৭] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ১১৫ থেকে ১১৭]তারা বলল, “হে মুসা! হয় তুমি নিক্ষেপ কর, অথবা আমরাই প্রথমে নিক্ষেপ করি।” (১১৫) তিনি বললেন, “তোমরাই নিক্ষেপ কর।” অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল, তখন তারা মানুষের চোখকে জাদুগ্রস্ত করল, তাদের মনে ভীতির সঞ্চার করল এবং তারা এক বিশাল জাদু প্রদর্শন করল। (১১৬) আর আমি মুসার প্রতি ওহী পাঠালাম, “তুমি তোমার লাঠিটি নিক্ষেপ কর।” অতঃপর হঠাৎ সেটি তাদের অলীক সৃষ্টিগুলোকে গ্রাস করতে লাগল। (১১৭)তারা মুসা (আলাইহিস সালাম)-এর প্রতি শিষ্টাচার প্রদর্শন করেছিল, আর এটিই ছিল তাদের ঈমান আনার কারণ। কিসায়ী এবং ফাররা-র মতে, “আন” (أن) শব্দটি এখানে নাসব-এর (কর্মকারক) স্থানে রয়েছে; যার অর্থ হলো: হয় তুমি নিক্ষেপের কাজ করবে।
এর সাদৃশ্য পাওয়া যায় কবির এই উক্তিতে:তারা বলল আরোহণের কথা, আমরা বললাম এটাই আমাদের অভ্যাস «১» তিনি বললেন, “তোমরাই নিক্ষেপ কর।” ফাররা বলেন: এখানে বাক্যে একটি অংশ উহ্য রয়েছে। এর অর্থ হলো: মুসা তাদের বললেন, নিশ্চয়ই তোমরা তোমাদের রবের ওপর বিজয়ী হতে পারবে না এবং তাঁর নিদর্শনসমূহকে বাতিল করতে পারবে না। এটি কুরআনের সেই মুজিজাসম্মত অলঙ্কারশাস্ত্রের অন্তর্ভুক্ত যার সদৃশ মানুষের কথায় পাওয়া যায় না এবং তারা এর ওপর সক্ষমও নয়। এখানে অতি সামান্য শব্দের মাধ্যমে অনেক ব্যাপক অর্থ প্রকাশ করা হয়েছে। অন্যমতে, এটি ছিল এক প্রকার হুমকি। অর্থাৎ তোমরা নিক্ষেপ শুরু করো, শীঘ্রই তোমরা তোমাদের ওপর আপতিত লাঞ্ছনা দেখতে পাবে; কারণ মুসার পক্ষে তাদের জাদুর আদেশ দেওয়া জায়েজ নয়।
আবার বলা হয়েছে: তিনি তাদের মিথ্যা ও জালিয়াতি প্রকাশ করে দেওয়ার জন্যই তাদের তা করার আদেশ দিয়েছিলেন। (অতঃপর যখন তারা নিক্ষেপ করল) অর্থাৎ রশি ও লাঠিগুলো (তারা মানুষের চোখকে জাদুগ্রস্ত করল) অর্থাৎ তারা মানুষের দৃষ্টির সামনে বিভ্রম তৈরি করল এবং চোখের সঠিক উপলব্ধিকে বিভ্রান্ত করল এমন এক প্রবঞ্চনার মাধ্যমে যা ভেলকিবাজি ও হাতের কৌশলের ন্যায় কাজ করে। যেমনটি ইতিপূর্বে সূরা বাকারায় বর্ণনা করা হয়েছে। (বিশাল) শব্দের অর্থ হলো তাদের নিকট তা বিশাল মনে হয়েছিল, কারণ তা ছিল পরিমাণে অনেক; কিন্তু বাস্তবে তা বিশাল ছিল না। ইবনে যায়েদ বলেন: এই সমাবেশটি আলেকজান্দ্রিয়ায় হয়েছিল, আর সেই সাপের লেজ হ্রদের ওপারে পৌঁছে গিয়েছিল।
অন্য একজন বলেছেন: সেটি মুখ হা করল এবং তাদের নিক্ষিপ্ত রশি ও লাঠিগুলো গিলতে শুরু করল। আরও বলা হয়েছে: তারা যা নিক্ষেপ করেছিল তা ছিল চামড়ার তৈরি রশি যার ভেতরে পারদ ভরা ছিল, ফলে সেগুলো নড়াচড়া করছিল এবং তারা বলেছিল এগুলো জীবন্ত সাপ। হাফস ‘তালকাফু’ শব্দটি ল্যাম অক্ষরে সুকুন ও হালকা উচ্চারণে পড়েছেন। তিনি একে ‘লাকিফা ইয়ালকাফু’ এর ভবিষ্যৎ রূপ হিসেবে গণ্য করেছেন। নাহহাস বলেন: এই কিরাআত অনুযায়ী ‘তিলকাফু’ পড়াও জায়েজ, কারণ এটি ‘লাকিফা’ ক্রিয়ামূল থেকে আগত। আর অবশিষ্ট কিরাআত বিশেষজ্ঞগণ ল্যাম অক্ষরে তাশদীদ ও ফাতহা দিয়ে ‘তাল্লাক্কাফু’ পড়েছেন এবং একে ‘তাতালাক্কাফু’-এর সংক্ষেপিত রূপ ধরেছেন।
বলা হয়: ‘লাকিফতুশ শাইআ’ এবং ‘তালাক্কাফতুহু’ যখন আমি কোনো কিছু ধরলাম বা গিলে ফেললাম। দ্রুত ধরা এবং গ্রাস করা।(১) এটি একটি কবিতার চরণের প্রথমাংশ, যার পূর্ণরূপ হলো: অথবা অবতরণ করা, নিশ্চয়ই আমরা অবতরণকারী কওম। ‘বা’ পাণ্ডুলিপিতে রয়েছে: ‘অতঃপর আমি বললাম এটি’।(২). দ্রষ্টব্য: ২য় খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪৩।
