Al-A'raf
আল-আরাফ: 178
7 আল-আরাফ Al-A'raf · 206 আয়াত الأعراف
মূল আরবি
مَن يَهْدِ ٱللَّهُ فَهُوَ ٱلْمُهْتَدِى ۖ وَمَن يُضْلِلْ فَأُو۟لَـٰٓئِكَ هُمُ ٱلْخَـٰسِرُونَ
English Translations
Whoever Allāh guides - he is the [rightly] guided; and whoever He sends astray - it is those who are the losers.
Whomsoever Allah guides, he is the guided one, and whomsoever He sends astray, those! They are the losers.
The one whom Allah gives guidance is the one on the right path. As for those whom Allah lets go astray, those are the losers.
He whom Allah guides, he alone is rightly guided; and he whom Allah lets go astray - it is they who are the loser.'
He whom Allah leadeth, he indeed is led aright, while he whom Allah sendeth astray - they indeed are losers.
Whom Allah doth guide,- he is on the right path: whom He rejects from His guidance,- such are the persons who perish.
বাংলা অনুবাদ
আল্লাহ যাকে হিদায়াত করেন সেই হিদায়াত লাভ করে, আর যাকে পথভ্রষ্ট করেন তারাই হয় ক্ষতিগ্রস্ত।
যাকে আল্লাহ হিদায়াত করেন সে-ই হিদায়াতপ্রাপ্ত আর যাদেরকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
আল্লাহ যাকে পথ দেখান সে’ই পথ প্রাপ্ত হয়, আর যাকে তিনি পথ প্রদর্শন হতে বঞ্চিত করেন সে ব্যর্থ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আল্লাহ যাকে পথ দেখান সে-ই পথ পায় এবং যাদেরকে তিনি বিপথগামী করেন তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
আল্লাহ তা‘আলা যাকে সুপথ দেখান সে-ই পথ প্রাপ্ত এবং যাদেরকে তিনি বিপথগামী করেন তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
১৭৮. যাকে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সঠিক পথের উপর চলার তাওফীক দিয়েছেন সেই হলো সত্যিকারার্থে হিদায়েতপ্রাপ্ত। আর যারা সত্যিকারার্থে নিজেরাই নিজেদেরকে অধিকার বঞ্চিত করেছে তিনি তাদেরকে সত্য পথ থেকে দূরে সরিয়ে দিবেন। তারা কিয়ামতের দিন নিজেদেরকে ও নিজেদের পরিবারকে ক্ষতির সম্মুখীন করবে। মূলতঃ সেটিই হবে সুস্পষ্ট ও অসামান্য ক্ষতিসাধন।
তাফসীর
আল্লাহ তা'আলা এখানে বলেন যে, যাকে তিনি সুপথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না। আর যাকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন, কার এমন শক্তি আছে যে, তাকে পথ দেখাতে পারে? আল্লাহ যা চান তাই হয় এবং তিনি যা চান না তা হয় না। এ জন্যেই ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর হাদীসে বর্ণিত হয়েছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “সমস্ত প্রশংসা আল্লাহরই জন্যে। আমরা তার প্রশংসা করছি; তাঁরই কাছে সাহায্য চাচ্ছি, তারই নিকট হিদায়াত কামনা করছি এবং তাঁরই কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি। আমরা আমাদের নফসের অকল্যাণ হতে তাঁর নিকট আশ্রয় চাচ্ছি এবং মন্দ আমল হতেও আশ্রয় প্রার্থনা করছি। আল্লাহ যাকে পথ প্রদর্শন করেন তাকে কেউ পথভ্রষ্ট করতে পারে না এবং যাকে আল্লাহ পথভ্রষ্ট করেন তাকে কেউ পথ দেখাতে পারে না।
আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মাবুদ নেই। তিনি এক । তাঁর কোন অংশীদার নেই। আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, মুহাম্মাদ (সঃ) তাঁর বান্দা ও রাসূল।” (এ হাদীসটি ইমাম আহমাদ (রঃ) ও আহলুস্ সুনান (রঃ) সম্পূর্ণরূপে বর্ণনা করেছেন)
আল্লাহ যাকে পথ দেখান সে-ই পথ পায় এবং যাদেরকে তিনি বিপথগামী করেন তারাই ক্ষতিগ্রস্ত [১]।
[১] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর সৃষ্টিকে অন্ধকারে সৃষ্টি করেছেন। তারপর সেসবের উপর আপন নূরের জ্যোতি ফেললেন। যার উপর সে জ্যোতি পড়েছে সে হেদায়াতপ্রাপ্ত হবে আর যার উপর সে জ্যোতি পড়েনি সে পথভ্রষ্ট হবে। এজন্য আমি বলি, আল্লাহর জ্ঞানের উপর লিখে কলম শুকিয়ে গেছে।“ [তিরমিযীঃ ২৬৪২]
[সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ১৭৮] পূর্ণ পৃষ্ঠা
মহান আল্লাহর বাণী: (সেটি সেই সম্প্রদায়ের উদাহরণ যারা আমাদের নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করেছে। সুতরাং আপনি কাহিনী বর্ণনা করুন যাতে তারা চিন্তা করে। সেই সম্প্রদায়ের উদাহরণ কতই না নিকৃষ্ট যারা আমাদের নিদর্শনসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং তারা নিজেদের ওপরই জুলুম করত) অর্থাৎ এটি সকল কাফিরের উদাহরণ। আর তাঁর বাণী: "সেই সম্প্রদায়ের উদাহরণ কতই না নিকৃষ্ট"; বলা হয়: 'সা-আ' অর্থ কোনো কিছু মন্দ হওয়া, যা একটি অকর্মক ক্রিয়া। আর যখন এটি সকর্মক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, তখন এর অর্থ হয় যে তাদের উদাহরণ নিকৃষ্ট হয়েছে। আর এর প্রচ্ছন্ন রূপ হলো: 'সা-আ মাসালান মাসালুল কাওমি', যেখানে মুদাফ (সম্বন্ধপদ) বিলুপ্ত করা হয়েছে এবং 'মাসালান' শব্দটি তাময়িয হিসেবে মানসুব (যবরযুক্ত) হয়েছে।
আখফাশ বলেন: এখানে রূপকার্থে উদাহরণকেই কওম বা সম্প্রদায় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। আর 'আল-ক্বাওমু' শব্দটি মুবতাদা হিসেবে মারফু (পেশযুক্ত) হয়েছে অথবা কোনো উহ্য মুবতাদার খবর হিসেবে। এর প্রচ্ছন্ন রূপ হলো: 'সা-আল মাসালু মাসালান হুয়া মাসালুল ক্বাওমি'। আবু আলী এর প্রচ্ছন্ন রূপ দিয়েছেন: 'সা-আ মাসালান মাসালুল ক্বাওমি'। আসিম আল-জাহদারী এবং আমাশ 'সা-আ মাসালুল ক্বাওমি' পাঠ করেছেন, যেখানে 'মাসালুন' শব্দটি 'সা-আ' ক্রিয়ার কারণে রাফ' প্রাপ্ত হয়েছে। [সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ১৭৮]আল্লাহ যাকে হিদায়াত দান করেন সে-ই সৎপথপ্রাপ্ত, আর যাদেরকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।
(১৭৮)এর অর্থ ইতিপূর্বে অন্য স্থানে বর্ণিত হয়েছে। এই আয়াতটি কাদারিয়াহ সম্প্রদায়ের মতবাদকে খণ্ডন করে যেমনটি আগে অতিক্রান্ত হয়েছে, এবং তাদের মতকেও প্রত্যাখ্যান করে যারা বলে যে, আল্লাহ তাআলা সকল মুকাল্লাফকে (দায়িত্বশীল বান্দা) হিদায়াত দিয়েছেন এবং তাঁর পক্ষে কাউকে পথভ্রষ্ট করা বৈধ নয়। [সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ১৭৯]আর আমি বহু জিন ও মানুষকে জাহান্নামের জন্য সৃষ্টি করেছি; তাদের অন্তর রয়েছে কিন্তু তা দিয়ে তারা উপলব্ধি করে না, তাদের চোখ রয়েছে কিন্তু তা দিয়ে তারা দেখে না এবং তাদের কান রয়েছে কিন্তু তা দিয়ে তারা শোনে না। তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো, বরং তারা আরও বেশি পথভ্রষ্ট।
তারাই হলো গাফেল বা অসতর্ক। (১৭৯)আল্লাহ তাআলা সংবাদ দিয়েছেন যে, তিনি তাঁর ন্যায়বিচার অনুযায়ী জাহান্নামের জন্য একদল অধিবাসী সৃষ্টি করেছেন। অতঃপর তাদের বর্ণনা দিয়ে বলেছেন: "তাদের অন্তর রয়েছে কিন্তু তা দিয়ে তারা উপলব্ধি করে না" অর্থাৎ তারা এমন ব্যক্তির স্তরে যারা বোঝে না, কারণ তারা তা থেকে উপকৃত হয় না, তারা সওয়াব সম্পর্কে অনুধাবন করে না এবং শাস্তিকে ভয় পায় না। (তাদের চোখ রয়েছে যা দিয়ে তারা দেখে না) অর্থাৎ হিদায়াত দেখে না। (আর তাদের কান রয়েছে যা দিয়ে তারা শোনে না) অর্থাৎ উপদেশসমূহ শোনে না। এর উদ্দেশ্য তাদের ইন্দ্রিয়সমূহ থেকে সামগ্রিকভাবে অনুধাবন শক্তি অস্বীকার করা নয়, যেমনটি আমরা সূরা বাকারায় (১) বর্ণনা করেছি।
(তারা চতুষ্পদ জন্তুর মতো বরং তারা আরও বেশি পথভ্রষ্ট) কারণ তারা সওয়াবের দিকে পথ পায় না, তাই তারা চতুষ্পদ জন্তুর ন্যায়; অর্থাৎ তাদের মূল লক্ষ্য কেবল আহার ও পান। আর তারা আরও বেশি পথভ্রষ্ট কারণ চতুষ্পদ জন্তুরা অন্তত তাদের উপকারিতা বুঝতে পারে...(১). দেখুন: ১ম খণ্ড, ২১৪ পৃষ্ঠা।
