Al-A'raf
আল-আরাফ: 12
7 আল-আরাফ Al-A'raf · 206 আয়াত الأعراف
মূল আরবি
قَالَ مَا مَنَعَكَ أَلَّا تَسْجُدَ إِذْ أَمَرْتُكَ ۖ قَالَ أَنَا۠ خَيْرٌ مِّنْهُ خَلَقْتَنِى مِن نَّارٍ وَخَلَقْتَهُۥ مِن طِينٍ
English Translations
[Allāh] said, "What prevented you from prostrating when I commanded you?" [Satan] said, "I am better than him. You created me from fire and created him from clay [i.e., earth]."
(Allah) said: "What prevented you (O Iblis) that you did not prostrate, when I commanded you?" Iblis said: "I am better than him (Adam), You created me from fire, and him You created from clay."
Allah said, “What has prevented you from prostrating when I ordered you?” He said, “I am better than him. You have created me of fire, and created him of clay.”
Allah said: 'What prevented you from prostrating, when I commanded you to do so?' He said: 'I am better than he. You created me from fire, and him You created from clay.'
He said: What hindered thee that thou didst not fall prostrate when I bade thee? (Iblis) said: I am better than him. Thou createdst me of fire while him Thou didst create of mud.
(Allah) said: "What prevented thee from prostrating when I commanded thee?" He said: "I am better than he: Thou didst create me from fire, and him from clay."
বাংলা অনুবাদ
(আল্লাহ) বললেন, ‘আমি নির্দেশ দেয়ার পরেও কিসে তোকে সাজদাহ থেকে নিবৃত্ত রাখল?’ সে বলল, ‘আমি তার চেয়ে উত্তম, আমাকে সৃষ্টি করেছ আগুন থেকে আর তাকে সৃষ্টি করেছ কাদা থেকে।’
তিনি বললেন, ‘কিসে তোমাকে বাধা দিয়েছে যে, সিজদা করছ না, যখন আমি তোমাকে নির্দেশ দিয়েছি’? সে বলল, ‘আমি তার চেয়ে উত্তম। আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন কাদামাটি থেকে’।
তিনি (আল্লাহ) তাকে (ইবলীসকে) জিজ্ঞেস করলেনঃ আমি যখন তোকে সাজদাহ (আদমকে) করতে আদেশ করলাম তখন কোন বস্তু তোকে নত শির হতে নিবৃত্ত করল? সে উত্তরে বললঃ আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ, আপনি আমাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করেছেন, আর তাকে সৃষ্টি করেছেন কাদামাটি দ্বারা।
তিনি বললেন, ‘আমি যখন তোমাকে আদেশ দিলাম তখন কি তোমাকে নিবৃত্ত করল যে, তুমি সিজদা করলে না?’ সে বলল, ‘আমি তার চেয়ে শ্ৰেষ্ঠ; আপনি আমাকে আগুন দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে কাদামাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন।
তিনি (আল্লাহ) বললেন: ‘আমি যখন তোমাকে আদেশ দিলাম তখন কিসে তোমাকে সিজদাহ দিতে বারণ করল?’ সে বলল: ‘আমি তার অপেক্ষা উত্তম; আপনি আমাকে অগ্নি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে কর্দম দ্বারা সৃষ্টি করেছেন।
১২. আল্লাহ তা‘আলা ইবলিসকে ধমক দিয়ে বললেন: আদমকে সাজদাহ দেয়ার আদেশ মানার ক্ষেত্রে কী তোমাকে বাধা দিয়েছে? ইবলিস তার প্রতিপালকের প্রশ্নের উত্তরে বললো: আমাকে তা করতে এ কথাই বাধা দিয়েছে যে, আমি তার চেয়ে উত্তম। কারণ, আপনি আমাকে আগুন দিয়ে তৈরি করেছেন আর তাকে কাদা মাটি দিয়ে। অথচ আগুন কাদা মাটির চেয়ে বেশি সম্মানী।
তাফসীর
কোন কোন আরবী ব্যাকরণবিদের উক্তি অনুসারে (আরবী)-এই স্থানে (আরবী) শব্দটি অতিরিক্ত এবং একে ইনকার বা অস্বীকৃতির প্রতি গুরুত্ব আরোপের জন্যে আনা হয়েছে। যেমন কোন কবি বলেছেন(আরবী) এখানে (আরবী) -শব্দটি (আরবী)-এর জন্যে এসেছে এবং একে (আরবী)-এর উপর গুরুত্ব বুঝাবার জন্যে আনা হয়েছে। এখানে যেন (আরবী) শব্দটি অতিরিক্ত। (আরবী) আল্লাহ পাকের এই উক্তিটি এর পূর্বেই এসেছে। ইবনে জারীর (রঃ)-এর উক্তি এই যে, (আরবী) অন্য একটি (আরবী) -এর অন্তর্ভুক্ত। যার অর্থ হবে“কোন জিনিসটি তোমাকে বাধ্য করেছিল যে, তুমি সিজদা করবে না, অথচ আমার নির্দেশ বিদ্যমান ছিল?” এ উক্তিটি সবল ও উত্তম।
আল্লাহ তাআলাই এসব বিষয়ে সবচেয়ে ভাল জানেন। ইবলীস উত্তরে বলেছিল-“আমি আদম (আঃ)-এর চেয়ে উত্তম ও শ্রেষ্ঠ। আর যে শ্রেষ্ঠ সে এমন কাউকে সিজদা করতে পারে না যার উপর তার শ্রেষ্ঠত্ব রয়েছে। সুতরাং আমার প্রতি আদম (আঃ)-এর সিজদা করার হুকুম হল কেন?” সে দলীল পেশ করেছিল যে, তাকে আগুন দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে। আর আগুন হচ্ছে মাটি হতে বেশী মর্যাদা সম্পন্ন যা দ্বারা আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে। সে লক্ষ্য করেছে উপাদানের প্রতি, কিন্তু ঐ শরীফ আদম (আঃ)-এর প্রতি লক্ষ্য করেনি যাকে মহান আল্লাহ নিজ হাতে সৃষ্টি করেছেন এবং তার মধ্যে স্বীয় রূহ ভরে দিয়েছেন!
সে একটা বিকৃত অনুমান কায়েম করেছে যা মহান আল্লাহর প্রকাশ্য হুকুমের বিরোধী।মোটকথা, সমস্ত ফেরেস্তা সিজদায় পড়ে গেলেন। ইবলীস সিজদা না করার কারণে ফেরেশতাদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লো এবং আল্লাহ তা'আলার অনুগ্রহ হতে নিরাশ হয়ে গেল। এই নৈরাশ্য প্রকৃতপক্ষে হচ্ছে তার নিজের ভুলেরই প্রতিফল এবং সে কিয়াস বা অনুমানেও ভুল করেছিল। তার দাবী ছিল এই যে, আগুন মাটি হতে শ্রেষ্ঠ। কিন্তু মাটির শান হচ্ছে ধৈর্য, সহিষ্ণুতা, নম্রতা এবং কাজে স্থিরতা। তা ছাড়া মাটি হচ্ছে উদ্ভিদ ও লতাপাতা জন্মিবার স্থান। আগুনের শান হচ্ছে পুড়িয়ে দেয়া, ইন্দ্রিয়াবেগ এবং দ্রুততা।
ইবলীসের উপাদান তার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। আর আদম (আঃ)-এর উপাদান রুজু, অপারগতা এবং আনুগত্য স্বীকার করে তার উপকার সাধন করেছিল । হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “ফেরেশতাদেরকে নূর দ্বারা সৃষ্টি করা হয়েছে, ইবলীসকে সৃষ্টি করা হয়েছে। অগ্নিশিখা দ্বারা, আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি করা হয়েছে মাটি দ্বারা এবং হ্রদেরকে সৃষ্টি করা হয়েছে যাফরান দ্বারা।” ইবলীস কিয়াস বা অনুমান কায়েমকারী। আর সূর্য ও চন্দ্রের ইবাদতও কিয়াসের উপর ভিত্তি করেই শুরু হয়।
তিনি বললেন, ‘আমি যখন তোমাকে আদেশ দিলাম তখন কি তোমাকে নিবৃত্ত করল যে, তুমি সিজদা করলে না?’ সে বলল, ‘আমি তার চেয়ে শ্ৰেষ্ঠ; আপনি আমাকে আগুন দিয়ে সৃষ্টি করেছেন এবং তাকে কাদামাটি দিয়ে সৃষ্টি করেছেন [১]।
[১] এ আয়াত থেকে প্রমাণিত হচ্ছে যে, ইবলীসকে আল্লাহ্ তা'আলা আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন। আর যদি ইবলীসকে সমস্ত জিন জাতির পিতা বলা হয়, তখন তো এ ব্যাপারে আর কোন কথাই থাকে না। কারণ অন্যান্য আয়াতেও জিন জাতিকে আগুন থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আল্লাহ বলেন, “আর এর আগে আমরা সৃষ্টি করেছি জিনদেরকে অতি উষ্ণ নিধুম আগুন থেকে" [সূরা আল-হিজর:২৭] তাছাড়া অন্যত্র আরও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, জিন জাতিকে ‘মারেজ’ থেকে সৃষ্টি করা হয়েছে। আর ‘মারেজ’ হচ্ছে, নির্ধুম অগ্নিশিখা। আল্লাহ বলেন, “এবং জিনকে সৃষ্টি করেছেন নির্ধুম আগুনের শিখা হতে " [সূরা আর-রহমান ১৫] [আদওয়াউল বায়ান]
[سورة الأعراف (7): آية 12] পূর্ণ পৃষ্ঠা
এরপর আমরা তোমাদের অবয়ব দান করেছি যখন আমরা তোমাদের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলাম। এটি মুজাহিদের উক্তি, যা তাঁর থেকে ইবনে জুরাইজ ও ইবনে আবি নাজিহ বর্ণনা করেছেন। আন-নাহহাস বলেন: এটিই সর্বাপেক্ষা উত্তম অভিমত। মুজাহিদ মনে করেন যে, আল্লাহ তাআলা তাঁদের আদমের পৃষ্ঠদেশে সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর যখন তাঁদের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেন তখন তাঁদের অবয়ব দান করেন, আর সেজদার বিষয়টি ছিল এর পরে। একে শক্তিশালী করে আল্লাহর এই বাণী: "আর যখন আপনার পালনকর্তা বনী আদমের পৃষ্ঠদেশ থেকে তাঁদের বংশধরদের বের করলেন..."। আর হাদিসে রয়েছে: "নিশ্চয়ই তিনি তাঁদের ক্ষুদ্র অণু বা পিপীলিকার ন্যায় বের করেছিলেন এবং তাঁদের নিকট থেকে অঙ্গীকার গ্রহণ করেছিলেন।" আবার বলা হয়েছে যে, "অতঃপর" শব্দটি এখানে কেবল সংবাদ প্রদানের ধারাবাহিকতা বুঝাতে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ "নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছি" অর্থাৎ আদমের পৃষ্ঠদেশে থাকাকালীন, "অতঃপর তোমাদের অবয়ব দান করেছি" অর্থাৎ মাতৃগর্ভে থাকাকালীন।
আন-নাহহাস বলেন: এটি ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বিশুদ্ধভাবে বর্ণিত। আমি (গ্রন্থকার) বলি: এই সকল অভিমতেরই সম্ভাবনা রয়েছে, তবে এগুলোর মধ্যে সেটিই সঠিক যা পবিত্র কোরআনের আয়াত দ্বারা সমর্থিত। আল্লাহ তাআলা বলেন: "অবশ্যই আমি মানুষকে মাটির নির্যাস থেকে সৃষ্টি করেছি" অর্থাৎ আদমকে। তিনি আরও বলেন: "এবং তিনি তা থেকে তাঁর জোড়া সৃষ্টি করেছেন।" অতঃপর তিনি বলেছেন: "আমরা তাকে করেছি" অর্থাৎ তাঁর বংশধর ও সন্তানসন্ততিকে "এক সুরক্ষিত আধারে শুক্রবিন্দু হিসেবে" (আয়াতাংশ)। সুতরাং আদম মাটি থেকে সৃষ্টি হয়েছেন, অতঃপর তাঁকে আকৃতি প্রদান করা হয়েছে এবং সেজদার মাধ্যমে তাঁকে সম্মানিত করা হয়েছে।
আর তাঁর বংশধরদের আকৃতি প্রদান করা হয়েছে মায়েদের জরায়ুতে—তাঁদের সেখানে সৃষ্টি করার পর এবং পিতাদের পৃষ্ঠদেশে থাকাকালীন। সুরা আল-আনআমের শুরুতে ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে যে, প্রত্যেক মানুষ শুক্রবিন্দু ও মাটি থেকে সৃষ্টি; সুতরাং তা নিয়ে চিন্তা করুন। আল্লাহ এখানে বলেছেন: "আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছি, অতঃপর তোমাদের আকৃতি দান করেছি", আবার সুরা হাশরের শেষে বলেছেন: "তিনিই আল্লাহ, স্রষ্টা, উদ্ভাবক ও রূপদানকারী।" এখানে তিনি অস্তিত্বে আনার পর রূপদানের কথা উল্লেখ করেছেন। ইনশাআল্লাহ সামনে এর বিস্তারিত বর্ণনা আসবে। আরও বলা হয়েছে যে, "অবশ্যই আমরা তোমাদের সৃষ্টি করেছি" এর অর্থ হলো—প্রথমে আমরা আত্মাগুলোকে সৃষ্টি করেছি এবং পরিশেষে দেহসমূহের আকৃতি দান করেছি।
আল্লাহ তাআলার বাণী: (ইবলিস ব্যতীত, সে সেজদাকারীদের অন্তর্ভুক্ত ছিল না) এটি ভিন্ন জাতীয় ব্যতিক্রম। আবার বলা হয়েছে এটি সমজাতীয় ব্যতিক্রম। ওলামায়ে কেরাম এই বিষয়ে মতভেদ করেছেন যে, সে ফেরেশতাদের অন্তর্ভুক্ত ছিল কি না; যেমনটি সুরা আল-বাকারায় পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। [সুরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ১২]তিনি বললেন, "আমি যখন তোমাকে নির্দেশ দিলাম, তখন কিসে তোমাকে সেজদা করতে বাধা দিল?" সে বলল, "আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ; আপনি আমাকে আগুন থেকে সৃষ্টি করেছেন আর তাকে সৃষ্টি করেছেন কাদা থেকে" (১২)(১). এই খণ্ডের ৩১৩ পৃষ্ঠা দেখুন।(২). ১২তম খণ্ডের ১০৮ পৃষ্ঠা দেখুন।(৩).
৪ নম্বর খণ্ডের ১ পৃষ্ঠা দেখুন।(৪). ১২তম খণ্ডের ১০৮ পৃষ্ঠা দেখুন।(৫). ৬ষ্ঠ খণ্ডের ৩৮৮ পৃষ্ঠা দেখুন।(৬). ১৮তম খণ্ডের ৪৮ পৃষ্ঠা দেখুন।(৭). ১ম খণ্ডের ২৯ পৃষ্ঠা দেখুন।
