Al-A'raf
আল-আরাফ: 68
7 আল-আরাফ Al-A'raf · 206 আয়াত الأعراف
মূল আরবি
أُبَلِّغُكُمْ رِسَـٰلَـٰتِ رَبِّى وَأَنَا۠ لَكُمْ نَاصِحٌ أَمِينٌ
English Translations
I convey to you the messages of my Lord, and I am to you a trustworthy adviser.
"I convey unto you the Messages of my Lord, and I am a trustworthy adviser (or well-wisher) for you.
I convey to you the messages of my Lord; and I am an honest well-wisher for you.
I convey to you the messages of my Lord, and I give you sincere advice.
I convey unto you the messages of my Lord and am for you a true adviser.
"I but fulfil towards you the duties of my Lord's mission: I am to you a sincere and trustworthy adviser.
বাংলা অনুবাদ
‘আমি তোমাদের কাছে আমার প্রতিপালকের বাণী পৌঁছে দিচ্ছি, আর আমি তোমাদের বিশ্বস্ত কল্যাণকামী।
‘আমি তোমাদের নিকট আমার রবের রিসালাতসমূহ পৌঁছাচ্ছি, আর আমি তোমাদের জন্য কল্যাণকামী বিশ্বস্ত’।
আমি আমার রবের বার্তা তোমাদের নিকট পৌঁছে দিচ্ছি, আর আমি তোমাদের একজন বিশ্বস্ত হিতাকাংখী ।
‘আমি আমার রবের রিসালাত (যা দিয়ে আমাকে পাঠানো হয়েছে তা) তোমাদের কাছে পৌঁছাচ্ছি এবং আমি তোমাদের একজন বিশ্বস্ত হিতাকাংখী।
আমি আমার প্রতিপালকের বাণী তোমাদের নিকট পৌঁছে দিচ্ছি এবং আমি তোমাদের একজন বিশ্বস্ত কল্যাণকামী।
৬৮. আল্লাহ তা‘আলা আমাকে যে তাওহীদ ও শরীয়তের বাণী পৌঁছানোর আদেশ করেছেন তাই তোমাদের নিকট পৌঁছিয়ে দিচ্ছি। বস্তুতঃ যা পৌঁছাতে আমি আদিষ্ট সে ব্যাপারে আমি সত্যিই আমানতদার ও পরকল্যাণকামী। তাতে আমি নিজ থেকে কোন ধরনের বেশ-কম করি না।
তাফসীর
7:65
‘আমি আমার রবের রিসালাত (যা নিয়ে আমাকে পাঠানো হয়েছে তা) তোমাদের কাছে পৌঁছাচ্ছি এবং আমি তোমাদের একজন বিশ্বস্ত হিতাকাংখী।
[সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ৬৫ থেকে ৬৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ৬৩ থেকে ৬৪]“তোমরা কি আশ্চর্যবোধ করছ যে, তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদেরই মধ্যবর্তী একজনের মাধ্যমে তোমাদের কাছে উপদেশ এসেছে যাতে সে তোমাদের সতর্ক করতে পারে, আর যাতে তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং তোমরা যেন অনুগ্রহ প্রাপ্ত হও? (৬৩) অতঃপর তারা তাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করল, ফলে আমি তাকে এবং তার সাথে যারা নৌকায় ছিল তাদেরকে রক্ষা করলাম, আর যারা আমার নিদর্শনাবলিকে অস্বীকার করেছিল তাদের ডুবিয়ে দিলাম; নিশ্চয়ই তারা ছিল এক অন্ধ জাতি। (৬৪)”অতঃপর তারা তাকে অস্বীকার করল, ফলে আমি তাকে এবং তার সাথে যারা ছিল তাদের রক্ষা করলাম নৌযানে এবং ডুবিয়ে দিলাম তাদের যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা সাব্যস্ত করেছিল।
নিশ্চয়ই তারা ছিল এক অন্ধ জাতি। (৬৪) আল্লাহ তাআলার বাণী: (তোমরা কি আশ্চর্যবোধ করছ) এখানে ‘ওয়াও’ অক্ষরে ফাতহা (যবর) দেওয়া হয়েছে কারণ এটি একটি সংযোজক অব্যয়, যার শুরুতে স্বীকৃতিমূলক প্রশ্নবোধক ‘আলিফ’ যুক্ত হয়েছে। ব্যাকরণিক নিয়ম হলো, ‘আলিফ’ ব্যতীত অন্যান্য প্রশ্নবোধক অব্যয়ের পরে ‘ওয়াও’ বসে, কিন্তু ‘আলিফ’ শক্তিশালী হওয়ার কারণে এটি ‘ওয়াও’-এর পূর্বেই আসে। “(যে তোমাদের কাছে উপদেশ এসেছে)” অর্থাৎ তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে নসিহত। (তোমাদেরই মধ্যবর্তী একজনের মাধ্যমে) অর্থাৎ একজনের মুখে বা ভাষায়। মতান্তরে: এখানে ‘আলা’ অব্যয়টি ‘সাথে’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে, অর্থাৎ একজন মানুষের সাথে।
আবার বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো, তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে একজন মানুষের ওপর অবতীর্ণ উপদেশ তোমাদের কাছে এসেছে, যার বংশপরিচয় তোমাদের জানা। অর্থাৎ তোমাদের স্বজাতির একজন মানুষের মাধ্যমে। যদি তিনি কোনো ফেরেশতা হতেন, তবে প্রজাতির ভিন্নতার কারণে স্বভাবজাত বিমুখতা সৃষ্টি হতে পারত। ‘নৌযান’ শব্দটি একবচন ও বহুবচন উভয় অর্থেই ব্যবহৃত হয়। সূরা আল-বাকারায় এর বিস্তারিত আলোচনা অতিবাহিত হয়েছে [১]। এবং ‘অন্ধ’ অর্থ হলো সত্য বিমুখ—একথা কাতাদাহ বলেছেন। মতান্তরে: মহান আল্লাহর পরিচয় ও তাঁর কুদরত সম্পর্কে অজ্ঞ। বলা হয়ে থাকে, অমুক ব্যক্তি এই বিষয়ে অন্ধ অর্থাৎ অজ্ঞ।
[সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ৬৫ থেকে ৬৯]“আর আদ জাতির নিকট আমি তাদের ভাই হূদকে পাঠিয়েছিলাম। সে বলল, হে আমার কওম! তোমরা আল্লাহর ইবাদত করো, তিনি ব্যতীত তোমাদের অন্য কোনো উপাস্য নেই; তবুও কি তোমরা তাকওয়া অবলম্বন করবে না? (৬৫) তার সম্প্রদায়ের কাফের প্রধানরা বলল, নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে নির্বুদ্ধিতার মধ্যে দেখছি এবং অবশ্যই আমরা তোমাকে মিথ্যাবাদীদের অন্তর্ভুক্ত মনে করি। (৬৬) সে বলল, হে আমার কওম! আমার মধ্যে কোনো নির্বুদ্ধিতা নেই, বরং আমি তো বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত একজন রাসূল। (৬৭) আমি তোমাদের কাছে আমার প্রতিপালকের বাণীসমূহ পৌঁছে দিচ্ছি এবং আমি তোমাদের একজন বিশ্বস্ত হিতাকাঙ্ক্ষী।
(৬৮) তোমরা কি আশ্চর্যবোধ করছ যে, তোমাদেরই মধ্যবর্তী একজনের মাধ্যমে তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে তোমাদের কাছে উপদেশ এসেছে যেন সে তোমাদের সতর্ক করতে পারে? তোমরা স্মরণ করো, যখন তিনি নূহের সম্প্রদায়ের পরে তোমাদের তাদের স্থলাভিষিক্ত করেছেন এবং তোমাদের শারীরিক গঠনে অধিকতর বিশালতা দান করেছেন; সুতরাং তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহসমূহ স্মরণ করো যাতে তোমরা সফলকাম হতে পারো। (৬৯)”মহান আল্লাহর বাণী: (এবং আদ জাতির নিকট তাদের ভাই হূদকে) অর্থাৎ আমি আদ জাতির নিকট তাদের ভাই হূদকে পাঠিয়েছিলাম। ইবনে আব্বাস বলেন: এর অর্থ হলো তাদের বংশীয় ভাই। মতান্তরে: তাদের গোত্রীয় ভাই।
আবার বলা হয়েছে: অর্থাৎ আদম-সন্তানদের মধ্য হতে একজন মানুষ।(১). দ্রষ্টব্য: ২য় খণ্ড, ১৯৪ পৃষ্ঠা।
