Al-A'raf
আল-আরাফ: 50
7 আল-আরাফ Al-A'raf · 206 আয়াত الأعراف
আরবি
وَنَادَىٰٓ أَصْحَـٰبُ ٱلنَّارِ أَصْحَـٰبَ ٱلْجَنَّةِ أَنْ أَفِيضُوا۟ عَلَيْنَا مِنَ ٱلْمَآءِ أَوْ مِمَّا رَزَقَكُمُ ٱللَّهُ ۚ قَالُوٓا۟ إِنَّ ٱللَّهَ حَرَّمَهُمَا عَلَى ٱلْكَـٰفِرِينَ
English Translations
And the companions of the Fire will call to the companions of Paradise, "Pour upon us some water or from whatever Allāh has provided you." They will say, "Indeed, Allāh has forbidden them both to the disbelievers
And the dwellers of the Fire will call to the dwellers of Paradise: "Pour on us some water or anything that Allah has provided you with." They will say: "Both (water and provision) Allah has forbidden to the disbelievers."
The people of the Fire will call out to the people of Paradise, “Pour on us some water, or some of what Allah has provided you.” They will say, “Allah has prohibited these for disbelievers,
And the people of the Fire will cry out to the people of Paradise: 'Pour out some water on us or throw at us something of what Allah has bestowed upon you.' They will reply: 'Allah has forbidden them to the deniers of the truth,
And the dwellers of the Fire cry out unto the dwellers of the Garden: Pour on us some water or some wherewith Allah hath provided you. They say: Lo! Allah hath forbidden both to disbelievers (in His guidance),
The Companions of the Fire will call to the Companions of the Garden: "Pour down to us water or anything that Allah doth provide for your sustenance." They will say: "Both these things hath Allah forbidden to those who rejected Him."
বাংলা অনুবাদ
জাহান্নামীরা জান্নাতীদের ডেকে বলবে, ‘আমাদেরকে কিছু পানি ঢেলে দাও কিংবা আল্লাহ তোমাদেরকে যে রিযক্ দিয়েছেন তাত্থেকে কিছু দাও।’ তারা বলবে, ‘আল্লাহ এ দু’টো কাফিরদের জন্য নিষিদ্ধ করে দিয়েছেন।’
আর আগুনের অধিবাসীরা জান্নাতের অধিবাসীদেরকে ডেকে বলবে, ‘আমাদের উপর কিছু পানি অথবা তোমাদেরকে আল্লাহ যে রিয্ক দিয়েছেন, তা ঢেলে দাও’। তারা বলবে, ‘নিশ্চয় আল্লাহ তা কাফিরদের উপর হারাম করেছেন’।
জাহান্নামীরা জান্নাতীদেরকে সম্বোধন করে বলবেঃ আমাদের উপর কিছু পানি ঢেলে দাও অথবা আল্লাহ প্রদত্ত তোমাদের জীবিকা হতে কিছু প্রদান কর। তারা বলবেঃ আল্লাহ এ দু’টি জিনিস কাফিরদের জন্য হারাম করে দিয়েছেন।
আর জাহান্নামীরা জান্নাতীদেরকে সম্বোধন করে বলবে, ‘আমাদের উপর ঢেলে দাও কিছু পানি অথবা তা থেকে যা আল্লাহ জীবিকারূপে তোমাদেরকে দিয়েছেন।’ তারা বলবে, ‘আল্লাহ তো এ দুটি হারাম করেছেন কাফেরদের জন্য।
জাহান্নামীরা জান্নাতবাসীদেরকে সম্বোধন করে বলবে, ‘আমাদের ওপর কিছু পানি ঢেলে দাও, অথবা ‘আল্লাহ জীবিকাস্বরূপ তোমাদেরকে যা দিয়েছেন তা হতে কিছু দাও।’ তারা বলবে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ এ দু’টি হারাম করেছেন কাফিরদের জন্য।
৫০. জাহান্নামীরা জান্নাতীদেরকে ডেকে তাদের নিকট আবেদন করে বলবে: হে জান্নাতীরা! তোমরা আমাদেরকে পানির প্রবাহ এবং আল্লাহর দেয়া খাদ্যে শামিল করো। তখন জান্নাতীরা বলবে: নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা কুফরির দরুন এগুলোকে কাফিরদের জন্য হারাম করে দিয়েছেন। তাই আমরা আল্লাহর হারামকৃত বস্তু দিয়ে কখনোই তোমাদের সহযোগিতা করতে পারবো না।
তাফসীর
৫০-৫১ নং আয়াতের তাফসীর: জাহান্নামীদের লাঞ্ছনা এবং কিভাবে তারা জান্নাতবাসীদের নিকট খাদ্য ও পানীয় চাইবে আল্লাহ তাআলা এখানে তারই বর্ণনা দিচ্ছেন; জান্নাতীরা। তাদেরকে কিছুই দেবে না। ইরশাদ হচ্ছে- জাহান্নামীরা জান্নাতীদেরকে বলবে, তোমাদের খাদ্য ও পানীয় আমাদেরকেও কিছু প্রদান কর। পুত্র পিতার নিকট এবং ভাই ভাই-এর নিকট চাইবে এবং বলবে, আমি পিপাসায় কাতর হয়ে পড়েছি, সুতরাং আমাকে অল্পকিছু পানি দাও। কিন্তু তারা এই জবাবই দেবে-আল্লাহ এ দুটো জিনিস কাফিরদের উপর হারাম করে দিয়েছেন। আবু মূসা সাফফার (রঃ) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ)-কে জিজ্ঞেস করেন, উত্তম সাদকা কোনটি? তিনি উত্তরে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “সর্বোত্তম সদকা হচ্ছে পানি। তোমরা কি শুননি যে, জাহান্নামবাসী জান্নাতবাসীর কাছে পানি ও খাদ্য চাইবে?” আবু সালিহ্ হতে বর্ণিত আছে যে, যখন আবু তালিব অসুস্থ হয়ে পড়ে তখন জনগণ তাকে বলে-“আপনি আপনার ভ্রাতুস্পুত্রকে বলে পাঠান যে, তিনি যেন একটি জান্নাতী আঙ্গুরগুচ্ছ নিয়ে আসেন, হয়তো এর বরকতে আপনি আরোগ্য লাভ করবেন।” তখন তার দূত রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর কাছে আগমন করেন। সেই সময় হযরত আবু বকর (রাঃ) তাঁর নিকট উপবিষ্ট ছিলেন। তিনি বললেনঃ “আল্লাহ তা'আলা কাফিরদের উপর জান্নাতের প্রত্যেকটা জিনিস হারাম করে দিয়েছেন। আল্লাহ পাক বলেনঃ কাফিররা কিভাবে দুনিয়ায় মাযহাব ও দ্বীনকে খেল-তামাসার বস্তুতে পরিণত করেছে এবং দুনিয়ার মধ্যে কিভাবে ভুলের মধ্যে পড়ে রয়েছে, আর কিরূপেই বা দুনিয়ার শোভা ও সৌন্দর্যের মধ্যে নিমগ্ন রয়েছে! কেমন করে তারা আখিরাতের পণ্য ক্রয় করা থেকে উদাসীন রয়েছে!এরপর আল্লাহ পাক বলেনঃ “আজকে আমি তাদেরকে তেমনিভাবে ভুলে থাকবো যেমনিভাবে তারা এই দিনের সাক্ষাতের কথা ভুলে গিয়েছিল। এই ভুলে যাওয়া শব্দটি পরস্পর আদান প্রদান ও বিনিময় হিসেবে বলা হয়েছে। নতুবা আল্লাহ তা'আলা কখনো কাউকেও ভুলে থাকতে পারেন না। যেমন তিনি এক জায়গায় বলেন, (আরবী) (২০:৫২) এখানে উদ্দেশ্য শুধুমাত্র পাল্টা ভাবের কথা বলা। যেমন তিনি আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা আল্লাহকে ভুলে গিয়েছিল, সুতরাং তিনিও তাদেরকে ভুলে গেছেন।” (৯:৬৭) তিনি আরও বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “এরূপই তোমার কাছে আমার নিদর্শনসমূহ এসে ছিল, অতঃপর তুমি সেগুলো ভুলে গিয়েছিলে, দ্রুপ আজকে তোমাকেও ভুলে যাওয়া হলো। (১২৬:২০) অন্য এক জায়গায় আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “যেমন তোমরা তোমাদের এদিনের সাক্ষাৎকে ভুলে গিয়েছিলে দ্রুপ আমিও তোমাদেরকে আজকে ভুলে গেলাম।” (৫১:৭) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, আল্লাহ তাদের কল্যাণ করা ভুলে গেছেন, কিন্তু তাদেরকে শাস্তি দিতে ভুলেননি।হাদীসে এসেছে যে, আল্লাহ তা'আলা কিয়ামতের দিন বান্দাদেরকে বলবেনঃ “আমি কি তোমাদেরকে স্ত্রী ও ছেলেমেয়ে প্রদান করিনি এবং তোমাদেরকে কি পুরস্কৃত করিনি? তোমাদেরকে কি আমি উট, ঘোড়া, হাতী ও সজি-সরঞ্জাম প্রদান। করেছিলাম না? তোমরা কি দুনিয়ায় নেতৃত্ব দিতে না?” বান্দা উত্তরে বলবেঃ “হে আল্লাহ! হ্যা, আপনি আমাদেরকে সবকিছুই প্রদান করেছিলেন। আল্লাহ পুনরায় তাদেরকে জিজ্ঞেস করবেনঃ “আমার সামনে তোমাদেরকে হাজির হতে হবে এটা কি তোমাদের বিশ্বাস ছিল?" তারা বলবেনঃ “হে আল্লাহ! না, আমাদের এটার প্রতি বিশ্বাস ছিল না। আল্লাহ তা'আলা তখন বলবেনঃ “তোমরা যেমন আমাকে ভুলে গিয়েছিলে তেমনি আজ আমি তোমাদেরকে ভুলে গেলাম।”
আর জাহান্নামীরা জান্নাতবাসীদেরকে সম্বোধন করে বলবে , ‘আমাদের উপর ঢেলে দাও কিছু পানি, অথবা তা থেকে যা আল্লাহ জীবিকারূপে তোমাদেরকে দিয়েছেন।’ তারা বলবে, ‘আল্লাহ তো এ দুটি হারাম করেছেন কাফেরদের জন্য।
