Al-A'raf

আল-আরাফ: 76

7:76
টেক্সট কপি

মূল আরবি

قَالَ ٱلَّذِينَ ٱسْتَكْبَرُوٓا۟ إِنَّا بِٱلَّذِىٓ ءَامَنتُم بِهِۦ كَـٰفِرُونَ

English Translations

Sahih International

Said those who were arrogant, "Indeed we, in that which you have believed, are disbelievers."

Muhsin Khan

Those who were arrogant said: "Verily, we disbelieve in that which you believe in."

Taqi Usmani

The haughty people said, “As for us, we disbelieve in what you believe.”

Abul Ala Maududi

The haughty ones remarked. 'Most certainly we disbelieve in that which you believe.'

Pickthall

Those who were scornful said: Lo! in that which ye believe we are disbelievers.

Yusuf Ali

The Arrogant party said: "For our part, we reject what ye believe in."

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

যারা অহঙ্কার করেছিল তারা বলেছিল, ‘তোমরা যাতে বিশ্বাস করেছ আমরা তা অস্বীকার করছি।’

রাওয়াই আল-বায়ান

যারা অহঙ্কার করেছিল তারা বলল, ‘নিশ্চয় তোমরা যার প্রতি ঈমান এনেছ, আমরা তার প্রতি অস্বীকারকারী’।

শাইখ মুজিবুর রহমান

দাম্ভিকরা বললঃ তোমরা যা বিশ্বাস কর আমরা তা বিশ্বাস করিনা।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

যারা অহংকার করেছিল তারা বলল, ‘নিশ্চয় তোমরা যার প্রতি ঈমান এনেছ, আমরা তাতে কুফরীকারী।’

ফাতহুল মাজীদ

তখন অহংকারীরা বললো তোমরা যা বিশ্বাস কর আমরা তা অবিশ্বাস করি।

মুখতাসার

৭৬. তাঁর সম্প্রদায়ের অহঙ্কারীরা বললো: হে মু’মিনরা! তোমরা যা বিশ্বাস করো আমরা তার সাথে কুফরি করছি। আমরা কখনোই তাঁর উপর ঈমান আনবো না এবং তাঁর শরীয়তের উপরও আমল করবো না।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

7:73

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

যারা অহংকার করেছিল তারা বলল, ‘নিশ্চয় তোমরা যার প্রতি ঈমান এনেছ, আমরা তাতে কুফরীকারী [১]।’

[১] এখানে সামূদ জাতির দু'দলের মধ্যে অনুষ্ঠিত সংলাপ উল্লেখ করা হয়েছে। একদল সালেহ ‘আলাইহিস সালামের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করেছিল। দ্বিতীয় দল ছিল অবিশ্বাসী কাফেরদের। বলা হয়েছেঃ সালেহ ‘আলাইহিস সালামের সম্প্রদায়ের মধ্যে যারা অহংকারী ছিল, তারা যাদেরকে দুর্বল ও হীন মনে করা হত-অৰ্থাৎ যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছিল-তাদেরকে বললঃ তোমরা কি বাস্তবিকই জান যে, সালেহ ‘আলাইহিস সালাম তার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত রাসূল? উত্তরে মুমিনরা বললঃ আল্লাহর পক্ষ থেকে যে হেদায়াতসহ তিনি প্রেরিত হয়েছেন আমরা সেগুলোর প্রতি বিশ্বাসী। সামূদ জাতির মুমিনরা কি চমৎকার উত্তরই না দিয়েছে যে, তোমরা এ আলোচনায় ব্যস্ত রয়েছ যে, তিনি রাসূল কি না।

আসলে এটা আলোচনার বিষয়ই নয়; বরং জাজ্বল্যমান ও নিশ্চিত। সাথে সাথে এটাও নিশ্চিত যে, তিনি যা বলেন, তা আল্লাহ তা'আলার কাছ থেকে আনীত বাণী। জিজ্ঞাস্য বিষয় কিছু থাকলে তা এই যে, কে তার প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করে এবং কে করে না? আল্লাহর দয়ায় আমরা তার আনীত সব নির্দেশের প্রতিই বিশ্বাসী। কিন্তু তাদের এ অলংকারপূর্ণ উত্তর শুনেও সামূদ জাতি পূর্ববৎ ঔদ্ধত্য প্রদর্শন করে বললঃ যে বিষয়ের প্রতি তোমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছ, আমরা তা মানি না। দুনিয়ার মহব্বত, ধন-সম্পদ ও শক্তির মত্ততা থেকে আল্লাহ্ তা'আলা নিরাপদ রাখুন। এগুলো মানুষের চোখে পর্দা হয়ে দাড়ায়।

ফলে তারা জাজ্বল্যমান বিষয়কেও অস্বীকার করতে শুরু করে।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-আ'রাফ (৭): আয়াত ৭৫ থেকে ৭৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা

এবং তাঁর (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বাণী: "আদম সন্তানের জন্য এই বিষয়গুলো ছাড়া অন্য কোনো অধিকার নেই: বসবাসের জন্য একটি ঘর, লজ্জা নিবারণের জন্য একটি কাপড় এবং ব্যঞ্জনহীন শুষ্ক রুটি ও পানি।" এটি ইমাম তিরমিযী বর্ণনা করেছেন। তৃতীয়ত—মহান আল্লাহর বাণী: "অতএব তোমরা আল্লাহর নেয়ামতসমূহ স্মরণ করো", অর্থাৎ তাঁর অনুগ্রহরাজি। এটি প্রমাণ করে যে, কাফিরদের প্রতিও অনুগ্রহ করা হয়। এ বিষয়ে 'আলি ইমরান' সূরার আলোচনায় বিস্তারিত অতিবাহিত হয়েছে। "এবং তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টিকারী হয়ে ঘুরে বেড়িও না।" এর ব্যাখ্যা 'আল-বাকারাহ' সূরায় অতিক্রান্ত হয়েছে।

'আল-ইসিউ' এবং 'আল-উসুউ' হলো দুটি ভাষাগত রূপ। ইমাম আ'মাশ 'তা' বর্ণে কাসরা (জের) দিয়ে 'তি'সাও' পড়েছেন; তিনি এটি 'আসিয়া ইয়া'সা' ক্রিয়ামূল থেকে গ্রহণ করেছেন, 'আসা ইয়া'সু' থেকে নয়। ‌‌[সূরা আল-আ'রাফ (৭): আয়াত ৭৫ থেকে ৭৬]তাঁর সম্প্রদায়ের দাম্ভিক নেতৃবর্গ সেই দুর্বলদের বলল যারা তাদের মধ্যে ঈমান এনেছিল: "তোমরা কি জানো যে, সালিহ তার রবের পক্ষ থেকে প্রেরিত?" তারা বলল: "নিশ্চয়ই তিনি যা নিয়ে প্রেরিত হয়েছেন, আমরা তাতে বিশ্বাসী।" (৭৫) যারা দাম্ভিকতা করেছিল তারা বলল: "তোমরা যে বিষয়ে বিশ্বাস স্থাপন করেছ, আমরা তা অস্বীকারকারী।" (৭৬)মহান আল্লাহর বাণী: (তাঁর সম্প্রদায়ের দাম্ভিক নেতৃবর্গ সেই দুর্বলদের বলল যারা তাদের মধ্যে ঈমান এনেছিল) এখানে দ্বিতীয় অংশটি প্রথম অংশের 'বদল' (পরিবর্তিত রূপ), কেননা দুর্বল সাব্যস্ত হওয়া লোকেরাই হলো মুমিন।

আর এটি হলো 'বদলে বা'দ মিনাল কুল্ল' (সমগ্রের অংশবিশেষের বদল)। ‌‌[সূরা আল-আ'রাফ (৭): আয়াত ৭৭ থেকে ৭৯]অতঃপর তারা উটনীটিকে হত্যা করল এবং তাদের রবের আদেশের অবাধ্য হলো এবং বলল: "হে সালিহ! তুমি যদি রাসুলদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকো, তবে আমাদের যে শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছ তা নিয়ে এসো।" (৭৭) অতঃপর ভূমিকম্প তাদের পাকড়াও করল, ফলে তারা নিজ গৃহে উপুড় হয়ে পড়ে রইল। (৭৮) অতঃপর তিনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন এবং বললেন: "হে আমার সম্প্রদায়! আমি তো আমার রবের রিসালাত তোমাদের কাছে পৌঁছে দিয়েছি এবং তোমাদের কল্যাণ কামনা করেছি, কিন্তু তোমরা কল্যাণকামীদের পছন্দ করো না।" (৭৯)মহান আল্লাহর বাণী: (অতঃপর তারা উটনীটিকে হত্যা করল) 'আল-আকর' অর্থ হলো জখম বা আঘাত করা।

কেউ বলেছেন: এমন কোনো অঙ্গ কেটে ফেলা যা প্রাণের ওপর প্রভাব ফেলে। আমি ঘোড়াকে 'আকর' করেছি—এর অর্থ হলো যখন আমি তরবারি দিয়ে এর পাগুলোতে আঘাত করি। আর 'আকরা' শব্দটি আহত ঘোড়াগুলোর ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। 'আকারতু যাহরাদ্দাব্বাহ' অর্থ হলো পশুর পিঠ জখম করা।(১). 'আল-জিলফ' (কাসরা সহযোগে): ব্যঞ্জনহীন কেবল রুটি। কেউ বলেছেন: মোটা ও শুষ্ক রুটি।(২). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৩০।(৩). দ্রষ্টব্য: খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ৪২১।