Al-A'raf
আল-আরাফ: 201
7 আল-আরাফ Al-A'raf · 206 আয়াত الأعراف
মূল আরবি
إِنَّ ٱلَّذِينَ ٱتَّقَوْا۟ إِذَا مَسَّهُمْ طَـٰٓئِفٌ مِّنَ ٱلشَّيْطَـٰنِ تَذَكَّرُوا۟ فَإِذَا هُم مُّبْصِرُونَ
English Translations
Indeed, those who fear Allāh - when an impulse touches them from Satan, they remember [Him] and at once they have insight.
Verily, those who are Al-Muttaqun (the pious - see V. 2:2), when an evil thought comes to them from Shaitan (Satan), they remember (Allah), and (indeed) they then see (aright).
Surely when the God-fearing are touched by any instigation from Satan, they become conscious (of Allah), and at once they discern (the reality).
If the God-fearing are instigated by any suggestion of Satan, they instantly become alert, whereafter they clearly perceive the right way.
Lo! those who ward off (evil), when a glamour from the devil troubleth them, they do but remember (Allah's Guidance) and behold them seers!
Those who fear Allah, when a thought of evil from Satan assaults them, bring Allah to remembrance, when lo! they see (aright)!
বাংলা অনুবাদ
যারা তাক্বওয়া অবলম্বন করে শায়ত্বনের স্পর্শে তাদের মনে কুমন্ত্রণা জাগলে তারা আল্লাহকে স্মরণ করে, তখন তাদের ঈমান-চক্ষু খুলে যায়।
নিশ্চয় যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে যখন তাদেরকে শয়তানের পক্ষ থেকে কোন কুমন্ত্রণা স্পর্শ করে তখন তারা আল্লাহকে স্মরণ করে। তখনই তাদের দৃষ্টি খুলে যায়।
যারা আল্লাহভীরু, শাইতান যখন তাদেরকে কু-মন্ত্রণা দেয়, সাথে সাথে তারা আত্মসচেতন হয়ে আল্লাহকে স্মরণ করে এবং তাদের জ্ঞান চক্ষু ফিরে পায়।
নিশ্চয় যারা তাকওয়া অবলম্বন করছে, তাদেরকে শয়তান যখন কুমন্ত্রণা দেয় তখন তারা আল্লাহকে স্বরণ করে এবং সাথে সাথেই তাদের চোখ খুলে যায়।
নিশ্চয়ই যারা তাক্বওয়ার অধিকারী হয় তাদেরকে শয়তান যখন কুমন্ত্রণা দেয় তখন তারা (আল্লাহকে) স্মরণ করে এবং তৎক্ষণাৎ তাদের ঈমান চক্ষু খুলে যায় (ফলে অবাধ্যতা হতে ফিরে আসে)।
২০১. যারা আল্লাহর আদেশ-নিষেধ মেনে তাঁকে ভয় করে শয়তানের কুমন্ত্রণায় পড়ে তারা যদি কোন গুনাহ করে ফেলে তখন তারা সাথে সাথেই আল্লাহর মহত্ত্ব ও পাপীদের জন্য তাঁর শাস্তি এবং অনুগতদের জন্য তাঁর সাওয়াবের কথা স্মরণ করে নিজেদের পাপসমূহ থেকে তাওবা করে নেয় এবং নিজেদের প্রতিপালকের দিকে দ্রুত ধাবিত হয়। তখন দেখা যায় যে, তারা সত্যের উপর অবিচল থাকে এবং অপকর্ম থেকে বিরত হয়।
তাফসীর
২০১-২০২ নং আয়াতের তাফসীর: যেসব বান্দা আল্লাহর নির্দেশ মেনে চলে এবং নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকে, তাদেরকে যদি কোন সময় শয়তান কুমন্ত্রণা দিয়ে খারাপ কাজে নিমগ্ন করে তবে সত্বরই তারা আল্লাহকে স্মরণ করে। (আরবী) শব্দটিকে কেউ কেউ (আরবী) পড়েছেন। এই দু' কিরআতই প্রসিদ্ধ। এ দু'টোর অর্থও একই। আবার কেউ কেউ বলেছেন যে, অর্থে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। কেউ কেউ এর অর্থ ক্রোধ বলেছেন। অন্য কেউ বলেছেন যে, এর অর্থ হচ্ছে- ‘শয়তান যখন তাকে কোন দুর্ঘটনায় ফেলে। আবার এর অর্থ ‘পাপের কারণে লজ্জা ও দুঃখ’ এরূপও করা হয়েছে। কোন কোন লোক এর অর্থ ‘পাপ কার্যে লিপ্ত হয়ে পড়া করেছেন।
এই লোকদের আল্লাহর শাস্তি, দান, সওয়াব, তাঁর ওয়াদা, ভয় প্রদর্শন ইত্যাদি স্মরণ হয়ে যায়। ফলে তৎক্ষণাৎ তারা তাওবা করে ফেলে এবং আল্লাহর দিকে ঝুঁকে পড়ে। আর ঐ মুহূর্তেই তার দিকে প্রত্যাবর্তন করতঃ তাঁর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে শুরু করে। সাথে সাথেই তাদের অন্তর্দৃষ্টি খুলে যায়। অজ্ঞান থাকলে তাদের জ্ঞান ফিরে আসে।কথিত আছে যে, একজন নারী নবী (সঃ)-এর নিকট আগমন করে। তার। মৃগীর রোগ ছিল। সে আরয করেঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমার আরোগ্যের জন্যে আল্লাহর নিকট দুআ করুন।” তিনি বললেনঃ “আমি যদি দুআ করি তবে আল্লাহ তোমাকে আরোগ্য দান করবেন।
কিন্তু তুমি যদি ধৈর্যধারণ কর তবে কিয়ামতের দিন তোমাকে হিসাব দিতে হবে না।” তখন ঐ মহিলাটি বললোঃ “আচ্ছা, ঠিক আছে, আমি রোগের উপর ধৈর্য অবলম্বন করবো, কেননা এর বিনিময়ে আমি জান্নাত পাবো। তবে আমার মৃগী ও মুৰ্ছা রোগ রয়েছে বলে আমার জ্ঞান লোপ পেয়ে যায় এবং শরীর থেকে কাপড় খুলে পড়ে। তাই আপনি আমার জন্যে দুআ করুন যেন রোগ দূর না হলেও কমপক্ষে আমার দেহ থেকে কাপড় খুলে না যায়। তার একথা শুনে রাসূলুল্লাহ (সঃ) তার জন্যে দুআ করেন এবং তখন থেকে আর কখনও ঐ রোগ উঠার সময় তার দেহ থেকে কাপড় খুলে যেতো না। (এ হাদীসটি ইবনে মিরদুওয়াই ও একাধিক আহলে সুনান বর্ণনা করেছেন এবং ইমাম হাকিম (রঃ) এটা তাখরীজ করেছেন।
তিনি বলেছেন যে, এ হাদীসটি ইমাম মুসলিম (রঃ)-এর শর্তের উপর বিশুদ্ধ)বর্ণিত আছে যে, একজন যুবক মসজিদে বসে ইবাদত করতো। একটি মহিলা তার প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে এবং তাকে নিজের প্রতি আকৃষ্ট করার চেষ্টা করতে থাকে। শেষ পর্যন্ত সে একদা তার বাড়ীতে এসেই পড়ে। সাথে সাথে (আরবী) তার এ আয়াতটি স্মরণ হয়ে যায় এবং তৎক্ষণাৎ সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়। জ্ঞান ফিরলে আবার সে এ আয়াতটি পাঠ করে এবং এবার সে মারাই যায়। হযরত উমার (রাঃ) এসে তার পিতার নিকট সমবেদনা প্রকাশ করেন। রাত্রিকালে তাকে দাফন করা হয়। হযরত উমার (রাঃ) তাঁর কয়েকজন সাথীকে নিয়ে তার কবরের কাছে গমন।
করেন এবং তার জানাযার নামায আদায় করেন। অতঃপর তিনি তাকে সম্বোধন করে বলেনঃ হে যুবক!(আরবী) অর্থাৎ “যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করলো, তার জন্যে দু’টি জান্নাত রয়েছে।” (৫৫:৪৬) এ আয়াতটি শুনে যুবকটি কবরের মধ্য থেকেই উত্তর দিলোঃ “হে উমার (রাঃ)! মহা মহিমান্বিত আল্লাহ আমাকে দু’টি জান্নাতই দান করেছেন!” (হাফিয ইবনে আসাকির (রঃ) এটা তাখরীজ করেছেন)আল্লাহ পাকের উক্তিঃ (আরবী) অর্থাৎ তাদের সঙ্গী মানবরূপী শয়তানরা তাদেরকে বিভ্রান্তির পথে টেনে হেঁচড়ে নিয়ে যায়। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “অপব্যয়কারীরা হচ্ছে শয়তানদের ভাই।” (১৭:২৭) অর্থাৎ তাদের অনুসারীদেরকে ও তাদের কথা মান্যকারীদেরকে তারা গুমরাহীর দিকে নিয়ে যায়।
পাপকাজ তাদের কাছে তারা সহজ করে দেয় এবং তাদের দৃষ্টিতে শোভনীয় করে তোলে। (আরবী) শব্দের অর্থ হচ্ছে বাড়াবাড়ি। অর্থাৎ অজ্ঞতা ও বিভ্রান্তিতে তারা বাড়াবাড়ি করে।(আরবী) অর্থাৎ এই শয়তানরা তাদের চেষ্টায় মোটেই কোন ত্রুটি করে । হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছে- মানুষ অসৎ কাজ সম্পাদনে আদৌ অবহেলা প্রদর্শন করে না এবং শয়তানরাও তাদেরকে বিপথে চালিত করার কাজে মোটেই ক্রটি করে না। গুমরাহীর দিকে আকৃষ্টকারীরা হচ্ছে। জ্বিন ও শয়তান , যারা নিজেদের মানব বন্ধুদের কাছে অহী পাঠিয়ে থাকে এবং ঐ কাজে মোটেই ক্রটি করে না। কারণ তাদের প্রকৃতি ও স্বভাবই এই রূপ।
যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে নবী (সঃ) ! তুমি কি দেখনি যে, আমি শয়তানদেরকে কাফিরদের নিকট পাঠিয়ে থাকি, যারা ঐ কাফিরদেরকে নাফরমানীর দিকে আকৃষ্ট করে। থাকে?” (১৯:৮৩)
নিশ্চয় যারা তাকওয়া অবলম্বন করছে, তাদেরকে শয়তান যখন কুমন্ত্রণা [১] দেয় তখন তারা আল্লাহকে স্বরণ করে এবং সাথেসাথেই তাদের চোখ খুলে যায় [২]।
[১] মূল আরবী হচ্ছে, (طائف)। মুজাহিদ বলেন, এর অর্থ ক্ৰোধ। [তাবারী] ইবন আব্বাস বলেন, এর অর্থ শয়তানের কোন ছোঁয়া বা স্পর্শ। [তাবারী]
[২] শয়তান যেহেতু ইসলামের পথের দিকে দাওয়াত দেয়ার কাজটির উন্নতি কখনো দু'চোখে দেখতে পারে না তাই সে হামেশাই এ ব্যাপারে প্রতিকুল পরিস্থিতির সৃষ্টি করে। তাই এ আয়াতে বলা হয়েছে, ‘যারা মুত্তাকী তারা নিজেদের মনে কোন শয়তানী প্ররোচনার প্রভাব এবং কোন অসৎচিন্তার ছোঁয়া অনুভব করতেই সাথে সাথেই সজাগ হয়ে উঠে। তারপর এ পর্যায়ে কোন ধরনের কর্মপদ্ধতি অবলম্বনে দ্বীনের স্বার্থ রক্ষিত হবে এবং সত্য প্রীতির প্রকৃত দাবী কি তা তারা পরিষ্কার দেখতে পায়। তারা তাওবা করে এবং প্রচুর পরিমাণে সৎকাজ করে। ফলে শয়তান বিফল মনোরথ হয়ে ফিরে যেতে বাধ্য হয়।
পক্ষান্তরে যাদের কাজের সাথে স্বার্থপ্রীতি অংগাংগীভাবে জড়িত এবং এ জন্য শয়তানের সাথে যাদের ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তারা অবশ্যি শয়তানী প্ররোচনার মোকাবিলায় টিকে থাকতে পারে না এবং তার কাছে পরাজিত হয়ে ভুল পথে পা বাড়ায়। একের পর এক খারাপ ও পাপের পথে শয়তান তাদেরকে নিয়ে যায়। এসব কাজ করতে তারা সামান্যতমও পিছপা হয় না। সুতরাং শয়তান তাদের পথভ্রষ্টতায় কমতি করে না। আর তারাও খারাপ কাজে যেতে কসূর করে না। [সা’দী]
[সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ২০১ থেকে ২০২] পূর্ণ পৃষ্ঠা
আর এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা ঈমান থেকেই উৎসারিত। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে আশ্রয় প্রার্থনার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তা এজন্য যে, সেই কুমন্ত্রণাগুলো শয়তানেরই প্রভাব। আর তা থেকে বিরত থাকার যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, তার উদ্দেশ্য হলো সেগুলোর প্রতি ঝুঁকে না পড়া এবং সেদিকে ভ্রুক্ষেপ না করা। সুতরাং যার ঈমান সুদৃঢ় এবং সে তার প্রতিপালক ও তাঁর নবীর নির্দেশিত পথ অবলম্বন করবে, সে এর দ্বারা উপকৃত হবে এবং এটি তার কল্যাণে আসবে। তবে যার মনে সংশয় দানা বেঁধেছে এবং ইন্দ্রিয়লব্ধ অনুভূতি যার ওপর প্রবল হয়ে উঠেছে এবং সে তা থেকে মুক্ত হতে পারছে না, তবে অবশ্যই তাকে যৌক্তিক প্রমাণের মাধ্যমে আশ্বস্ত করতে হবে; যেমনটি নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সেই ব্যক্তির ক্ষেত্রে করেছিলেন যার মনে চর্মরোগগ্রস্ত উট নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছিল।
যখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছিলেন: "কোনো সংক্রামক ব্যাধি (আল্লাহর হুকুম ছাড়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে) নেই।" তখন এক গ্রাম্য ব্যক্তি বলল: হে আল্লাহর রাসূল! তবে ঐসব উটের অবস্থা কী, যেগুলো বালুচরে হরিণের মতো স্বচ্ছ ও সুস্থ থাকে, এরপর যখনই সেখানে কোনো চর্মরোগগ্রস্ত উট প্রবেশ করে, সেগুলোকে চর্মরোগগ্রস্ত করে দেয়? তখন নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন: "তবে প্রথমটিকে কে সংক্রমিত করেছিল?" এভাবে তিনি সংশয়কে তার মূল থেকে উপড়ে ফেললেন। যখন শয়তান মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সাহাবীদের প্রলোভিত ও বিভ্রান্ত করার ব্যাপারে নিরাশ হলো, তখন সে এসব আজেবাজে চিন্তা অন্তরে ঢেলে দিয়ে তাদের সময়গুলোকে বিঘ্নিত করতে শুরু করল।
আর 'ওয়াসওয়াসা' বা কুমন্ত্রণা হলো অসার চিন্তা; তাদের অন্তর এসব থেকে বিমুখ থাকত এবং তাদের কাছে এসবের উদয় হওয়া অত্যন্ত গুরুতর বিষয় মনে হতো। তাই তারা—যেমনটি 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে—এসে আরজ করলেন: হে আল্লাহর রাসূল! আমরা আমাদের মনে এমন সব বিষয়ের উদয় হতে দেখি, যা মুখে উচ্চারণ করা আমাদের প্রত্যেকের কাছে অনেক বড় ও কঠিন মনে হয়। তিনি বললেন: "তোমরা কি সত্যিই তা অনুভব করেছ?" তারা বললেন: হ্যাঁ। তিনি বললেন: "তা তো স্পষ্ট ঈমান, যা শয়তানকে লাঞ্ছিত করার জন্য।" যেমনটি কুরআন মাজীদে আল্লাহ তাআলার বাণীতে বর্ণিত হয়েছে: "নিশ্চয়ই আমার বান্দাদের ওপর তোমার কোনো আধিপত্য নেই।" সুতরাং যেসব চিন্তা অন্তরে স্থায়ী নয় এবং কোনো সংশয় থেকে উদ্ভূত নয়, সেগুলোকে উপেক্ষা করার মাধ্যমেই দূর করতে হবে।
আর এ জাতীয় চিন্তার ওপরই 'ওয়াসওয়াসাহ' বা কুমন্ত্রণা শব্দটি প্রয়োগ করা হয়। আল্লাহই ভালো জানেন। সূরা বাকারার শেষে এই মর্মার্থ অতিবাহিত হয়েছে, আর সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। [সূরা আল-আরাফ (৭): আয়াত ২০১ থেকে ২০২]নিশ্চয়ই যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে, যখন শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো কুমন্ত্রণা তাদের স্পর্শ করে, তখন তারা (আল্লাহকে) স্মরণ করে, ফলে তখনই তাদের চোখ খুলে যায় (২০১)। আর তাদের (শয়তানদের) ভাইয়েরা তাদেরকে বিভ্রান্তিতে টেনে নিয়ে যায়, অতঃপর তারা কোনো ত্রুটি করে না (২০২)।এতে দুটি মাসআলা রয়েছে: প্রথমটি—আল্লাহ তাআলার বাণী: (নিশ্চয়ই যারা তাকওয়া অবলম্বন করেছে) এর দ্বারা শিরক ও পাপাচার থেকে বেঁচে থাকাকে বোঝানো হয়েছে।
(যখন শয়তানের পক্ষ থেকে কোনো কুমন্ত্রণা তাদের স্পর্শ করে) এটি বসরা ও মক্কাবাসীদের কিরাআত। আর মদিনা ও কুফাবাসীদের কিরাআত হলো "ত্বয়িফুন"। সাঈদ ইবনে জুবায়ের থেকে ইয়ায়ের ওপর তাশদীদসহ "ত্বইয়িফুন" বর্ণিত হয়েছে। আন-নাহহাস বলেন: আরবদের বাকরীতিতে এই জাতীয় শব্দের ক্ষেত্রে تخفيف বা হালকা করে "ত্বইফুন" বলা হয়, যা 'ত্বাফা-ইয়াত্বিফু' থেকে ক্রিয়ামূল বা মাসদার হিসেবে গণ্য। আল-কিসাঈ বলেন:(১). দেখুন ১০ম খণ্ড, ৩৮ এবং ২৮ পৃষ্ঠা ও পরবর্তী অংশ।(২). দেখুন ৩য় খণ্ড, ৪২৮ পৃষ্ঠা ও পরবর্তী অংশ।
