Al-Baqarah
আল-বাকারা: 148
2 আল-বাকারা Al-Baqarah · 286 আয়াত البقرة
আরবি
وَلِكُلٍّ وِجْهَةٌ هُوَ مُوَلِّيهَا ۖ فَٱسْتَبِقُوا۟ ٱلْخَيْرَٰتِ ۚ أَيْنَ مَا تَكُونُوا۟ يَأْتِ بِكُمُ ٱللَّهُ جَمِيعًا ۚ إِنَّ ٱللَّهَ عَلَىٰ كُلِّ شَىْءٍ قَدِيرٌ
English Translations
For each [religious following] is a [prayer] direction toward which it faces. So race to [all that is] good. Wherever you may be, Allāh will bring you forth [for judgement] all together. Indeed, Allāh is over all things competent.
For every nation there is a direction to which they face (in their prayers). So hasten towards all that is good. Wheresoever you may be, Allah will bring you together (on the Day of Resurrection). Truly, Allah is Able to do all things.
For everyone there is a direction to which he turns his face. Strive, then, to excel each other in good deeds. Wherever you are, Allah will bring you all together. Allah is certainly powerful over everything.
Everyone has a direction towards which he turns; so excel one another in good works. Allah will bring you all together wherever you might be, for nothing is beyond His power.
And each one hath a goal toward which he turneth; so vie with one another in good works. Wheresoever ye may be, Allah will bring you all together. Lo! Allah is Able to do all things.
To each is a goal to which Allah turns him; then strive together (as in a race) Towards all that is good. Wheresoever ye are, Allah will bring you Together. For Allah Hath power over all things.
বাংলা অনুবাদ
প্রত্যেকের জন্যই একটা নির্দিষ্ট লক্ষ্য আছে, সেদিকেই সে মুখ করে। কাজেই তোমরা সৎ কাজের দিকে ধাবমান হও। যেখানেই তোমরা অবস্থান কর, আল্লাহ তোমাদের সকলকে একত্রিত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল বস্তুর উপর ক্ষমতাবান।
আর প্রত্যেকের রয়েছে একটি দিক, যেদিকে সে চেহারা ফিরায়। সুতরাং তোমরা কল্যাণকর্মে প্রতিযোগিতা কর। তোমরা যেখানেই থাক না কেন, আল্লাহ তোমাদের সবাইকে নিয়ে আসবেন। নিশ্চয় আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
প্রত্যেকের জন্য এক একটি লক্ষ্যস্থল রয়েছে, ঐ দিকেই সে মুখমন্ডল প্রত্যাবর্তিত করে, অতএব তোমরা কল্যাণের দিকে ধাবিত হও; তোমরা যেখানেই থাকনা কেন, আল্লাহ তোমাদের সকলকেই একত্রিত করবেন; নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতাবান।
আর প্রত্যেকের একটি দিক রয়েছে, যে দিকে সে চেহারা ফিরায়। অতএব তোমরা সৎকাজে প্রতিযোগিতা কর। তোমরা যেখানেই থাক না কেন আল্লাহ্ তোমাদের সবাই কে নিয়ে আসবেন। নিশ্চয় আল্লাহ্ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
প্রত্যেকের জন্য এক একটি লক্ষ্যস্থল রয়েছে সেদিকেই সে মুখ ফেরায়। অতএব তোমরা কল্যাণের দিকে ধাবিত হও; তোমরা যেখানেই থাক না কেন আল্লাহ তোমাদের সকলকেই একত্রিত করবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ব বিষয়ে পূর্ণ ক্ষমতাবান।
১৪৮. প্রত্যেক উম্মতেরই একটি দিক রয়েছে যেদিকে তারা ফিরে। চাই সেটি প্রকাশ্য হোক কিংবা অপ্রকাশ্য। এ জন্যই তারা ক্বিবলা ও আল্লাহর শরীয়ত নিয়ে মতপার্থক্য করে। তবে এটি কোন দোষের নয়, যদি এটি আল্লাহর আদেশ ও তাঁর শরীয়তের অধীন হয়। হে মু’মিনগণ! তাহলে তোমরা কল্যাণকর কাজের দিকে ধাবিত হও যার আদেশ তোমাদেরকে দেয়া হয়েছে। অচিরেই আল্লাহ তা‘আলা কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে যে কোন জায়গা থেকে একত্রিত করবেন। অতঃপর তিনি তোমাদের আমলের প্রতিদান দিবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা সব কিছুর উপর ক্ষমতাশীল। তাই কিয়ামতের দিন তোমাদেরকে একত্রিত করা ও আমলের প্রতিদান দেয়া তাঁর জন্য কোন ব্যাপারই নয়।
তাফসীর
হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ ‘এর ভাবার্থ এই যে, প্রত্যেক মযহাবধারীর এক একটি কিবলাহ রয়েছে, কিন্তু সত্য কিবলাহ্ ওটাই যার উপরে মুসলমানরা রয়েছে।' আবুল আলিয়া (রঃ) বলেনঃ ইয়াহুদীদেরও কিবলাহ্ রয়েছে, খ্রীষ্টানদেরও কিবলাহ রয়েছে এবং হে মুসলমানগণ! তোমাদেরও কিবলাহ রয়েছে, কিন্তু হেদায়াত বিশিষ্ট কিবলাহ ওটাই যার উপরে তোমরা (মুসলমানেরা) রয়েছ।' হযরত মুজাহিদ (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, যেসব সম্প্রদায় কা'বা শরীফকে কিবলাহ রূপে মেনে নিয়েছে, পুণ্যের কাজে তারা অগ্রগামী হয়ে থাকে। ইবনে আব্বাস (রাঃ) এবং ইবনে আমের (রাঃ) (আরবি) পড়েছেন। উল্লেখিত আয়াতটি নিম্নের আয়াতের সাথে মিল রয়েছে। যেমন (আরবি) অর্থাৎ প্রত্যেকের জন্যেই আমি আপন আপন দ্বীন ও পথ করে দিয়েছি।' (৫:৪৮) অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “হে মানব মণ্ডলী! তোমাদের শরীর ছিন্ন ভিন্ন হলেও এবং তোমরা এদিক ওদিক ছড়িয়ে পড়লেও আল্লাহ তাআলা তার পূর্ণ ব্যাপক ক্ষমতার বলে তোমাদের সকলকেই একদিন একত্রিত করবেন। কেননা, আল্লাহ তা'আলা সর্ববিষয়ে ব্যাপক ক্ষমতাবান।
আর প্রত্যেকের একটি দিক রয়েছে, যে দিকে সে চেহারা ফিরায় [১]। অতএব তোমরা সৎকাজে প্রতিযোগিতা কর। তোমরা যেখানেই থাক না কেন আল্লাহ্ তোমাদের সবাই কে নিয়ে আসবেন। নিশ্চয় আল্লাহ্ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।
[১] (وجهة) শব্দটির আভিধানিক অর্থ এমন বস্তু, যার দিকে মুখ করা হয়। আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, এর অর্থ কেবলা। এ ক্ষেত্রে উবাই ইবনে কা'ব (وجهة) এর স্থলে (قبلة) ও পড়েছেন বলে বর্ণিত রয়েছে। তাফসীরের ইমামগণের সম্মিলিত সিদ্ধান্ত মোতাবেক আয়াতের অর্থ দাড়ায় এই, প্রত্যেক জাতিরই ‘ইবাদাতের সময় মুখ করার জন্য একটি নির্ধারিত কেবলা চলে আসছে। সে কেবলা আল্লাহ্র তরফ হতে নির্ধারিত করে দেয়া হয়েছে, অথবা তারা নিজেরাই তা নির্ধারণ করে নিয়েছে। মোটকথা, ‘ইবাদাতের ক্ষেত্রে প্রত্যেক জাতিই কোন না কোন দিকে মুখ করে দাঁড়ায়। এমতাবস্থায় আখেরী নবীর উম্মতগণের জন্য যদি কোন একটা বিশেষ দিককে কেবলা নির্ধারণ করে দেয়া হয়ে থাকে, তবে তাতে আশ্চর্য হওয়ার কি আছে? [মাআরিফুল কুরআন]
