Al-Baqarah

আল-বাকারা: 60

2:60
টেক্সট কপি

মূল আরবি

۞ وَإِذِ ٱسْتَسْقَىٰ مُوسَىٰ لِقَوْمِهِۦ فَقُلْنَا ٱضْرِب بِّعَصَاكَ ٱلْحَجَرَ ۖ فَٱنفَجَرَتْ مِنْهُ ٱثْنَتَا عَشْرَةَ عَيْنًا ۖ قَدْ عَلِمَ كُلُّ أُنَاسٍ مَّشْرَبَهُمْ ۖ كُلُوا۟ وَٱشْرَبُوا۟ مِن رِّزْقِ ٱللَّهِ وَلَا تَعْثَوْا۟ فِى ٱلْأَرْضِ مُفْسِدِينَ

English Translations

Sahih International

And [recall] when Moses prayed for water for his people, so We said, "Strike with your staff the stone." And there gushed forth from it twelve springs, and every people [i.e., tribe] knew its watering place. "Eat and drink from the provision of Allāh, and do not commit abuse on the earth, spreading corruption."

Muhsin Khan

And (remember) when Musa (Moses) asked for water for his people, We said: "Strike the stone with your stick." Then gushed forth therefrom twelve springs. Each (group of) people knew its own place for water. "Eat and drink of that which Allah has provided and do not act corruptly, making mischief on the earth."

Taqi Usmani

When Mūsā sought water for his people, We said, “Strike the rock with your staff,” And twelve springs gushed forth from it. Each group of people came to know their drinking place. “Eat and drink of what Allah has provided, and do not go about the earth spreading disorder.”

Abul Ala Maududi

And recall when Moses prayed for water for his people and We replied: “Strike the rock with your staff.” And there gushed out from it twelve springs and each tribe knew its drinking-place. (Then you were directed): “Eat and drink of the sustenance provided by Allah, and do not go about acting wickedly on earth, spreading mischief.”

Pickthall

And when Moses asked for water for his people, We said: Smite with thy staff the rock. And there gushed out therefrom twelve springs (so that) each tribe knew their drinking-place. Eat and drink of that which Allah hath provided, and do not act corruptly, making mischief in the earth.

Yusuf Ali

And remember Moses prayed for water for his people; We said: "Strike the rock with thy staff." Then gushed forth therefrom twelve springs. Each group knew its own place for water. So eat and drink of the sustenance provided by Allah, and do no evil nor mischief on the (face of the) earth.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

স্মরণ কর, যখন মূসা (আ.) তার কওমের জন্য পানি প্রার্থনা করল, আমি বললাম, ‘তোমার লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত কর’। ফলে তাথেকে বারটি ঝর্ণা প্রবাহিত হল, প্রত্যেক গোত্র নিজ নিজ পানের জায়গা চিনে নিল,(বললাম) ‘আল্লাহ প্রদত্ত রিয্ক হতে তোমরা পানাহার কর এবং দুষ্কৃতিকারীর মত পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করো না’।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর স্মরণ কর, যখন মূসা তার কওমর জন্য পানি চাইল, তখন আমি বললাম, ‘তুমি তোমার লাঠি দ্বারা পাথরকে আঘাত কর’। ফলে তা থেকে উৎসারিত হল বারটি ঝরনা। প্রতিটি দল তাদের পানি পানের স্থান জেনে নিল। তোমরা আল্লাহর রিয্ক থেকে আহার কর ও পান কর এবং ফাসাদকারী হয়ে যমীনে ঘুরে বেড়িয়ো না।

শাইখ মুজিবুর রহমান

এবং যখন মূসা স্বীয় সম্প্রদায়ের জন্য পানি প্রার্থনা করেছিল তখন আমি বলেছিলামঃ তুমি স্বীয় লাঠি দ্বারা প্রস্তরে আঘাত কর, অনন্তর তা হতে দ্বাদশ প্রস্রবন বিনিঃসৃত হল, প্রত্যেকেই স্ব স্ব স্থান জেনে নিল, তোমরা আল্লাহর উপজীবিকা হতে আহার কর ও পান কর এবং পৃথিবীতে শান্তি ভঙ্গকারী রূপে বিচরণ করনা।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর স্মরণ কর, যখন মূসা তার জাতির জন্য পানি চাইলেন। আমরা বললাম, ‘আপনার লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত করুন’। ফলে তা হতে বারোটি প্রস্রবণ প্রবাহিত হলো। প্রত্যেক গোত্র নিজ নিজ পানি গ্রহণের স্থান জেনে নিলো। (বললাম), ‘আল্লাহ্‌র দেয়া জীবিকা হতে তোমরা খাও, পান কর এবং যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়িয়ো না’।

ফাতহুল মাজীদ

আরও স্মরণ কর, যখন মূসা স্বীয় সম্প্রদায়ের জন্য পানি প্রার্থনা করল তখন আমি বললাম: তুমি স্বীয় লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত কর; ফলে তা হতে বারটি ঝর্ণা প্রবাহিত হল। প্রত্যেকেই স্ব-স্ব ঘাট জেনে নিল। তোমরা আল্লাহর রিযিক হতে খাও এবং পান কর। আর পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টিকারীরূপে বিচরণ করো না।

মুখতাসার

৬০. তোমরা সে নিয়ামতের কথা স্মরণ করো যখন তোমরা পথ হারিয়ে অস্থিরতা ও কঠিন তৃষ্ণায় ভুগছিলে। তখন মূসা (আলাইহিস-সালাম) তাঁর প্রভুর নিকট অতি বিনয়ের সাথে তোমাদের জন্য পানি চেয়েছিলেন। আর তখনই আমি তাঁকে আদেশ করলাম তাঁর লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত করতে। যখন তিনি পাথরে আঘাত করলেন তখনই সেখান থেকে তোমাদের বংশগুলোর সংখ্যানুযায়ী বারোটি ঝর্ণা ধারা সৃষ্টি হলো। আর সেগুলো থেকে পানি বের হওয়া শুরু করলো। তখন আমি তোমাদের প্রত্যেক বংশের জন্য তার নির্দিষ্ট পানি পান করার জায়গা বাতলিয়ে দিলাম। যাতে তোমাদের মাঝে কোন ধরনের দ্বনদ্ব সৃষ্টি না হয়। আর আমি তোমাদেরকে বললাম: তোমরা আল্লাহর দেয়া রিযিক খাও ও পান করো। যা বিনা শ্রম ও পরিশ্রমে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের নিকট পাঠিয়েছেন। তোমরা এ পৃথিবীতে কোন ধরনের ফাসাদ সৃষ্টি করো না।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

আর একটি পুরস্কারঃএখানে বানী ইসরাঈলকে আর একটি নিয়ামতের কথা স্মরণ করানো হচ্ছে যে, যখন তাদের নবী হযরত মূসা (আঃ) তাদের জন্যে মহান আল্লাহ নিকট পানির প্রার্থনা জানালেন, তখন আল্লাহ তা'আলা বারটি প্রস্রবণ সেই পাথর হতে বের করলেন যা তাদের সাথে থাকতো এবং তাদের প্রত্যেক গোত্রের জন্য তিনি এক একটি ঝর্ণা প্রবাহিত করে দেন যা প্রত্যেক গোত্র জেনে নেয়। অতঃপর আল্লাহ পাক তাদেরকে বলেন যে, তারা যেন মান্না ও সালওয়া' খেতে থাকে এবং ঐ ঝর্ণার পানি পান করতে থাকে, আর বিনা পরিশ্রমে প্রাপ্ত ঐ আহার্য ও পানীয় খেয়ে ও পান করে যেন তারা তাঁর ইবাদত করতে থাকে, কিন্তু তারা যেন তাঁর অবাধ্য হয়ে দুনিয়ার বুকে ফাসাদ সৃষ্টি না করে, নচেৎ সেই নিয়ামত তাদের নিকট হতে কেড়ে নেয়া হবে।হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, ওটা একটা চার কোণ বিশিষ্ট পাথর ছিল যা তাদের সাথেই থাকতো।

আল্লাহর নির্দেশক্রমে হযরত মূসা (আঃ) ওর উপর লাঠি দ্বারা আঘাত করলে চার কোণা হতে তিনটি করে বারোটি ঝর্ণা বেরিয়ে আসে। পাথরটি বলদের মাথার মত ছিল যা বলদের উপর চাপিয়ে দেয়া হতো। তারা যেখানে যেখানে অবতরণ করতো, ওটা নামিয়ে রাখতে এবং লাঠির আঘাত করতেই ওটা হতে ঝর্ণা বেরিয়ে আসতো। আবার যখন যাত্রা আরম্ভ করতো তখন ঝর্ণা বন্ধ হয়ে যেতো। এবং তারা তা উঠিয়ে নিতো। ঐ পাথরটি ছিল তূর পাহাড়ের। ওটা ছিল এক হাত লম্বা ও এক হাত চওড়া। কেউ কেউ বলেন যে, ওটা ছিল বেহেশতী পাথর, যা দশ হাত লম্বা ও দশ হাত চওড়া ছিল। ওর দু’টি শাখা ছিল যা ঝলমল করতো। অন্য একটি মত এই যে, ঐ পাথরটি হযরত আদম (আঃ)-এর সাথে বেহেশত হতে এসেছিল এবং এভাবে হস্তান্তর হতে হতে হযরত শুআইব (আঃ) ওটা প্রাপ্ত হন এবং তিনি লাঠি ও পাথরটি হযরত মূসা (আঃ) কে প্রদান করেন।কেউ কেউ বলেন যে, ওটা ছিল সেই পাথর যার উপর হযরত মূসা (আঃ) তার কাপড় রেখে গোসল করছিলেন এবং আল্লাহর নির্দেশক্রমে পাথরটি তার কাপড় নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিল।

হযরত জিবরাঈল (আঃ)-এর পরামর্শক্রমে তিনি পাথরটি উঠিয়ে নিয়েছিলেন এবং ওটা হতেই তার মুজিযা প্রকাশ পায়। ইমাম যামাখশারী (রঃ) বলেন যে, ওটা কোন নির্দিষ্ট পাথর ছিল না, বরং তাকে যে কোন একটি পাথরে আঘাত করতে বলা হয়েছিল। হযরত হাসান (রঃ) হতে বর্ণিত আছে এবং এর দ্বারাই মুজিযার পূর্ণতা প্রকাশ পায়। তার লাঠিটা দ্বারা আঘাত প্রাপ্ত হলেই তা বইতে থাকতো, অন্য লাঠি দ্বারা আঘাত করলেই তা শুকিয়ে যেতো। বানী ইসরাঈল পরস্পর বলাবলি করতে থাকে যে, ঐ পাথরটি হারিয়ে গেলেই তারা পিপাসায় মরে যাবে। তখন আল্লাহ তা'আলা হযরত মূসা (আঃ) কে বলেনঃ “তুমি লাঠি দ্বারা আঘাত করো না, শুধু মুখেই উচ্চারণ কর, তাহলে তাদের বিশ্বাস হবে।” আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।

প্রত্যেক গোত্র আপন আপন ঝরণা এভাবে চিনতো যে, প্রত্যেক গোত্রের এক একটি লোক পাথরের পার্শ্বে দাড়িয়ে যেতো এবং লাঠির আঘাত দেয়া মাত্রই ওটা হতে ঝরণা বেরিয়ে আসত। যে ব্যক্তির দিকে যে ঝরণা বয়ে আসতো সে, তখন তার গোত্রকে ডেকে বলতোঃ “এই ঝরণা তোমাদের।” এটা তীহ' প্রান্তরের ঘটনা। সূরা-ই-আ'রাফের মধ্যেও এ ঘটনা বর্ণিত আছে। কিন্তু ঐ সূরাটি মাক্কী’ বলে তথায় ওটার বর্ণনা নাম পুরুষের সর্বনাম দ্বারা করা হয়েছে এবং আল্লাহ তা'আলা যেসব অনুগ্রহ তাদের উপর করেছিলেন, স্বীয় রাসূলের (সঃ) সামনে তিনি তার পুনরাবৃত্তি করেছেন।আর এই সূরাটি ‘মাদানী' বলে এখানে স্বয়ং তাদেরকেই সম্বোধন করা হয়েছে।

সূরা-ই-আ'রাফের মধ্যে (আরবি) বলেছেন এবং এখানে (আরবি) বলেছেন। কেননা, সেখানে প্রথম প্রথম জারী হওয়ার অর্থ এবং এখানে শেষ অবস্থার বর্ণনা রয়েছে। আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন। এই দু’জায়গায় দশটি যুক্তিতে পার্থক্য রয়েছে এবং এ পার্থক্য শব্দ ও অর্থ উভয় হিসেবেই। ইমাম যামাখশারী (রঃ) এসব যুক্তি বর্ণনা করেছেন,এবং প্রকৃতভাব প্রায় একই।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর স্মরণ কর, যখন মূসা তার জাতির জন্য পানি চাইলেন। আমরা বললাম, ‘আপনার লাঠি দ্বারা পাথরে আঘাত করুন’। ফলে তা হতে বারোটি প্রস্রবণ প্রবাহিত হলো। প্রত্যেক গোত্র নিজ নিজ পানি গ্রহণের স্থান জেনে নিলো। (বললাম), ‘আল্লাহ্‌র দেয়া জীবিকা হতে তোমরা খাও, পান কর এবং যমীনে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়িয়ো না’।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-বাকারা (২): আয়াত ৬০] পূর্ণ পৃষ্ঠা

আমি মৃত্যুকে কোনো কিছুর অগ্রবর্তী হতে দেখি না … মৃত্যু ধনী ও দরিদ্র উভয়ের জীবনকেই বিষাদময় করে তুলেছে।এখানে 'মৃত্যু' শব্দটি তিনবার পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে, যা প্রথম প্রকারের অন্তর্ভুক্ত। অন্য এক কবির উক্তিতেও এর উদাহরণ পাওয়া যায়:আহা! কতই না প্রিয় হিন্দ এবং সেই ভূমি যেখানে হিন্দ বাস করে … অথচ সেই হিন্দ আজ দূরত্ব ও বিচ্ছেদে আচ্ছন্ন হয়ে আছে।এখানে তিনি তার প্রিয়ার নাম তিনবার পুনরাবৃত্তি করেছেন তার মাহাত্ম্য প্রকাশের জন্য। চতুর্থত: মহান আল্লাহর বাণী: (রিজজান)। সাধারণ কিরাত অনুযায়ী এটি 'রা' বর্ণের নিচে কাসরা (ই-কার) যোগে 'রিজজান' পঠিত হয়, আর ইবনে মুহাইসিন এটি 'রা' বর্ণে যম্মাহ (উ-কার) যোগে পড়েছেন।

আর 'রিজজ' (যা 'যা' বর্ণ দিয়ে) অর্থ হলো শাস্তি। আর (যা 'সিন' বর্ণ দিয়ে হয়) তার অর্থ হলো দুর্গন্ধ ও অপবিত্রতা; যেমন মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর তা তাদের অপবিত্রতার সাথে আরও অপবিত্রতা বৃদ্ধি করল" [আত-তাওবা: ১২৫], অর্থাৎ তাদের দুর্গন্ধের সাথে আরও দুর্গন্ধ বৃদ্ধি করল। এটি ইমাম কিসাঈ-এর অভিমত। ইমাম ফাররা বলেছেন: 'রিজজ' ও 'রিজস' একই অর্থবোধক। আবু উবাইদ বলেন, যেমন 'সুদগ' ও 'জুদগ' বলা হয় (উভয়টিই একই অর্থ), তেমনি 'রিজস' ও 'রিজজ' একই অর্থবোধক। ফাররা আরও বলেন: কেউ কেউ উল্লেখ করেছেন যে, 'রুজজ' (যম্মাহ বা উ-কার যোগে) একটি মূর্তির নাম ছিল যা তারা পূজা করত।

মহান আল্লাহর বাণী "এবং অপবিত্রতা (রুজজ) বর্জন করো"-এর ক্ষেত্রেও এমন কিরাত পাওয়া যায়। আর 'রাজায' ('রা' ও 'জিম' বর্ণে ফাতহা বা আ-কার যোগে) হলো কাব্যের একটি ছন্দবিশেষ; তবে খলিল একে কাব্য হিসেবে স্বীকার করতে অস্বীকার করেছেন। এটি 'রাজায' শব্দ থেকে উদ্ভূত, যা উটের পেছনের অংশে হওয়া এক প্রকার রোগ; যখন এই রোগ তীব্র হয়, তখন উটের ঊরু কাঁপতে থাকে। (যেহেতু তারা পাপাচার করত) অর্থাৎ তাদের পাপাচারের কারণে। 'ফিসক' শব্দের অর্থ হলো বের হয়ে যাওয়া বা সীমালঙ্ঘন করা, যা পূর্বে বর্ণিত হয়েছে। ইবনে ওয়াসসাব ও নাখঈ 'ইয়াফসিকুন' শব্দটি 'সিন' বর্ণে কাসরা (ই-কার) যোগে পড়েছেন।

‌‌[সূরা আল-বাকারা (২): আয়াত ৬০]এবং যখন মূসা তাঁর সম্প্রদায়ের জন্য পানি প্রার্থনা করলেন, তখন আমি বললাম, "তোমার লাঠি দিয়ে পাথরে আঘাত করো।" ফলে তা থেকে বারোটি প্রস্রবণ প্রবাহিত হলো। প্রতিটি গোত্র নিজ নিজ পানস্থল চিনে নিল। (আমি বললাম,) "আল্লাহর দেওয়া রিযিক থেকে তোমরা আহার করো ও পান করো এবং পৃথিবীতে ফাসাদ সৃষ্টি করে বেড়িয়ো না।" (৬০)এর মধ্যে আটটি মাসআলা বা আলোচনা রয়েছে: প্রথমত - মহান আল্লাহর বাণী: (এবং যখন মূসা তাঁর সম্প্রদায়ের জন্য পানি প্রার্থনা করলেন)। এখানে দুটি সাকিন বর্ণ একত্র হওয়ার কারণে 'যাল' বর্ণে কাসরা (ই-কার) প্রদান করা হয়েছে।

আর 'ইসতাসকা' শব্দের 'সিন' বর্ণটি প্রার্থনাবোধক, যেমন: 'ইস্তলাম' (জ্ঞান চাওয়া), 'ইস্তাখবার' (সংবাদ চাওয়া), 'ইস্তানসার' (সাহায্য চাওয়া) ইত্যাদি; অর্থাৎ তিনি তাঁর সম্প্রদায়ের জন্য পানি পান করানোর অনুরোধ ও প্রার্থনা জানিয়েছিলেন। আর আরবরা 'সাকাইতুহু' এবং 'আসকাইতুহু'—উভয়টিই একই অর্থে ব্যবহার করে। যেমন বলা হয়েছে:(১). দেখুন খণ্ড ১৯, পৃষ্ঠা ৬৫।(২). এই খণ্ডের ২৪৫ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।(৩). ইনি লবীদ (যেমনটি আল-লিসান গ্রন্থে রয়েছে)।

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা

মহান আল্লাহ বললেন: তাদের তওবা হলো এই যে, তাদের প্রত্যেকে তার সামনে আসা পিতা কিংবা সন্তান নির্বিশেষে সবাইকে হত্যা করবে; সে তাকে তলোয়ার দিয়ে হত্যা করবে এবং সেই স্থানে কার মুখোমুখি হচ্ছে সে বিষয়ে কোনো পরোয়া করবে না।অতঃপর তারা তওবা করল যাদের বিষয়টি মূসা ও হারূনের কাছে অগোচর ছিল এবং আল্লাহ তাদের যে সব পাপ জানতেন (কিন্তু প্রকাশ করেননি), তারা তা স্বীকার করে নিল।এবং তারা যা আদিষ্ট হয়েছিল তা পালন করল; ফলে আল্লাহ হত্যাকারী ও নিহত ব্যক্তি উভয়কেই ক্ষমা করে দিলেন।এরপর মূসা তাদের নিয়ে পবিত্র ভূমির দিকে যাত্রা করলেন। তাঁর ক্রোধ প্রশমিত হওয়ার পর তিনি ফলকগুলো গ্রহণ করলেন এবং আল্লাহ তাঁকে যে সকল বিধান পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন, তিনি তাদের তা পালনের আদেশ দিলেন।

কিন্তু তাদের কাছে তা অত্যন্ত কঠিন মনে হলো এবং তারা তা স্বীকার করতে অস্বীকার করল। অবশেষে আল্লাহ তাদের ওপর পাহাড় তুলে ধরলেন যেন তা একটি সামিয়ানা; পাহাড়টি তাদের এত নিকটবর্তী হলো যে তারা আশঙ্কা করল তা তাদের ওপর ধসে পড়বে। তখন তারা তাদের ডান হাতে কিতাব গ্রহণ করল; তারা অবনত মস্তকে ভূমির দিকে এবং তাদের হাতের কিতাবের দিকে তাকিয়ে ছিল, আর পাহাড়টি তাদের ওপর পড়ে যাওয়ার ভয়ে সেটির দিকেও লক্ষ্য রাখছিল।অতঃপর তারা পথ চলতে চলতে পবিত্র ভূমিতে পৌঁছাল। সেখানে তারা এক শক্তিশালী ও বিশালদেহী জনগোষ্ঠীর নগর দেখতে পেল এবং সেখানকার ফলমূলের বিস্ময়কর বিশালতার কথা উল্লেখ করল।

তারা বলল: হে মূসা, সেখানে এক শক্তিশালী সম্প্রদায় রয়েছে (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ২২), আজ তাদের মোকাবিলা করার শক্তি আমাদের নেই এবং যতক্ষণ তারা সেখানে থাকবে ততক্ষণ আমরা তাতে প্রবেশ করব না। যদি তারা সেখান থেকে বেরিয়ে যায় তবেই আমরা প্রবেশ করব। সেই শক্তিশালী সম্প্রদায়ের মধ্য থেকে দুজন লোক যারা মূসার ওপর ঈমান এনেছিল, তারা বেরিয়ে এল এবং বলল: আমরা আমাদের কওম সম্পর্কে অধিক অবগত। তোমরা যদি তাদের দেহাবয়ব এবং সংখ্যা দেখে ভয় পাও, তবে জেনে রেখো তাদের কোনো সাহসী হৃদয় নেই এবং তাদের কোনো প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই। তোমরা নগরের প্রবেশদ্বার দিয়ে তাদের ওপর চড়াও হও, যখনই তোমরা প্রবেশ করবে তখনই তোমরা বিজয়ী হবে (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ২৩)

কেউ কেউ বলেন যে তারা দুজন মূসার সম্প্রদায়ের লোক ছিলেন, আবার সাঈদ দাবি করেছেন যে তারা ছিলেন সেই শক্তিশালী সম্প্রদায়েরই লোক যারা মূসার ওপর ঈমান এনেছিলেন।তিনি বলেন: “যাদেরকে ভয় করা হচ্ছিল তাদের মধ্য থেকে এমন দুই ব্যক্তি যাদের প্রতি আল্লাহ অনুগ্রহ করেছিলেন” (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ২৩)। এর দ্বারা বনী ইসরাঈলরা যাদের ভয় পাচ্ছিল তাদেরই বোঝানো হয়েছে।অতঃপর তারা বলল: হে মূসা, যতক্ষণ তারা সেখানে থাকবে ততক্ষণ আমরা কখনোই সেখানে প্রবেশ করব না। সুতরাং তুমি এবং তোমার প্রতিপালক গিয়ে যুদ্ধ করো, আমরা এখানেই বসে থাকব (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ২৪)

এতে তারা মূসাকে রাগান্বিত করল এবং তিনি তাদের বিরুদ্ধে দোয়া করলেন এবং তাদের পাপাচারী হিসেবে অভিহিত করলেন। এর আগে তাদের অবাধ্যতা ও অসদাচরণ দেখা সত্ত্বেও তিনি তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করেননি—যতক্ষণ না এই দিনটি এল। অতঃপর তিনি তাদের বিরুদ্ধে বদদোয়া করলেন এবং আল্লাহ তাঁর প্রার্থনা কবুল করলেন এবং মূসা তাদের যে নামে অভিহিত করেছিলেন, আল্লাহও তাদের সেই পাপাচারী নামেই অভিহিত করলেন। আল্লাহ বললেন: তবে চল্লিশ বছর পর্যন্ত তাদের জন্য এ ভূমি নিষিদ্ধ করা হলো, তারা পৃথিবীতে উদ্দেশ্যহীনভাবে ঘুরে বেড়াবে (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ২৬)। তারা প্রতিদিন সকালে পথ চলা শুরু করত কিন্তু তাদের কোনো স্থির গন্তব্য ছিল না।এরপর মরুপ্রান্তরে পরিভ্রমণকালে আল্লাহ মেঘমালা দিয়ে তাদের ওপর ছায়া দান করলেন এবং তাদের ওপর মান্না ও সালওয়া অবতীর্ণ করলেন।

তাদের জন্য এমন পোশাকের ব্যবস্থা করলেন যা পুরোনো হতো না এবং ময়লাও হতো না। তাদের মাঝে একটি চারকোণা পাথর স্থাপন করলেন এবং মূসাকে নির্দেশ দিলেন সেটি আঘাত করতে। তিনি তাঁর লাঠি দিয়ে তাতে আঘাত করলে সেখান থেকে বারোটি প্রস্রবণ প্রবাহিত হলো (সূরা আল-বাকারা, আয়াত: ৬০)। প্রতি দিকে তিনটি করে প্রস্রবণ ছিল এবং তিনি প্রতিটি গোত্রকে তাদের নিজস্ব প্রস্রবণ চিনিয়ে দিলেন যেখান থেকে তারা পান করত।