Al-Baqarah
আল-বাকারা: 112
2 আল-বাকারা Al-Baqarah · 286 আয়াত البقرة
আরবি
بَلَىٰ مَنْ أَسْلَمَ وَجْهَهُۥ لِلَّهِ وَهُوَ مُحْسِنٌ فَلَهُۥٓ أَجْرُهُۥ عِندَ رَبِّهِۦ وَلَا خَوْفٌ عَلَيْهِمْ وَلَا هُمْ يَحْزَنُونَ
English Translations
Yes, [on the contrary], whoever submits his face [i.e., self] in Islām to Allāh while being a doer of good will have his reward with his Lord. And no fear will there be concerning them, nor will they grieve.
Yes, but whoever submits his face (himself) to Allah (i.e. follows Allah's Religion of Islamic Monotheism) and he is a Muhsin (good-doer i.e. performs good deeds totally for Allah's sake only without any show off or to gain praise or fame, etc., and in accordance with the Sunnah of Allah's Messenger Muhammad Peace be upon him) then his reward is with his Lord (Allah), on such shall be no fear, nor shall they grieve. [See Tafsir Ibn Kathir, Vol. 1, Page 154].
Of course, whosoever submits his face to Allah, and is good in deeds, will have his reward with his Lord, and there shall be no fear for such people, nor shall they grieve.
(None has any special claim upon reward from Allah.) Whoever submits himself completely to the obedience of Allah and does good will find his reward with his Lord. No fear shall come upon them, nor shall they grieve.
Nay, but whosoever surrendereth his purpose to Allah while doing good, his reward is with his Lord; and there shall no fear come upon them neither shall they grieve.
Nay,-whoever submits His whole self to Allah and is a doer of good,- He will get his reward with his Lord; on such shall be no fear, nor shall they grieve.
বাংলা অনুবাদ
বরং যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণ করে আর সৎকর্মশীল হয়, তার জন্য তার প্রতিপালকের নিকট পুণ্যফল রয়েছে, তাদের কোন ভয় নেই, তাদের কোন দুঃখ নেই।
হ্যাঁ, যে নিজকে আল্লাহর কাছে সোপর্দ করেছে এবং সে সৎকর্মশীলও, তবে তার জন্য রয়েছে তার রবের নিকট প্রতিদান। আর তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা দুঃখিতও হবে না।
অবশ্য যে ব্যক্তি নিজেকে আল্লাহর নিকট সর্মপন করেছে এবং সৎকাজ করেছে, ফলতঃ তার জন্য তার রবের নিকট প্রতিদান রয়েছে এবং তাদের জন্য কোন আশংকা নেই ও তারা চিন্তিত হবেনা।
হ্যাঁ, যে কেউ আল্লাহ্র কাছে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করে এবং সৎকর্মশীল হয় তার প্রতিদান তার রবের কাছে রয়েছে। আর তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।
অবশ্য যে ব্যক্তি আল্লাহর জন্য নিজেকে সম্পূর্ণরূপে সমর্পণ করেছে এবং সৎকর্মশীল হয়েছে ফলতঃ তার জন্য তার প্রতিপালকের নিকট প্রতিদান রয়েছে। আর তাদের জন্য কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।
১১২. বস্তুতঃ জান্নাতে প্রবেশ করবে সে ব্যক্তি যে সত্যিই আল্লাহমুখী ও তাঁর প্রতি নিষ্ঠাবান। উপরন্তু সে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নিয়ে আসা বিধানের অনুসরণে যথানিয়মে উত্তম পন্থায় ইবাদাত করে যাচ্ছে। এমন লোকই জান্নাতী হবে। সে যে দল-উপদলেরই হোক না কেন। তার প্রতিপালকের নিকট সে অবশ্যই তার আমলের প্রতিদান পাবে। ভবিষ্যত তথা পরকাল নিয়ে তাদের কোন ভয় নেই। অনুরূভাবে দুনিয়ার জীবনের উপরও তাদের কোন দুশ্চিন্তা নেই। এ গুণাবলী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর আগমনের পর কেবল মুসলমানদের মধ্যেই পাওয়া যায়।
তাফসীর
2:111
হ্যাঁ, যে কেউ আল্লাহ্র কাছে সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করে এবং সৎকর্মশীল হয় [১] তার প্রতিদান তার রব-এর কাছে রয়েছে। আর তাদের কোন ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না।
[১] আল্লাহ্র কাছে কোন বান্দার আমল গ্রহণযোগ্য হওয়ার জন্য শর্ত হচ্ছে দু'টি বিষয়ঃ এক. ইখলাস তথা বান্দা মনে-প্রাণে নিজেকে আল্লাহ্র কাছে সমৰ্পন করবে। দুই. রাসূলের পরিপূর্ণ অনুসরণ। অর্থাৎ যদি কেউ মনে-প্রাণে আল্লাহ্ তা'আলার আনুগত্যের সংকল্প গ্রহণ করে কিন্তু আনুগত্য ও ইবাদাত নিজের খেয়াল-খুশীমত মনগড়া পন্থায় সম্পাদন করে, তবে তাও জান্নাতে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়, বরং এ ক্ষেত্রেও আনুগত্য ও ‘ইবাদাতের সে পন্থাই অবলম্বন করতে হবে, যা আল্লাহ্ তাআলা রাসূলের মাধ্যমে বর্ণনা ও নির্ধারণ করেছেন। প্রথম বিষয়টি (بَلٰى مَنْ اَسْلَمَ) বাক্যাংশের মাধ্যমে এবং দ্বিতীয় বিষয়টি (وَهُوَ مُحْسِنٌ) বাক্যাংশের মাধ্যমে ব্যক্ত হয়েছে। এতে জানা গেল যে, আখেরাতের মুক্তি ও জান্নাতে প্রবেশের জন্য শুধু ইখলাসই যথেষ্ট নয়, বরং সৎকর্মও প্রয়োজন। বস্তুতঃ কুরআন ও রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামএর সুন্নাহর সাথে সামঞ্জস্যশীল শিক্ষা ও পন্থাই সৎকর্ম। আল্লাহ্র ইখলাস ও রাসূলের আনুগত্যের ব্যাপারে মানুষের অবস্থান চার পর্যায়েঃ
ক) কারো কারো ইখলাস নেই, রাসূলের আনুগত্যও নেই, সে ব্যক্তি মুশরিক, কাফের।
খ) কারো কারো ইখলাস আছে, কিন্তু রাসূলের আনুগত্য নেই, সে ব্যক্তি বিদ'আতকারী।
গ) কারো কারো ইখলাস নেই, কিন্তু রাসূলের আনুগত্য আছে (প্রকাশ্যে), সে ব্যক্তি মুনাফেক।
ঘ) কারো কারো ইখলাসও আছে, রাসূলের আনুগত্য ও অনুসরণও আছে, সে ব্যক্তি হলো প্রকৃত মুমিন। [তাজরীদুত তাওহীদিল মুফীদ]
