Al-Baqarah
আল-বাকারা: 51
2 আল-বাকারা Al-Baqarah · 286 আয়াত البقرة
আরবি
وَإِذْ وَٰعَدْنَا مُوسَىٰٓ أَرْبَعِينَ لَيْلَةً ثُمَّ ٱتَّخَذْتُمُ ٱلْعِجْلَ مِنۢ بَعْدِهِۦ وَأَنتُمْ ظَـٰلِمُونَ
English Translations
And [recall] when We made an appointment with Moses for forty nights. Then you took [for worship] the calf after him [i.e., his departure], while you were wrongdoers.
And (remember) when We appointed for Musa (Moses) forty nights, and (in his absence) you took the calf (for worship), and you were Zalimun (polytheists and wrong-doers, etc.).
And when We appointed forty nights for Mūsā, then you took the calf (as God) thereafter, and you were unjust.
And recall when We summoned Moses for a term of forty nights, and then you set up the calf as your god in his absence. You indeed committed a grave wrong.
And when We did appoint for Moses forty nights (of solitude), and then ye chose the calf, when he had gone from you, and were wrong-doers.
And remember We appointed forty nights for Moses, and in his absence ye took the calf (for worship), and ye did grievous wrong.
বাংলা অনুবাদ
যখন মূসার উপর চল্লিশ রজনীর ওয়া‘দা করেছিলাম (কিতাব প্রদানের জন্য), তার (প্রস্থানের) পর তোমরা তখন বাছুরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিলে, বস্তুতঃ তোমরা তো ছিলে যালিম।
আর যখন আমি মূসাকে চল্লিশ রাতের ওয়াদা দিয়েছিলাম অতঃপর তোমরা তার যাওয়ার পর বাছুরকে (উপাস্যরূপে) গ্রহণ করেছিলে, আর তোমরা ছিলে যালিম।
এবং যখন আমি মূসার সঙ্গে চল্লিশ রজনীর অঙ্গীকার করেছিলাম, অনন্তর তোমরা গো-বৎসকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিলে এবং তোমরা ছিলে অত্যাচারী।
আর স্মরণ কর, যখন আমরা মূসার সাথে চল্লিশ রাতের অঙ্গীকার করেছিলাম, তার (চলে যাওয়ার) পর তোমরা গো-বৎসকে (উপাস্যরূপে) গ্রহণ করেছিলে ; আর তোমরা হয়ে গেলে যালিম।
আরও স্মরণ কর, যখন আমি মূসার সঙ্গে চল্লিশ রাত্রির অঙ্গীকার করেছিলাম, তারপর তোমরা গো-বৎসকে (মা‘বূদ হিসেবে) গ্রহণ করেছিলে এবং তোমরা অত্যাচারী ছিলে।
৫১. তেমনিভাবে তোমরা স্মরণ করো সে নিয়ামতের কথা যখন আমি মূসার সাথে চল্লিশ রাতের ওয়াদা করেছিলাম। যাতে সে সময়ের মাঝে তাওরাতকে নূর ও হিদায়েত হিসেবে নাযিল করা সম্পন্ন হয়। অতঃপর তোমরা সে সময়ে গো-বাছুরের পূজা করলে। বস্তুতঃ তোমরা এ কাজ করে নিজেদের উপর অন্যায় ও অত্যাচার করছিলে।
তাফসীর
৫১-৫৩ নং আয়াতের তাফসীর এখানেও মহান আল্লাহ তাঁর অনুগ্রহসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, হযরত মূসা (আঃ) যখন চল্লিশ দিনের অঙ্গীকারে বানী ইসরাঈলের নিকট হতে তূর পাহাড়ে চলে যান তখন তারা ইতিমধ্যেই বাছুর পূজা আরম্ভ করে দেয়। অতঃপর হযরত মূসা (আঃ) তাদের নিকট ফিরে আসলে তারা এ শিরক হতে তওবা করে। তাই, আল্লাহ পাক বলেন যে, এত বড় অপরাধের পরেও তিনি তাদেরকে ক্ষমা করে দেন। এটা বানী ইসরাঈলের প্রতি তাঁর কম বড় অনুগ্রহ নয়। কুরআন মাজীদের অন্য জায়গায় আছেঃ “যখন আমি মূসা (আঃ)-এর সঙ্গে ত্রিশ রাত্রির ওয়াদা করেছিলাম এবং আরও দশ বাড়িয়ে পুরো চল্লিশ করেছিলাম।' বলা হয় যে, এ ওয়াদার সময়কাল ছিল জীক’কাদার পুরো মাস এবং জিলহজ্জ মাসের দশ দিন। এটা ফিরআউনীদের হাত হতে মুক্তি পাওয়ার পরের ঘটনা। “কিতাব’-এর ভাবার্থ তাওরাত এবং ফুরকান প্রত্যেক ঐ জিনিসকে বলা হয় যা সত্য ও মিথ্যার মধ্যে এবং হিদায়াত ও গুমরাহীর মধ্যে পার্থক্য করে থাকে। এ কিতাবটিও উক্ত ঘটনার পরে পেয়েছিলেন। যেমন সূরা-ই-আরাফের এ ঘটনার বর্ণনা রীতি দ্বারা প্রকাশ পাচ্ছে। অন্যত্র রয়েছে ‘আমি পূর্ব যুগীয় লোকদেরকে ধ্বংস করার পর মূসা (আঃ) কে এ কিতাব দিয়েছিলাম যা সমুদয় লোকের জন্য উজ্জ্বল নিদর্শনসমূহ এবং হিদায়াত ও রহমত স্বরূপ, যেন তারা উপদেশ লাভ করে।' এটাও বলা হয়েছে টি অতিরিক্ত এবং স্বয়ং কিতাবকেই ফুরকান বলা হয়েছে। কিন্তু এটা গরীব। কেউ কেউ বলেন যে, কিতাবের উপরে ফুরকানের সংযোগ হয়েছে, অর্থাৎ ‘কিতাবও দিয়েছি এবং মু'জিযাও দিয়েছি। প্রকৃতপক্ষে অর্থ হিসেবে দু'টোর অর্থ একই এবং এ রকম দু’নামের একই জিনিস সংযোগরূপে আরবদের কথায় দেখা যায়। আরব কবিদের কবিতাগুলোও এর সাক্ষ্য বহন করে।
আর স্মরণ কর, যখন আমরা মূসার সাথে চল্লিশ রাতের অঙ্গীকার করেছিলাম [১], তার (চলে যাওয়ার) পর তোমরা গো-বৎসকে (উপাস্যরূপে) গ্রহণ করেছিলে [২] ; আর তোমরা হয়ে গেলে যালিম [৩]।
[১] এখানে চল্লিশ রাতের ব্যাপারে এটা বলেন নি যে, এ চল্লিশ রাতের ওয়াদা প্রথমেই নিয়েছিলেন কি না? কিন্তু অন্যত্র বলে দিয়েছেন যে, তাকে প্রথমে ত্রিশ রাতের ওয়াদা করেছিলেন তারপর আরও দশ রাত বাড়িয়ে দিয়ে তা চল্লিশে পূর্ণ করে দিলেন। [সূরা আল-আরাফ: ১৪২]
[২] এখানে গো বৎসের উৎস ও কারিগর সম্পর্কে কিছু বলেন নি। অন্যত্র সেটা বিস্তারিত এসেছে। আল্লাহ্ বলেন, "মূসার সম্প্রদায় তার অনুপস্থিতিতে নিজেদের অলংকার দিয়ে একটি বাছুর তৈরী করল, একটা দেহ, যা 'হাম্বা’ শব্দ করত। তারা কি দেখল না যে, ওটা তাদের সাথে কথা বলে না ও তাদেরকে পথও দেখায় না? তারা ওটাকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করল এবং তারা ছিল যালেম " [সূরা আল-আরাফ: ১৪৮]
আরও বলেন, “তারা বলল, আমরা আপনাকে দেয়া অংগীকার স্বেচ্ছায় ভংগ করিনি ; তবে আমাদের উপর চাপিয়ে দেয়া হয়েছিল লোকের অলংকারের বোঝা এবং আমরা তা আগুনে নিক্ষেপ করি, অনুরূপভাবে সামিরীও (সেখানে কিছু মাটি) নিক্ষেপ করে। তারপর সে তাদের জন্য গড়লো এক বাছুর, এক অবয়ব, যা হাম্বা রব করত। তারা বলল, "এ তোমাদের ইলাহ এবং মূসারও ইলাহ, কিন্তু মূসা ভুলে গেছে। " [সূরা ত্বা-হাঃ ৮৭-৮৮]
[৩] এ ঘটনা ঐ সময়ের যখন ফিরআউন সমুদ্রে নিমজ্জিত হওয়ার পর ইসরাঈল-বংশধররা কারো কারো মতে মিশরে ফিরে এসেছিল, আবার কারো কারো মতে অন্য কোথাও বসবাস করছিল। তখন মূসা ‘আলাইহিস সালাম-এর খেদমতে ইসরাঈল-বংশধররা আরয করলো যে, আমরা এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও নিশ্চিন্ত। যদি আমাদের জন্য কোন শরীআত নির্ধারিত হয়, তবে আমাদের জীবন বিধান হিসেবে আমরা তা গ্রহণ ও বরণ করে নেবো। মূসা ‘আলাইহিস সালাম-এর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ্ তাআলা অংগীকার প্রদান করলেন যে, আপনি তুর পর্বতে অবস্থান করে একমাস পর্যন্ত আমার ইবাদাতে নিমগ্ন থাকার পর আপনাকে এক কিতাব দান করবো। মূসা ‘আলাইহিস্ সালাম তাই করলেন। এরপর আল্লাহ্ তা'আলা মূসা ‘আলাইহিস সালাম-কে অতিরিক্ত আরও দশদিন ইবাদাত করতে নির্দেশ দিলেন। এভাবে চল্লিশ দিন পূর্ণ হলো আর আল্লাহ্ তা'আলা মূসা ‘আলাইহিস সালাম-কে তাওরাত দিলেন। মূসা ‘আলাইহিস্ সালাম তো ওদিকে তুর-পর্বতে রইলেন, এদিকে সামেরী নামক এক ব্যক্তি সোনা-রূপা দিয়ে গোবৎসের একটি প্রতিমূর্তি তৈরী করলো এবং তার কাছে পূর্ব থেকে সংরক্ষিত জিবরাঈল ‘আলাইহিস সালাম-এর ঘোড়ার খুরের তলার কিছু মাটি প্রতিমূর্তির ভিতরে ঢুকিয়ে দেয়ায় সেটি শব্দ করতে থাকলো। আর ইসরাঈল-বংশধররা তারই পূজা করতে শুরু করে দিল। [তাফসীরে মাআরিফুল কুরআন]
