Al-Baqarah

আল-বাকারা: 134

2:134
টেক্সট কপি

মূল আরবি

تِلْكَ أُمَّةٌ قَدْ خَلَتْ ۖ لَهَا مَا كَسَبَتْ وَلَكُم مَّا كَسَبْتُمْ ۖ وَلَا تُسْـَٔلُونَ عَمَّا كَانُوا۟ يَعْمَلُونَ

English Translations

Sahih International

That was a nation which has passed on. It will have [the consequence of] what it earned, and you will have what you have earned. And you will not be asked about what they used to do.

Muhsin Khan

That was a nation who has passed away. They shall receive the reward of what they earned and you of what you earn. And you will not be asked of what they used to do.

Taqi Usmani

Those are a people who have passed away. For them is what they earned, and for you is what you earned. Nor shall you be questioned as to what they have been doing.

Abul Ala Maududi

Now, they were a people who passed away. Theirs is what they have earned, and yours is what you have earned. You shall not be asked concerning what they did.

Pickthall

Those are a people who have passed away. Theirs is that which they earned, and yours is that which ye earn. And ye will not be asked of what they used to do.

Yusuf Ali

That was a people that hath passed away. They shall reap the fruit of what they did, and ye of what ye do! Of their merits there is no question in your case!

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

এ লোকেরা গত হয়ে গেছে, তাদের জন্য তাদের কৃতকর্ম এবং তোমাদের জন্য তোমাদের কৃতকর্ম এবং তাদের কৃতকর্ম সম্বন্ধে তোমাদেরকে জিজ্ঞেস করা হবে না।

রাওয়াই আল-বায়ান

সেটা এমন এক উম্মত যা বিগত হয়েছে। তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের জন্যই, আর তোমরা যা অর্জন করেছ তা তোমাদের জন্যই। আর তারা যা করত সে সম্পর্কে তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে না।

শাইখ মুজিবুর রহমান

ওটি একটি দল ছিল, যা অতীত হয়ে গেছে; তারা যা অর্জন করেছিল তা তাদের জন্য এবং তোমরা যা অর্জন করেছ তা তোমাদের জন্য এবং তারা যা করে গেছে তজ্জন্য তোমরা জিজ্ঞাসিত হবেনা।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

তারা ছিল এমন এক জাতি, যারা অতীত হয়ে গেছে। তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের, তোমরা যা অজন করেছো তা তোমাদের। আর তারা যা করত সে সম্বন্ধে তোমাদের প্রশ্ন করা হবে না।

ফাতহুল মাজীদ

ওরা একটা দল ছিল যা অতীত হয়ে গেছে; তারা যা অর্জন করেছিল তা তাদের জন্য এবং তোমরা যা অর্জন করেছ তা তোমাদের জন্য এবং তারা যা করে গেছে তার জন্য তোমরা জিজ্ঞাসিত হবে না।

মুখতাসার

১৩৪. এরা এমন এক জাতি যারা অন্যান্যদের ন্যায় ইতিপূর্বে দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছে। তারা দুনিয়া থেকে যে আমল অগ্রিম পাঠিয়েছে তারা তাই পাবে। তারা ভালো-মন্দ যাই অর্জন করেছে তারা তারই প্রতিদান পাবে। আর তোমরা নিজেদের অর্জনের প্রতিদান পাবে। তোমাদেরকে তাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে না। না তাদেরকে তোমাদের আমল সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হবে। কাউকে অন্যের পাপের জন্য কখনোই পাকড়াও করা হবে না। বরং প্রত্যেককে তার আমলেরই প্রতিদান দেয়া হবে। তাই তোমরা নিজেদের পূর্ববর্তীদের কারো আমল নিয়ে ব্যস্ত হয়ে নিজেদের আমলের ব্যাপারে চিন্তা করতে ভুলে যেও না। কারণ, আল্লাহর রহমতের পর নেক আমল ছাড়া কেউ কারোই উপকার করতে পারবে না।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

2:133

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

তারা ছিল এমন এক জাতি, যারা অতীত হয়ে গেছে। তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের, তোমরা যা অজন করেছো তা তোমাদের। আর তারা যা করত সে সম্বন্ধে তোমাদের প্রশ্ন করা হবে না [১]।

[১] আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, বাপ-দাদার সৎকর্ম সন্তানদের উপকারে আসে না - যতক্ষণ না তারা নিজেরা সৎকর্ম সম্পাদন করবে। এমনিভাবে বাপ-দাদার কুকর্মের শাস্তিও সন্তানরা ভোগ করবে না, যদি তারা সৎকর্মশীল হয়। কুরআন এ বিষয়টি বারবার বিভিন্ন ভঙ্গিতে বর্ণনা করেছে। বিভিন্ন আয়াতে বলা হয়েছেঃ “একজনের বোঝা অন্যজন বহন করবে না”। [সূরা আল-আনআমঃ ১৬৪. আল-ইসরাঃ ১৫, ফাতিরঃ ১৮, আৰ্য-যুমারঃ ৭, আন-নাজমঃ ৩৮]

রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “হে বনী-হাশেম! এমন যেন না হয় যে, কেয়ামতের দিন অন্যান্য লোকজন নিজ নিজ সৎকর্ম নিয়ে আসবে আর তোমরা আসবে সৎকর্ম থেকে উদাসীন হয়ে শুধু বংশ গৌরব নিয়ে এবং আমি বলব যে, আল্লাহ্‌র আযাব থেকে আমি তোমাদের বাচাতে পারব না। [মুসলিমঃ ২৫৪৩]

অন্য এক হাদীসে আছে, 'আমল যাকে পিছনে ফেলে দেয়, বংশ তাকে এগিয়ে নিতে পারে না। [মুসলিম: ২৬৯৯, আবু দাউদ: ১৪৫৫]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-বাকারা (২): আয়াত ১৩৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা

আল্লাহ তাআলার বাণী: "তারা বলল, আমরা ইবাদত করব আপনার ইলাহের এবং আপনার পিতৃপুরুষ ইব্রাহিম, ইসমাইল ও ইসহাকের ইলাহের।" এখানে "ইব্রাহিম, ইসমাইল ও ইসহাক" নামগুলো পূর্ববর্তী পদের স্থলাভিষিক্ত (বদল) হিসেবে জের (খফদ) অবস্থায় রয়েছে; তবে অনারব নাম হওয়ার কারণে এগুলোতে তানভীন বা কাসরা যুক্ত হয়নি। কিসায়ি বলেন: আপনি চাইলে "ইসহাক" শব্দটিকে পরিবর্তনশীল (মুনসারিফ) ধরতে পারেন এবং একে "সাহক" (চূর্ণ করা) ধাতু থেকে উদ্ভূত মনে করতে পারেন। তেমনি "ইয়াকুব" শব্দটিকেও মুনসারিফ ধরতে পারেন যদি একে এক প্রকার পাখির নাম হিসেবে গণ্য করা হয়। মহান আল্লাহ এখানে চাচা এবং দাদা উভয়কেই "পিতা" হিসেবে সম্বোধন করেছেন।

তিনি প্রথমে দাদার উল্লেখ করেছেন, এরপর চাচা ইসমাইলের কথা উল্লেখ করেছেন, কারণ তিনি ইসহাকের চেয়ে বড় ছিলেন। আর "ইলাহান" শব্দটি "ইলাহাকা" এর স্থলাভিষিক্ত (বদল), যেখানে নির্দিষ্ট বিশেষ্যের পরিবর্তে অনির্দিষ্ট বিশেষ্য ব্যবহৃত হয়েছে। একত্ববাদের গুণকে গুরুত্ব দেওয়ার জন্য শব্দটির পুনরাবৃত্তি করা হয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন, "ইলাহান" শব্দটি এখানে অবস্থা (হাল) হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। ইবনে আতিয়্যাহ বলেন: এটি একটি চমৎকার অভিমত, কারণ এখানে মূল উদ্দেশ্য হলো একত্বের অবস্থাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করা। হাসান, ইয়াহইয়া ইবনে ইয়ামুর, জাহদারি এবং আবু রাজা আল-উতারিদি "আপনার পিতার ইলাহ" (একবচনে) পাঠ করেছেন।

এর দুটি ব্যাখ্যা রয়েছে: প্রথমত—এটি একবচন এবং এর দ্বারা কেবল ইব্রাহিমকে বোঝানো হয়েছে; আর ইসমাইলকে পিতা হিসেবে গণ্য করা অপছন্দ করা হয়েছে কারণ তিনি চাচা ছিলেন। নাহহাস বলেন: এটি আবশ্যক নয়, কারণ আরবরা চাচাকেও পিতা বলে সম্বোধন করে। দ্বিতীয়ত—সিবাওয়াইহ-এর ব্যাকরণিক মতানুসারে "আবীকা" শব্দটি সুস্থ বহুবচন (জামে সালামাহ) হতে পারে। সিবাওয়াইহ "আবন", "আবুনা" এবং "আবীনা" ব্যবহারের কথা উল্লেখ করেছেন, যেমনটি জনৈক কবি বলেছেন:অতঃপর আমরা বললাম, তোমরা আত্মসমর্পণ করো, নিশ্চয়ই তোমাদের ভাইয়েরা— অন্য একজন কবি বলেছেন:যখন তারা আমাদের কণ্ঠস্বর চিনতে পারল...

তারা কেঁদে উঠল এবং তাদের পিতৃপুরুষদের বিনিময়ে আমাদের মুক্তিপণ দিল।আল্লাহ তাআলার বাণী: "আর আমরা তাঁরই প্রতি অনুগত।" এটি উদ্দেশ্য ও বিধেয় (মুবতাদা ও খবর), তবে এটি অবস্থা (হাল) হিসেবেও গণ্য হতে পারে, যার আমিল বা ক্রিয়া হলো "আমরা ইবাদত করি"। ‌‌[সূরা আল-বাকারা (২): আয়াত ১৩৪]সেটি ছিল একটি উম্মত যারা গত হয়ে গেছে। তারা যা অর্জন করেছে তা তাদের, আর তোমরা যা অর্জন করেছ তা তোমাদের। তারা যা করত সে বিষয়ে তোমাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে না। (১৩৪)(১). এখানে কাব্যিক প্রমাণ হলো "আখুকুম" শব্দটি, যা ওয়াও ও নুন সহযোগে বহুবচন করা হয়েছে এবং ইজাফতের কারণে নুন বিলুপ্ত হয়েছে যাতে এটি বহুবচন সর্বনামের খবর হতে পারে।

কবিতার পূর্ণ অংশটি হলো: "অতঃপর অন্তরসমূহ বিদ্বেষ থেকে মুক্ত হলো।" এখানে মূলত বন্দি নারীদের বর্ণনা দেওয়া হয়েছে যাদের গোত্রের লোকেরা তাদের মুক্ত করতে এসেছিল, ফলে তারা আনন্দিত হয়ে পিতৃপুরুষদের দোহাই দিয়ে তাদের সম্মান জানিয়েছিল। (শারহুশ শাওয়াাহিদ থেকে)।(২). খিজানাতুল আদাব গ্রন্থের ৩২৮তম কাব্যিক প্রমাণ দ্রষ্টব্য।