Al-Baqarah

আল-বাকারা: 169

2:169
টেক্সট কপি

মূল আরবি

إِنَّمَا يَأْمُرُكُم بِٱلسُّوٓءِ وَٱلْفَحْشَآءِ وَأَن تَقُولُوا۟ عَلَى ٱللَّهِ مَا لَا تَعْلَمُونَ

English Translations

Sahih International

He only orders you to evil and immorality and to say about Allāh what you do not know.

Muhsin Khan

[Shaitan (Satan)] commands you only what is evil and Fahsha (sinful), and that you should say against Allah what you know not.

Taqi Usmani

He orders you only to (do) evil and immodest acts, and that you ascribe to Allah what you do not know.

Abul Ala Maududi

he only commands you to do evil and commit acts of indecency and to ascribe to Allah the things concerning which you have no knowledge (that He really is their source).

Pickthall

He enjoineth upon you only the evil and the foul, and that ye should tell concerning Allah that which ye know not.

Yusuf Ali

For he commands you what is evil and shameful, and that ye should say of Allah that of which ye have no knowledge.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

সে তোমাদেরকে শুধু অসৎ এবং অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেয়, আর তোমাদেরকে নির্দেশ দেয় আল্লাহর সম্বন্ধে এমন কথা বলার যা তোমরা জান না।

রাওয়াই আল-বায়ান

নিশ্চয় সে তোমাদেরকে আদেশ দেয় মন্দ ও অশ্লীল কাজের এবং আল্লাহর ব্যাপারে এমন কিছু বলতে, যা তোমরা জান না।

শাইখ মুজিবুর রহমান

সে এতদ্ব্যতীত তোমাদেরকে আদেশ করে শাইতানী ও অশ্লীল কাজ করতে এবং আল্লাহ সম্বন্ধে তোমরা যা জাননা তা বলতে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

সে তো শুধু তোমাদেরকে নির্দেশ দেয় মন্দ ও অশ্লীল কাজের এবং আল্লাহ্‌ সম্বন্ধে এমন সব বিষয় বলার যা তোমরা জান না।

ফাতহুল মাজীদ

সে তো কেবল তোমাদেরকে মন্দ ও অশ্লীল কার্যের এবং আল্লাহ সম্বন্ধে তোমরা যা জান না সে বিষয়ে কথা বলার নির্দেশ দেয়।

মুখতাসার

১৬৯. শয়তান কেবল তোমাদেরকে নিকৃষ্ট পাপ ও বড় বড় গুনাহের আদেশ করবে। তেমনিভাবে সে তোমাদেরকে সর্বদা প্রবঞ্চনা দিবে যেন তোমরা আক্বীদা-বিশ্বাস ও শরীয়তের ব্যাপারে আল্লাহর উপর এমন কথা বানিয়ে বলো যে ব্যাপারে তোমাদের নিকট আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের পক্ষ থেকে কোন দলীল নেই।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

2:168

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

সে তো শুধু তোমাদেরকে নির্দেশ দেয় [১] মন্দ ও অশ্লীল [২] কাজের এবং আল্লাহ্‌ সম্বন্ধে এমন সব বিষয় বলার যা তোমরা জান না [৩]।

[১] এখানে শয়তানের নির্দেশদান অর্থ হচ্ছে মনের মাঝে ওয়াসওয়াসা বা সন্দেহের উদ্ভব করা। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আদম সন্তানের অন্তরে একাধারে শয়তানী প্রভাব এবং ফেরেশতার প্রভাব বিদ্যমান থাকে’ [মুস্তাদরাকে হাকিম: ৩/৫৪৩]

শয়তানী ওয়াস্‌ওয়াসার প্রভাবে অসৎ কাজের কল্যাণ এবং উপকারিতাগুলো সামনে এসে উপস্থিত হয় এবং তাতে সত্যকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার পথগুলো উন্মুক্ত হয়। পক্ষান্তরে ফেরেশতাদের ইলহামের প্রভাবে সৎ ও নেক কাজের জন্য আল্লাহ্ তাআলা যে কল্যাণ ও পুরস্কার দানের ওয়াদা করেছেন, সেগুলোর প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হয় এবং সত্য ও সঠিক পথে চলতে গিয়ে অন্তরে শান্তি লাভ হয় [দেখুন,সহীহ ইবন হিব্বান: ৯৯৭]

[২] (سُوْءٌ) বলা হয় এমন বস্তু বা বিষয়কে যা দেখে রুচিজ্ঞানসম্পন্ন যে কোন বুদ্ধিমান লোক দুঃখবোধ করে। (فَحْشَاءٌ) অর্থ অশ্লীল ও নির্লজ্জ কাজ। আবার অনেকে বলেন যে, এ ক্ষেত্রে (سُوْءٌ) এবং (فَحْشَاءٌ) - এর মর্ম যথাক্রমে ক্ষুদ্র ও বৃহৎ পাপ অর্থাৎ সাধারণ গোনাহ্‌ এবং কবীরা গোনাহ্‌।

[৩] না জেনে আল্লাহ্‌ ও তাঁর দ্বীন সম্পর্কে কথা বলা বড় গোনাহ। এ আয়াতে এবং পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে আল্লাহ্‌ ও তাঁর দ্বীন সম্পর্কে না জেনে কথা বলাকে বড় অপরাধ হিসেবে সাব্যস্ত করা হয়েছে। যেমন, [সূরা আল-বাকারাহ: ৮০, সূরা আল-আরাফ: ২৮,৩৩, সূরা ইউনুস: ৬৮]

তবে এ আয়াতে ‘না জেনে’ কোন কথা বলতে শয়তান মানুষকে নির্দেশ দেয় সেটা ব্যাখ্যা করে বলা হয় নি। পবিত্র কুরআনের অন্যত্র সেটার বর্ণনা দেয়া হয়েছে। যেমন, আল্লাহ্‌ ব্যতীত অন্য কারও সন্তুষ্টি বিধানের জন্য জন্তু-জানোয়ারকে ছেড়ে দেয়া, হালালকে হারাম করা ও হারামকে হালাল করা, আল্লাহ্‌র সাথে কাউকে শরীক করা, আল্লাহ্‌র জন্য সন্তান সাব্যস্ত করা, আল্লাহ্‌র জন্য এমন গুণাবলী সাব্যস্ত করা যা থেকে তিনি পবিত্র। যেমন আল্লাহ্‌ বলেন, “বাহীরাহ্‌, সায়েবাহ্‌, ওহীলাহ্‌ ও হামী আল্লাহ্‌ প্রবর্তণ করেননি; কিন্তু কাফেররা আল্লাহ্‌র প্রতি মিথ্যা আরোপ করে এবং তাদের অধিকাংশই উপলব্ধি করে না" [সূরা আল-মায়েদাহ ১০৩]

“তারা জিনকে আল্লাহ্‌র শরীক করে, অথচ তিনিই এদেরকে সৃষ্টি করেছেন, আর তারা অজ্ঞতাবশত আল্লাহ্‌র প্রতি পুত্র-কন্যা আরোপ করে; তিনি পবিত্র---মহিমান্বিত! এবং ওরা যা বলে তিনি তার উর্ধ্বে। ” [সূরা আল-আনআমঃ ১০০] “যারা নির্বুদ্ধিতার জন্য ও অজ্ঞানতাবশত নিজেদের সন্তানদেরকে হত্যা করে এবং আল্লাহ্‌ প্রদত্ত জীবিকাকে আল্লাহ্‌ সম্বন্ধে মিথ্যা রচনা করার উদ্দেশ্যে নিষিদ্ধ গণ্য করে তারা তো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। " [সূরা আল-আনআমঃ ১৪০]

“বলুন, তোমরা কি ভেবে দেখেছ আল্লাহ্‌ তোমাদের যে রিযক দিয়েছেন তারপর তোমরা তার কিছু হালাল ও কিছু হারাম করেছ?" বলুন, ‘আল্লাহ্‌ কি তোমাদেরকে এটার অনুমতি দিয়েছেন, না তোমরা আল্লাহ্‌র উপর মিথ্যা রটনা করছ" [সূরা ইউনুস: ৫৯]

“তারা বলে, 'আল্লাহ্‌ সন্তান গ্রহণ করেছেন। তিনি মহান পবিত্র। তিনি অভাবমুক্ত! যা কিছু আছে আসমানসমূহে ও যা কিছু আছে পৃথিবীতে তা তাঁরই। এ বিষয়ে তোমাদের কাছে কোন সনদ নেই। তোমরা কি আল্লাহ্‌র উপর এমন কিছু বলছ যা তোমরা জান না ?” [সূরা ইউনুস:৬৮]

“তোমাদের জি্‌হ্বা মিথ্যা আরোপ করে বলে আল্লাহ্‌র প্রতি মিথ্যা আরোপ করার জন্য তোমরা বলো না, ‘এটা হালাল এবং ওটা হারাম’। নিশ্চয়ই যারা আল্লাহ্‌র উপর মিথ্যা উদ্ভাবন করবে তারা সফলকাম হবে না" [সূরা আন-নাহল: ১১৬]

“আর তারা আল্লাহ্‌কে যথোচিত সম্মান করেনি অথচ কিয়ামতের দিন সমস্ত যমীন থাকবে তাঁর হাতের মুঠিতে এবং আসমানসমূহ থাকবে ভাঁজ করা অবস্থায় তার ডান হাতে। পবিত্র ও মহান তিনি, তারা যাদেরকে শরীক করে তিনি তাদের উধের্ব” [সূরা আয-যুমার: ৬৭]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ১৬৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা

আমি বলি: সঠিক মত হলো, এই শব্দটি সুন্নাহ ও শরীয়ত নির্দেশিত বিষয়সমূহ ব্যতীত সকল প্রকার বিদআত ও পাপাচারের ক্ষেত্রে ব্যাপক। 'শয়তান' সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে (১)। চতুর্থত- মহান আল্লাহর বাণী: "নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু" এখানে মহান আল্লাহ সংবাদ দিয়েছেন যে শয়তান শত্রু, আর তাঁর সংবাদ চিরন্তন সত্য। অতএব, বুদ্ধিমান ব্যক্তির কর্তব্য হলো এই শত্রুর ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করা, যে আদমের যুগ থেকেই তার শত্রুতা প্রকাশ করেছে এবং বনী আদমের অবস্থা বিনষ্ট করতে নিজের জীবন ও সময় ব্যয় করেছে। মহান আল্লাহ তার ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেছেন: "আর তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু", "সে তো তোমাদের কেবল মন্দ ও অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেয় এবং আল্লাহর সম্বন্ধে এমন সব কথা বলতে বলে যা তোমরা জানো না।" তিনি আরও বলেছেন: "শয়তান তোমাদের অভাব-অনটনের ভয় দেখায় এবং অশ্লীলতার নির্দেশ দেয় (২)।" তিনি আরও বলেছেন: "শয়তান তাদেরকে ভীষণভাবে পথভ্রষ্ট করতে চায়।" তিনি আরও বলেছেন: "শয়তান তো কেবল এটাই চায় যে, মদ ও জুয়ার মাধ্যমে তোমাদের মধ্যে শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করবে এবং আল্লাহর স্মরণ ও সালাত থেকে তোমাদের বিমুখ রাখবে; সুতরাং তোমরা কি নিবৃত্ত হবে?

(৩)" তিনি আরও বলেছেন: "নিশ্চয় সে এক প্রকাশ্য পথভ্রষ্টকারী শত্রু (৪)।" তিনি আরও বলেছেন: "শয়তান তোমাদের শত্রু; সুতরাং তাকে শত্রুরূপেই গ্রহণ করো। সে তো তার দলবলকে কেবল এ জন্য ডাকে যেন তারা প্রজ্জ্বলিত আগুনের অধিবাসী হয় (৫)।" সতর্কীকরণের ক্ষেত্রে এটি চরম পর্যায়, আর কুরআনে এ ধরণের উদাহরণ অনেক রয়েছে। আবদুল্লাহ ইবনে উমর বলেন: ইবলিসকে নিম্নতম জমিনে আবদ্ধ করে রাখা হয়েছে, সুতরাং যখনই সে নড়াচড়া করে, তখন জমিনে দুই বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে সংঘটিত প্রতিটি অনিষ্ট তার সেই নড়াচড়ার কারণেই হয়ে থাকে। তিরমিযী আবু মালেক আল-আশআরি-এর হাদীস বর্ণনা করেছেন যেখানে রয়েছে: (আমি তোমাদের আল্লাহর যিকির করার নির্দেশ দিচ্ছি।

এর উদাহরণ হলো সেই ব্যক্তির মতো যার পেছনে শত্রু দ্রুতবেগে ধাওয়া করছে, অবশেষে সে একটি সুরক্ষিত দুর্গে পৌঁছে তাদের থেকে নিজেকে রক্ষা করলো। তেমনিভাবে বান্দাও আল্লাহর যিকির ব্যতীত শয়তান থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারে না) হাদীসটি। তিনি এই হাদীস সম্পর্কে বলেছেন: এটি একটি হাসান সহীহ গরীব হাদীস। ‌‌[সূরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ১৬৯]সে তো তোমাদের কেবল মন্দ ও অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেয় এবং আল্লাহর সম্বন্ধে এমন সব কথা বলতে বলে যা তোমরা জানো না (১৬৯)মহান আল্লাহর বাণী: "সে তো তোমাদের কেবল মন্দ ও অশ্লীল কাজের নির্দেশ দেয়" মন্দ কাজকে মন্দ নামকরণ করা হয়েছে কারণ এটি তার অশুভ পরিণতির কারণে সম্পাদনকারীকে ব্যথিত বা মন্দ অবস্থায় নিপতিত করে।

এটি একটি ক্রিয়ামূল (মাসদার), যা কোনো ব্যক্তিকে শোকাতুর বা দুঃখিত করা অর্থে ব্যবহৃত হয়। আমি তাকে দুঃখিত করলাম ফলে সে দুঃখিত হলো, যেমন মহান আল্লাহ বলেছেন: "কাফিরদের মুখমণ্ডল বিবর্ণ (বিষাদগ্রস্ত) হয়ে পড়বে (৬)।" জনৈক কবি বলেছেন:(১). ১০ম মাসআলা দেখুন, ১ম খণ্ড, পৃষ্ঠা ৯০, দ্বিতীয় মুদ্রণ।(২). ৩য় খণ্ড, ৩২৮ পৃষ্ঠা দেখুন।(৩). ৬ষ্ঠ খণ্ড, ২৯২ পৃষ্ঠা দেখুন।(৪). ১৩তম খণ্ড, ২৬১ পৃষ্ঠা দেখুন।(৫). ১৪তম খণ্ড, ৩২৩ পৃষ্ঠা দেখুন।(৬). ১৮তম খণ্ড, ২২০ পৃষ্ঠা দেখুন।