Al-Baqarah

আল-বাকারা: 194

2:194
টেক্সট কপি

মূল আরবি

ٱلشَّهْرُ ٱلْحَرَامُ بِٱلشَّهْرِ ٱلْحَرَامِ وَٱلْحُرُمَـٰتُ قِصَاصٌ ۚ فَمَنِ ٱعْتَدَىٰ عَلَيْكُمْ فَٱعْتَدُوا۟ عَلَيْهِ بِمِثْلِ مَا ٱعْتَدَىٰ عَلَيْكُمْ ۚ وَٱتَّقُوا۟ ٱللَّهَ وَٱعْلَمُوٓا۟ أَنَّ ٱللَّهَ مَعَ ٱلْمُتَّقِينَ

English Translations

Sahih International

[Battle in] the sacred month is for [aggression committed in] the sacred month, and for [all] violations is legal retribution. So whoever has assaulted you, then assault him in the same way that he has assaulted you. And fear Allāh and know that Allāh is with those who fear Him.

Muhsin Khan

The sacred month is for the sacred month, and for the prohibited things, there is the Law of Equality (Qisas). Then whoever transgresses the prohibition against you, you transgress likewise against him. And fear Allah, and know that Allah is with Al-Muttaqun (the pious - see V. 2:2).

Taqi Usmani

The holy month for the holy month, and the sanctities are subject to retribution. So when anyone commits aggression against you, be aggressive against him in the like manner as he did against you, and fear Allah, and be sure that Allah is with the God-fearing.

Abul Ala Maududi

The sacred month for the sacred month; sanctities should be respected alike (by all concerned). Thus, if someone has attacked you, attack him just as he attacked you, and fear Allah and remain conscious that Allah is with those who guard against violating the bounds set by Him.

Pickthall

The forbidden month for the forbidden month, and forbidden things in retaliation. And one who attacketh you, attack him in like manner as he attacked you. Observe your duty to Allah, and know that Allah is with those who ward off (evil).

Yusuf Ali

The prohibited month for the prohibited month,- and so for all things prohibited,- there is the law of equality. If then any one transgresses the prohibition against you, Transgress ye likewise against him. But fear Allah, and know that Allah is with those who restrain themselves.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

সম্মানিত মাস হচ্ছে সম্মানিত মাসের বিনিময়ে এবং পবিত্রতা রক্ষার দায়িত্ব সবার জন্য সমান, কাজেই যে কেউ তোমাদের প্রতি কঠোর আচরণ করে, তবে তোমরাও তাদের প্রতি কঠোর আচরণ কর যেমনি কঠোরতা সে তোমাদের প্রতি করেছে এবং আল্লাহ্কে ভয় কর এবং জেনে রেখ, আল্লাহ মুত্তাকীদের সঙ্গে আছেন।

রাওয়াই আল-বায়ান

হারাম মাস হারাম মাসের বদলে এবং পবিত্র বিষয়সমূহ কিসাসের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং যে তোমাদের উপর আক্রমণ করেছে, তোমরা তার উপর আক্রমণ কর, যেরূপ সে তোমাদের উপর আক্রমণ করেছে। আর আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে আছেন।

শাইখ মুজিবুর রহমান

নিষিদ্ধ মাসের পরিবর্তে নিষিদ্ধ মাস ও সমস্ত নিষিদ্ধ বিষয় পরস্পর সমান; অতঃপর যে কেহ তোমাদের প্রতি অত্যাচার করে, তাহলে সে তোমাদের প্রতি যেরূপ অত্যাচার করবে তোমরাও তার প্রতি সেরূপ অত্যাচার কর এবং আল্লাহকে ভয় কর ও জেনে রেখ যে, আল্লাহ সংযমশীলদের সঙ্গী।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

পবিত্র মাস পবিত্র মাসের বিনিময়ে যার পবিত্রতা অলংঘনীয় তার অবমাননা কিসাসের অন্তর্ভুক্ত। কাজেই যে কেউ তোমাদেরকে আক্রমণ করবে তোমরাও তাকে অনুরূপ আক্রমণ করবে এবং তোমরা আল্লাহ্‌র তাকওয়া অবলম্বন করবে। আর জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।

ফাতহুল মাজীদ

নিষিদ্ধ মাসের পরিবর্তে নিষিদ্ধ মাস এবং নিষিদ্ধ মাসেও বদলার ব্যবস্থা রয়েছে ঐ অবস্থায় যদি কেউ তোমাদের প্রতি অত্যাচার করে, তবে তোমরাও তার প্রতি সে পরিমাণ অত্যাচার কর যতটুকু সে করেছে। আল্লাহকে ভয় কর এবং জেনে রেখ যে, আল্লাহ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।

মুখতাসার

১৯৪. ষষ্ঠ হিজরীর যে মাসে মুশরিকরা তোমাদেরকে হারাম এলাকায় প্রবেশে বাধা দিয়েছে সেটির বিনিময় হলো সপ্তম হিজরীর এই হারাম মাস। যে মাসে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে হারামে তথা মক্কায় প্রবেশ করিয়ে উমরা করার সুযোগ দিয়েছেন। সম্মানজনক বস্তুগুলো যেমন: হারাম এলাকা তথা মক্কা, সম্মানিত মাস যেমন: শাওয়াল, যিলকদ, যিলহজ্জ ও রজব এবং ইহরামের সম্মান কোন অত্যাচারীর পক্ষ থেকে তা ক্ষুণ্ন হলে তাতে কিসাস তথা তার অপরাধের সমপরিমাণ শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণ করা চলবে। সুতরাং কেউ এই সময় ও এলাকায় তোমাদের উপর অত্যাচার করলে তার সাথে তার কাজের সমপরিমাণ আচরণ করবে। তবে এ ক্ষেত্রে তোমরা সমপরিমাণের সীমা অতিক্রম করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাঁর সীমাসমূহ অতিক্রমকারীদেরকে পছন্দ করেন না। তোমরা সেই পরিমাপ অতিক্রম করার ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করো যার ব্যাপারে তিনি তোমাদেরকে অনুমতি দিয়েছেন। উপরন্তু তোমরা এ কথা জেনে রাখো যে, নিশ্চয়ই আল্লাহ তা‘আলা তাওফীক ও সহয়োগিতার ক্ষেত্রে মুত্তাকীদের সাথেই রয়েছেন।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

ষষ্ঠ হিজরীর যীলকদ মাসে রাসূলুল্লাহ (সঃ) সাহাবীগণ (রাঃ) সমভিব্যহারে উমরা (ছোট হজ্ব) করার জন্যে মক্কা শরীফের দিকে যাত্রা করেন। কিন্তু মুশরিকরা তাদেরকে হুদায়বিয়া’ প্রান্তরে বাধা দিতে এগিয়ে আসে। অবশেষে এই শর্তের উপর তাদের সাথে সন্ধি হয় যে, তারা আগামী বছর উমরা করবেন এবং এ বছর ফিরে যাবেন। যুকা'দাহ্ও নিষিদ্ধ মাস ছিল বলে এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। মুসনাদ-ই-আহমাদের মধ্যে হাদীস রয়েছে যে, নিষিদ্ধ মাসসমূহে রাসূলুল্লাহ (সঃ) যুদ্ধ করতেন না। তবে যদি তার উপর কেউ আক্রমণ করতে তাহলে সেটা অন্য কথা। এমনকি যুদ্ধ করতে করতে নিষিদ্ধ মাস এসে পড়লে তিনি যুদ্ধ বন্ধ করে দিতেন।

হুদায়বিয়ার প্রান্তরেও যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট এ সংবাদ পৌছে যে, হযরত উসমান (রাঃ)-কে মুশরিকরা শহীদ করে ফেলেছে যিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর বাণী নিয়ে মক্কায় গিয়েছিলেন; তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাঁর চৌদ্দশো সাহাবী (রাঃ)-এর নিকট একটি বৃক্ষের নীচে মুশরিকদের সাথে জিহাদ করার বায়'আত গ্রহণ করেন। অতঃপর যখন তিনি জানতে পারেন যে, ওটা ভুল সংবাদ তখন তিনি তাঁর ইচ্ছা স্থগিত রাখেন এবং সন্ধির দিকে ঝুঁকে পড়েন। এর পরে যা ঘটবার তা ঘটেছিল। অনুরূপভাবে ‘হাওয়াযিন গোত্রের সাথে হুনায়েনের যুদ্ধ হতে যখন তিনি অবকাশ লাভ করেন তখন মুশরিকরা তায়েফে গিয়ে দুর্গের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে পড়ে।

রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদেরকে অবরোধ করেন। চল্লিশ দিন পর্যন্ত এই অবরোধ স্থায়ী হয়। অবশেষে কয়েকজন সাহাবীর (রাঃ) শাহাদাতের পর এই অবরোধ উঠিয়ে নেয়া হয় এবং রাসূলুল্লাহ (সঃ) মক্কার দিকে ফিরে যান। জাআররানা’ নামক স্থান হতে তিনি উমরাহর ইহরাম বাঁধেন। এখানে যুদ্ধ লব্ধ দ্রব্য বন্টন করেন। তাঁর এই উমরাহ যুকা’দাহ মাসে সংঘটিত হয়। এটা ছিল হিজরী অষ্টম সনের ঘটনা। অতঃপর বলা হচ্ছে যে, যারা তোমাদের প্রতি অত্যাচার করে তোমরাও তাদের প্রতি ঐ পরিমাণই অত্যাচার কর। অর্থাৎ মুশরিকদের ব্যাপারেও ন্যায়ের প্রতি খেয়াল রেখো। এখানেও অত্যাচারের বিনিময় অত্যাচার দ্বারাই ব্যাখ্যা করা হয়েছে।

যেমন অন্যান্য জায়গায় শাস্তির বিনিময়কেও শাস্তি' শব্দের দ্বারাই ব্যাখ্যা করা হয়েছে এবং অন্যায়ের বিনিময়কে অন্যায় দ্বারাই বর্ণনা করা হয়েছে।হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, এই আয়াতটি মক্কা শরীফে অবতীর্ণ হয়, যেখানে মুসলমানদের কোন মর্যাদা বা সম্মান ছিল না। সেখানে তাদের প্রতি জিহাদেরও নির্দেশ ছিল না। অতঃপর এই আয়াতটি মদীনা শরীফের জিহাদ সম্পৰ্কীয় নির্দেশের দ্বারা রহিত হয়। কিন্তু ইবনে জারীর (রঃ) এটা অগ্রাহ্য করেছেন এবং বলেছেন যে, এই আয়াতটি মাদানী যা উমরাহ পুরো করার পর অবতীর্ণ হয়েছিল। হযরত মুজাহিদেরও (রঃ) উক্তি এটাই।

অতঃপর বলা হয়েছে যে, তোমরা আল্লাহর আনুগত্য স্বীকার কর ও তাঁকে ভয় কর এবং জেনে রেখো যে, এরূপ লোকের উপরেই ইহকালে ও পরকালে আল্লাহ তা'আলার সহায়তা ও সাহায্য রয়েছে।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

পবিত্র মাস পবিত্র মাসের বিনিময়ে [১] যার পবিত্রতা অলংঘনীয় তার অবমাননা কিসাসের অন্তর্ভুক্ত। কাজেই যে কেউ তোমাদেরকে আক্রমণ করবে তোমরাও তাকে অনুরূপ আক্রমণ করবে এবং তোমরা আল্লাহ্‌র তাকওয়া অবলম্বন করবে। আর জেনে রাখ, নিশ্চয় আল্লাহ্‌ মুত্তাকীদের সাথে রয়েছেন।

[১] সাহাবীগণের মনে সন্দেহ এই ছিল যে, আশহুরে-হারাম বা সম্মানিত মাসসমূহে কোথাও কারো সাথে যুদ্ধ করা জায়েয নয়। এমতাবস্থায় যদি মক্কার মুশরিকরা যুদ্ধ শুরু করে তবে তার প্রতিরোধকল্পে কিভাবে যুদ্ধ করব? তাদের এ দ্বিধা দূর করার জন্যই আয়াতটি নাযিল করা হয়েছে। অর্থাৎ মক্কার হারাম শরীফের সম্মানার্থে শক্রর হামলা প্রতিরোধকল্পে যুদ্ধ করা যেমন শরীআতসিদ্ধ, তেমনি হারাম মাসে (সম্মানিত মাসেও) যদি কাফেররা মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে প্রবৃত্ত হয়, তবে তার প্রতিরোধকল্পে তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করাও জায়েয।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ১৯৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা

...একমাত্র আল্লাহ ব্যতীত। সুতরাং আয়াত ও হাদীস একথাই প্রমাণ করে যে, যুদ্ধের কারণ হলো কুফর (অবিশ্বাস), কেননা তিনি বলেছেন: "যতক্ষণ না ফিতনা দূরীভূত হয়", অর্থাৎ কুফর। ফলে তিনি কুফর না থাকাকেই চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছেন, আর এটিই স্পষ্ট। ইবনে আব্বাস, কাতাদাহ, আর-রাবী', আস-সুদ্দী এবং অন্যান্যরা বলেছেন: এখানে ফিতনা অর্থ হলো শিরক এবং এর অনুগামী হিসেবে মুমিনদের ওপর কৃত নির্যাতন। ফিতনা শব্দের মূল অর্থ হলো পরীক্ষা ও যাচাই। এটি 'ফাতানতু আল-ফিদদাহ' (আমি রূপা পুড়িয়েছি) থেকে গৃহীত, যখন রূপাকে খাঁটি ও ভেজালের মধ্যে পার্থক্য করার জন্য আগুনে প্রবেশ করানো হয়।

ইনশাআল্লাহ তা'আলা সামনে এর বিভিন্ন অর্থ ও প্রয়োগের বিস্তারিত বিবরণ আসবে। দ্বিতীয় মাসআলা- মহান আল্লাহর বাণী: "যদি তারা বিরত হয়", অর্থাৎ কুফর থেকে; হয় ইসলামের মাধ্যমে যা পূর্ববর্তী আয়াতে অতিক্রান্ত হয়েছে, অথবা আহলে কিতাবদের ক্ষেত্রে জিযিয়া প্রদানের মাধ্যমে, যেমনটি সামনে সূরা 'বারাআত' (তাওবাহ)-এ বিস্তারিত বর্ণিত হবে। অন্যথায় তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা হবে এবং তারা জালিম হিসেবে গণ্য হবে। "কোনো শত্রুতা নেই কেবল জালিমদের বিরুদ্ধে ব্যতীত"। জালিমদের সাথে যা করা হয় তাকে শত্রুতা বলা হয়েছে এ কারণে যে, এটি শত্রুতারই প্রতিফল; যেহেতু জুলুম শত্রুতাকে অন্তর্ভুক্ত করে, তাই শত্রুতার প্রতিফলকেও শত্রুতা হিসেবে নামকরণ করা হয়েছে।

যেমন তাঁর বাণী: "মন্দের প্রতিফল হলো তদনুরূপ মন্দ" [আশ-শূরা: ৪০]। 'জালিম' বলতে দুটি ব্যাখ্যার একটি অনুযায়ী তাদের বুঝানো হয়েছে যারা যুদ্ধ শুরু করে, আর দ্বিতীয় ব্যাখ্যা অনুযায়ী তাদের বুঝানো হয়েছে যারা কুফর ও ফিতনার ওপর অটল থাকে। ‌‌[সূরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ১৯৪]পবিত্র মাস পবিত্র মাসের বিনিময়ে এবং সকল পবিত্র জিনিসের অবমাননার জন্য রয়েছে কিসাস (অনুরূপ বদলা)। সুতরাং যে তোমাদের ওপর আক্রমণ করবে, তোমরাও তার ওপর অনুরূপ আক্রমণ করবে যেরূপ সে তোমাদের ওপর করেছে। আর আল্লাহকে ভয় করো এবং জেনে রেখো যে, আল্লাহ মুত্তাকীদের (খোদাভীরুদের) সাথে আছেন (১৯৪)।এতে দশটি মাসআলা (আলোচ্য বিষয়) রয়েছে: প্রথম - মহান আল্লাহর বাণী: "পবিত্র মাস"।

'শাহর' (মাস) শব্দের ব্যুৎপত্তি পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। এর অবতীর্ণ হওয়ার কারণ সম্পর্কে ইবনে আব্বাস, কাতাদাহ, মুজাহিদ, মিকসাম, আস-সুদ্দী, আর-রাবী' এবং আদ-দাহ্হাক প্রমুখ থেকে বর্ণিত হয়েছে যে, তাঁরা বলেছেন: এটি উমরাতুল কাযা এবং হুদাইবিয়ার বছর নাযিল হয়েছিল। আর তা এই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উমরাহ করার উদ্দেশ্যে বের হলেন এবং ষষ্ঠ হিজরীর যিলকদ মাসে হুদাইবিয়া নামক স্থানে পৌঁছালেন। তখন মুশরিক কুরাইশ কাফেররা তাঁকে বাইতুল্লাহ (কাবা) যেতে বাধা প্রদান করল। ফলে তিনি ফিরে এলেন এবং আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁকে ওয়াদা করলেন যে, তিনি শীঘ্রই সেখানে প্রবেশ করবেন।

অতঃপর তিনি সপ্তম হিজরীতে সেখানে প্রবেশ করলেন এবং তাঁর উমরাহ সম্পন্ন করলেন। তখন এই আয়াত নাযিল হয়। হাসান (বসরী) থেকে বর্ণিত যে, মুশরিকরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলেছিল: হে মুহাম্মদ! আপনি কি পবিত্র মাসে যুদ্ধ করতে নিষিদ্ধ নন? তিনি বললেন: "হ্যাঁ"। তখন তারা তাঁর সাথে যুদ্ধ করার সংকল্প করল, ফলে এই আয়াত নাযিল হলো। এর অর্থ হলো: যদি তারা পবিত্র মাসে যুদ্ধকে হালাল মনে করে (শুরু করে), তবে আপনারাও তাদের সাথে যুদ্ধ করুন। সুতরাং আল্লাহ এই আয়াতের মাধ্যমে তাদের প্রতিরোধ করার বৈধতা দান করেছেন। তবে প্রথম অভিমতটিই অধিক প্রসিদ্ধ এবং অধিকাংশ আলেম এর ওপর একমত।(১).

দেখুন খণ্ড ৮, পৃষ্ঠা ১০৯।(২). দেখুন খণ্ড ১৬, পৃষ্ঠা ৪০। [ ..... ](৩). এই খণ্ডের ২৯০ পৃষ্ঠা দেখুন।(৪). বন্ধনীভুক্ত অংশটি 'বা' পাণ্ডুলিপি থেকে বাদ পড়েছে।

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা

যেন আল্লাহ তাঁর রহমতে প্রবেশ করান যাকে তিনি ইচ্ছা করেন, যাদের আল্লাহ হিদায়াত দিতে চান। অতঃপর তিনি এর পরিবর্তে দিয়েছেন এক নিকটবর্তী বিজয়। তিনি বলেন: এটি ছিল খায়বার বিজয়; যখন তারা হুদায়বিয়া থেকে ফিরে আসেন, তখন আল্লাহ তাদের জন্য তা বিজিত করে দেন এবং তিনি তা হুদায়বিয়ায় অংশগ্রহণকারী সকলের মধ্যে বণ্টন করে দেন, কেবল আনসারদের আবু দুজানা সিমাক ইবনে খারশাহ নামক এক ব্যক্তি ব্যতীত; তিনি হুদায়বিয়ায় উপস্থিত ছিলেন কিন্তু খায়বারে অনুপস্থিত ছিলেন।ইবনে আবি শায়বা আতা থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যিলকদ মাসে উমরাহ আদায়ের উদ্দেশ্যে বের হন, তাঁর সাথে মুহাজির ও আনসারগণ ছিলেন।

অবশেষে তিনি হুদায়বিয়ায় পৌঁছান। তখন কুরাইশরা তাঁর মোকাবিলায় বের হয় এবং তাঁকে কাবা গৃহ থেকে বাধা প্রদান করে। শেষপর্যন্ত তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও বিবাদ হয়, এমনকি যুদ্ধের উপক্রম হয়। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাঁর সাহাবীদের থেকে বৃক্ষের নিচে বায়আত গ্রহণ করেন, তাঁদের সংখ্যা ছিল পনেরো শত। আর এটি ছিল ‘বায়য়াতে রিদওয়ান’-এর দিন। এরপর নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের সাথে সন্ধি করেন। কুরাইশরা বলল: আমরা আপনার সাথে এই শর্তে সন্ধি করছি যে, আপনি কুরবানীর পশু যথাস্থানে যবেহ করবেন, মাথা মুণ্ডন করবেন এবং ফিরে যাবেন।

আগামী বছর আমরা আপনার জন্য মক্কা তিন দিনের জন্য খালি করে দেব। তিনি তা গ্রহণ করলেন। কুরাইশরা উকাজের দিকে চলে গেল এবং সেখানে তিন দিন অবস্থান করল। তারা তাঁর ওপর শর্ত দিয়েছিল যে, তিনি তলোয়ার ছাড়া অন্য কোনো অস্ত্র নিয়ে মক্কায় প্রবেশ করবেন না এবং মক্কাবাসীদের মধ্য থেকে কাউকে সঙ্গে নিয়ে বের হতে পারবেন না। অতঃপর তিনি যথাস্থানেই কুরবানী করলেন, মাথা মুণ্ডন করলেন এবং ফিরে গেলেন। পরবর্তী বছরে নির্ধারিত দিনগুলোতে তিনি মক্কায় প্রবেশ করলেন এবং তাঁর সাথে কুরবানীর উট নিয়ে আসলেন, তাঁর সাথে অন্য লোকরাও ছিল। তিনি মসজিদে হারামে প্রবেশ করলেন, তখন আল্লাহ তাঁর ওপর অবতীর্ণ করলেন: অবশ্যই আল্লাহ তাঁর রাসূলের স্বপ্নকে বাস্তবে সত্যে পরিণত করেছেন, যদি আল্লাহ চান তবে তোমরা অবশ্যই মসজিদে হারামে প্রবেশ করবে নির্ভয়ে, কেউ কেউ মস্তক মুণ্ডন করবে এবং কেউ কেউ কেশ কর্তন করবে এবং তাঁর ওপর আরও অবতীর্ণ করলেন: পবিত্র মাস পবিত্র মাসের বিনিময়ে এবং সকল পবিত্র বিষয়েরই বিনিময় রয়েছে (সূরা আল-বাকারা, আয়াত ১৯৪)।আর আল্লাহ তাআলার বাণী: তোমাদের মাথা মুণ্ডনকারী ও চুল ছোটকারী অবস্থায় প্রসঙ্গে—মালিক, তায়ালিসি, ইবনে আবি শায়বা, বুখারি, মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযি ও ইবনে মাজাহ ইবনে উমর থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: আল্লাহ মাথা মুণ্ডনকারীদের ওপর রহম করুন।

তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! যারা চুল ছোট করেছে তাদের ওপরও? তিনি বললেন: আল্লাহ মাথা মুণ্ডনকারীদের ওপর রহম করুন। তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! যারা চুল ছোট করেছে তাদের ওপরও? তিনি বললেন: এবং যারা চুল ছোট করেছে তাদের ওপরও।ইবনে আবি শায়বা, বুখারি, মুসলিম ও ইবনে মাজাহ আবু হুরায়রা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন: হে আল্লাহ! আপনি মাথা মুণ্ডনকারীদের ক্ষমা করুন। তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! যারা চুল ছোট করেছে তাদেরও? তিনি বললেন: হে আল্লাহ! আপনি মাথা মুণ্ডনকারীদের ক্ষমা করুন—এ কথাটি তিনি তিনবার বললেন।

তারা বললেন: হে আল্লাহর রাসূল! যারা চুল ছোট করেছে তাদেরও? তিনি বললেন: এবং যারা চুল ছোট করেছে তাদেরও।