Al-Baqarah
আল-বাকারা: 149
2 আল-বাকারা Al-Baqarah · 286 আয়াত البقرة
মূল আরবি
وَمِنْ حَيْثُ خَرَجْتَ فَوَلِّ وَجْهَكَ شَطْرَ ٱلْمَسْجِدِ ٱلْحَرَامِ ۖ وَإِنَّهُۥ لَلْحَقُّ مِن رَّبِّكَ ۗ وَمَا ٱللَّهُ بِغَـٰفِلٍ عَمَّا تَعْمَلُونَ
English Translations
So from wherever you go out [for prayer, O Muḥammad], turn your face toward al-Masjid al-Ḥarām, and indeed, it is the truth from your Lord. And Allāh is not unaware of what you do.
And from wheresoever you start forth (for prayers), turn your face in the direction of Al-Masjid-al-Haram (at Makkah), that is indeed the truth from your Lord. And Allah is not unaware of what you do.
From wherever you set out, turn your face in the direction of the Sacred Mosque (Al-Masjid-ul-Harām). That, indeed, is the truth from your Lord, and Allah is not unaware of what you do.
From wheresoever you might come forth turn your face towards the Holy Mosque; for that indeed is the Truth from your Lord, and Allah is not heedless of what you do.
And whencesoever thou comest forth (for prayer, O Muhammad) turn thy face toward the Inviolable Place of Worship. Lo! it is the Truth from thy Lord. Allah is not unaware of what ye do.
From whencesoever Thou startest forth, turn Thy face in the direction of the sacred Mosque; that is indeed the truth from the Lord. And Allah is not unmindful of what ye do.
বাংলা অনুবাদ
আর তুমি যেখান থেকেই বের হও, নিজের মুখ মাসজিদে হারামের দিকে ফেরাও, নিশ্চয়ই তা তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে পাঠানো সত্য, বস্তুতঃ তোমরা যা করছ আল্লাহ সে সম্পর্কে মোটেই গাফিল নন।
আর তুমি যেখান থেকেই বের হও, তোমার চেহারা মাসজিদুল হারামের দিকে ফিরাও। আর নিশ্চয় তা সত্য তোমার রবের পক্ষ থেকে এবং তোমরা যা কর, আল্লাহ তা থেকে গাফিল নন।
এবং তুমি যেখান হতেই বের হবে- তোমার মুখ পবিত্রতম মাসজিদের দিকে প্রত্যাবর্তিত কর এবং নিশ্চয়ই এটাই তোমার রবের নিকট হতে প্রেরিত সত্য এবং তোমরা যা করছ তদ্বিষয়ে আল্লাহ অমনোযোগী নন।
আর যেখান থেকেই আপনি বের হন না কেন মসজিদুল হারামের দিকে চেহারা ফিরান। নিশ্চয় এটা আপনার রবের কাছ থেকে পাঠানো সত্য। আর তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ্ গাফেল নন।
আর তুমি যেখান থেকেই বের হও তোমার মুখ মাসজিদে হারামের দিকে ফেরাও এবং নিশ্চয়ই এটাই তোমার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে সত্য, আর তোমরা যা করছ সে বিষয়ে আল্লাহ গাফেল নন।
১৪৯. হে নবী! আপনি ও আপনার অনুসারীরা যেখান থেকেই বের হোন না কেন কিংবা যেখানেই থাকুন না কেন যখনই নামায আদায় করার ইচ্ছা পোষণ করবেন তখনই মসজিদুল-হারামের দিকে মুখ ফিরাবেন। কারণ, সেটিই সত্য যা আপনার প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আপনার নিকট ওহি করা হয়েছে। আর আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের কর্মকাণ্ড সম্পর্কে গাফিল নন। বরং তিনি তা সবই দেখছেন এবং অচিরেই তার প্রতিদান দিবেন।
তাফসীর
১৪৯-১৫০ নং আয়াতের তাফসীরএখন তিনবার নির্দেশ হচ্ছে যে, সারা জগতের মুসলমানকে নামাযের সময় মসজিদে হারামের দিকে মুখ করতে হবে। তিনবার বলে এই হুকুমের প্রতি বিশেষ জোর দেয়া হয়েছে। কেননা, এই পরিবর্তনের নির্দেশ এই প্রথমবারই ঘটেছে। ইমাম ফাখরুদ্দীন রাযী (রঃ)-এর কারণ বর্ণনা করেছেন যে, প্রথম নির্দেশ তো ঐসব লোকদের জন্যে যারা কা'বা শরীফকে দেখতে পাচ্ছে। দ্বিতীয় নির্দেশ ওদের জন্যে যারা মক্কায় বাস করে বটে কিন্তু কা'বা তাদের সামনে নেই। তৃতীয় নির্দেশ মক্কার বাইরের লোকদের জন্য। কুরতুবী (রঃ) একটা কারণ এটাও বর্ণনা করেছেন যে, প্রথম নির্দেশ মক্কাবাসীদের জন্যে, দ্বিতীয় নির্দেশ শহর বাসীদের জন্যে এবং তৃতীয় নির্দেশ মুসাফিরদের জন্যে।
কেউ কেউ বলেন যে, তিনটি নির্দেশের সম্পর্ক পূর্ব ও পরের রচনার সঙ্গে রয়েছে। প্রথম নির্দেশের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর প্রার্থনা ও তা কবুল হওয়ার বর্ণনা আছে। দ্বিতীয় নির্দেশের মধ্যে এই কথার বর্ণনা রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর চাহিদা আমাদের চাহিদারই অনুরূপ ছিল এবং সঠিক কাজও এটাই ছিল। তৃতীয় নির্দেশের মধ্যে ইয়াহুদীদের দলীলের উত্তর রয়েছে। কেননা তাদের গ্রন্থে প্রথম হতেই এটা বিদ্যমান ছিল যে, মুহাম্মদ (সঃ) -এর কিবলাহ হবে কা'বা শরীফ। সুতরাং এই নির্দেশের ফলে ঐ ভবিষ্যদ্বাণীও সত্যে পরিণত হয়। সাথে সাথে ঐ মুশরিকদের যুক্তিও শেষ হয়ে যায়।
কেননা, তারা কাবাকে বরকতময় ও মর্যাদাপূর্ণ মনে করতো আর এখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর মনোযোগও ওরই দিকে হয়ে গেল। ইমাম রাযী (রঃ) প্রভৃতি মণীষী এখানে এই হুকুমকে বার বার আনার হিকমত বেশ বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করেছেন।অতঃপর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ ‘যেন তোমাদের উপর আহলে কিতাবের যুক্তি ও বিতর্কের কোন অবকাশ না থাকে। তারা জানতো যে, এই উম্মতের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে কাবার দিকে নামায পড়া। যখন তারা এই বৈশিষ্ট্য তাদের মধ্যে না পাবে তখন তাদের সন্দেহের অবকাশ থাকতে পারে। কিন্তু যখন তারা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে এই কিবলার দিকে ফিরতে দেখে নিলো তখন তাদের কোন প্রকারের সন্দেহ না থাকারই কথা।
আর এটা একটা কারণ যে, যখন তারা মুসলমানদেরকে তাদের (ইয়াহুদীদের) কিবলাহুর দিকে নামায পড়তে দেখবে তখন তারা একটা অজুহাত দেখাবার সুযোগ পেয়ে যাবে। কিন্তু যখন মুসলমানের হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর কিবলাহর দিকে নামায পড়বে তখন সেই সুযোগ কাদের হাত ছাড়া হয়ে যাবে। হযরত আবু আলিয়া (রঃ) বলেনঃ ইয়াহূদীদের এই যুক্তি ছিল যে, আজ মুসলমানেরা আমাদের কিবলাহর দিকে ফিরেছে, কাল তারা আমাদের ধর্মও মেনে নেবে। কিন্তু যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) আল্লাহ তা'আলার নির্দেশক্রমে প্রকৃত কিবলাহ গ্রহণ করলেন, তাদের আশায় গুড়ে বালি পড়ে যায়।' তারপরে আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, তাদের মধ্যে যারা ঝগড়াটে ও অত্যাচারী রয়েছে তারা ব্যতীত মুশরিকরা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সমালোচনা করে বলতো যে, এই ব্যক্তি (মুহাম্মদ সঃ) মিল্লাতে ইবরাহীমের (আঃ) দাবী করছেন অথচ তাঁর কিবলার দিকে নামায পড়েন না, এখানে যেন তাদেরকেই উত্তর দেয়া হচ্ছে যে, এই নবী (সঃ) আল্লাহ তা'আলার নির্দেশের অনুসারী।
তিনি স্বীয় পূর্ণ বিজ্ঞতা অনুসারে তাকে বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে নামায পড়ার নির্দেশ দেন, যা তিনি পালন করেন। অতঃপর তাঁকে হযরত ইবরাহীমের (আঃ) কিবলাহর দিকে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন, যা তিনি সাগ্রহে পালন করেন। সুতরাং তিনি সর্বাবস্থায়ই আল্লাহ তাআলার নির্দেশাধীন। অতঃপর আল্লাহ পাক মুসলমানদেরকে লক্ষ্য করে বলেন যে, তারা যেন ঐসব অত্যাচারীর সন্দেহের মধ্যে পতিত না হয়। তারা যেন ঐ বিদ্রোহীদের বিদ্রোহকে ভয় না করে। তারা যেন ঐ যালিমদের অর্থহীন সমালোচনার প্রতি মোটেই দৃকপাত না করে। বরং তারা যেন একমাত্র আল্লাহ তা'আলাকেই ভয় করে।
কিবলাহ পরিবর্তন করার মধ্যে এক মহৎ উদ্দেশ্য ছিল বাতিল পন্থীদের মুখ বন্ধ করা এবং আল্লাহ তা'আলার দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের উপর তাঁর নিয়ামত পূর্ণ করে দেয়া এবং কিবলাহ্র মত তাদের শরীয়তকেও পরিপূর্ণ করা। এর মধ্যে আর একটি রহস্য ছিল যে, যে কিবলাহ হতে পূর্ববর্তী উম্মতেরা ভ্রষ্ট হয়ে পড়েছিল মুসলমানেরা ওটা থেকে সরে না পড়ে। আল্লাহ তাআলা মুসলমানদেরকে এই কিবলাহ বিশেষভাবে দান করে সমস্ত উম্মতের উপর তাদের মর্যাদা ও শ্রেষ্ঠত্ব সাব্যস্ত করেন।
আর যেখান থেকেই আপনি বের হন না কেন মসজিদুল হারামের দিকে চেহারা ফিরান। নিশ্চয় এটা আপনার রব-এর কাছ থেকে পাঠানো সত্য। আর তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ্ গাফেল নন।
[সূরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ১৪৯ থেকে ১৫০] পূর্ণ পৃষ্ঠা
আবু ঈসা আত-তিরমিযী বলেন: "এবং [উলামাদের মধ্য থেকে একদল] তীব্র গরমে যুহরের সালাত বিলম্বিত করাকে পছন্দ করেছেন; আর এটিই ইবনুল মুবারক, আহমাদ এবং ইসহাকের অভিমত। শাফিঈ বলেন: যুহরের সালাত ঠান্ডা করে (বিলম্ব করে) আদায় করা কেবল তখনই প্রযোজ্য, যখন তা এমন কোনো [মসজিদ] হয় যেখানে মুসল্লিগণ দূর-দূরান্ত থেকে যাতায়াত করেন। পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি একা সালাত আদায় করে অথবা যে ব্যক্তি নিজের মহল্লার মসজিদে সালাত আদায় করে, তার জন্য আমি এটাই পছন্দ করি যে, সে তীব্র গরমেও সালাত বিলম্বিত করবে না। আবু ঈসা বলেন: যারা তীব্র গরমে যুহর বিলম্বিত করার পক্ষে মত দিয়েছেন, তাদের বক্তব্যই অধিকতর গ্রহণযোগ্য এবং অনুকরণের জন্য অধিক উপযুক্ত।
আর ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) যে মত পোষণ করেছেন যে—এই অবকাশ কেবল তাদের জন্য যারা দূর থেকে যাতায়াত করেন এবং মানুষের কষ্ট লাঘবের উদ্দেশ্যে—নিশ্চয়ই আবু যার (রাযিয়াল্লাহু আনহু) বর্ণিত হাদিসে শাফিঈর এই বক্তব্যের বিপরীত প্রমাণ বিদ্যমান। আবু যার বলেন: আমরা এক সফরে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম)-এর সাথে ছিলাম, তখন বিলাল যুহরের আযান দিতে চাইলেন। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বললেন: [হে বিলাল!] ঠান্ডা হতে দাও, অতঃপর ঠান্ডা হতে দাও। যদি বিষয়টি ইমাম শাফিঈর মতানুযায়ী হতো, তবে সেই সফরে সালাত ঠান্ডা করার (বিলম্বিত করার) কোনো অর্থ থাকত না; কারণ তারা সফরে একত্রে ছিলেন এবং দূর থেকে আসার কোনো প্রয়োজন তাদের ছিল না।" আর আসরের ক্ষেত্রে তা দ্রুত (ওয়াক্তের শুরুতে) আদায় করা উত্তম।
আমাদের মাযহাবে এ বিষয়ে কোনো মতভেদ নেই যে, জামাআতের আশায় সালাত বিলম্বিত করা প্রথম ওয়াক্তে আদায়ের চেয়ে উত্তম। কেননা জামাআতের ফযিলত সুনিশ্চিত, আর ওয়াক্তের শুরুর দিকের ফযিলত অনিশ্চিত; আর সুনিশ্চিত বিষয় অর্জন করাই অধিক শ্রেয়—এ কথা ইবনুল আরাবী বলেছেন। চতুর্থত—মহান আল্লাহর বাণী: "তোমরা যেখানেই থাক না কেন" এটি শর্ত এবং এর উত্তর হলো: "আল্লাহ তোমাদের সকলকে একত্রিত করবেন" অর্থাৎ কিয়ামতের দিন। অতঃপর আল্লাহ তাআলা সবকিছুর ওপর তাঁর ক্ষমতার বর্ণনা দিয়েছেন যাতে মৃত্যুর পর এবং পচাগলে যাওয়ার পর পুনরায় জীবিত করার যে আলোচনা করা হয়েছে, তার সাথে এই গুণের সামঞ্জস্য বজায় থাকে।
[সূরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ১৪৯ থেকে ১৫০]আর আপনি যেখান থেকেই বের হন না কেন, আপনার মুখ মসজিদুল হারামের দিকে ফিরান এবং নিশ্চয়ই তা আপনার রবের পক্ষ থেকে ধ্রুব সত্য; আর তোমরা যা কর সে সম্পর্কে আল্লাহ গাফেল নন। (১৪৯) আর আপনি যেখান থেকেই বের হন না কেন, মসজিদুল হারামের দিকে মুখ ফিরান এবং তোমরা যেখানেই থাক না কেন, তোমাদের মুখ সেদিকেই ফিরাও; যাতে মানুষের জন্য তোমাদের বিরুদ্ধে কোনো বিতর্ক করার অবকাশ না থাকে, তবে তাদের মধ্যে যারা যালিম তারা ছাড়া। সুতরাং তোমরা তাদেরকে ভয় করো না, বরং কেবল আমাকেই ভয় কর। আর যাতে আমি তোমাদের প্রতি আমার অনুগ্রহ পূর্ণ করি এবং যাতে তোমরা হেদায়াত প্রাপ্ত হও।
(১৫০)(১). সহীহ তিরমিযী থেকে সংগৃহীত অতিরিক্ত অংশ।(২). ইনতাবা: গন্তব্য করা বা যাতায়াত করা।(৩). ইনতাবা: গন্তব্য করা।(৪). সহীহ তিরমিযীতে এভাবেই আছে। মূল পান্ডুলিপিতে রয়েছে: "সালাত বিলম্বিত করা"।(৫). সহীহ তিরমিযী থেকে সংগৃহীত অতিরিক্ত অংশ।
মহান আল্লাহর বাণী: "আর পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই। সুতরাং তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও না কেন, সেদিকেই আল্লাহর অভিমুখ (সত্তা) বিদ্যমান। নিশ্চয়ই আল্লাহ প্রাচুর্যময়, সর্বজ্ঞ।"আবু উবাইদ তাঁর 'আন-নাসিখ ওয়াল মানসুখ' গ্রন্থে, ইবনুল মুনযির, ইবনু আবি হাতিম, হাকেম (যিনি একে সহীহ বলেছেন) এবং বায়হাকী তাঁর 'সুনান' গ্রন্থে ইবনু আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমাদের নিকট কুরআনের যা কিছু সর্বপ্রথম রহিত (নাসখ) করা হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে—আর আল্লাহই ভালো জানেন—তা হলো কিবলার বিষয়টি।মহান আল্লাহ বলেছেন: {আর পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই।
সুতরাং তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও না কেন, সেদিকেই আল্লাহর অভিমুখ বিদ্যমান}। এরপর রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বায়তুল মুকাদ্দাসের দিকে মুখ করে সালাত আদায় করলেন এবং প্রাচীন ঘর (কা'বা) ত্যাগ করলেন। অতঃপর মহান আল্লাহ তাঁকে পুনরায় প্রাচীন ঘরের (কা'বা) দিকে ফিরিয়ে দিলেন এবং পূর্বের বিধানটি রহিত করলেন।অতঃপর তিনি বললেন: (আর আপনি যেখান থেকেই বের হন না কেন, আপনার মুখমণ্ডল সেদিকেই ফিরান) (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ১৪৯) আয়াতের শেষ পর্যন্ত।ইবনুল মুনযির ইবনু মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) এবং একদল সাহাবী থেকে আল্লাহর বাণী {আর পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই।
সুতরাং তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও না কেন, সেদিকেই আল্লাহর অভিমুখ বিদ্যমান} এর ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন।
...কিবলা। অতঃপর যখন আমরা সফর থেকে ফিরে এলাম, তখন আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে এই বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলাম। তিনি নীরব রইলেন, অতঃপর আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই
আয়াতের শেষ পর্যন্ত।সাঈদ ইবনে মানসুর এবং ইবনুল মুনযির আতা রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন যে, একদল লোকের কাছে কিবলার দিক অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। ফলে তাদের প্রত্যেকে এক এক দিকে মুখ করে সালাত আদায় করল। এরপর তারা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বিষয়টি বর্ণনা করলেন। তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: অতএব তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও না কেন, সেদিকেই আল্লাহর অভিমুখ রয়েছে
।
ইবনে মারদুইয়াহ একটি দুর্বল সনদে ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি সেনাদল পাঠিয়েছিলেন। পথিমধ্যে তারা কুয়াশার কবলে পড়ে এবং কিবলার দিক নির্ণয় করতে পারেনি। ফলে তারা কিবলা ছাড়া অন্য দিকে সালাত আদায় করল। সূর্য উদিত হওয়ার পর তাদের কাছে স্পষ্ট হলো যে, তারা ভুল দিকে সালাত আদায় করেছে। তারা যখন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে ফিরে এসে ঘটনাটি জানাল, তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই
আয়াতের শেষ পর্যন্ত।ইবনে জারীর ও ইবনুল মুনযির কাতাদাহ রহ.
থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "তোমাদের এক ভাই ইন্তেকাল করেছেন—অর্থাৎ নাজাশী—কাজেই তোমরা তাঁর জানাযা আদায় করো।"তারা বলল: "আমরা কি এমন এক ব্যক্তির জানাযা পড়ব যে মুসলিম নয়?" তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: আর আহলে কিতাবদের মধ্যে অবশ্যই এমন লোক আছে যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান রাখে...
(সূরা আলে ইমরান, আয়াত: ১৯৯)তারা বলল: "সে তো কিবলার দিকে মুখ করে সালাত আদায় করত না।" তখন আল্লাহ তাআলা অবতীর্ণ করলেন: পূর্ব ও পশ্চিম আল্লাহরই
আয়াতের শেষ পর্যন্ত।ইবনে জারীর এবং ইবনুল মুনযির মুজাহিদ রহ. থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যখন অবতীর্ণ হলো— তোমরা আমাকে ডাকো, আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দেব
(সূরা গাফির, আয়াত: ৬০), তখন তারা জিজ্ঞাসা করল: "কোন দিকে ফিরে ডাকব?" তখন অবতীর্ণ হলো— অতএব তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও না কেন, সেদিকেই আল্লাহর অভিমুখ রয়েছে
।ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে অতএব তোমরা যেদিকেই মুখ ফেরাও না কেন, সেদিকেই আল্লাহর অভিমুখ রয়েছে
আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: "পূর্ব বা পশ্চিম যেদিকেই মুখ করো না কেন, সেটিই আল্লাহর নির্ধারিত কিবলা।"ইবনে আবি শায়বাহ, আবদ ইবনে হুমাইদ, তিরমিযী এবং বায়হাকী তাঁর 'সুনান'-এ মুজাহিদ রহ.
থেকে সেদিকেই আল্লাহর অভিমুখ রয়েছে
আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "তা হলো আল্লাহর কিবলা; সুতরাং তোমরা পূর্ব বা পশ্চিম যেখানেই থাকো না কেন, সেদিকেই মুখ করো।"আবদ ইবনে হুমাইদ এবং তিরমিযী কাতাদাহ রহ. থেকে এই আয়াত সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেছেন: "এটি মানসুখ বা রহিত হয়ে গেছে; আল্লাহ তাআলার এই বাণী দ্বারা তা রহিত হয়েছে— সুতরাং তোমার চেহারা মাসজিদুল হারামের দিকে ফেরাও
(সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১৪৯), অর্থাৎ তার অভিমুখে।"ইবনে আবি শায়বাহ, তিরমিযী (যিনি একে সহীহ বলেছেন) এবং ইবনে মাজাহ আবু হুরায়রা রাযিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণনা করেছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "পূর্ব ও পশ্চিমের মধ্যবর্তী অংশই কিবলা।"ইবনে আবি শায়বাহ, দারা কুতনী এবং বায়হাকী ইবনে উমর রাযিয়াল্লাহু আনহুমা থেকেঅনুরূপ বর্ণনা করেছেন।
