Al-Baqarah

আল-বাকারা: 221

2:221

আরবি

وَلَا تَنكِحُوا۟ ٱلْمُشْرِكَـٰتِ حَتَّىٰ يُؤْمِنَّ ۚ وَلَأَمَةٌ مُّؤْمِنَةٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكَةٍ وَلَوْ أَعْجَبَتْكُمْ ۗ وَلَا تُنكِحُوا۟ ٱلْمُشْرِكِينَ حَتَّىٰ يُؤْمِنُوا۟ ۚ وَلَعَبْدٌ مُّؤْمِنٌ خَيْرٌ مِّن مُّشْرِكٍ وَلَوْ أَعْجَبَكُمْ ۗ أُو۟لَـٰٓئِكَ يَدْعُونَ إِلَى ٱلنَّارِ ۖ وَٱللَّهُ يَدْعُوٓا۟ إِلَى ٱلْجَنَّةِ وَٱلْمَغْفِرَةِ بِإِذْنِهِۦ ۖ وَيُبَيِّنُ ءَايَـٰتِهِۦ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ

English Translations

Sahih International

And do not marry polytheistic women until they believe. And a believing slave woman is better than a polytheist, even though she might please you. And do not marry polytheistic men [to your women] until they believe. And a believing slave is better than a polytheist, even though he might please you. Those invite [you] to the Fire, but Allāh invites to Paradise and to forgiveness, by His permission. And He makes clear His verses [i.e., ordinances] to the people that perhaps they may remember.

Muhsin Khan

And do not marry Al-Mushrikat (idolatresses, etc.) till they believe (worship Allah Alone). And indeed a slave woman who believes is better than a (free) Mushrikah (idolatress, etc.), even though she pleases you. And give not (your daughters) in marriage to Al-Mushrikun till they believe (in Allah Alone) and verily, a believing slave is better than a (free) Mushrik (idolater, etc.), even though he pleases you. Those (Al-Mushrikun) invite you to the Fire, but Allah invites (you) to Paradise and Forgiveness by His Leave, and makes His Ayat (proofs, evidences, verses, lessons, signs, revelations, etc.) clear to mankind that they may remember.

Taqi Usmani

Do not marry the polytheist women, unless they come to believe (in Islam); a Muslim slave-girl is better than a polytheist woman, even though she may attract you; and do not give (your women) in marriage to polytheist men, unless they come to believe; a Muslim slave is better than a polytheist, even though he may attract you. They invite to the Fire when Allah invites, by His will, to Paradise, and to forgiveness. He makes His verses clear to the people, so that they may heed the advice.

Abul Ala Maududi

Marry not the women who associate others with Allah in His Divinity until they believe; for a believing slave-girl is better than a (free, respectable) woman who associates others with Allah in His Divinity, even though she might please you. Likewise, do not give your women in marriage to men who associate others with Allah in His Divinity until they believe; for a believing slave is better than a (free, respectable) man who associates others with Allah in His Divinity, even though he might please you. Such people call you towards the Fire, and Allah calls you, by His leave, towards Paradise and forgiveness; and He makes His injunctions clear to people so that they may take heed.

Pickthall

Wed not idolatresses till they believe; for lo! a believing bondwoman is better than an idolatress though she please you; and give not your daughters in marriage to idolaters till they believe, for lo! a believing slave is better than an idolater though he please you. These invite unto the Fire, and Allah inviteth unto the Garden, and unto forgiveness by His grace, and expoundeth His revelations to mankind that haply they may remember.

Yusuf Ali

Do not marry unbelieving women (idolaters), until they believe: A slave woman who believes is better than an unbelieving woman, even though she allures you. Nor marry (your girls) to unbelievers until they believe: A man slave who believes is better than an unbeliever, even though he allures you. Unbelievers do (but) beckon you to the Fire. But Allah beckons by His Grace to the Garden (of bliss) and forgiveness, and makes His Signs clear to mankind: That they may celebrate His praise.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

মুশরিকা নারীরা ঈমান না আনা পর্যন্ত তোমরা তাদেরকে বিবাহ করো না। মূলতঃ মু’মিন ক্রীতদাসী মুশরিকা নারী হতে উত্তম ওদেরকে তোমাদের যতই ভাল লাগুক না কেন, ঈমান না আনা পর্যন্ত মুশরিক পুরুষদের সাথে বিবাহ দিও না, বস্তুতঃ মুশরিককে তোমাদের যতই ভাল লাগুক না কেন, মু’মিন গোলাম তার চেয়ে উত্তম। ওরা অগ্নির দিকে আহবান করে আর আল্লাহ নিজের অনুগ্রহে জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহবান করেন। তিনি মানুষদের জন্য নিজের হুকুমগুলো বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করছেন যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর তোমরা মুশরিক নারীদের বিয়ে করো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে এবং মুমিন দাসী মুশরিক নারীর চেয়ে নিশ্চয় উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে। আর মুশরিক পুরুষদের সাথে বিয়ে দিয়ো না, যতক্ষণ না তারা ঈমান আনে। আর একজন মুমিন দাস একজন মুশরিক পুরুষের চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে মুগ্ধ করে। তারা তোমাদেরকে আগুনের দিকে আহবান করে, আর আল্লাহ তাঁর অনুমতিতে তোমাদেরকে জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহবান করেন এবং মানুষের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ স্পষ্টরূপে বর্ণনা করেন, যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে।

শাইখ মুজিবুর রহমান

এবং মুশরিক নারীকে ঈমান না আনা পর্যন্ত তোমরা বিয়ে করনা এবং নিশ্চয়ই মু’মিন কৃতদাসী মুশরিক মহিলা অপেক্ষা উত্তম যদিও সে তোমাদেরকে মোহিত করে; এবং অংশীবাদীরা বিশ্বাস স্থাপন না করা পর্যন্ত তাদের সাথে (মুসলিম নারীদের) বিয়ে দিওনা এবং নিশ্চয়ই অংশীবাদী তোমাদের মনঃপুত হলেও বিশ্বাসী দাস তদপেক্ষা শ্রেয়তর; এরাই জাহান্নামের দিকে আহবান করে এবং আল্লাহ স্বীয় ইচ্ছায় জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহবান করেন ও মানবমন্ডলীর জন্য স্বীয় নিদর্শনাবলী বিবৃত করেন যেন তারা শিক্ষা গ্রহণ করে।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর মুশরিক নারীকে ঈমান না আনা পর্যন্ত তোমরা বিয়ে করো না। মুশরিক নারী তোমাদেরকে মুগ্ধ করলেও, অবশ্যই মুমিন কৃতদাসী তার চেয়ে উত্তম। ঈমান না আনা পর্যন্ত মুশরিক পুরুষদের সাথে তোমরা বিয়ে দিওনা, মুশরিক পুরুষ তোমাদেরকে মুগ্ধ করলেও অবশ্যই মুমিন ক্রীতদাস তার চেয়ে উত্তম। তারা আগুনের দিকে আহবান করে। আর আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে নিজ ইচ্ছায় জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহবান করেন। আর তিনি মানুষের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন, যাতে তারা শিক্ষা নিতে পারে।

ফাতহুল মাজীদ

আর তোমরা মুশরিক নারীদেরকে বিয়ে কর না যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা ঈমান আনে। একজন ঈমানদার দাসী একজন স্বাধীন মুশরিক মহিলার চেয়ে উত্তম, যদিও ঐ মুশরিক মহিলা তোমাদেরকে আশ্চর্যান্বিত করে। আর তোমরা (মু’মিন নারীদেরকে) মুশরিক পুরুষদের সাথে বিয়ে দিও না যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা ঈমান আনে। একজন ঈমানদার দাস একজন স্বাধীন মুশরিকের (পুরুষ) চেয়ে উত্তম, যদিও সে তোমাদেরকে আশ্চর্যান্বিত করে। তারা জাহান্নামের দিকে আহ্বান করে আর আল্লাহ স্ব ইচ্ছায় জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহ্বান করেন। এবং তিনি তাঁর আয়াতসমূহ মানুষের জন্য বর্ণনা করেন যাতে তারা উপদেশ গ্রহণ করে।

মুখতাসার

২২১. হে মু’মিনগণ! তোমরা আল্লাহর সাথে শিরককারিণী কোন মেয়েকে বিবাহ করো না যতক্ষণনা তারা এক আল্লাহর উপর ঈমান আনে এবং ইসলামের ছায়াতলে প্রবেশ করে। বস্তুতঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলে বিশ্বাসী একজন দাসী মূর্তিপূজারী একজন স্বাধীনা মেয়ের চেয়েও অনেক উত্তম। যদিও তার সৌন্দর্য ও সম্পদ তোমাদেরকে অভিভূত করে। তেমনিভাবে তোমরা মুসলিম মেয়েদেরকে মুশরিক পুরুষদের নিকট বিবাহ দিও না। বস্তুতঃ আল্লাহ ও তাঁর রাসূলে বিশ্বাসী একজন গোলাম একজন মুশরিক স্বাধীন পুরুষের চেয়েও অনেক উত্তম। যদিও সে তোমাদেরকে কোনভাবে অভিভূত করে। মূলতঃ এ জাতীয় মুশরিক পুরুষ ও মহিলারা নিজেদের কথা ও কাজের মাধ্যমে তোমাদেরকে এমন কিছুর দিকে ডাকে যা তোমাদেরকে জাহান্নামের দিকে পৌঁছিয়ে দিবে। আর আল্লাহ তোমাদেরকে তাঁর ইচ্ছা ও অনুগ্রহে এমন কিছু নেক আমলের দিকে ডাকেন যা তোমাদের জন্য জান্নাতে প্রবেশ ও গুনাহ থেকে মুক্তির কারণ হবে। তিনি মানুষের জন্য তাঁর আয়াতগুলো সুস্পষ্টভাবে বর্ণনা করেন যেন তারা তা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে তার উপর আমল করতে পারে।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

এখানে অংশীবাদিনী মহিলাদেরকে বিয়ে করার অবৈধতার কথা বর্ণনা করা হয়েছে। আয়াতটি সাধারণ বলে প্রত্যেক মুশরিকা মহিলাকে বিয়ে করার নিষিদ্ধতা প্রমাণিত হলেও অন্য জায়গায় রয়েছে: “তোমাদের পূর্বে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের খোদাভীরু মহিলাগণকেও মোহর দিয়ে বিয়ে করা ততামাদের জন্যে বৈধ-যারা ব্যভিচার থেকে বিরত থাকে।” হযরত ইবনে আব্বাসেরও (রাঃ) উক্তি এটাই যে, ঐ মুশরিকা মহিলাগণ হতে কিতাবীদের মহিলাগণ বিশিষ্টা। মুজাহিদ (রঃ), ইকরামা (রঃ), সাঈদ বিন যুবাইর (রঃ), মাকল (রঃ), হাসান বিন সাবিত (রঃ), যহহাক (রঃ) কাতাদাহ (রঃ), যায়েদ বিন আসলাম (রঃ) এবং রাবী' বিন আনাসেরও (রঃ) উক্তি এটাই। কেউ কেউ বলেন যে, এই আয়াতটি শুধুমাত্র মূর্তিপূজক মুশরিকা নারীদের জন্যেই অবতীর্ণ হয়েছে। তাফসীর-ই-ইবনে জারীরের মধ্যে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) কয়েক প্রকারের নারীকে বিয়ে করার নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছেন। হিজরতকারিনী ও বিশ্বাসিনী নারীদেরকে ছাড়া অন্যান্য ঐসমস্ত মেয়েকে বিয়ে করার অবৈধতা ঘোষণা করেছেন যারা অন্য ধর্মের অনুসারিনী।কুরআন কারীমের অন্য জায়গায় রয়েছে (আরবি) অর্থাৎ “যে ব্যক্তি ঈমানের প্রতি অস্বীকৃতি জানিয়েছে তার আমল বিনষ্ট হয়ে গেছে।' (৫:৫) একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, হযরত তালহা বিন উবাইদুল্লাহ (রাঃ) একজন ইয়াহূদী মহিলাকে বিয়ে করেছিলেন। এবং হযরত হুযাইফা বিন ইয়ামান (রাঃ) একজন খ্রীষ্টান নারীকে বিয়ে করেছিলেন। হযরত উমার (রাঃ) এতে অত্যন্ত রাগান্বিত হন। এমনকি তিনি যেন তাদেরকে চাবুক মারতে উদ্যত হন। ঐ দুই মহান ব্যক্তি তখন বলেনঃ “হে আমিরুল মু'মেনীন! আপনি আমাদের প্রতি অসন্তুষ্ট হবেন না। আমরা তাদেরকে তালাক দিচ্ছি।” তখন হযরত উমার (রাঃ) বলেনঃ “তালাক দেয়া যদি হালাল হয় তবে বিয়েও হালাল হওয়া উচিত। আমি তাদেরকে তোমাদের নিকট হতে ছিনিয়ে নেবো এবং অত্যন্ত অপমানের সাথে তাদেরকে পৃথক করে দেবো।” কিন্তু এই হাদীসটি অত্যন্ত গরীব এবং হযরত উমার (রাঃ) হতে সম্পূর্ণরূপেই গরীব। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) কিতাবী মহিলাদেরকে বিয়ে করার বৈধতার উপর ইজমা নকল করেছেন এবং হযরত উমারের (রাঃ) এই হাদীস সম্বন্ধে লিখেছেন যে, এটা শুধু রাজনৈতিক যৌক্তিকতার ভিত্তিতে ছিল যেন মানুষ মুসলিম নারীগণের প্রতি অনাগ্রহী না হয় কিংবা অন্য কোন দূরদর্শিতা এই নির্দেশের মধ্যে নিহিত ছিল। যেহেতু একটি বর্ণনায় এও রয়েছে যে, হযরত হুযাইফা (রাঃ) যখন এই নির্দেশনামা প্রাপ্ত হন তখন তিনি উত্তরে লিখেন : “আপনি কি এটাকে হারাম বলেন: মুসলমানদের খলীফা হযরত উমার ফারুক (রাঃ), বলেনঃ “আমি হারাম তো বলি না। কিন্তু আমার ভয় যে, তোমরা মুসলমান নারীদেরকে বিয়ে কর না কেন:" এই বর্ণনাটির ইসনাদও বিশুদ্ধ। অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, হযরত উমার ফারূক (রাঃ) বলেছেনঃ “মুসলমান পুরুষ খ্রীস্টান মহিলাকে বিয়ে করতে পারে, কিন্তু মুসলমান মহিলার সাথে খ্রষ্টান পুরুষের বিয়ে হতে পারে না।" এই বর্ণনাটির সনদ প্রথম বর্ণনাটি হতে সঠিকতর।তাফসীর-ই-ইবনে জারীরের মধ্যে একটি মারফু হাদীস ইসনাদসহ বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমরা আহলে কিতাবের নারীদেরকে বিয়ে করতে পারি কিন্তু আমাদের নারীদেরকে আহলে কিতাবের পুরুষ লোকেরা বিয়ে করতে পারে না। কিন্তু এর সনদে কিছুটা দুর্বলতা থাকলেও উম্মতের ইজমা এর উপরেই রয়েছে। ইবনে আবি হাতিমের বর্ণনায় রয়েছে যে, হযরত উমার ফারূক (রাঃ) আহলে কিতাবের বিয়েকে অপছন্দ করতঃ এই আয়াতটি পাঠ করেন। ইমাম বুখারী (রঃ) হ্যরত উমারের (রাঃ) এই উক্তিও নকল করেছেনঃ ‘কোন মহিলা বলে যে, হযরত ঈসা (আঃ) তার প্রভু, এই শিরক অপেক্ষা বড় শিরক আমি জানি না।' হযরত ইমাম আহমাদকে (রঃ) এই আয়াতের ভাবার্থ জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ “এর দ্বারা আরবের ঐ মুশরিক মহিলাদেরকে বুঝানো হয়েছে যারা মূর্তি পূজা করতো।"অতঃপর ইরশাদ হচ্ছে-বিশ্বাসিনী মহিলা অংশীবাদিনী মহিলা হতে উত্তম। এই ঘোষণাটি হযরত আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা (রাঃ)-এর সম্বন্ধে অবতীর্ণ হয়। তাঁর কৃষ্ণ বর্ণের একটি দাসী ছিল। একদা ক্রোধান্বিত হয়ে তিনি তাকে একটি চড় বসিয়ে দেন। অতঃপর তিনি সন্ত্রস্ত হয়ে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট উপস্থিত হন এবং ঘটনাটি বর্ণনা করেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে জিজ্ঞেস করেনঃ “তার ধ্যান ধারণা কি।" তিনি বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! সে রোযা রাখে, নামায পড়ে, ভালভাবে অযু করে, আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাস করে এবং আপনার প্রেরিতত্বের সাক্ষ্য প্রদান করে।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন বলেনঃ “হে আবু আব্দিল্লাহ! তবে তো সে মুসলমান। তিনি তখন বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! সেই আল্লাহর শপথ, যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন। আমি তাকে মুক্ত করে দেবো। শুধু তাই নয়, আমি তাকে বিয়েও করে নেবো।” সুতরাং তিনি তাই করেন। এতে কতকগুলো মুসলমান তাঁকে বিদ্রুপ করেন। তারা চাচ্ছিলেন যে, মুশরিক মহিলার সাথে তার বিয়ে দিয়ে দেবেন এবং নিজেদের নারীদের বিয়েও মুশরিকদের সাথে দেবেন। তাহলে বংশ মর্যাদা বজায় থাকবে। তখন এই ঘোষণা দেয়া হয় যে, মুশরিকা আযাদ মহিলা হতে মুসলমান দাসী বহুগুণে শ্রেষ্ঠ। অনুরূপভাবে মুশরিক আযাদ পুরুষ হতে মুসলমান দাস বহুগুণে উত্তম। তাফসীর-ই-আবদ বিন হামীদ গ্রন্থে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “নারীদের শুধুমাত্র সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে তাদেরকে বিয়ে করো না। হতে পারে যে, তাদের সৌন্দর্য তাদের মধ্যে অহংকার উৎপাদন করবে। নারীদেরকে তাদের সম্পদের উপরে বিয়ে করো না। তাদের সম্পদ তাদেরকে অবাধ্য করে তুলবে এ সম্ভাবনা রয়েছে। বিয়ে করলে ধর্মপরায়ণতা দেখ। কালো-কুৎসিতা দাসীও যদি ধর্মপরায়ণা হয় তবে সে বহুগুণে উত্তম।” কিন্তু এই হাদীসটির বর্ণনাকারীদের মধ্যে আফরেকী দুর্বল। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মধ্যে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “চারটি জিনিস দেখে নারীদেরকে বিয়ে করা হয়। প্রথম মাল, দ্বিতীয় বংশ, তৃতীয় সৌন্দর্য এবং চতুর্থ ধর্মপরায়ণতা। তোমরা ধর্মপরায়ণতাই অনুসন্ধান কর।” সহীহ মুসলিম শরীফে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “সম্পূর্ণ দুনিয়াটাই একটা সম্পদ বিশেষ। দুনিয়ার সম্পদসমূহের মধ্যে সর্বোত্তম সম্পদ হচ্ছে সতী নারী।” অতঃপর নির্দেশ দেয়া হচ্ছে : মুশরিক পুরুষদের সাথে মুসলমান নারীদের বিয়ে দিও না। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছে (আরবি) অর্থাৎ কাফির মহিলারা মুসলমান পুরুষদের জন্যে বৈধ নয় এবং মুসলমান পুরুষেরা কাফির মহিলাদের জন্যে বৈধ নয়। (৬০:১০) এর পরে বলা হয়েছে-মু'মিন পুরুষ যদি কাফ্রী ও ক্রীতদাসও হয় তথাপি সে স্বাধীন কাফির নেতা হতে উত্তম। ঐসব লোকের সাথে মেলামেশা, তাদের সাহচর্য, দুনিয়ার। প্রতি ভালবাসা এবং দুনিয়াকে আখেরাতের উপর প্রাধান্য দেয়া শিক্ষা দেয়। এর পরিণাম হচ্ছে দোযখে অবস্থান। আর আল্লাহ তা'আলার অনুগত বান্দাদের অনুসরণ, তাঁর নির্দেশ পালন বেহেশতের পথে চালিত করে এবং পাপ মোচনের কারণ হয়ে থাকে। মানুষকে উপদেশ ও শিক্ষা দেয়ার জন্যে আল্লাহ তাআলা তাঁর আয়াতসমূহ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে থাকেন।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর মুশরিক নারীকে ঈমান না আনা পর্যন্ত তোমরা বিয়ে করো না [১]। মুশরিক নারী তোমাদেরকে মুগ্ধ করলেও, অবশ্যই মুমিন কৃতদাসী চেয়ে উত্তম। ঈমান না আনা পর্যন্ত মুশরিক পুরুষদের সাথে তোমরা বিয়ে দিওনা [২], মুশরিক পুরুষ তোমাদেরকে মুগ্ধ করলেও অবশ্যই মুমিন ক্রীতদাস তার চেয়ে উত্তম। তারা আগুনের দিকে আহবান করে। আর আল্লাহ্‌ তোমাদেরকে নিজ ইচ্ছায় জান্নাত ও ক্ষমার দিকে আহবান করেন [৩]। আর তিনি মানুষের জন্য তাঁর আয়াতসমূহ সুস্পষ্টভাবে ব্যক্ত করেন, যাতে তারা শিক্ষা নিতে পারে।

[১] আয়াতে মুশরিক শব্দ দ্বারা সাধারণ অমুসলিমকে বোঝানো হয়েছে। কারণ, কুরআনুল কারীমের অন্য এক আয়াতের দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, প্রকৃত কিতাবে বিশ্বাসী নারীরা এ আদেশের অন্তর্ভুক্ত নয়। বলা হয়েছে, “তোমাদের আগে যাদেরকে কিতাব দেয়া হয়েছে তাদের সচ্চরিত্রা নারী তোমাদের জন্য বৈধ করা হলো” [সূরা আল-মায়েদাহঃ ৫]।

তাই এখানে মুশরিক বলতে ঐ সব বিশেষ অমুসলিমকেই বোঝানো হয়েছে, যারা কোন নবী কিংবা আসমানী কিতাবে বিশ্বাস করে না। আহলে কিতাব ইয়াহুদী ও নাসারা নারীদের সাথে মুসলিম পুরুষদের সম্পর্কের অর্থ হচ্ছে এই যে, যদি তাদেরকে বিবাহ করা হয়, তবে বিবাহ ঠিক হবে এবং স্বামীর পরিচয়েই সন্তানদের বংশ সাব্যস্ত হবে। কিন্তু আল্লাহ্‌র কাছে এ বিবাহও পছন্দনীয় নয়। মুসলিম বিবাহের জন্য দ্বীনদার ও সৎ স্ত্রীর অনুসন্ধান করবে, যাতে করে সে তার দ্বীনী ব্যাপারে সাহায্যকারীর ভূমিকা পালন করতে পারে। এতে করে তাদের সন্তানদেরও দ্বীনদার হওয়ার সুযোগ মিলবে। যখন কোন দ্বীনহীন মুসলিম মেয়ের সাথে বিবাহ পছন্দ করা হয়নি, সে ক্ষেত্রে অমুসলিম মেয়ের সাথে কিভাবে বিবাহ পছন্দ করা হবে? এ কারণেই উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু যখন খবর পেলেন যে, ইরাক ও শাম দেশের মুসলিমদের এমন কিছু স্ত্রী রয়েছে এবং দিন দিন তাদের সংখ্যা বেড়ে চলেছে, তখন তিনি ফরমান জারি করলেন যে, তা হতে পারে না। তাদেরকে সতর্ক করে দেয়া হলো যে, এটা বৈবাহিক জীবন তথা দ্বীনী জীবনের জন্য যেমন অকল্যাণকর, তেমনি রাজনৈতিক দিক দিয়েও ক্ষতির কারণ। [তাফসীরে কুরতুবী: ৩/৪৫৬]

বর্তমান যুগের অমুসলিম আহলে কিতাব, ইয়াহুদী ও নাসারা এবং তাদের রাজনৈতিক ধোঁকা-প্রতারণা, বিশেষতঃ রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত বিবাহ এবং মুসলিম সংসারে প্রবেশ করে তাদেরকে নিজেদের দিকে আকৃষ্ট করা এবং মুসলিমদের গোপন তথ্য জানার প্রচেষ্টা আজ স্বীকৃত সত্যে পরিণত হয়েছে। ইসলামের খলীফা উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু-এর সুদূর প্রসারী দৃষ্টিশক্তি বৈবাহিক ব্যাপার সংক্রান্ত এ বিষয়টির সর্বনাশা দিক উপলব্দি করতে সমর্থ হয়েছিলেন। বিশেষতঃ বর্তমানে পাশ্চাত্যের দেশসমূহে যারা ইয়াহুদী ও নাসারা নামে পরিচিত এবং আদম-শুমারীর খাতায় যাদেরকে দ্বীনী দিক থেকে ইয়াহুদী কিংবা নাসারা বলে লেখা হয়, যদি তাদের প্রকৃত দ্বীনের অনুসন্ধান করা যায়, তবে দেখা যাবে যে, নাসারা ও ইয়াহুদী মতের সাথে তাদের আদৌ কোন সম্পর্ক নেই। তারা সম্পূর্ণভাবেই দ্বীন বর্জনকারী। তারা ঈসা ‘আলাইহিস সালামকেও মানে না, তাওরাতকেও মানে না, এমনকি আল্লাহ্‌র অস্তিত্বও মানে না, আখেরাতও মানে না। বলাবাহুল্য, বিবাহ হালাল হওয়ার কুরআনী আদেশ এমন সব ব্যক্তিদেরকে অন্তর্ভুক্ত করে না। তাদের মেয়েদের সাথে বিবাহ সম্পূর্ণই হারাম। সূরা আল-মায়েদাহ এর আয়াতে যাদের বিয়ে করার অনুমতি দেয়া হয়েছে, আজকালকার ইয়াহুদী-নাসারারা তার আওতায় পড়ে না। সে হিসেবে সাধারণ অমুসলিমদের মত তাদের মেয়েদের সাথেও বিবাহ করা হারাম। মানুষ অত্যন্ত ভুল করে যে, খোঁজ-খবর না নিয়েই পাশ্চাত্যের মেয়েদেরকে বিয়ে করে বসে। এমনিভাবে যে ব্যক্তিকে প্রকাশ্যভাবে মুসলিম মনে করা হয়, কিন্তু তার আকীদা কুফর পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছেছে, তার সাথে মুসলিম নারীর বিয়ে জায়েয নয়। আর যদি বিয়ে হয়ে যাওয়ার পর তার আকীদা এমনি বিকৃত হয়ে পড়ে তবে তাদের বিয়ে ছিন্ন হয়ে যাবে। আজকাল অনেকেই নিজের দ্বীন সম্পর্কে অন্ধ ও অজ্ঞ এবং সামান্য কিছুটা আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের চর্চা করেই স্বীয় দ্বীনের আকীদা নষ্ট করে বসে। কাজেই প্রথমে ছেলের আকীদা সম্পর্কে খোঁজ-খবর তারপর বিয়ে সম্পর্কে চূড়ান্ত কথা দেয়া মেয়েদের অভিভাবকদের উপর ওয়াজিব। [মা’আরিফুল কুরআন থেকে সংক্ষেপিত]

[২] উমর রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, কোন মুসলিম অমুসলিম মহিলাকে বিয়ে করতে পারে কিন্তু কোন অমুসলিমের সাথে কোন মুসলিম মহিলাকে বিয়ে দেয়া যাবে না। [তাবারী] যুহরী, কাতাদাহ বলেন, কোন অমুসলিম চাই সে ইয়াহুদী হোক বা নাসারা বা মুশরিক তার কাছে কোন মুসলিম মহিলাকে বিয়ে দেয়া যাবে না। তাফসীরে আবদুর রাজ্জাক এ ব্যাপারে উম্মতের ঐক্যমত রয়েছে।

[৩] আলোচ্য আয়াতে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা বর্ণনা করা হয়েছে যে, মুসলিম পুরুষের বিয়ে কাফের নারীর সাথে এবং কাফের পুরুষের বিয়ে মুসলিম নারীর সাথে হতে পারে না। কারণ, কাফের স্ত্রী-পুরুষ মানুষকে জাহান্নামের দিকে নিয়ে যায়। সাধারণত বৈবাহিক সম্পর্ক পরস্পরের ভালবাসা, নির্ভরশীলতা এবং একাত্মতায় পরস্পরকে আকর্ষণ করে। তা ব্যতীত এ সম্পর্কে প্রকৃত উদ্দেশ্য সাধিত হয় না। আর মুশরিকদের সাথে এ জাতীয় সম্পর্কের ফলে ভালবাসা ও নির্ভরশীলতার অপরিহার্য পরিণাম দাঁড়ায় এই যে, তাদের অন্তরে কুফর ও শির্কের প্রতি আকর্ষণ সৃষ্টি হয় অথবা কুফর ও শির্কের প্রতি ঘৃণা তাদের অন্তর থেকে উঠে যায়। এর পরিণামে শেষ পর্যন্ত সেও কুফর ও শির্কে জড়িয়ে পড়ে; যার পরিণতি জাহান্নাম। এজন্যই বলা হয়েছে যে, এসব লোক জাহান্নামের দিকে আহবান করে। আল্লাহ্‌ তা'আলা জান্নাত ও মাগফেরাতের দিকে আহবান করেন এবং পরিস্কারভাবে নিজের আদেশ বর্ণনা করেন, যাতে মানুষ উপদেশ মত চলে। [মা’আরিফুল কুরআন ]