Al-Baqarah
আল-বাকারা: 156
2 আল-বাকারা Al-Baqarah · 286 আয়াত البقرة
মূল আরবি
ٱلَّذِينَ إِذَآ أَصَـٰبَتْهُم مُّصِيبَةٌ قَالُوٓا۟ إِنَّا لِلَّهِ وَإِنَّآ إِلَيْهِ رَٰجِعُونَ
English Translations
Who, when disaster strikes them, say, "Indeed we belong to Allāh, and indeed to Him we will return."
Who, when afflicted with calamity, say: "Truly! To Allah we belong and truly, to Him we shall return."
who, when a suffering visits them, say: “We certainly belong to Allah, and to Him we are bound to return.”
those who when any affliction smites them, they say: “Verily, we belong to Allah, and it is to Him that we are destined to return.”
Who say, when a misfortune striketh them: Lo! we are Allah's and lo! unto Him we are returning.
Who say, when afflicted with calamity: "To Allah We belong, and to Him is our return":-
বাংলা অনুবাদ
নিশ্চয়ই যারা বিপদকালে বলে থাকে, ‘আমরা আল্লাহরই আর আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী’।
যারা, তাদেরকে যখন বিপদ আক্রান্ত করে তখন বলে, নিশ্চয় আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।
যাদের উপর কোন বিপদ নিপতিত হলে তারা বলে, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।
যারা তাদের উপর বিপদ আসলে বলে, ‘আমরা তো আল্লাহ্রই। আর নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী’।
যাদের ওপর কোন বিপদ আসলে তারা বলে, নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।
১৫৬. যারা এ জাতীয় বিপদাপদ আসলে সন্তুষ্ট ও বিনয়ের স্বরে বলে: আমরা আল্লাহরই মালিকানাধীন। তাই আল্লাহ তা‘আলা আমাদের ব্যাপারে যাই চান তাই করতে পারেন। আর আমরা কিয়ামতের দিন তাঁর দিকেই ফিরে যাবো। কারণ, তিনিই আমাদেরকে সৃষ্টি করেছেন এবং বহু নিয়ামতের মাধ্যমে তিনি আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। তাই আমাদের প্রত্যাবর্তন ও পরিসমাপ্তি তাঁর দিকেই।
তাফসীর
2:155
যারা তাদের উপর বিপদ আসলে বলে, ‘আমরা তো আল্লাহ্রই। আর নিশ্চয় আমরা তাঁর দিকেই প্রত্যাবর্তনকারী [১]।
[১] সবরকারীগণের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা বিপদের সম্মুখীন হলে – ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন' পাঠ করে। এর দ্বারা প্রকৃতপক্ষে শিক্ষা দেয়া হচ্ছে যে, কেউ বিপদে পড়লে যেন এ দোআটি পাঠ করে। কেননা, এরূপ বলাতে একাধারে যেমন অসীম সওয়াব পাওয়া যায়, ঠিক তেমনি যদি এ বাক্যের অর্থের প্রতি যথার্থ লক্ষ্য রেখে তা পাঠ করা হয়, তবে বিপদে আন্তরিক শান্তি লাভ এবং তা থেকে উত্তরণও সহজতর হয়ে যায়। দোআটির অর্থ হচ্ছে, “নিশ্চয় আমরা তো আল্লাহ্রই। আর আমরা তার দিকেই প্রর্তাবর্তন করব। " সুতরাং আল্লাহ্ তা'আলা যদি আমাদের কোন কষ্ট দেন তবে তাতে কোন না কোন মহৎ উদ্দেশ্য রয়েছে।
তার উদ্দেশ্যকে সম্মান করতে পারা একটি মহৎ কাজ। আর এটাই হচ্ছে, সবর। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “মুমিনের কর্মকাণ্ড আশ্চর্যজনক। তার সমস্ত কাজই ভাল। মুমিন ছাড়া আর কারও জন্য এমনটি হয় না। যদি তার কোন খুশীর বিষয় সংঘটিত হয় তবে সে শুকরিয়া আদায় করে, ফলে তা তার জন্য কল্যাণের হয়। আর যদি তার কোন ক্ষতিকর কিছু ঘটে যায় তবে সে সবর করে, ফলে তাও তার জন্য কলাণকর হয় "[মুসলিম: ২৯৯৯]
অপর হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, “যে কেউ বিপদ-মুসিবতে পড়ে ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজেউন’ বলবে, এবং বলবে, হে আল্লাহ্ আমাকে এ মুসিবত থেকে উদ্ধার করুন এবং এর থেকে উত্তম বস্তু ফিরিয়ে দিন” অবশ্যই আল্লাহ্ তাকে উত্তম কিছু ফিরিয়ে দিবেন" [মুসলিম ৯১৮]
[সূরা আল-বাকারা (২): আয়াত ১৫৬ থেকে ১৫৭] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আল-বাকারা (২): আয়াত ১৫৬ থেকে ১৫৭]যাদের ওপর কোনো বিপদ আপতিত হলে তারা বলে, ‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।’ (১৫৬) তাদের ওপরই তাদের রবের পক্ষ থেকে অফুরন্ত করুণা ও রহমত বর্ষিত হয়, আর তারাই হিদায়াতপ্রাপ্ত। (১৫৭)এতে ছয়টি মাসআলা (আলোচ্য বিষয়) রয়েছে: প্রথমত— মহান আল্লাহর বাণী: "মুসীবাত" (বিপদ)। মুসীবাত হলো এমন প্রতিটি বিষয় যা মুমিনকে কষ্ট দেয় এবং তার ওপর আপতিত হয়। বলা হয়: ‘আসাবাহু ইসাবাতান’, ‘মুসাবাহ’ ও ‘মুসাবান’। ‘মুসীবাত’ হলো ‘মাসায়িব’-এর একবচন। আর ‘মাসুবা’ (সোয়াদ বর্ণে পেশ সহকারে) মুসীবাতেরই অনুরূপ।
আরবরা ‘মাসায়িব’ শব্দে হামযা উচ্চারণের ব্যাপারে একমত পোষণ করেছেন, যদিও এর মূল বর্ণ হলো ‘ওয়াও’। তারা যেন মূল বর্ণটিকে অতিরিক্ত বর্ণের সাথে সাদৃশ্য প্রদান করেছেন। এর বহুবচন ‘মাসাওয়িব’ হিসেবেও হতে পারে, যা এর মূল রূপ। আর ‘মুসাব’ অর্থ হলো বিপদগ্রস্ত হওয়া। জনৈক কবি বলেছেন:হে সুলায়মা! তোমাদের পক্ষ থেকে এমন একজন ব্যক্তির বিপদগ্রস্ত হওয়া … যে অভিবাদন স্বরূপ সালাম প্রদান করেছে, তা নিছক জুলুম।তীরটি লক্ষ্যে বিদ্ধ হওয়া অর্থেও এই শব্দের ব্যবহার রয়েছে, যা মূল শব্দেরই একটি ভাষাগত রূপ। ‘মুসীবাত’ বলতে সেই অনিষ্ট বা বিপর্যয়কে বোঝায় যা মানুষের ওপর আপতিত হয়, তা যতই ক্ষুদ্র হোক না কেন।
এটি সাধারণত অকল্যাণের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়। ইকরিমা বর্ণনা করেছেন যে, একবার এক রাতে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর প্রদীপ নিভে গেল, তখন তিনি বললেন: "নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহর জন্য এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁরই দিকে প্রত্যাবর্তনকারী।" তখন জিজ্ঞাসা করা হলো, হে আল্লাহর রাসূল! এটিও কি একটি মুসীবাত? তিনি বললেন: "হ্যাঁ, মুমিনকে কষ্ট দেয় এমন প্রতিটি বিষয়ই মুসীবাত।" আমি (গ্রন্থকার) বলছি: এর অর্থ সহীহ হাদিস দ্বারা প্রমাণিত। ইমাম মুসলিম আবু সাঈদ খুদরী ও আবু হুরায়রা (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা উভয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছেন: "মুমিনের ওপর যে কোনো ক্লান্তি, দীর্ঘস্থায়ী রোগ, ব্যাধি ও শোক, এমনকি তার মনে যে দুশ্চিন্তার উদয় হয়, তার বিনিময়ে আল্লাহ তার গুনাহসমূহ মোচন করে দেন।" দ্বিতীয়ত— ইবনে মাজাহ তাঁর সুনান গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন: আবু বকর ইবনে আবি শাইবাহ আমাদের কাছে হাদীস বর্ণনা করেছেন, ওকী ইবনুল জাররাহ হিশাম ইবনে যিয়াদ থেকে, তিনি তাঁর মা থেকে, তিনি ফাতিমা বিনতে হুসাইন থেকে, তিনি তাঁর পিতা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: "যে ব্যক্তি কোনো বিপদে পড়ার পর যখনই তা স্মরণ করে এবং পুনরায় ‘ইস্তিরজা’ (ইন্না লিল্লাহি...
পাঠ) করে, যদিও সেই বিপদ অনেক পুরনো দিনের হয়, তবে আল্লাহ তার জন্য সেই দিনের ন্যায় সওয়াব লিখে দেন যেদিন সে বিপদগ্রস্ত হয়েছিল।"(১). ইমাম নববী সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যায় বলেছেন: "কাযী আয়ায বলেছেন: এটি ইয়া বর্ণে পেশ এবং হা বর্ণে যবর সহযোগে কর্মবাচ্য হিসেবে পঠিত। আর অন্য বর্ণনায় ইয়া বর্ণে যবর এবং হা বর্ণে পেশ সহযোগে এসেছে, যার অর্থ হলো—তাকে বিষণ্ণ করা। উভয়টিই সঠিক।"
