Al-Baqarah
আল-বাকারা: 240
2 আল-বাকারা Al-Baqarah · 286 আয়াত البقرة
আরবি
وَٱلَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَٰجًا وَصِيَّةً لِّأَزْوَٰجِهِم مَّتَـٰعًا إِلَى ٱلْحَوْلِ غَيْرَ إِخْرَاجٍ ۚ فَإِنْ خَرَجْنَ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِى مَا فَعَلْنَ فِىٓ أَنفُسِهِنَّ مِن مَّعْرُوفٍ ۗ وَٱللَّهُ عَزِيزٌ حَكِيمٌ
English Translations
And those who are taken in death among you and leave wives behind - for their wives is a bequest: maintenance for one year without turning [them] out. But if they leave [of their own accord], then there is no blame upon you for what they do with themselves in an acceptable way. And Allāh is Exalted in Might and Wise.
And those of you who die and leave behind wives should bequeath for their wives a year's maintenance and residence without turning them out, but if they (wives) leave, there is no sin on you for that which they do of themselves, provided it is honourable (e.g. lawful marriage). And Allah is All-Mighty, All-Wise. [The order of this Verse has been cancelled (abrogated) by Verse 4:12].
Those among you who pass away and leave wives behind are (commanded) to make a will in favour of their wives to be maintained for one year without being expelled (from husband’s home). Then, if they move out, there is no sin on you in what they have done for themselves according to the fair practice. Allah is Mighty, Wise.
Those of you who die leaving behind your wives should make testament of one year’s provision without expulsion in favour of your wives; and if they themselves depart, there shall be no blame upon you for what they may do with themselves in an honourable manner. Allah is All-Mighty, All-Wise.
(In the case of) those of you who are about to die and leave behind them wives, they should bequeath unto their wives a provision for the year without turning them out, but if they go out (of their own accord) there is no sin for you in that which they do of themselves within their rights. Allah is Mighty, Wise.
Those of you who die and leave widows should bequeath for their widows a year's maintenance and residence; but if they leave (The residence), there is no blame on you for what they do with themselves, provided it is reasonable. And Allah is Exalted in Power, Wise.
বাংলা অনুবাদ
তোমাদের মধ্যে যারা বিবিদেরকে রেখে মারা যাবে, তারা বিবিদের জন্য অসিয়ত করবে যেন এক বৎসরকাল সুযোগ-সুবিধা পায় এবং গৃহ হতে বের ক’রে দেয়া না হয়, তবে যদি তারা নিজেরাই বের হয়ে যায়, তবে তোমাদের প্রতি গুনাহ নেই তারা নিজেদের ব্যাপারে বৈধভাবে কিছু করলে; আল্লাহ মহাশক্তিধর, সুবিজ্ঞ।
আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা মারা যাবে এবং স্ত্রীদেরকে রেখে যাবে, তারা তাদের স্ত্রীদের জন্য এক বছরের ভরণ-পোষণের ওসিয়ত করবে বের না করে দিয়ে; কিন্তু যদি তারা (স্বেচ্ছায়) বের হয়ে যায়, তাহলে তারা নিজদের ব্যাপারে বিধি মোতাবেক যা করেছে, সে ব্যাপারে তোমাদের কোন পাপ নেই। আর আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।
এবং তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুমুখে পতিত হয় ও স্ত্রীগণকে ছেড়ে যায় তারা যেন স্বীয় স্ত্রীগণকে বহিস্কৃত না করে এক বছর পর্যন্ত তাদেরকে ভরণ-পোষণ প্রদান করার জন্য অসীয়াত করে যায়, কিন্তু যদি তারা (স্বেচ্ছায়) বের হয়ে যায় তাহলে নিজেদের সম্বন্ধে বিহিতভাবে তারা যে ব্যবস্থা করে তজ্জন্য তোমাদের কোন দোষ নেই, এবং আল্লাহ মহাপরাক্রান্ত, বিজ্ঞানময়।
আর তোমাদের মধ্যে জারা মারা যাবে এবং স্ত্রী রেখে যাবে, তারা যেন তাদের স্ত্রীকে তাদের ঘর থেকে বের না করে তাদের এক বছরের ভরণ-পোষণের অসিয়াত করে। কিন্তু যদি তারা বের হয়ে যায়, তবে বিধিমত নিজেদের মত তারা যা করবে তাতে তোমাদের কোনো পাপ নেই। আর আল্লাহ্ প্রবল পরাক্রান্ত, প্রজ্ঞাময়।
আর তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রীগণকে ছেড়ে যায় তারা যেন তাদেরকে বহিস্কৃত না করে এক বছর পর্যন্ত তাদের ভরণ-পোষণ দেয়ার জন্য অসিয়ত করে যায়; কিন্তু যদি তারা (স্বেচ্ছায়) বের হয়ে যায়, তবে নিজেদের সম্বন্ধে বৈধভাবে তারা যে ব্যবস্থা গ্রহণ করে তজ্জন্যে তোমাদের কোন দোষ নেই এবং আল্লাহ মহাপরাক্রান্ত, মহা প্রজ্ঞাময়।
২৪০. তোমাদের মধ্য থেকে যারা মৃত্যু মুখে পতিত হয় এবং পশ্চাতে স্ত্রীদেরকে রেখে যায় নিজেদের স্ত্রীদের ব্যাপারে তারা অবশ্যই এ অসিয়ত করে যাবে যে, তাদেরকে যেন এক বছর যাবত খাবার ও বাসস্থান দেয়া হয়। তাদের ওয়ারিশরা যেন ওদেরকে ঘর থেকে বের করে না দেয়। এটিই হবে তাদের বিপদের সামান্যটুকু ক্ষতিপূরণ এবং মৃত ব্যক্তির সাথে সদাচরণ। তবে তারা যদি এক বছর পূর্ণ না করে নিজেরাই ঘর থেকে বের হয়ে যায় তাহলে তাতে তোমাদের কোন ধরনের গুনাহ নেই। উপরন্তু তারাও যদি কোন ধরনের সুগন্ধি ও সৌন্দর্য গ্রহণ করে তাতেও তাদের কোন অসুবিধে নেই। বস্তুতঃ আল্লাহ তা‘আলা অতি পরাক্রমশালী। তাঁকে কেউ পরাজিত করতে পারবে না। উপরন্তু তিনি তাঁর শরীয়ত, তাকদীর ও পরিচালনায় অত্যন্ত প্রজ্ঞাময়। তবে অধিকাংশ মুফাসসিরীনদের মতে উক্ত বিধানটি সূরা বাকারাহর ২৩৪ নং আয়াত কর্তৃক রহিত হয়ে গেছে। যাতে বলা হয়েছে, “যারা মৃত্যুর সময় গর্ভবতী মহিলা বিহীন সাধারণ স্ত্রীদেরকে রেখে গেছে তারা অবশ্যই বাধ্যতামূলকভাবে চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করবে”।
তাফসীর
২৪০-২৪২ নং আয়াতের তাফসীরঅধিকাংশ মুফাসসিরের উক্তি এই যে, এই আয়াতটি এর পূর্ববর্তী আয়াত (অর্থাৎ চার মাস দশ দিন ইদ্দত বিশিষ্ট আয়াত) দ্বারা রহিত হয়েছে। সহীহ। বুখারী শরীফে রয়েছে, হযরত ইবনে যুবাইর (রাঃ) হযরত উসমান (রাঃ)-কে বলেনঃ এই আয়াতটি রহিত হয়ে গেছে, সুতরাং আপনি এটাকে আর কুরআন মাজীদের মধ্যে লিখিয়ে নিচ্ছেন কেন:' তিনি বলেনঃ হে ভ্রাতুস্পুত্র! পূর্ববর্তী কুরআনে যেমন এটা বিদ্যমান রয়েছে তেমনই এখানেও থাকবে। আমি কোন হের ফের করতে পারি না।' হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ পূর্বে তো এই নির্দেশই ছিল-এক বছর ধরে ঐ বিধবা স্ত্রীদেরকে তাদের মৃত স্বামীদের সম্পদ হতে ভাত-কাপড় দিতে হবে এবং তাদেরকে ঐ বাড়ীতেই রাখতে হবে। অতঃপর উত্তরাধিকার সংক্রান্ত আয়াত এটাকে রহিত করে এবং স্বামীর সন্তান থাকলে তার পরিত্যক্ত সম্পত্তি হতে স্ত্রীর জন্যে এক অষ্টমাংশ, আর সন্তান না থাকলে এক চতুর্থাংশ নির্ধারণ করা হয়। আর স্ত্রীর ইদ্দতকাল নির্ধারিত হয় চার মাস ও দশ দিন। অধিকাংশ সাহাবী (রাঃ) ও তাবেঈ (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, এই আয়াতটি রহিত হয়েছে। সাঈদ বিন মুসাইয়ার (রঃ) বলেন যে, সূরা-ইআহযাবের। (আরবি) (৩৩:৪৯) এই আয়াত দ্বারা সুরা-ই-বাকারার এই আয়াতটিকে রহিত করা হয়েছে। হযরত মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, এক বছরের মধ্যে চার মাস দশ দিন তো হচ্ছে মূল ইদ্দতকাল এবং এটা অতিবাহিত করা স্ত্রীর জন্যে ওয়াজিব। আর অবশিষ্ট সাত মাস ও বিশ দিন। স্ত্রী তার মৃত স্বামীর বাড়ীতেও থাকতে পারে বা চলেও যেতে পারে। মীরাসের আয়াত এটাকেও মানসূখ করে দিয়েছে। সে যেখানে পারে সেখানে গিয়ে ইদ্দত পালন করবে। বাড়ীর খরচ বহন স্বামীর দায়িত্বে নেই। সুতরাং এসব উক্তি দ্বারা জানা যাচ্ছে যে, এই আয়াত তো এক বছরের ইদ্দতকে ওয়াজিবই করেনি। সুতরাং রহিত হওয়ার প্রশ্নই উঠতে পারে না। এটা তো শুধুমাত্র স্বামীর অসিয়ত এবং সেটাকেও স্ত্রী ইচ্ছে করলে পুরো করবে আর না করলে না করবে। তার উপর কোন বাধ্যবাধকতা নেই।' (আরবি) শব্দের ভাবার্থ এই যে, আল্লাহ তোমাদেরকে অসিয়ত করছেন। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছে। (আরবি) অর্থাৎ আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের সন্তানদের ব্যাপারে অসিয়ত করছেন।(আরবি) শব্দের পূর্বে ।(আরবি) শব্দ উহ্য মেনে ওকে (আরবি) দেয়া হয়েছে। সুতরাং স্ত্রীরা যদি পুরো এক বছর তাদের মৃত স্বামীদের বাড়ীতেই থাকে তবে তাদেরকে বের করে দেয়া হবে না। যদি তারা ইদ্দতকাল কাটিয়ে সেচ্ছায় চলে যায় তবে তাদেরকে বাধা দেয়া হবে না। ইমাম ইবনে তাইমিয়াও (রঃ) এই উক্তিকেই পছন্দ করেন। আরও বহু। লোক এটাকেই গ্রহণ করে থাকেন। আর অবশিষ্ট দল এটাকে মানসূখ বলে থাকেন। এখন যদি ইদ্দতকালের পরবর্তী কাল মানসূখ’ হওয়াই তাঁদের উদ্দেশ্য হয় তবে তো ভাল কথা, নচেৎ এ ব্যাপারে ইমামগণের মধ্যে মতবিরোধ রয়েছে। কেউ কেউ বলেন যে, স্ত্রীকে অবশ্যই মৃত স্বামীর বাড়ীতেই ইদ্দতকাল অতিবাহিত করতে হবে। তাঁদের দলীল হচ্ছে মুআত্তা-ই-মালিকের নিম্নের হাদীসটি-হয়রত আবু সাঈদ খুদরীর (রাঃ) ভগ্নী হযরত ফারী'আ বিনতে মালিক (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকটে এসে বলেনঃ আমাদের ক্ৰতি দাসের পালিয়ে গিয়েছিল। আমার স্বামী তাদের খোঁজে বেরিয়েছিলেন। কুদুম' নামক স্থানে তার সাথে তাদের সাক্ষাৎ ঘটে এবং তারা তাকে হত্যা করে ফেলে। তার কোন ঘর-বাড়ী নেই যেখানে আমি ইদ্দতকাল অতিবাহিত করি এবং কোন পানাহারের জিনিসও নেই। সুতরাং আপনার অনুমতি হলে আমি আমার পিত্রালয়ে চলে গিয়ে তথায় আমার ইদ্দতকাল কাটিয়ে দেই। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেন, অনুমতি দেয়া হলো। আমি ফিরে যেতে উদ্যত হয়েছি এবং এখনও কক্ষেই রয়েছি এমন সময় তিনি আমাকে ডেকে পাঠান বা নিজেই ডাক দেন এবং বলেনঃ তুমি কি বলছিলে:' আমি পুনরায় ঘটনাটি বর্ণনা করি। তখন তিনি বলেনঃ “তোমার ইদ্দতকাল অতিক্রান্ত না হওয়া পর্যন্ত তুমি বাড়ীতেই থাক। সুতরাং আমি সেখানেই আমার ইদ্দতকাল চার মাস দশ দিন অতিবাহিত করি।'হযরত উসমান (রাঃ) তাঁর খিলাফতকালে আমাকে ডেকে পাঠান এবং এই মাসআলাটি জিজ্ঞেস করেন। আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ফায়সালাসহ আমার ঘটনাটি বর্ণনা করি। হযরত উসমান (রাঃ) এরই অনুসরণ করেন এবং এটাই ফায়সালা দেন।' ইমাম তিরমিযী (রঃ) এই হাদীসটিকে হাসান সহীহ বলেছেন। তালাকপ্রাপ্তা নারীদেরকে ‘মাতআ' দেয়া সম্বন্ধে জনগণ বলতো : “আমরা ইচ্ছে হলে দেবো, না হলে না দেবো।' তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়। এই আয়াতটিকে সামনে রেখেই কেউ কেউ প্রত্যেক তালাকপ্রাপ্তা নারীকেই কিছু না কিছু দেয়া ওয়াজিব বলে থাকেন। আর কেউ কেউ ওটাকে শুধুমাত্র এইসব নারীর স্বার্থে নির্দিষ্ট মনে করেন যাদের বর্ণনা পূর্বে দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ ঐসব নারী যাদের সাথে সহবাস হয়নি এবং মোহরও নির্ধারিত হয়নি এমতাবস্থায় তালাক দেয়া হয়েছে। কিন্তু পূর্ব দলের উত্তর এই যে, সাধারণভাবে কোন নারীর বর্ণনা দেয়া ঐ অবস্থারই সাথে ঐ নির্দেশকে নির্দিষ্ট করে না। এটাই হচ্ছে প্রসিদ্ধ মাযহাব।অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেন-এভাবেই আল্লাহ তাআলা স্বীয় নিদর্শনাবলী হালাল, হারাম, ফারায়েয, হুদুদ এবং আদেশ ও নিষেধ সম্বন্ধে স্পষ্টভাবে বর্ণনা করে থাকেন, যেন কোন কিছু গুপ্ত ও অস্পষ্ট না থাকে এবং যেন তা সবারই বোধগম্য হয়।
আর তোমাদের মধ্যে জারা মারা যাবে এবং স্ত্রী রেখে যাবে , তারা যেন তাদের স্ত্রীকে তাদের ঘর থেকে বের না করে তাদের এক বছরের ভরণ-পোষণের অসিয়াত করে [১]। কিন্তু যদি তারা বের হয়ে যায়, তবে বিধিমত নিজেদের মত তারা যা করবে তাতে তোমাদের কোন পাপ নেই। আর আল্লাহ্ প্রবল পরাক্রান্ত , প্রজ্ঞাময়।
[১] স্বামীর মৃত্যুর দরুন স্ত্রীর ইদ্দতকাল ছিল এক বছর। কিন্তু পরবর্তীতে এ সূরার ২৩৪ নং আয়াতের মাধ্যমে বছরের স্থলে চার মাস দশ দিন নির্ধারণ করা হয়েছে। এখানে একটি বিষয় জানা আবশ্যক যে, এ আয়াতটি এ সূরার ২৩৪ নং আয়াতের পূর্বে নাযিল হয়েছিল।
