Al-Baqarah

আল-বাকারা: 152

2:152
টেক্সট কপি

মূল আরবি

فَٱذْكُرُونِىٓ أَذْكُرْكُمْ وَٱشْكُرُوا۟ لِى وَلَا تَكْفُرُونِ

English Translations

Sahih International

So remember Me; I will remember you. And be grateful to Me and do not deny Me.

Muhsin Khan

Therefore remember Me (by praying, glorifying, etc.). I will remember you, and be grateful to Me (for My countless Favours on you) and never be ungrateful to Me.

Taqi Usmani

So Remember Me, and I will remember you, and be thankful to Me, and be not ungrateful to Me.

Abul Ala Maududi

So remember Me and I shall remember you; give thanks to Me and do not be ungrateful to Me for My favours.

Pickthall

Therefore remember Me, I will remember you. Give thanks to Me, and reject not Me.

Yusuf Ali

Then do ye remember Me; I will remember you. Be grateful to Me, and reject not Faith.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

কাজেই তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব এবং আমার শোকর করতে থাক, না-শোকরী করো না।

রাওয়াই আল-বায়ান

অতএব, তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমি তোমাদেরকে স্মরণ করব। আর আমার শোকর আদায় কর, আমার সাথে কুফরী করো না।

শাইখ মুজিবুর রহমান

অতএব তোমরা আমাকেই স্মরণ কর, আমিও তোমাদেরকেই স্মরণ করব এবং তোমরা আমারই নিকট কৃতজ্ঞ হও এবং অবিশ্বাসী হয়োনা।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

কাজেই তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হয়ে না।

ফাতহুল মাজীদ

সুতরাং তোমরা আমাকে স্মরণ কর, আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব আর তোমরা আমার শুকরিয়া আদায় কর ও অকৃতজ্ঞ হয়ো না।

মুখতাসার

১৫২. তাই তোমরা অন্তর ও অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মাধ্যমে আমাকে স্মরণ করো। আমিও তোমাদেরকে প্রশংসা ও হিফাযতের মাধ্যমে স্মরণ করবো। কারণ, প্রতিদান আমল মাফিকই হয়ে থাকে। আর তোমরা আমার দেয়া নিয়ামতগুলোর কৃতজ্ঞতা আদায় করো। সেগুলোকে অস্বীকার করে কিংবা হারাম পথে ব্যবহার করে কখনো আমার অকৃতজ্ঞ হয়ো না।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

2:151

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

কাজেই তোমরা আমাকে স্মরণ করো [১], আমিও তোমাদেরকে স্মরণ করব। আর তোমরা আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হয়ে না।

[১] যিক্‌র আরবী শব্দ। এর বেশ কয়েকটি অর্থ হতে পারে – (১) মুখ থেকে যা উচ্চারণ করা হয়। (২) অন্তরে কোন কিছু স্মরণ করা। (৩) কোন জিনিস সম্পর্কে সতর্ক করা। শরয়ী পরিভাষায় যিক্‌র হচ্ছে, বান্দা তার রবকে স্মরণ করা। হোক তা তাঁর নাম নিয়ে, গুণ নিয়ে, তাঁর কাজ নিয়ে, প্রশংসা করে, তাঁর কিতাব তিলাওয়াত করে, তাঁর একত্ববাদ ঘোষণা করে, তাঁর নিয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে অথবা তাঁর কাছে কিছু চেয়ে।

যিক্‌র দুই প্রকার। যথা - কওলী বা কথার মাধ্যমে যিক্‌র ও আমলী বা কাজের মাধ্যমে যিক্‌র। প্রথম প্রকার যিক্‌রের মধ্যে রয়েছে - কুরআন তিলাওয়াত, আল্লাহ্‌র সুন্দর সুন্দর নাম ও সিফাতসমূহের আলোচনা ও স্মরণ, তাঁর একত্ববাদ ঘোষণা ইত্যাদি। আর দ্বিতীয় প্রকারে রয়েছে - ইলম অর্জন করা ও শিক্ষা দেয়া, আল্লাহ্‌র হুকুম-আহকাম ও আদেশ-নিষেধ মেনে চলা ইত্যাদি। প্রথম প্রকার যিক্‌রের মধ্যে কিছু যিক্‌র আছে যা সময়, অবস্থা এবং সংখ্যার সাথে সম্পৃক্ত। যেমন, সকাল ও সন্ধ্যার যিক্‌র, সালাতের পরের যিক্‌র, খাওয়ার শুরু-শেষ, কাপড় পরিধান, মসজিদে প্রবেশ-বাহির ইত্যাদি সহ দৈনন্দিন বিভিন্ন কাজ-কর্মের দোআ বা যিক্‌রসমূহ।

যে সকল যিক্‌র অবস্থা, সময় ও সংখ্যার সাথে সম্পৃক্ত সেগুলোর সংখ্যা, সময় অথবা অবস্থা কোনটিরই পরিবর্তন করা জায়েয নেই। যে সকল যিক্‌র এ তিনটির সাথে সম্পৃক্ত নয় অর্থাৎ সাধারণ যিক্‌র, সেগুলো সময়, সংখ্যা অথবা অবস্থার সাথে সম্পৃক্ত করাও জায়েয নেই। ইমাম আবু হানিফা রহিমাহুল্লাহ বলেনঃ ‘মৌখিক যিক্‌রের জন্য কোন নির্দিষ্ট স্থানে একত্রিত হওয়া এবং নির্দিষ্ট শব্দ নির্ধারণ করা বিদ’আত। [ইবনুল হুমাম, শরহে ফাতহুল কাদীরঃ ২/৭২]

যিক্‌র এর ফযীলত অসংখ্য। তন্মধ্যে এটাও কম ফযীলত নয় যে,বান্দা যদি আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে, তাহলে আল্লাহ্‌ও তাকে স্মরণ করেন। আবু উসমান নাহ্‌দী রাহেমাহুল্লাহ বলেন, আমি সে সময়টির কথা জানি, যখন আল্লাহ্ তা'আলা আমাদিগকে স্মরণ করেন। উপস্থিত লোকেরা জিজ্ঞেস করল, আপনি তা কেমন করে জানতে পারেন? বললেন, তা এজন্য যে, কুরআনুল কারীমের ওয়াদা অনুসারে যখন কোন মুমিন বান্দা আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে, তখন আল্লাহ্‌ নিজেও তাকে স্মরণ করেন। কাজেই বিষয়টি জানা সবার জন্যই সহজ যে, আমরা যখন আল্লাহ্‌র স্মরণে আত্মনিয়োগ করব, আল্লাহ্ তা'আলাও আমাদের স্মরণ করবেন।

সায়ীদ ইবনে যুবায়ের রাহিমাহুল্লাহ যিকরুল্লাহ'র তাফসীর প্রসঙ্গে বলেছেন যে, যিক্‌রের অর্থই হচ্ছে আনুগত্য এবং নির্দেশ মান্য করা। তার বক্তব্য হচ্ছেঃ “যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র নির্দেশের আনুগত্য করে না, সে আল্লাহ্‌র যিক্‌রই করে না; প্রকাশ্যে যতবেশী সালাত এবং তাসবীহই সে পাঠ করুক না কেন’। মূলত: যে ব্যক্তি আল্লাহ্ তা'আলার আনুগত্য করে অর্থাৎ তাঁর হালাল ও হারাম সম্পর্কিত নির্দেশগুলোর অনুসরণ করে, সেই আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে, যদি তার নফল সালাত ও সিয়াম কিছু কমও হয়। অন্যদিকে যে ব্যক্তি আল্লাহ্‌র নির্দেশাবলীর বিরুদ্ধাচরণ করে সে সালাত-সিয়াম, তাসবীহ্‌-তাহ্‌লীল প্রভৃতি বেশী করে করলেও প্রকৃতপক্ষে সে আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে না।

রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেনঃ ‘যে ব্যক্তি যিক্‌র করে এবং যে ব্যক্তি যিক্‌র করেনা তাদের উপমা হচ্ছে জীবিত ও মৃতের ন্যায়’। [বুখারীঃ ২০৮]

অপর এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ ‘তোমাদেরকে কি এমন একটি উত্তম আমলের সংবাদ দেব যা তোমাদের মালিকের নিকট অধিকতর পবিত্র, তোমাদের মর্যাদা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অধিকতর সহায়ক, স্বর্ন ও রৌপ্য ব্যয় করা থেকেও তোমাদের জন্য উত্তম, শত্রুর সাথে মোকাবেলা করে গর্দান দেয়া-নেয়া থেকে উত্তম? তারা বলল, হ্যাঁ অবশ্যই বলবেন। তিনি বললেন, যিকরুল্লাহ’। [তিরমিযীঃ ৫/৪৫৯]

আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত এক হাদীসে-কুদসীতে আছে, আল্লাহ্ তাআলা বলেন, ‘বান্দা যে পর্যন্ত আমাকে স্মরণ করতে থাকে বা আমার স্মরণে যে পর্যন্ত তার ঠোঁট নড়তে থাকে, সে পর্যন্ত আমি তার সাথে থাকি’। [বুখারীঃ ৭৪০৫]

মুআয রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, "আল্লাহ্‌র আযাব থেকে মুক্ত করার ব্যাপারে মানুষের কোন আমলই যিক্‌রুল্লাহর সমান নয়’। যুন্‌নূন মিসর বলেনঃ ‘যে ব্যক্তি প্রকৃতই আল্লাহ্‌কে স্মরণ করে সে অন্যান্য সবকিছুই ভুলে যায়। এর বদলায় স্বয়ং আল্লাহ্ তা'আলাই সবদিক দিয়ে তাকে হেফাজত করেন এবং সবকিছুর বদলা তাকে দিয়ে দেন’।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-বাকারা (২): আয়াত ১৫২ থেকে ১৫৩] পূর্ণ পৃষ্ঠা

"যেমনিভাবে আমি প্রেরণ করেছি" কথাটি আলি (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে এবং যাজ্জাজ এটি গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ, যেভাবে আমি তোমাদের নিকট একজন রাসূল প্রেরণ করেছি যাকে তোমরা সত্যবাদিতার জন্য চেনো, তেমনিভাবে তোমরা আমাকে একত্ববাদ ও তাঁর প্রতি বিশ্বাসের মাধ্যমে স্মরণ করো। এই মত অনুযায়ী "তাহতাদুন" (যাতে তোমরা হেদায়াত পাও) শব্দের ওপর বিরতি দেওয়া জায়েজ। আমি বলছি: এটি তিরমিযী আল-হাকীমের স্বীয় কিতাবে পছন্দকৃত অভিমত। অর্থাৎ, আমি তোমাদের প্রতি যেসব নি'য়ামতরাজি গণনা করেছি যেভাবে আমি সেগুলো তোমাদের দান করেছি, তেমনিভাবে তোমরা আমাকে কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরণ করো, আমি তোমাদের নি'য়ামত বৃদ্ধির মাধ্যমে স্মরণ করব।

কেননা তোমাদের সেই স্মরণ করার মধ্যে আমার প্রতি কৃতজ্ঞতা রয়েছে, আর আমি কৃতজ্ঞতার বিনিময়ে নি'য়ামত বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, যা হলো তাঁর বাণী: "যদি তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, তবে আমি অবশ্যই তোমাদেরকে বাড়িয়ে দেব (১)"। অতএব এখানে "কামা" (যেমনিভাবে)-এর 'কাফ' বর্ণটি, এবং সূরা আনফালের "যেমনিভাবে তোমার রব তোমাকে বের করেছেন (২)" আয়াতে এবং সূরা হিজরের শেষে "যেমনিভাবে আমি অবতীর্ণ করেছি বণ্টনকারীদের ওপর" আয়াতে পরবর্তী অংশের সাথে সংশ্লিষ্ট, যা সামনে বর্ণনা করা হবে (৩)। ‌‌[সূরা আল-বাকারা (২): আয়াত ১৫২ থেকে ১৫৩]অতএব তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদের স্মরণ করব; আর আমার প্রতি কৃতজ্ঞ হও এবং অকৃতজ্ঞ হয়ো না (১৫২)।

হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো; নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সাথে আছেন (১৫৩)।মহান আল্লাহর বাণী: "অতএব তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদের স্মরণ করব" এটি একটি আদেশ ও তার প্রতিউত্তর, আর এতে প্রতিদানের অর্থ নিহিত রয়েছে বিধায় এটি জযম হয়েছে। যিকরের মূল অর্থ হলো অন্তরের মাধ্যমে স্মর্তব্য বিষয় সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং জাগ্রত থাকা। জিহ্বা দ্বারা করা যিকরকেও যিকর বলা হয় কারণ তা অন্তরের যিকরের পরিচায়ক; তবে মৌখিক উচ্চারণের ক্ষেত্রে যিকর শব্দের প্রয়োগ অধিক হওয়ায় সাধারণত যিকর বলতে মুখে স্মরণ করাকেই প্রথমে বুঝায়।

আয়াতের অর্থ হলো: তোমরা আমাকে আনুগত্যের মাধ্যমে স্মরণ করো, আমি তোমাদের সওয়াব ও ক্ষমার মাধ্যমে স্মরণ করব; এ কথা সাঈদ ইবনে জুবায়ের বলেছেন। তিনি আরও বলেছেন: যিকর হলো আল্লাহর আনুগত্য, সুতরাং যে ব্যক্তি তাঁর আনুগত্য করল না সে তাঁকে স্মরণ করল না, যদিও সে প্রচুর তাসবিহ, তাহলিল ও কুরআন তিলাওয়াত করে। নবী (সা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে: (যে আল্লাহর আনুগত্য করল সে আল্লাহকে স্মরণ করল, যদিও তার সালাত, রোজা ও নেক আমল পরিমাণে কম হয়; আর যে আল্লাহর অবাধ্য হলো সে আল্লাহকে ভুলে গেল, যদিও তার সালাত, রোজা ও নেক আমল অধিক হয়), আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে খুওয়াইয মানদাদ তাঁর "আহকামুল কুরআন" গ্রন্থে এটি উল্লেখ করেছেন।

আবু উসমান আন-নাহদী বলেন: আমি সেই সময়টি জানি যখন আল্লাহ আমাদের স্মরণ করেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো: আপনি তা কীভাবে জানেন? তিনি বললেন: আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লা বলেন: "তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদের স্মরণ করব"। সুদ্দী বলেন: এমন কোনো বান্দা নেই যে আল্লাহকে স্মরণ করে অথচ আল্লাহ তাকে স্মরণ করেন না; কোনো মুমিন যখন তাঁকে স্মরণ করে আল্লাহ তাকে রহমতের সাথে স্মরণ করেন, আর কোনো কাফির যখন তাঁকে স্মরণ করে আল্লাহ তাকে শাস্তির সাথে স্মরণ করেন। আবু উসমানকে জিজ্ঞেস করা হলো: আমরা আল্লাহকে স্মরণ করি কিন্তু আমাদের অন্তরে কোনো মাধুর্য পাই না কেন?

তিনি বললেন: আল্লাহ তাআলার প্রশংসা করো যে তিনি তোমাদের শরীরের কোনো একটি অঙ্গকে তাঁর আনুগত্যের মাধ্যমে সজ্জিত করেছেন। যুন-নুন আল-মিসরী (রহ.) বলেন: যে ব্যক্তি প্রকৃতপক্ষে আল্লাহ তাআলাকে স্মরণ করে, সে তাঁর স্মরণের আতিশয্যে সবকিছু ভুলে যায়...(১). খণ্ড ৯, পৃষ্ঠা ৩৪৩ দেখুন। [ ..... ](২). খণ্ড ৭, পৃষ্ঠা ৩৬৭ দেখুন।(৩). খণ্ড ১০, পৃষ্ঠা ৫৭ দেখুন।