Al-Baqarah
আল-বাকারা: 254
2 আল-বাকারা Al-Baqarah · 286 আয়াত البقرة
মূল আরবি
يَـٰٓأَيُّهَا ٱلَّذِينَ ءَامَنُوٓا۟ أَنفِقُوا۟ مِمَّا رَزَقْنَـٰكُم مِّن قَبْلِ أَن يَأْتِىَ يَوْمٌ لَّا بَيْعٌ فِيهِ وَلَا خُلَّةٌ وَلَا شَفَـٰعَةٌ ۗ وَٱلْكَـٰفِرُونَ هُمُ ٱلظَّـٰلِمُونَ
English Translations
O you who have believed, spend from that which We have provided for you before there comes a Day in which there is no exchange [i.e., ransom] and no friendship and no intercession. And the disbelievers - they are the wrongdoers.
O you who believe! Spend of that with which We have provided for you, before a Day comes when there will be no bargaining, nor friendship, nor intercession. And it is the disbelievers who are the Zalimun (wrong-doers, etc.).
O you who believe! Spend from what We have given to you before a day comes when there will be no trading, no friendship and no intercession, and it is the disbelievers who are unjust.
O you who believe! Spend out of what We have provided you before there comes a Day when there will be no buying and selling, nor will friendship and intercession be of any avail. Indeed those who disbelieve are the wrong-doers.
O ye who believe! spend of that wherewith We have provided you ere a day come when there will be no trafficking, nor friendship, nor intercession. The disbelievers, they are the wrong-doers.
O ye who believe! Spend out of (the bounties) We have provided for you, before the Day comes when no bargaining (Will avail), nor friendship nor intercession. Those who reject Faith they are the wrong-doers.
বাংলা অনুবাদ
হে ঈমানদারগণ! আমার দেয়া জীবিকা থেকে খরচ কর সেদিন আসার পূর্বে যেদিন কোন বিক্রয়, বন্ধুত্ব এবং সুপারিশ কাজে আসবে না। বস্তুতঃ কাফিরগণই অত্যাচারী।
হে মুমিনগণ, আমি তোমাদেরকে যে রিয্ক দিয়েছি তা হতে ব্যয় কর, সে দিন আসার পূর্বে, যে দিন থাকবে না কোন-বেচাকেনা, না কোন বন্ধুত্ব এবং না কোন সুপারিশ। আর কাফিররাই যালিম।
হে বিশ্বাসীগণ! আমি তোমাদেরকে যে জীবনোপকরণ দান করেছি তা হতে সেদিন সমাগত হওয়ার পূর্বে ব্যয় কর যেদিন ক্রয়-বিক্রয়, বন্ধুত্ব ও সুপারিশ নেই, আর অবিশ্বাসীরাই অত্যাচারী।
হে মুমিনগণ! আমরা যা তোমাদেরকে দিয়েছি তা থেকে তোমরা ব্যয় কর সেদিন আসার পূর্বে যেদিন বেচা-কেনা, বন্ধুত্ব ও সুপারিশ থাকবে না, আর কাফেররাই যালিম।
হে ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে রিযিক দান করেছি তা হতে তোমরা ব্যয় কর এমন এক দিন আসার আগে যেদিন কোন বেচাকেনা, বন্ধুত্ব এবং সুপারিশ কাজে আসবে না। মূলতঃ কাফিররাই অত্যাচারী।
২৫৪. হে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুসারী ঈমানদারগণ! আমি তোমাদেরকে যে হরেক রকমের হালাল রিযিক দিয়েছি কিয়ামত আসার আগেই তা থেকে আল্লাহর পথে কিছুটা ব্যয় করো। সে দিন কোন ক্রয়-বিক্রয় থাকবে না। যার মাধ্যমে মানুষ কিছু লাভজনক বস্তু সংগ্রহ করতে পারে। না কোন বন্ধুত্ব থাকবে যা বিপদের সময় কাজে আসবে। না সে দিন কোন সুপারিশ চলবে যদ্বারা কেউ কোন প্রকার লাভবান হতে পারবে কিংবা ক্ষতি থেকে বাঁচতে পারবে। তবে আল্লাহ যার ব্যাপারে চাইবেন ও তার উপর সন্তুষ্ট থাকবেন শুধু তারই কাজে আসতে পারে। বস্তুতঃ কাফিররা তাদের কুফরির দরুন সত্যিই যালিম।
তাফসীর
আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদেরকে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, তারা যেন সুপথে নিজেদের মাল খরচ করে, তাহলে আল্লাহর নিকট তার পুণ্য জমা থাকবে। অতঃপর বলেন যে, তারা যেন তাদের জীবদ্দশাতেই কিছু দান-খয়রাত করে। কেননা কিয়ামতের দিন না ক্রয়-বিক্রয় চলবে, না পৃথিবী পরিমাণ সোনা দিয়ে জীবন রক্ষা করা যাবে না কারও বংশ, বন্ধুত্ব ও ভালবাসা কোন কাজে আসবে। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ যখন শিঙ্গায় ফুঁ দেয়া হবে সে দিন না তাদের মধ্যে বংশ পরিচয় থাকবে, না একে অপরের অবস্থা জিজ্ঞাসাবাদ করবে।' (২৩:১০১) সেদিন সুপারিশকারীর সুপারিশ কোন কাজে আসবে না।অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, কাফিরেরাই অত্যাচারী।
অর্থাৎ পূর্ণ অত্যাচারী তারাই যারা কুফরের অবস্থাতেই আল্লাহ তা'আলার সাথে সাক্ষাৎ করে। হযরত আতা বিন দীনার (রঃ) বলেন, “আমি মহান আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি যে, তিনি কাফিরদেরকে অত্যাচারী বলেছেন কিন্তু অত্যাচারীদেরকে কাফির বলেননি।
হে মুমিনগণ! আমরা যা তোমাদেরকে দিয়েছি তা থেকে তোমরা ব্যয় কর সেদিন আসার পূর্বে, যেদিন বেচা-কেনা , বন্ধুত্ব ও সুপারিশ থাকবে না, আর কাফেররাই যালিম।
[সূরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ২৫৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা
সুপারিশ।" এবং এর অন্তর্ভুক্ত হলো কুরআন, চাঁদ দ্বিখণ্ডিত হওয়া, বৃক্ষের তাঁর সাথে কথা বলা, সামান্য কিছু খেজুর থেকে বিশাল এক বাহিনীকে অন্নদান করা এবং শুষ্কতার পর উম্মে মা’বাদের ছাগলের স্তন দুগ্ধে পূর্ণ হয়ে যাওয়া। ইবনে আতিয়্যাহ এর অর্থ বর্ণনা করেছেন এবং আরও যোগ করেছেন যে: তিনি উম্মতের সংখ্যার দিক দিয়ে মানুষের মধ্যে সর্বশ্রেষ্ঠ এবং তাঁর মাধ্যমেই নবীগণের সিলসিলা সমাপ্ত হয়েছে। এছাড়া আল্লাহ তাঁকে আরও অনেক মহান চরিত্র দান করেছেন। শব্দটির দ্বারা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এবং সেই সাথে এমন অন্যান্যদেরও উদ্দেশ্য নেওয়া সম্ভব যাদের নিদর্শনসমূহ সুমহান ছিল এবং এক্ষেত্রে কথাটি গুরুত্বারোপের জন্য হবে।
আবার এ-ও সম্ভাবনা আছে যে, এর দ্বারা ইদ্রিস (আলাইহিস সালাম)-কে উচ্চ স্থানে আসীন করা উদ্দেশ্য। আর আসমানে নবীদের সুউচ্চ মর্যাদার বিষয়টি যেমনটি ইসরার হাদিসে এসেছে, যা সামনে আলোচিত হবে। আর ঈসা (আলাইহিস সালাম)-এর সুস্পষ্ট নিদর্শনসমূহ হলো মৃতকে জীবিত করা, জন্মান্ধ ও কুষ্ঠরোগীকে নিরাময় করা এবং মাটি দিয়ে পাখির আকৃতি তৈরি করা, যেমনটি মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে স্পষ্টভাবে বর্ণিত হয়েছে। (আর আমি তাকে শক্তিশালী করেছি) অর্থাৎ তাকে শক্তি প্রদান করেছি। (পবিত্র আত্মার মাধ্যমে) অর্থাৎ জিবরাঈল (আলাইহিস সালাম)-এর মাধ্যমে, যা পূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে।
মহান আল্লাহর বাণী: (আর আল্লাহ যদি চাইতেন, তবে তাদের পরবর্তী লোকেরা লড়াই করত না) অর্থাৎ রাসূলগণের পরবর্তী লোকেরা। বলা হয়েছে যে: এখানে সর্বনামটি মুসা ও ঈসা (আলাইহিমাস সালাম)-এর দিকে ফিরেছে, আর দ্বিবচনকে এখানে বহুবচন হিসেবে ধরা হয়েছে। আবার এ-ও বলা হয়েছে যে: সকল রাসূলের পরবর্তী লোকেরা, আর শব্দের বাহ্যিক রূপ এটিই দাবি করে। আরও বলা হয়েছে যে, লড়াই কেবল তাদের পরবর্তী আগতদের মধ্যে সংঘটিত হয়েছিল। তবে বিষয়টি এমন নয়, বরং উদ্দেশ্য হলো প্রত্যেক নবীর পর মানুষেরা একে অপরের সাথে লড়াই করেছে। এটি ঠিক তেমন যেমন আপনি বলেন: "আমি ঘোড়া কিনলাম অতঃপর সেগুলো বিক্রি করলাম।" এই বাক্যটি বলা আপনার জন্য বৈধ যদিও আপনি মূলত একটি ঘোড়া কিনেছিলেন ও বিক্রি করেছিলেন, তারপর আরেকটি কিনেছিলেন ও বিক্রি করেছিলেন এবং তারপর আরও একটি।
একইভাবে এই ঘটনাপ্রবাহও এমন যে, প্রত্যেক নবীর পর মানুষ মতভেদ করেছে। ফলে তাদের মধ্যে কেউ ঈমান এনেছে আর কেউ সীমালঙ্ঘন, হিংসা ও পার্থিব তুচ্ছ মোহের বশবর্তী হয়ে কুফরি করেছে। আর এ সব কিছুই মহান আল্লাহর ফয়সালা, তকদির এবং ইচ্ছানুযায়ী হয়েছে। তিনি যদি এর বিপরীত চাইতেন তবে তা-ই হতো। কিন্তু তিনি তাঁর সেই কার্যের মধ্যে হিকমতের রহস্য স্বীয় অধিকারে রেখেছেন যা তিনি চান। "কিন্তু তারা মতভেদ করল" বাক্যে নুন বর্ণটিতে কাসরা (জের) দেওয়া হয়েছে দুই সাকিন একত্রিত হওয়ার কারণে। কুরআন ব্যতিরেকে অন্য ক্ষেত্রে এটি বিলোপ করাও জায়েজ। সিবওয়াইহ কাব্য পাঠ করেছেন:সুতরাং আমি তার নিকট আসব না এবং আমি তার সামর্থ্যও রাখি না … বরং আমাকে পান করাও যদি তোমার কাছে অতিরিক্ত পানি থাকে (তাদের মধ্যে কেউ ঈমান এনেছে এবং কেউ কুফরি করেছে) এখানে "কেউ" শব্দটি مبتدأ বা উদ্দেশ্য হিসেবে মারফু অবস্থায় রয়েছে।
[সূরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ২৫৪]হে মুমিনগণ! আমি তোমাদের যা রিযিক দিয়েছি তা থেকে তোমরা ব্যয় করো সেই দিন আসার পূর্বে, যে দিন কোনো কেনাবেচা থাকবে না, থাকবে না কোনো বন্ধুত্ব এবং না কোনো সুপারিশ। আর কাফিররাই হলো জালিম (২৫৪)(১). ২য় খণ্ড, ২৪ পৃষ্ঠা।(২). এই পঙক্তিটি নাজ্জাশির। তিনি একটি বিভ্রান্তিকর মরুভূমিতে কোনো পানি না থাকা অবস্থায় একটি নেকড়েকে সাথে রাখার বর্ণনা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, নেকড়েটি তাঁকে উত্তর দিয়ে বলেছিল: "তুমি আমাকে যে সাহচর্যের আহ্বান জানিয়েছ আমি তা গ্রহণ করতে আসব না এবং আমি তার সামর্থ্য রাখি না, কারণ আমি বন্য আর তুমি মানুষ।
তবে তোমার প্রভুর পক্ষ থেকে যদি তোমার কাছে অতিরিক্ত পানি থাকে তবে আমাকে পান করাও।" (শানতামারির শারহুশ শাওয়াাহিদ থেকে সংগৃহীত)।
