Al-Baqarah

আল-বাকারা: 111

2:111
টেক্সট কপি

মূল আরবি

وَقَالُوا۟ لَن يَدْخُلَ ٱلْجَنَّةَ إِلَّا مَن كَانَ هُودًا أَوْ نَصَـٰرَىٰ ۗ تِلْكَ أَمَانِيُّهُمْ ۗ قُلْ هَاتُوا۟ بُرْهَـٰنَكُمْ إِن كُنتُمْ صَـٰدِقِينَ

English Translations

Sahih International

And they say, "None will enter Paradise except one who is a Jew or a Christian." That is [merely] their wishful thinking. Say, "Produce your proof, if you should be truthful."

Muhsin Khan

And they say, "None shall enter Paradise unless he be a Jew or a Christian." These are their own desires. Say (O Muhammad Peace be upon him), "Produce your proof if you are truthful."

Taqi Usmani

They say that no one shall ever enter Paradise unless he is a Jew, or a Christian. These are their fancies. Say, “Bring your proof, if you are truthful.”

Abul Ala Maududi

They say: “None shall enter the Garden unless he be a Jew or (according to the Christians), a Christian.” These are their vain desires. Say: “Bring your proof if you are speaking the truth.”

Pickthall

And they say: None entereth paradise unless he be a Jew or a Christian. These are their own desires. Say: Bring your proof (of what ye state) if ye are truthful.

Yusuf Ali

And they say: "None shall enter Paradise unless he be a Jew or a Christian." Those are their (vain) desires. Say: "Produce your proof if ye are truthful."

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

তারা বলে, ইয়াহূদী এবং নাসারাগণ ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, ওটা তাদের আকাঙ্ক্ষা মাত্র। বল, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে নিজেদের দলীল পেশ কর’।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর তারা বলে, ইয়াহূদী কিংবা নাসারা ছাড়া অন্য কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এটা তাদের মিথ্যা আশা। বল, ‘তোমরা তোমাদের প্রমাণ নিয়ে আস, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাক’।

শাইখ মুজিবুর রহমান

এবং তারা বলেঃ ইয়াহুদী বা খৃষ্টান ছাড়া আর কেহই জান্নাতে প্রবেশ করবেনা; এটা তাদের মিথ্যা আশা। তুমি বলঃ যদি তোমরা সত্যবাদী হও তাহলে তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর তারা বলে, ‘ইয়াহুদী অথবা নাসারা ছাড়া অন্য কেউ কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না’। এটা তাদের মিথ্যা আশা। বলুন, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ পেশ কর’।

ফাতহুল মাজীদ

আর তারা বলে, যারা ইয়াহূদী বা খ্রিস্টান হয়েছে তারা ছাড়া আর কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, এটা তাদের বাসনা। তুমি বল, যদি তোমরা সত্যবাদী হও, তবে তোমাদের প্রমাণ উপস্থিত কর।

মুখতাসার

১১১. ইহুদি ও খ্রিস্টানদের সকলেই এ কথা বলে যে, জান্নাত শুধু তাদেরই জন্য। ইহুদিরা বলে: ইহুদি ছাড়া আর কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। খ্রিস্টানরাও বলে: খ্রিস্টান ছাড়া আর কেউই জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। এগুলো মূলতঃ তাদের অলীক স্বপ্ন ও অমূলক ধারণা। হে নবী! আপনি বলে দিন, যদি তোমরা নিজেদের দাবিতে সত্যবাদী হয়ে থাকো তাহলে তার প্রমাণ নিয়ে আসো।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

১১১-১১৩ নং আয়াতের তাফসীর ইয়াহূদীদের প্রতারণা, আমিত্ব এবং আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে তার উপর ভীষণ সতর্কতা এখানে ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদের অহংকার ও আত্মম্ভরিতার বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। তারা নিজেদের ছাড়া অন্য কাউকেও কিছুই মনে করতো না এবং স্পষ্টভাবে বলতো যে, তারা ছাড়া অন্য কেউ বেহেশতে যাবে না। সূরা মায়েদায় তাদের নিম্নরূপ একটা উক্তিও বর্ণিত হয়েছেঃ আমরা আল্লাহ তা'আলার সন্তান এবং তাঁর প্রিয়। তাদের এ কথার উত্তরে ইরশাদ হচ্ছেঃ তা হলে কিয়ামতের দিন তোমাদের উপর শাস্তি হবে কেন?’ অনুরূপভাবে ইতিপূর্বে বর্ণিত হয়েছে যে, তাদের উক্তি নিম্নরূপও ছিলঃ “আমরা কয়েকটা দিন দোযখে অবস্থান করবে।

তাদের একথার উত্তরে আল্লাহ তা'আলা বলেছেন যে, তাদের এই দাবীও দলীল বিহীন। এভাবেই এখানেও তিনি তাদের একটা দাবী খণ্ডন করতঃ বলেনঃ ‘দলীল উপস্থিত কর দেখি? তাদের অপারগতা সাব্যস্ত করে পুনরায় আল্লাহ পাক বলেনঃ “হাঁ, যে কেউই আল্লাহ তা'আলার অনুগত হয়ে ইখলাসের সাথে সল্কার্যাবলী সম্পাদন করে থাকে, সে পূর্ণভাবে তার প্রতিদান লাভ করবে। যেমন তিনি আর এক জায়গায় বলেছেনঃ “তারা যদি ঝগড়া করে তবে তাদেরকে বলে দাও আমি এবং আমার অনুসারীগণ আল্লাহ তা'আলার নিকট আত্মসমর্পণ করেছি।'মোট কথা, অন্তরের বিশুদ্ধতা ও সুন্নাতের অনুসরন প্রত্যেক আমল গ্রহণ যোগ্য হওয়ার জন্যে শর্ত।

তাহলে (আরবি)-এর ভাবার্থ হচ্ছে ‘অন্তরের বিশুদ্ধতা এবং (আরবি)-এর ভাবার্থ হচ্ছে সুন্নাতের অনুসরণ। শুধু মাত্র বিশুদ্ধ অন্তঃকরণই আমলকে গ্রহণযোগ্য করতে পারে না যে পর্যন্ত না সে সুন্নাতের প্রতি অনুগত থাকে। হাদীস শরীফে উল্লিখিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি এমন কাজ করে যার উপর আমার নির্দেশ নেই তা গ্রহণীয় নয়' (সহীহ মুসলিম)। সুতরাং ‘সংসার ত্যাগ' কাজটি বিশুদ্ধ অন্তরের উপর প্রতিষ্ঠিত হলেও তা সুন্নাতের উল্টো বলে গ্রহণীয় নয়। তদ্রুপ আমল সম্পর্কে কুরআন মাজীদে ইরশাদ হচ্ছেঃ (আরবি) অর্থাৎ তারা যা আমল করেছিল আমি তা সবই অগ্রাহ্য করেছি।' (২৫:২৩) অন্য জায়গায় রয়েছেঃ কাফিরদের আমল বালুর চকে চকে মরীচিকার মত, যাকে পিপাসার্ত ব্যক্তি পানি মনে করে থাকে, কিন্তু যখন তার কাছে যায় তখন কিছুই পায় না।

অন্য স্থানে রয়েছেঃ “কিয়ামতের দিন বহু মুখমণ্ডলের উপর অপমানের কালিমা নেমে আসবে, তারা কাজ করতেও কষ্ট উঠাতে থাকবে এবং জ্বলন্ত অগ্নির মধ্যে প্রবেশ করবে, আর তাদেরকে গরম পানি পান করতে দেয়া হবে। আমীরুল মুমিনীন হযরত উমার বিন খাত্তাব (রাঃ) এ আয়াতের তাফসীরে এর ভাবার্থ নিয়েছেন ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদের আলেম ও আবেদগণ। এটাও স্মরণীয় বিষয় যে, বাহ্যতঃ কোন কাজ সুন্নাতের অনুরূপ হলেও ঐ আমলে অন্তরের বিশুদ্ধতা এবং আল্লাহ তাআলার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্য না থাকার কারণে উক্ত আমলও প্রত্যাখ্যাত হয়ে যাবে। কপট ও মুনাফিকদের অবস্থাও এরূপই। যেমন মহান আল্লাহ বলেনঃ ‘মুনাফিকরা আল্লাহ তা'আলাকে ধোকা দেয়, তিনিও তাদেরকে ধোকা দেন; যখন তারা নামাযে দাড়ায় তখন অলসতার সাথে দাঁড়ায়, তারা মানুষকে দেখাবার জন্যেই শুধু আমল করে থাকে।' তিনি আরো বলেনঃ ‘ঐ সব নামাযীর জন্যে ধ্বংস ও বিধ্বস্তি রয়েছে যারা নামাযে উদাসীন থাকে এবং যারা শুধু লোক দেখানোর জন্যে নামায পড়ে, আর যাকাত দেয়া হতে বিরত থাকে।' অন্যত্র ইরশাদ হচ্ছেঃ সুতরাং যে ব্যক্তি স্বীয় প্রভুর সাথে সাক্ষাৎ লাভের আকাংখা রাখে সে যেন সকাজ করতে থাকে এবং স্বীয় প্রভুর ইবাদতে অন্য কাউকেও অংশীদার না করে।

আরও বলেছেনঃ “তাদেরকে তাদের প্রভু পূর্ণ প্রতিদান দেবেন এবং ভয় ও সন্ত্রাস হতে রক্ষা করবেন। পরকালে তাদের কোন ভয় নেই এবং দুনিয়া ত্যাগ করতে তাদের কোন দুঃখ নেই।'অতঃপর আল্লাহ পাক ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদের পারস্পরিক হিংসা বিদ্বেষ ও শত্রুতার বর্ণনা দেন। নাজরানের খ্রীষ্টান প্রতিনিধিরা যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর নিকট আগমন করে তখন ইয়াহুদী পণ্ডিতেরাও আসে। অতঃপর তারা একদল অপর দলকে পথভ্রষ্ট আখ্যায় আখ্যায়িত করে। অথচ উভয় দলই আহলে কিতাব। তাওরাতের মধ্যে ইঞ্জীলের এবং ইঞ্জীলের মধ্যে তাওরাতের সত্যতার প্রমাণ বিদ্যমান রয়েছে। সুতরাং তাদের এসব কথা একেবারেই বাজে ও ভিত্তিহীন।পূর্ববর্তী ইয়াহুদী ও খৃষ্টানেরা সত্য ধর্মের উপর প্রতিষ্ঠিত ছিল, কিন্তু পরে তারা বিদআত ও ফিতনা ফাসাদে জড়িয়ে পড়ায় ধর্ম তাদের হতে ছিনিয়ে নেওয়া হয়; অতঃপর ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টান কেউই আর সঠিক পথের উপর ছিল না তার পরে মহান আল্লাহ বলেনঃ মুখ ও নিরক্ষরেরাও এরূপ কথাই বলে।

এতেও ইঙ্গিত তাদের দিকেই রয়েছে।আবার কেউ কেউ বলেন যে, এর ভাবার্থ হচ্ছে ইয়াহুদী ও খ্রীষ্টানদের পূর্বেকার লোক। কেউ কেউ আবার ‘আরবের লোক’ ভাবার্থ নিয়েছেন। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) এর দ্বারা সাধারণ ভাবার্থ নিয়েছেন, যার মধ্যে সবাই জড়িত রয়েছে আর এটাই সঠিক। অতঃপর আল্লাহ পাক বলেনঃ “আল্লাহ পাক তাদের মতবিরোধের ফায়সালা কিয়ামতের দিন করবেন, যেদিন কোন অত্যাচার ও বল প্রয়োগ থাকবে না। অন্য স্থানেও এ বিষয়টি আনা হয়েছে। সূরা-ই-হাজ্জ-এর মধ্যে এরশাদ হচ্ছেঃ “আল্লাহ পাক কিয়ামতের দিন মুমিন, ইয়াহূদী, সাবেঈ, খ্রীষ্টান, মাজুস এবং মুশরিকদের মধ্যে ফায়সালা করবেন, তিনি প্রত্যেক জিনিসের উপর সাক্ষী আছেন।' আর এক জায়গায় আল্লাহ পাক বলেনঃ “হে নবী (সঃ)!

তুমি বলে দাওআমাদের প্রভু আমাদেরকে একত্রিত করবেন, অতঃপর ন্যায় সঙ্গতভাবে ফায়সালা করবেন, তিনি বড় ফায়সালাকারী ও সর্বজ্ঞাত।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর তারা বলে, ‘ইয়াহুদী অথবা নাসারা ছাড়া অন্য কেউ কখনো জান্নাতে প্রবেশ করবে না’ [১]। এটা তাদের মিথ্যা আশা। বলুন, ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ পেশ কর’।

[১] আলোচ্য আয়াতসমূহে আল্লাহ্ তা'আলা ইয়াহুদী ও নাসারাদের পারস্পরিক মতবিরোধের উল্লেখ করে তাদের নির্বুদ্ধিতা ও মতবিরোধের কুফল বর্ণনা করেছেন। অতঃপর আসল সত্য উদঘাটন করেছেন। নাসারা ও ইয়াহুদী উভয় সম্প্রদায়ই দ্বীনের প্রকৃত সত্যকে উপেক্ষা করে ধর্মের নাম-ভিত্তিক জাতীয়তা গড়ে তুলেছিল এবং তারা প্রত্যেকেই স্বজাতিকে জান্নাতী ও আল্লাহ্‌র প্রিয়পাত্র বলে দাবী করত এবং তাদের ছাড়া অন্যান্য জাতিকে জাহান্নামী ও পথভ্রষ্ট বলে বিশ্বাস করত। আল্লাহ্‌ তা'আলা তাদের মূর্খতা সম্পর্কে মন্তব্য করছেন যে, এরা জান্নাতে যাওয়ার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে উদাসীন। জান্নাতে যাওয়ার প্রকৃত উপায় পরবর্তী আয়াতে বলে দেয়া হয়েছে।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-বাকারা (২): আয়াত ১১১ থেকে ১১২] পূর্ণ পৃষ্ঠা

অন্য একজন কবি বলেছেন:নিজের জন্য কবুল হওয়ার মতো তাওবা পেশ করো … মৃত্যুর আগে এবং জিহ্বা অবরুদ্ধ হওয়ার আগে।অন্য একজন বলেছেন:তোমার মা যখন তোমাকে জন্ম দিয়েছিলেন তখন তুমি কাঁদছিলে … অথচ তোমার চারপাশের মানুষ আনন্দে হাসছিল।সুতরাং সেই দিনের জন্য আমল করো যেদিন তারা কাঁদবে … আর তুমি তোমার মৃত্যুর দিনে হাস্যোজ্জ্বল ও আনন্দিত থাকবে।অন্য একজন বলেছেন:সৎকাজের দিকে প্রতিযোগিতা করো এবং এর প্রতি ত্বরান্বিত হও … কারণ তোমার পেছনে কী (পরিণাম) আছে তা তুমি জানো।কল্যাণ অগ্রিম পাঠিয়ে দাও, কেননা প্রত্যেক ব্যক্তি … যা সে অগ্রিম পাঠিয়েছে তার কাছেই ফিরে যাবে।আর এই সবকিছুর চেয়েও উত্তম হলো আবুল আতাহিয়ার উক্তি:তোমার জীবদ্দশায় তোমার সম্পদ দ্বারা পাথেয় সংগ্রহ করো, কারণ … তোমার পেছনে হয় কোনো সৎ উত্তরাধিকারী থাকবে নতুবা কোনো দুরাচার।যদি তুমি কোনো দুরাচারের জন্য সম্পদ রেখে যাও তবে সে তা টিকিয়ে রাখবে না … আর সৎ মানুষের কাছে সামান্য সম্পদও বৃদ্ধি পায়।যদি তুমি সক্ষম হও তবে নিজের সম্পদের উত্তরাধিকারী নিজেই হও … কেননা যে ব্যক্তি নিজের কল্যাণে সম্পদ ব্যয় করে সেই তো সঠিক পথের অনুসারী।"নিশ্চয়ই তোমরা যা করো আল্লাহ তা প্রত্যক্ষ করেন" - এটি পূর্বে অতিবাহিত হয়েছে (১)।

‌‌[সূরা আল-বাকারা (২): আয়াত ১১১ থেকে ১১২]তারা বলে, "ইয়াহুদী অথবা খ্রিস্টান ছাড়া অন্য কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" এটি তাদের অবাস্তব বাসনা। আপনি বলুন, "তোমরা যদি সত্যবাদী হও তবে তোমাদের প্রমাণ পেশ করো।" (১১১) হ্যাঁ, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে নিজেকে সমর্পণ করে এবং সে সৎকর্মশীল হয়, তবে তার প্রতিদান তার রবের নিকট রয়েছে; তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তিতও হবে না। (১১২)মহান আল্লাহর বাণী: "তারা বলে, ইয়াহুদী অথবা খ্রিস্টান ছাড়া অন্য কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না" - এর অর্থ হলো: ইয়াহুদীরা বলেছিল ইয়াহুদী হওয়া ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না, আর খ্রিস্টানরা বলেছিল খ্রিস্টান হওয়া ছাড়া কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না।

আল-ফাররা বৈধ মনে করেছেন যে, "হুদান" শব্দটি "ইয়াহুদীয়ান" অর্থে ব্যবহৃত হতে পারে, যেখান থেকে অতিরিক্ত অংশ বিলুপ্ত করা হয়েছে, এবং...(১). এই খণ্ডের ৩৫ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য।

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা পূর্ণ পৃষ্ঠা পূর্ণ পৃষ্ঠা

পরকাল আল্লাহর কাছে অন্য মানুষের পরিবর্তে কেবল তোমাদের জন্যই একচেটিয়া হয়, তবে তোমরা মৃত্যু কামনা করো, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো। কিন্তু তাদের হাত যা অগ্রিম পাঠিয়েছে (তাদের কৃতকর্ম), তার কারণে তারা কখনোই তা কামনা করবে না; আর আল্লাহ যালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবগত।ইবনে জারীর আবুল আলিয়া থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তারা (ইয়াহুদী ও নাসারারা) বলেছিল, "ইয়াহুদী বা নাসারা ব্যতীত আর কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না" (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ১১১) এবং তারা বলেছিল, "আমরা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়পাত্র" (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত ১৮)

তখন আল্লাহ নাযিল করলেন: "বলুন, পরকাল যদি আল্লাহর কাছে অন্য মানুষের পরিবর্তে কেবল তোমাদের জন্যই একচেটিয়া হয়, তবে তোমরা মৃত্যু কামনা করো, যদি তোমরা সত্যবাদী হয়ে থাকো।" কিন্তু তারা তা করেনি।ইবনে জারীর কাতাদাহ থেকে অনুরূপ বর্ণনা করেছেন।অনুরূপ।বায়হাকী তাঁর 'দালাইল' গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে এই আয়াতের প্রেক্ষাপটে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: হে মুহাম্মদ! আপনি তাদের বলুন, "পরকাল যদি তোমাদের জন্যই হয়" অর্থাৎ জান্নাত, যেমনটি তোমরা দাবি করে থাকো, "অন্য মানুষের পরিবর্তে একচেটিয়াভাবে" অর্থাৎ মুমিনদের বাদ দিয়ে, "তবে তোমরা মৃত্যু কামনা করো যদি তোমরা সত্যবাদী হও" যে এটি মুমিনদের বাদ দিয়ে কেবল তোমাদের জন্যই নির্ধারিত।

অতঃপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাদের বললেন: তোমরা যদি তোমাদের কথায় সত্যবাদী হয়ে থাকো, তবে বলো—হে আল্লাহ! আমাদের মৃত্যু দান করুন। সেই সত্তার কসম যার হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের মধ্যে এমন কোনো ব্যক্তি নেই যে এটি বলবে আর তৎক্ষণাৎ তার কণ্ঠনালীতে থুথু আটকে গিয়ে সে ওই স্থানেই মারা যাবে না। কিন্তু তারা তা করতে অস্বীকৃতি জানাল এবং তিনি যা বলেছিলেন তা অপছন্দ করল। তখন নাযিল হলো: "কিন্তু তাদের হাত যা অগ্রিম পাঠিয়েছে তার কারণে তারা কখনোই তা কামনা করবে না" অর্থাৎ তাদের কৃতকর্মের কারণে। "আর আল্লাহ যালিমদের সম্পর্কে সম্যক অবগত" যে তারা কখনোই তা কামনা করবে না।

এই আয়াত নাযিলের সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন: আল্লাহর কসম! তারা কখনোই তা কামনা করবে না।ইবনে ইসহাক, ইবনে জারীর এবং ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, "তবে তোমরা মৃত্যু কামনা করো" এর অর্থ হলো—উভয় দলের মধ্যে যারা বেশি মিথ্যাবাদী তাদের ওপর মৃত্যু প্রার্থনা করো। কিন্তু তারা তা করতে অস্বীকৃতি জানায়। তিনি যেদিন এই কথা বলেছিলেন, সেদিন যদি তারা মৃত্যু কামনা করত, তবে পৃথিবীর বুকে কোনো ইয়াহুদীই অবশিষ্ট থাকতো না, সবাই মারা যেত।ইবনে জারীর ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, "বলুন, যদি পরকাল তোমাদের জন্যই হয়" অর্থাৎ জান্নাত; "একচেটিয়াভাবে" অর্থাৎ বিশেষভাবে তোমাদের জন্য; "তবে মৃত্যু কামনা করো" অর্থাৎ মৃত্যুর প্রার্থনা করো।

"কিন্তু তারা কখনোই তা কামনা করবে না" কারণ তারা জানে যে তারা মিথ্যাবাদী। "যা অগ্রিম পাঠিয়েছে" এর ব্যাখ্যায় তিনি বলেন: যা আগে সম্পন্ন করেছে।আবদুর রাজ্জাক, ইবনে জারীর, ইবনে মুনযির এবং আবু নুআইম 'দালাইল' গ্রন্থে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যদি ইয়াহুদীরা মৃত্যু কামনা করত, তবে তারা অবশ্যই মারা যেত।ইবনে জারীর এবং ইবনে আবি হাতিম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: তারা যদি মৃত্যু কামনা করত, তবে তাদের কেউ নিজের থুথু গিলতে গিয়েই শ্বাসরুদ্ধ হয়ে মারা যেত।আহমাদ, বুখারী, মুসলিম, তিরমিযী, নাসাঈ, ইবনে মারদুওয়াইহি এবং আবু নুআইম ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন: ইয়াহুদীরা যদি মৃত্যু কামনা করত, তবে তারা অবশ্যই মারা যেত এবং জাহান্নামে তাদের অবস্থানস্থল স্বচক্ষে দেখতে পেত।

ইবনে জারীর আওফীর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: ইয়াহুদীরা বলেছিল, ‘আমাদের সন্তানরা মারা গেছে এবং তারা আল্লাহর কাছে আমাদের জন্য নৈকট্যের মাধ্যম হবে, তারা আমাদের জন্য সুপারিশ করবে এবং আমাদের পবিত্র করবে।’ তখন আল্লাহ মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি অবতীর্ণ করেন: "আপনি কি তাদের দেখেননি যারা নিজেদের পবিত্র মনে করে?" (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)।ইবনে আবী হাতিম ইকরিমা সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: ইয়াহুদীরা তাদের শিশুদের সামনে এগিয়ে দিত যাতে তারা তাদের নিয়ে নামাজ পড়ে এবং তাদের কুরবানি পেশ করে।

তারা দাবি করত যে, শিশুদের কোনো ভুল বা পাপ নেই। কিন্তু তারা মিথ্যা বলেছে। আল্লাহ বলেন: ‘আমি কোনো পাপিষ্ঠকে এমন একজনের মাধ্যমে পবিত্র করি না যার কোনো পাপ নেই।’ এরপর আল্লাহ অবতীর্ণ করেন: "আপনি কি তাদের দেখেননি যারা নিজেদের পবিত্র মনে করে?"আবদ বিন হুমাইদ, ইবনে জারীর এবং ইবনুল মুনযির মুজাহিদ থেকে আল্লাহর এই বাণী: "আপনি কি তাদের দেখেননি যারা নিজেদের পবিত্র মনে করে?" প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: এর দ্বারা সেই ইয়াহুদীদের বোঝানো হয়েছে যারা তাদের শিশুদের নামাজের সময় সামনে এগিয়ে দিত যাতে তারা তাদের ইমামতি করে। তারা দাবি করত যে, শিশুদের কোনো পাপ নেই।

তিনি বলেন: এটাই হলো সেই আত্ম-পবিত্রতা ঘোষণা করা।ইবনে জারীর আবু মালিক থেকে আল্লাহর বাণী: "আপনি কি তাদের দেখেননি যারা নিজেদের পবিত্র মনে করে?" প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: এটি ইয়াহুদীদের সম্পর্কে অবতীর্ণ হয়েছে, তারা তাদের শিশুদের সামনে এগিয়ে দিত এবং বলত: তাদের কোনো পাপ নেই।ইবনে জারীর ইকরিমা থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: আহলে কিতাবরা এমন কিশোরদের সামনে এগিয়ে দিত যারা এখনো সাবালকত্ব লাভ করেনি, যাতে তারা তাদের নামাজ পড়ায়। তারা বলত: তাদের কোনো পাপ নেই।অতঃপর আল্লাহ অবতীর্ণ করেন: "আপনি কি তাদের দেখেননি যারা নিজেদের পবিত্র মনে করে?" (আয়াতের শেষ পর্যন্ত)।আবদুর রাজ্জাক, ইবনে জারীর এবং ইবনে আবী হাতিম হাসান থেকে আল্লাহর বাণী: "আপনি কি তাদের দেখেননি যারা নিজেদের পবিত্র মনে করে?" প্রসঙ্গে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন: তারা হলো ইয়াহুদী ও খ্রিস্টানরা (যারা বলেছিল: "আমরা আল্লাহর সন্তান ও তাঁর প্রিয়ভাজন") (সূরা আল-মায়িদাহ, আয়াত: ১৮)।(এবং তারা বলেছিল: "ইয়াহুদী বা খ্রিস্টান ছাড়া আর কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না") (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত: ১১১)

সাঈদ ইবনে মানসুর, আবদ ইবনে হুমাইদ, ইবনে জারির, ইবনে মুনজির এবং ইবনে আবি হাতিম মুজাহিদ থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: আরবরা বলত, 'আমাদেরকে পুনরুত্থিত করা হবে না এবং আমাদের হিসাবও নেওয়া হবে না।' আর ইহুদি ও নাসারারা বলত, 'ইহুদি বা নাসারা হওয়া ছাড়া আর কেউ জান্নাতে প্রবেশ করবে না' (সুরা আল-বাকারা, আয়াত ১১১)।এবং তারা বলত, 'গণনাকৃত কয়েক দিন ছাড়া আগুন আমাদের স্পর্শ করবে না' (সুরা আল-বাকারা, আয়াত ৮০)। অতঃপর আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: তোমাদের আকাঙ্ক্ষায় নয় এবং আহলে কিতাবদের আকাঙ্ক্ষায়ও নয়; যে মন্দ কাজ করবে তাকে তার প্রতিফল দেওয়া হবে।সাঈদ ইবনে মানসুর, ইবনে জারির এবং ইবনে মুনজির মাসরুক থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: মুসলিম ও আহলে কিতাবরা বিতর্কে লিপ্ত হলো।

মুসলিমরা বলল, 'আমরা তোমাদের চেয়ে অধিক সুপথপ্রাপ্ত।'আহলে কিতাবরা বলল, 'আমরা তোমাদের চেয়ে অধিক সুপথপ্রাপ্ত।'তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: তোমাদের আকাঙ্ক্ষায় নয় এবং আহলে কিতাবদের আকাঙ্ক্ষায়ও নয়। ফলে মুসলিমরা এই আয়াতের মাধ্যমে তাদের ওপর বিজয়ী হলো: (আর যে ব্যক্তি সৎকর্ম করবে, সে পুরুষ হোক বা নারী, এমতাবস্থায় যে সে মুমিন... ) (আর যে ব্যক্তি সৎকর্ম করবে, সে পুরুষ হোক বা নারী, এমতাবস্থায় যে সে মুমিন) (সুরা আন-নিসা, আয়াত ১২৪) আয়াতাংশটি শেষ পর্যন্ত।ইবনে জারির, ইবনে মুনজির এবং ইবনে আবি হাতিম মাসরুক থেকে বর্ণনা করেছেন যে তিনি বলেন: নাসারা ও ইসলাম অনুসারীরা একে অপরের ওপর শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করছিল।

এরা বলল, 'আমরা তোমাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।'আর এরা বলল, 'আমরা তোমাদের চেয়ে শ্রেষ্ঠ।'তখন আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন: তোমাদের আকাঙ্ক্ষায় নয় এবং আহলে কিতাবদের আকাঙ্ক্ষায়ও নয়।