Al-Baqarah

আল-বাকারা: 234

2:234
টেক্সট কপি

মূল আরবি

وَٱلَّذِينَ يُتَوَفَّوْنَ مِنكُمْ وَيَذَرُونَ أَزْوَٰجًا يَتَرَبَّصْنَ بِأَنفُسِهِنَّ أَرْبَعَةَ أَشْهُرٍ وَعَشْرًا ۖ فَإِذَا بَلَغْنَ أَجَلَهُنَّ فَلَا جُنَاحَ عَلَيْكُمْ فِيمَا فَعَلْنَ فِىٓ أَنفُسِهِنَّ بِٱلْمَعْرُوفِ ۗ وَٱللَّهُ بِمَا تَعْمَلُونَ خَبِيرٌ

English Translations

Sahih International

And those who are taken in death among you and leave wives behind - they, [the wives, shall] wait four months and ten [days]. And when they have fulfilled their term, then there is no blame upon you for what they do with themselves in an acceptable manner. And Allāh is [fully] Aware of what you do.

Muhsin Khan

And those of you who die and leave wives behind them, they (the wives) shall wait (as regards their marriage) for four months and ten days, then when they have fulfilled their term, there is no sin on you if they (the wives) dispose of themselves in a just and honourable manner (i.e. they can marry). And Allah is Well-Acquainted with what you do.

Taqi Usmani

Those among you who pass away and leave wives behind, their wives keep themselves waiting for four months and ten days. So, when they have reached (the end of) their waiting period, there is no sin on you in what they do for themselves in recognized manner. Allah is All-Aware of what you do.

Abul Ala Maududi

The wives of men who have died must observe a waiting period of four months and ten days; when they have reached the end of the waiting term, there is no blame upon you regarding what they may do with themselves in a fair manner. Allah is well aware of what you do.

Pickthall

Such of you as die and leave behind them wives, they (the wives) shall wait, keeping themselves apart, four months and ten days. And when they reach the term (prescribed for them) then there is no sin for you in aught that they may do with themselves in decency. Allah is informed of what ye do.

Yusuf Ali

If any of you die and leave widows behind, they shall wait concerning themselves four months and ten days: When they have fulfilled their term, there is no blame on you if they dispose of themselves in a just and reasonable manner. And Allah is well acquainted with what ye do.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

তোমাদের মধ্য হতে যারা স্ত্রীদেরকে রেখে মারা যাবে সে অবস্থায় স্ত্রীরা নিজেদেরকে চার মাস দশ দিন বিরত রাখবে। তারপর যখন তাদের ইদ্দৎকাল পূর্ণ হবে, তখন তোমাদের নিজেদের সম্বন্ধে বৈধভাবে যা কিছু করবে তাতে তোমাদের কোন গুনাহ নেই। বস্তুতঃ তোমরা যা কিছু করছ, আল্লাহ সে বিষয়ে পরিজ্ঞাত।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর তোমাদের মধ্য থেকে যারা মারা যাবে এবং স্ত্রীদেরকে রেখে যাবে, তাদের স্ত্রীগণ চার মাস দশ দিন অপেক্ষায় থাকবে। অতঃপর যখন তারা ইদ্দতকাল পূর্ণ করবে, তখন তারা নিজদের ব্যাপারে বিধি মোতাবেক যা করবে, সে ব্যাপারে তোমাদের কোন পাপ নেই। আর তোমরা যা কর, সে ব্যাপারে আল্লাহ সম্যক অবগত।

শাইখ মুজিবুর রহমান

এবং তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রীদেরকে রেখে মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তারা (বিধবাগণ) চার মাস ও দশ দিন প্রতীক্ষা করবে; অতঃপর যখন তারা স্বীয় নির্ধারিত সময়ে উপনীত হয় তখন তারা নিজেদের সম্বন্ধে বিহিতভাবে যা করবে তাতে তোমাদের কোন দোষ নেই; এবং তোমরা যা করছো তদ্বিষয়ে আল্লাহ সম্যক খবর রাখেন।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মারা যায়, তারা (স্ত্রীগণ) নিজেরা চার মাস দশ দিন অপেক্ষায় থাকবে। অতঃপর যখন তারা তাদের ‘ইদ্দতকাল পূর্ণ করবে, তখন যথাবিধি নিজেদের জন্য যা করবে তাতে তোমাদের কোনো পাপ নেই। আর তোমরা যা করো আল্লাহ্‌ সে সম্পর্কে সম্যক খবর রাখেন।

ফাতহুল মাজীদ

আর তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মারা যায় তাদের স্ত্রীরা চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করবে। অতঃপর যখন তাদের ইদ্দত পূর্ণ হয়ে যাবে তখন তারা নিজেদের ব্যাপারে নিয়মানুযায়ী যা করবে তাতে তোমাদের কোন পাপ হবে না। আর তোমরা যা কর আল্লাহ সে বিষয়ে খবর রাখেন।

মুখতাসার

২৩৪. যারা মৃত্যুর সময় গর্ভবতী মহিলা বিহীন সাধারণ স্ত্রীদেরকে রেখে গেছে তারা অবশ্যই বাধ্যতামূলকভাবে চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করবে এবং সে সময় তারা স্বামীর ঘর থেকে বের হওয়া, সৌন্দর্য গ্রহণ করা ও বিবাহ-শাদি থেকে বিরত থাকবে। যখন এ সময় পার হয়ে যাবে তখন হে অভিভাবকরা! তাদের জন্য সে সময় যা নিষিদ্ধ ছিলো তা তারা করলে তোমাদের কোন অসুবিধে নেই। যদি তা শরীয়ত ও প্রচলিত নিয়মানুসারে সুন্দরভাবে করা হয়। আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের সকল কর্মকাণ্ড সম্পর্কে ভালোই খবর রাখেন। তোমাদের প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য কোন কিছুই তাঁর নিকট গোপন নয়। তাই অচিরেই তিনি তোমাদেরকে তার প্রতিদান দিবেন।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

এই আয়াতে নির্দেশ হচ্ছে যে, স্ত্রীগণ তাদের স্বামীদের মৃত্যুর পর যেন চার মাস দশ দিন ইদ্দত পালন করে। তাদের সাথে সহবাস হয়ে থাক আর নাই থাক। এর উপর আলেমদের ইজমা হয়েছে। এর একটি দলীল হচ্ছে এই আয়াতটি। দ্বিতীয় দলীল হচ্ছে ঐ হাদীসটি যা মুসনাদ-ই-আহমাদ ও সুনানের মধ্যে রয়েছে এবং ইমাম তিরমিযীও (রঃ) ওটাকে বিশুদ্ধ বলেছেন। হাদীসটি এই যে,হযরত আবদুল্লাহ বিন মাসউদ জিজ্ঞাসিত হন : একটি লোকে একটি স্ত্রী লোককে বিয়ে করেছিল এবং তার সাথে সহবাস করেনি। তার জন্যে কোন মোহরও ধার্য ছিল না। এই অবস্থায় লোকটি মারা যায়। তাহলে বলুন এর ফতওয়া কি হবে:' তারা কয়েকবার তার নিকট যাতায়াত করলে তিনি বলেন, ‘আমি নিজের মতানুসারে ফতওয়া দিচ্ছি।

যদি আমার ফতওয়া ঠিক হয় তবে তা আল্লাহর পক্ষ হতে মনে করবে। আর যদি ভুল হয় তবে জানবে যে এটা আমার ও শয়তানের পক্ষ থেকে হয়েছে। আমার ফতওয়া এই যে, ঐ স্ত্রীকে পূর্ণ মোহর দিতে হবে। এটা তার মৃত স্বামীর আর্থিক অবস্থার অনুপাতে হবে। এতে কম বেশী করা চলবে না। আর স্ত্রীকে পূর্ণ ইদ্দত পালন করতে হবে এবং সে মীরাসও পাবে।' একথা শুনে হযরত মাকাল বিন ইয়াসার আশায়ী (রাঃ) দাঁড়িয়ে গিয়ে বলেনঃ বা বিনতে ওয়াসিক (রাঃ)-এর সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ (সঃ) এই ফায়সালাই করেছিলেন। হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ) একথা শুনে অত্যন্ত খুশী হন। .. কোন কোন বর্ণনায় রয়েছে যে, ‘আশজার’ বহু লোক এটা বর্ণনা করেছেন।

তবে স্বামীর মৃত্যুর সময় যে গর্ভবতী থাকবে তার জন্যে এই ইদ্দত নয়। তার ইদ্দত হচ্ছে সন্তান প্রসব পর্যন্ত। কুরআন পাকে রয়েছে -(আরবি)অর্থাৎ ‘গর্ভবতীদের ইদ্দত হচ্ছে তাদের সন্তান প্রসব করন পর্যন্ত’ (৬৫:৪)। তবে হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, গর্ভবতীর ইদ্দত হচ্ছে সন্তান প্রসব করার পরে আরও চার মাস দশ দিন। সবচেয়ে বিলম্বের ইদ্দত হচ্ছে গর্ভবতীর ইদ্দত। এই উক্তিটি তো বেশ উত্তম এবং এর দ্বারা দু’টি আয়াতের মধ্যে সুন্দরভাবে ভারসাম্যও রক্ষা হয়।কিন্তু সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মধ্যে এর বিপরীত স্পষ্ট হাদীস বিদ্যমান রয়েছে যার মধ্যে রয়েছে যে, হযরত সীব'আ আসলামিয়াহ্ (রাঃ)-এর স্বামীর মৃত্যুকালে তিনি গর্ভবতী ছিলেন, স্বামীর ইন্তেকালের কয়েকদিন পরেই তিনি সন্তান প্রসব করেন।

নেফাস হতে পবিত্র হয়ে ভাল পোশাক পরিধান করেন। হযরত আবু সানা বিল বিন বাংলাবা(রাঃ) এটা দেখে তাকে বলেন, ‘তুমি কি বিয়ে করতে চাও: আল্লাহর শপথ! চার মাস দশদিন অতিবাহিত না। হওয়া পর্যন্ত তুমি বিয়ে করতে পার না।' একথা শুনে হযরত সাবী'আ (রাঃ) নীরব হয়ে যান এবং সন্ধ্যায় রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট উপস্থিত হয়ে ফতওয়া জিজ্ঞেস করেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে বলেন, সন্তান প্রসবের পর থেকেই তুমি ইদ্দত হতে বেরিয়ে গেছো। সুতরাং এখন তুমি ইচ্ছে করলে বিয়ে করতে পার।' এও বর্ণিত আছে যে, এই হাদীসটি জানার পর হযরত ইবনে আব্বাসও (রাঃ) তাঁর উক্তি হতে প্রত্যাবর্তন করেন।

এর দ্বারাও এটা জোরদার হয় যে, হযরত আবদুল্লাহ বিন আব্বাসের (রাঃ) ছাত্র ও সঙ্গী এই হাদীস দ্বারাই ফতওয়া প্রদান করতেন। দাসীদের ইদ্দতকাল হচ্ছে আযাদ স্ত্রীদের অর্ধেক অর্থাৎ দু'মাস ও পাঁচদিন। এটাই জমহুরের মাযহাব। দাসীদের শারঈ শাস্তি যেমন আযাদ স্ত্রীদের অর্ধেক তেমনই তার ইদ্দতকালও অর্ধেক। মুহাম্মদ বিন সিরীন এবং কতকগুলো উলামা-ই-যাহেরিয়াহ আযাদ ও দাসীর ইদ্দতকাল সমান বলে থাকেন। হযরত সাঈদ বিন মুসাইয়াব (রঃ), হযরত আবুল আলিয়া (রঃ) প্রভৃতি বলেনঃ এই ইদ্দতকাল রাখার মধ্যে দুরদর্শিতা এই রয়েছে যে, যদি স্ত্রী গর্ভবতী হয়ে থাকে তবে এ সময়ের মধ্যে তা সম্পূর্ণরূপে প্রকাশিত হয়ে যাবে।সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণিত মারফু হাদীসে রয়েছে মানব সৃষ্টির অবস্থা এই যে, চল্লিশ দিন পর্যন্ত সে মায়ের গর্ভাশয়ে বীর্যের আকারে থাকে।

তার পরে জমাট রক্ত হয়ে চল্লিশ দিন পর্যন্ত থাকে। অতঃপর চল্লিশ দিন পর্যন্ত গোশত পিণ্ড আকারে থাকে। তার পরে আল্লাহ তা'আলা ফেরেশতা পাঠিয়ে দেন। উক্ত ফেরেশতা ফু দিয়ে তার ভিতরে আত্মা ভরে দেন। তাহলে মোট একশো বিশ দিন হয়। আর একশো বিশ দিনে চার মাস হয়। সতর্কতার জন্যে আর দশ দিন রেখে দিয়েছেন। কেননা, কোন কোন মাস উনত্রিশ দিনে হয়ে থাকে। ফুঁ দিয়ে যখন আত্মা ভরে দেয়া হয় তখন সন্তানের গতি অনুভূত হতে থাকে এবং গর্ভ সম্পূর্ণরূপে প্রকাশ হয়ে পড়ে। এ জন্যেই ইদ্দতকাল নির্দিষ্ট করা হয়েছে।হযরত সাঈদ বিন মুসাইয়াব (রাঃ) বলেনঃ দশ দিন রাখার কারণ এই যে, এই দশ দিনের মধ্যেই আত্মাকে দেহের ভিতরে ফুঁ দিয়ে ভরে দেয়া হয়।

হযরত রাবী বিন আনাসও (রঃ) একথাই বলেন। হযরত ইমাম আহমাদ (রঃ) হতে এও বর্ণিত আছে যে, যে দাসীর সন্তান জন্মলাভ করে তার ইদ্দতকালও আযাদ স্ত্রীদের সমানই বটে। কেননা, এখন সে শয্যা পেতে বসেছে এবং এটা এই জন্যেও যে, মুসনাদ-ই-আহমাদের মধ্যে একটি হাদীস রয়েছে, হযরত আমর বিন আস (রাঃ) বলেনঃ “হে জনমণ্ডলী! রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সুন্নাতের মধ্যে মিশ্রণ এনো না। জেনে রেখো যে, যে দাসীদের সন্তানাদি রয়েছে তাদের মনিবেরা মারা গেলে তাদের ইদ্দতকাল হবে চার মাস ও দশ দিন।'এই হাদীসটি সুনান-ই-আবূ দাউদের মধ্যে অন্যভাবে বর্ণিত আছে। ইমাম আহমাদ (রঃ) এই হাদীসটিকে মুনকার বলেছেন।

কেননা, এর একজন বর্ণনাকারী কাবীসা এই বর্ণনাটি তার শিক্ষক উমার হতে শুনেনি। হযরত সাঈদ বিন মুসাইয়াব (রঃ), মুজাহিদ (রঃ), সাঈদ বিন যুবাইর (রঃ), হাসান বসরী (রঃ), ইবনে সীরীন (রঃ), আবু আইয়াম (রঃ), যুহরী (রঃ), এবং হযরত উমার বিন আবদুল আযীযেরও (রঃ) এটাই উক্তি। আমীরুল মুমেনীন ইয়াযিদ বিন আবদুল মালিক বিন মারওয়ানও এই নির্দেশই দিতেন। আওযাঈ (রঃ), ইবনে রাহুইয়াহ (রঃ) এবং ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রঃ) একটি বর্ণনায় এটাই বলেছেন। কিন্তু তাউস (রঃ) ও কাতাদাহ (রঃ) তার ইদ্দতকালও অর্ধেক অর্থাৎ দু'মাস পাঁচ দিন বলেছেন।ইমাম আবু হানীফা (রঃ) এবং তাঁর সহচর হাসান বিন সালেহ বিন হাই (রঃ) বলেন যে, তাকে ইদ্দতকালরূপে তিন ঋতু পালন করতে হবে।

হযরত আলী (রাঃ), হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ, আতা' (রঃ), ও ইবরাহীম নখঈরও (রঃ) এটাই উক্তি। ইমাম মালিক (রঃ), ইমাম শাফিঈ (রঃ) এবং ইমাম আহমাদ বিন হাম্বলের একটি প্রসিদ্ধ বর্ণনায় রয়েছে যে, তার ইদ্দতকাল একটি ঋতু মাত্র। ইবনে উমার (রাঃ), শাবী (রঃ), লায়েস (রঃ), আবু উবাইদ (রঃ), আবূ সাউর (রঃ), মাকহুল (রঃ) এবং জমহূরের এটাই মাযহাব। হযরত শায়েস (রঃ) বলেন যে, যদি ঋতুর অবস্থায় ঐ দাসীর মনিবের মৃত্যু ঘটে তবে ঐ ঋতু শেষ হলেই তার ইদ্দতকাল শেষ হয়ে যাবে। ইমাম মালিক (রঃ) বলেন যে, যদি তার ঋতু না আসে তবে তার ইদ্দতকাল হচ্ছে তিন মাস। ইমাম শাফিঈ (রঃ) ও জমহুর বলেনঃ “এক মাস এবং তিন দিন আমাদের নিকট বেশী পছন্দনীয়।পরবর্তী ইরশাদে জানা যাচ্ছে যে, ইদ্দতকালে মৃত স্বামীর জন্যে শোক করা স্ত্রীর উপর ওয়াজিব।

সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মধ্যে হাদীস রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে স্ত্রী লোক আল্লাহর উপর ও পরকালের উপর বিশ্বাস করে তার পক্ষে কোন মৃতের উপর তিন দিনের বেশী বিলাপ করা বৈধ নয়, হাঁ, তবে স্বামীর জন্যে চার মাস দশদিন পর্যন্ত শোক প্রকাশ করবে। হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, একটি স্ত্রী লোক রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে জিজ্ঞেস করেঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমার মেয়ের স্বামী মারা গেছে। তার চক্ষু দুঃখ প্রকাশ করছে। আমি তার চোখে সুরমা লাগিয়ে দেবো কি:' রাসুলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ না। দু' তিনবার সে এই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তি করে এবং রাসূলুল্লাহ (সঃ) একই উত্তর দেন।

অবশেষে তিনি বলেনঃ এটাতো মাত্র চার মাস দশদিন। অজ্ঞতার যুগে তো তোমরা বছরের পর বছর ধরে অপেক্ষা করতে।'হযরত উম্মে সালমা (রাঃ) বলেনঃ “পূর্বে কোন স্ত্রী লোকের ঋতু হলে তাকে কুঁড়ে ঘরে রেখে দেয়া হতো। সে জঘন্যতম কাপড় পরতো এবং সুগন্ধি জাত দ্রব্য হতে দূরে থাকতো। সারাবছর ধরে এরকম নিকৃষ্ট অবস্থায় কাটাতো। এক বছর পরে বের হতো এবং উটের বিষ্ঠা নিয়ে নিক্ষেপ করতো। অতঃপর কোন প্রাণী যেমন গাধা, ছাগল অথবা পাখির শরীরের সাথে নিজের শরীরকে ঘর্ষণ করতো। কোন কোন সময়ে সে মরেই যেত।' এই তো ছিল অজ্ঞতা যুগের প্রথা। সুতরাং এই আয়াতটি পরবর্তী আয়াতটিকে রহিতকারী।

ঐ আয়াতটির মধ্যে রয়েছে যে, এই প্রকারের স্ত্রী লোকেরা এক বছর পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) প্রভৃতি মনীষী একথাই বলেন। কিন্তু এটা বিবেচনার বিষয়। এর বিস্তারিত বিবরণ ইনশাআল্লাহ সত্ত্বরই আসছে।ভাবার্থ এই যে, এই সময়ে বিধবা স্ত্রী লোকদের জন্যে সৌন্দর্য, সুগন্ধি, উত্তম কাপড় এবং অলংকার নিষিদ্ধ। আর এই শোক প্রকাশ করা ওয়াজিব। তবে একটি উক্তি এও রয়েছে যে, তালাক-ই-রাজঈর ইদ্দতের মধ্যে এটা ওয়াজিব নয়। যখন তালাক-ই-বায়েন হবে তখন ওয়াজিব হওয়া ও না হওয়া এই দুটি উক্তি রয়েছে। মৃত স্বামীদের স্ত্রীদের সবারই উপর এই শোক প্রকাশ ওয়াজিব।

তারা সাবালিকাই হোক বা নাবালিকাই হোক অথবা বৃদ্ধাই হোক। তারা আযাদই হোক বা দাসীই হোক। মুসলমানই হোক বা কাফেরই হোক। কেননা, এই আয়াতের মধ্যে সাধারণ নির্দেশ রয়েছে। হাঁ, তবে ইমাম সাউরী (রঃ) এবং আবূ হানীফা (রঃ) অবিশ্বাসকারিণীদের শোক প্রকাশের সমর্থক নন। এটাই আশহাব (রঃ) এবং ইবনে নাফে'রও উক্তি। তাদের দলীল ঐ হাদীসটি যার মধ্যে রয়েছেঃ ‘যে স্ত্রী লোকে আল্লাহর উপর ও পরকালের উপর বিশ্বাস স্থাপন করে তার জন্যে কোন মৃতের উপর তিন দিনের বেশী বিলাপ করা বৈধ নয়। হাঁ, তবে স্বামীর জন্যে চার মাস দশ দিন পর্যন্ত শোক প্রকাশ করবে।সুতরাং জানা গেল যে এটাও একটা ইবাদতের নির্দেশ।

ইমাম সাউরী (রঃ) এবং ইমাম আবু হানীফা (রঃ) নাবালিকা মেয়ের জন্যেও এ কথাই বলে থাকেন। কেননা, তাদের প্রতিও ইবাদতের নির্দেশ নেই। ইমাম আবু হানীফা (রঃ) এবং তাঁর সহচরগণ মুসলমান দাসীদেরকে এর অন্তর্ভুক্ত করে থাকেন। কিন্তু এসব জিজ্ঞাস্য বিষয়গুলোর মীমাংসা করার স্থান এটা নয়। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা বলেন যে, ইদ্দতকাল পালনের পর যদি স্ত্রী লোকেরা সুন্দর সুন্দর সাজে সজ্জিতা হয় বা বিয়ে করে তবে তাদের অভিভাবকদের কোন পাপ নেই। এগুলো তাদের জন্যে বৈধ। হাসান বসরী (রঃ) যুহরী (রঃ) এবং সুদ্দী (রঃ) হতেও এরকমই বর্ণিত আছে।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর তোমাদের মধ্যে যারা স্ত্রী রেখে মারা যায় , তারা নিজেরা (স্ত্রীরা) চার মাস দশ দিন অপেক্ষায় থাকবে। অতঃপর যখন তারা তাদের ‘ইদ্দতকাল পূর্ণ করবে , তখন যথাবিধি নিজেদের জন্য যা করবে তাতে তোমাদের কোন পাপ নেই। আর তোমরা যা করো আল্লাহ্‌ সে সম্পর্কে সম্যক খবর রাখেন।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ২৩৪] পূর্ণ পৃষ্ঠা

এটি জাহিলিয়াত যুগে আভিজাত্য সম্পন্ন ব্যক্তিদের মাঝে একটি প্রচলিত প্রথা ছিল। ইসলাম আসার পর একে পরিবর্তন করেনি। বিত্তবান ও সম্ভ্রান্ত ব্যক্তিরা তাদের স্ত্রীদের আনন্দ-বিনোদনের জন্য অবসর রাখার উদ্দেশ্যে শিশুদেরকে দুধমাতা বা ধাত্রীদের নিকট প্রদান করার ধারা তাঁর (রাসূলুল্লাহ সা.-এর) সময়কাল পর্যন্ত অব্যাহত রেখেছিলেন এবং আমাদের সময় পর্যন্ত এটি প্রচলিত রয়েছে, যা আমরা শারঈভাবে সাব্যস্ত করেছি। অষ্টাদশ মাসআলা- মহান আল্লাহর বাণী: (যখন তোমরা অর্পণ করবে) অর্থাৎ পিতাগণ; অর্থাৎ তোমরা যখন ধাত্রী বা দুধমাতাকে তাদের পারিশ্রমিক প্রদান করবে।

সুফিয়ান ও মুজাহিদ বলেন: তোমরা যখন মায়েদেরকে তাদের দুগ্ধপানের সময়কাল অনুযায়ী প্রাপ্য পারিশ্রমিক বুঝিয়ে দেবে, যখন তোমরা অন্য ধাত্রী নিয়োগ করতে চাইবে। সাতজন প্রখ্যাত ক্বারীর মধ্যে ছয়জন "মা আতাইতুম" (দীর্ঘ আ-সহ) পড়েছেন, যার অর্থ 'যা তোমরা প্রদান করেছ'। তবে ইবনে কাসীর "আতাইতুম" (হ্রস্ব আ-সহ) পড়েছেন, যার অর্থ 'যা তোমরা নিয়ে এসেছ বা করেছ'। যেমন জুহাইর বলেছেন:এবং তারা যে কল্যাণই বয়ে এনেছে, তা তাদের পিতৃপুরুষদের থেকে … উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত।কাতাদাহ ও যুহরী বলেন: এর অর্থ হলো, দুগ্ধপানের বিষয়ে তোমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছ তা সমর্পণ করেছ; অর্থাৎ যখন পিতা-মাতা উভয়ে একমত হন এবং কল্যাণ ও সৌজন্যের ইচ্ছা পোষণ করেন।

এই ব্যাখ্যার ভিত্তিতে "তোমরা সমর্পণ করলে" সম্বোধনটি পুরুষ ও নারী উভয়ের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। তবে পূর্ববর্তী দুটি মতানুসারে এই সম্বোধনটি কেবল পুরুষদের জন্য। আবু আলী বলেন: এর অর্থ হলো, যখন তোমরা তা প্রদান করবে যা তোমরা নগদ অর্থ বা অন্য কিছু প্রদানের অঙ্গীকার করেছিলে। এখানে উহ্য বিশেষ্যের পরিবর্তে সর্বনাম ব্যবহৃত হয়েছে। এই ব্যাখ্যা অনুযায়ী সম্বোধনটি পুরুষদের প্রতি, কারণ তারাই দুগ্ধপানের পারিশ্রমিক প্রদান করে থাকেন। আবু আলী আরও বলেন: এখানে "মা" অব্যয়টি মাসদার বা ক্রিয়ামূল অর্থবোধক হওয়াও সম্ভব; অর্থাৎ যখন তোমরা প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করবে।

এর অর্থ পূর্বের মতোই, তবে এতে উহ্য শব্দের জটিলতা পরিহার করা হয়েছে। ‌‌[সূরা আল-বাকারাহ (২): আয়াত ২৩৪]এবং তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রীদের রেখে যায়, তারা নিজেদেরকে চার মাস দশ দিন অপেক্ষায় রাখবে। অতঃপর যখন তারা তাদের ইদ্দতকাল পূর্ণ করবে, তখন তারা নিজেদের ব্যাপারে বিধিমত যা করবে তাতে তোমাদের কোনো পাপ নেই। আর তোমরা যা কর আল্লাহ সে বিষয়ে সম্যক অবগত। (২৩৪)এই আয়াতের অধীনে পঁচিশটি মাসআলা বা আলোচ্য বিষয় রয়েছে: প্রথমত: মহান আল্লাহর বাণী: (এবং তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে)। মহান আল্লাহ যখন তালাকের ইদ্দত এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট দুগ্ধপানের বিষয়টি উল্লেখ করলেন, তখন তিনি মৃত্যুর ইদ্দতও উল্লেখ করেছেন; যাতে কেউ মনে না করে যে মৃত্যুর ইদ্দত তালাকের ইদ্দতের মতোই।(১).

মূল পাণ্ডুলিপিতে এরূপই আছে; তবে ইবনে আতিয়্যাহর বর্ণনায় রয়েছে: 'সাল্লামতুম' এর মাধ্যমে সম্বোধনের অন্তর্ভুক্ত হবে ইত্যাদি, এর মাধ্যমে অর্থটি সঠিক হয়।(২). পাণ্ডুলিপি 'জিম' এবং ইবনে আতিয়্যাহর বর্ণনায় 'সানআহ' (নির্মাণশৈলী) শব্দটির উল্লেখ রয়েছে।

তাফসীর আদ-দুররুল মানসূর

পূর্ণ পৃষ্ঠা পূর্ণ পৃষ্ঠা

বুখারী এবং বায়হাকী তাঁর ‘সুনান’ গ্রন্থে ইবনে আয-যুবাইর থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: আমি উসমান বিন আফফানকে বললাম, “তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে এবং স্ত্রীদের রেখে যাবে...” এই আয়াতটি তো অন্য আয়াত দ্বারা রহিত হয়ে গেছে, তবে কেন আপনি এটি কুরআনে লিপিবদ্ধ করছেন বা বহাল রেখেছেন? তিনি বললেন, “হে ভ্রাতুষ্পুত্র, আমি কুরআনের কোনো অংশকে তার নির্দিষ্ট স্থান থেকে পরিবর্তন করব না।”ইবনে আবি হাতিম ‘আতা-এর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে আল্লাহর বাণী “তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে...” আয়াতাংশ সম্পর্কে বর্ণনা করেন:তিনি বলেন: যে মহিলার স্বামী ইন্তেকাল করত, তার জন্য এক বছর পর্যন্ত ভরণপোষণ এবং ঘরে বসবাসের অধিকার ছিল।

এরপর মীরাসের (উত্তরাধিকারের) আয়াত একে রহিত করে দেয় এবং তাদের জন্য স্বামীর রেখে যাওয়া সম্পত্তির এক-চতুর্থাংশ বা এক-অষ্টমাংশ নির্ধারিত করে দেয়।ইবনে জারীর ‘আতা থেকে এই আয়াত সম্পর্কে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন: স্বামীর পক্ষ থেকে স্ত্রীর উত্তরাধিকার ছিল এই যে, সে চাইলে স্বামীর মৃত্যুর দিন থেকে এক বছর পর্যন্ত বসবাস করতে পারত। আল্লাহ তায়ালা বলেন, “অতঃপর যদি তারা বের হয়ে যায়, তবে তোমাদের ওপর কোনো গুনাহ নেই।” পরবর্তীতে আল্লাহ তায়ালা কর্তৃক নির্ধারিত মীরাস একে রহিত করে দেয়।আবু দাউদ, নাসাঈ এবং বায়হাকী ইকরিমা-এর সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে আল্লাহর বাণী “তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে এবং স্ত্রীদের রেখে যাবে, তারা যেন তাদের স্ত্রীদের জন্য এক বছরের ভরণপোষণ ও ঘর থেকে বের না করার ওসিয়ত করে যায়” সম্পর্কে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন: আল্লাহ তায়ালা মীরাসের আয়াত দ্বারা একে রহিত করে দিয়েছেন, যাতে তাদের জন্য এক-চতুর্থাংশ ও এক-অষ্টমাংশ নির্ধারিত করেছেন। আর এক বছরের সময়সীমাকে রহিত করে ইদ্দতের সময়কাল চার মাস দশ দিন নির্ধারণ করেছেন।সাঈদ বিন মানসুর, ইবনে জারীর, ইবনুল মুনযির এবং বায়হাকী ইবনে সীরীনের সূত্রে ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন:তিনি (ইবনে আব্বাস) মানুষের উদ্দেশ্যে খুতবা দিতে দাঁড়ালেন এবং তাদের সামনে সূরা আল-বাকারাহ তিলাওয়াত করে এর ব্যাখ্যা প্রদান করলেন। যখন তিনি এই আয়াতে পৌঁছলেন— “যদি সে সম্পদ রেখে যায়, তবে পিতা-মাতা ও নিকটাত্মীয়দের জন্য ওসিয়ত করা” (সূরা বাকারাহ, আয়াত: ১৮০), তখন তিনি বললেন: এটি রহিত হয়ে গেছে।

এরপর তিনি তিলাওয়াত করে চললেন এবং যখন এই আয়াতে পৌঁছলেন— “তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে...” থেকে “বের করে না দেওয়া পর্যন্ত”, তখন তিনি বললেন: এটিও রহিত হয়ে গেছে।ইমাম শাফেয়ী এবং আবদুর রাজ্জাক জাবির বিন আবদুল্লাহ থেকে বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: যে মহিলার স্বামী মারা গেছে, তার জন্য পৃথক কোনো ভরণপোষণ নেই, তার জন্য মীরাস বা উত্তরাধিকারই যথেষ্ট।আবু দাউদ তাঁর ‘নাসিখ’ গ্রন্থে এবং নাসাঈ ইকরিমা থেকে আল্লাহর বাণী— “তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে এবং স্ত্রীদের রেখে যাবে, তারা যেন তাদের স্ত্রীদের জন্য এক বছর পর্যন্ত ব্যবহারের সুযোগ প্রদানের ওসিয়ত করে” সম্পর্কে বর্ণনা করেন।

তিনি বলেন: একে “তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে এবং স্ত্রীদের রেখে যাবে, তারা নিজেদের চার মাস দশ দিন অপেক্ষায় রাখবে” (সূরা বাকারাহ, আয়াত: ২৩৪) এই আয়াতটি রহিত করে দিয়েছে।ইবনুল আম্বারী ‘আল-মাসাহিফ’ গ্রন্থে যায়েদ বিন আসলাম থেকে আল্লাহর বাণী— “তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করবে এবং স্ত্রীদের রেখে যাবে, তারা যেন স্ত্রীদের জন্য ওসিয়ত করে” সম্পর্কে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন: পূর্বে স্ত্রীর জন্য তার স্বামী কর্তৃক ভরণপোষণের ওসিয়ত করার বিধান ছিল।

এক বছর সময়কাল পর্যন্ত যতক্ষণ না সে গৃহ ত্যাগ করে বা বিবাহ করে। অতঃপর তা আল্লাহর এই বাণীর মাধ্যমে রহিত হয়ে যায়: "তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রীদের রেখে যায়, তারা (স্ত্রীরা) নিজেদের চার মাস দশ দিন অপেক্ষায় রাখবে" (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২৩৪)। ফলে এই আয়াতটি পূর্বের আয়াতটিকে রহিত করে দেয় এবং তাদের জন্য চার মাস দশ দিন অপেক্ষা করা (ইদ্দত) বাধ্যতামূলক করা হয় এবং তাদের জন্য এক-চতুর্থাংশ ও এক-অষ্টমাংশ উত্তরাধিকার নির্ধারিত হয়।ইবনুল আনবারী 'আল-মাসাহিফ' গ্রন্থে জায়েদ বিন আসলামের সূত্রে কাতাদাহ থেকে উক্ত আয়াতের ব্যাখ্যায় বর্ণনা করেছেন, তিনি বলেন: পূর্বে বিধান ছিল যে, স্ত্রীর জন্য তার স্বামী তার গৃহবাস ও ভরণপোষণের অসিয়ত করে যাবে যতক্ষণ না সে বের হয়ে যায় বা বিবাহ করে।

অতঃপর তা রহিত করা হয় এবং তার জন্য এক-চতুর্থাংশ নির্ধারিত করা হয় যদি তার স্বামীর সন্তান না থাকে, আর যদি স্বামীর সন্তান থাকে তবে এক-অষ্টমাংশ নির্ধারিত হয়। আর এই আয়াতটিকে আল্লাহর এই বাণী রহিত করেছে: "(তারা) নিজেদের চার মাস দশ দিন অপেক্ষায় রাখবে" (সূরা আল-বাকারাহ, আয়াত ২৩৪)। অতএব, এই আয়াতটি এক বছরের অসিয়তের বিধানকে রহিত করে দিয়েছে।ইবনে রাহওয়াইহ তার তাফসিরে মুকাতিল বিন হাইয়্যান থেকে বর্ণনা করেছেন যে, তায়েফের অধিবাসী এক ব্যক্তি মদিনায় আসেন; তার সাথে তার পুত্র-কন্যা, পিতামাতা এবং স্ত্রী ছিল। তিনি মদিনায় মৃত্যুবরণ করলে বিষয়টি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে উত্থাপন করা হয়।

তিনি মৃত ব্যক্তির পিতামাতা ও সন্তানদের ন্যায়সংগতভাবে উত্তরাধিকার প্রদান করেন, কিন্তু তার স্ত্রীকে কিছুই দেননি। তবে তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন তারা এক বছর পর্যন্ত স্বামীর পরিত্যক্ত সম্পত্তি থেকে স্ত্রীর ভরণপোষণ নির্বাহ করে। এ প্রেক্ষাপটেই অবতীর্ণ হয়: তোমাদের মধ্যে যারা মৃত্যুবরণ করে এবং স্ত্রীদের রেখে যায়... আয়াতটি।আব্দ বিন হুমাইদ এবং ইবনে আবি হাতেম মুজাহিদ থেকে আল্লাহর এই বাণী সম্পর্কে বর্ণনা করেছেন: তারা নিজেদের ব্যাপারে বিধিমতো যা করে, তাতে তোমাদের কোনো পাপ নেই। তিনি বলেন: "এর অর্থ বৈধ ও পবিত্র বিবাহ।"