Al-Baqarah

আল-বাকারা: 185

2:185

আরবি

شَهْرُ رَمَضَانَ ٱلَّذِىٓ أُنزِلَ فِيهِ ٱلْقُرْءَانُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَـٰتٍ مِّنَ ٱلْهُدَىٰ وَٱلْفُرْقَانِ ۚ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ ٱلشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ۖ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ ۗ يُرِيدُ ٱللَّهُ بِكُمُ ٱلْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ ٱلْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا۟ ٱلْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا۟ ٱللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَىٰكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

English Translations

Sahih International

The month of Ramaḍān [is that] in which was revealed the Qur’ān, a guidance for the people and clear proofs of guidance and criterion. So whoever sights [the crescent of] the month, let him fast it; and whoever is ill or on a journey - then an equal number of other days. Allāh intends for you ease and does not intend for you hardship and [wants] for you to complete the period and to glorify Allāh for that [to] which He has guided you; and perhaps you will be grateful.

Muhsin Khan

The month of Ramadan in which was revealed the Quran, a guidance for mankind and clear proofs for the guidance and the criterion (between right and wrong). So whoever of you sights (the crescent on the first night of) the month (of Ramadan i.e. is present at his home), he must observe Saum (fasts) that month, and whoever is ill or on a journey, the same number [of days which one did not observe Saum (fasts) must be made up] from other days. Allah intends for you ease, and He does not want to make things difficult for you. (He wants that you) must complete the same number (of days), and that you must magnify Allah [i.e. to say Takbir (Allahu-Akbar; Allah is the Most Great) on seeing the crescent of the months of Ramadan and Shawwal] for having guided you so that you may be grateful to Him.

Taqi Usmani

The month of Ramadan is the one in which the Qur’ān was revealed as guidance for mankind, and as clear signs that show the right way and distinguish between right and wrong. So those of you who witness the month must fast in it. But the one who is sick, or is on a journey (should fast) as much from other days (as he missed). Allah intends (to provide) ease for you and does not intend (to create) hardship for you. All this is so that you may complete the number (of fasts as prescribed) and proclaim the Takbīr of Allah for having guided you, and (so) that you may be grateful.

Abul Ala Maududi

During the month of Ramadan the Qur'an was sent down as a guidance to the people with Clear Signs of the true guidance and as the Criterion (between right and wrong). So those of you who live to see that month should fast it, and whoever is sick or on a journey should fast the same number of other days instead. Allah wants ease and not hardship for you so that you may complete the number of days required, magnify Allah for what He has guided you to, and give thanks to Him.

Pickthall

The month of Ramadan in which was revealed the Qur'an, a guidance for mankind, and clear proofs of the guidance, and the Criterion (of right and wrong). And whosoever of you is present, let him fast the month, and whosoever of you is sick or on a journey, (let him fast the same) number of other days. Allah desireth for you ease; He desireth not hardship for you; and (He desireth) that ye should complete the period, and that ye should magnify Allah for having guided you, and that peradventure ye may be thankful.

Yusuf Ali

Ramadhan is the (month) in which was sent down the Qur'an, as a guide to mankind, also clear (Signs) for guidance and judgment (Between right and wrong). So every one of you who is present (at his home) during that month should spend it in fasting, but if any one is ill, or on a journey, the prescribed period (Should be made up) by days later. Allah intends every facility for you; He does not want to put to difficulties. (He wants you) to complete the prescribed period, and to glorify Him in that He has guided you; and perchance ye shall be grateful.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

রমাযান মাস- যার মধ্যে কুরআন নাযিল করা হয়েছে লোকেদের পথ প্রদর্শক এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট বর্ণনারূপে এবং সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে, কাজেই তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে, সে যেন এ মাসে রোযা পালন করে আর যে পীড়িত কিংবা সফরে আছে, সে অন্য সময় এ সংখ্যা পূরণ করবে, আল্লাহ তোমাদের জন্য যা সহজ তা চান, যা কষ্টদায়ক তা চান না যেন তোমরা মেয়াদ পূর্ণ করতে পার, আর তোমাদেরকে সৎপথে পরিচালিত করার কারণে তোমরা আল্লাহর মাহাত্ম্য ঘোষণা কর, আর যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পার।

রাওয়াই আল-বায়ান

রমযান মাস, যাতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের জন্য হিদায়াতস্বরূপ এবং হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শনাবলী ও সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারীরূপে। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে সিয়াম পালন করে। আর যে অসুস্থ হবে অথবা সফরে থাকবে তবে অন্যান্য দিবসে সংখ্যা পূরণ করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের সহজ চান এবং কঠিন চান না। আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূরণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন, তার জন্য আল্লাহর বড়ত্ব ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা শোকর কর।

শাইখ মুজিবুর রহমান

রামাযান মাস, যে মাসে বিশ্বমানবের জন্য পথ প্রদর্শন এবং সু-পথের উজ্জ্বল নিদর্শন এবং হক ও বাতিলের প্রভেদকারী কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। অতএব তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি সেই মাসে (নিজ আবাসে) উপস্থিত থাকে সে যেন সিয়াম পালন করে এবং যে ব্যক্তি পীড়িত অথবা প্রবাসী, তার জন্য অপর কোন দিন হতে গণনা করবে; তোমাদের পক্ষে যা সহজসাধ্য আল্লাহ তা’ই ইচ্ছা করেন ও তোমাদের পক্ষে যা দুঃসাধ্য তা ইচ্ছা করেননা এবং যেন তোমরা নির্ধারিত সংখ্যা পূরণ করে নিতে পার এবং তোমাদেরকে যে সুপথ দেখিয়েছেন তজ্জন্য তোমরা আল্লাহকে মহিমান্বিত কর এবং যেন তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

রমাদান মাস, এতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের হেদায়াতের জন্য এবং হিদায়াতের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে এ মাস পাবে সে যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে। তবে তোমাদের কেউ অসুস্থ থাকলে বা সফরে থাকলে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূরণ করবে। আল্লাহ্‌ তোমাদের জন্য সহজ চান এবং তোমাদের জন্য কষ্ট চান না। আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূর্ণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন সে জন্য তোমরা আল্লাহ্‌র মহিমা ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

ফাতহুল মাজীদ

রমাযান তো সেই মাস যে মাসে কুরআন নাযিল করা হয়েছে যা মানুষের জন্য পথপ্রদর্শক এবং হিদায়েতের স্পষ্ট নিদর্শন ও ফুরকান (সত্য-মিথ্যার পার্থক্যকারী)। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এ মাস পাবে সে যেন সিয়াম পালন করে। আর যে অসুস্থ হয় অথবা সফরে থাকে সে অন্য দিনগুলোতে কাযা করে নেবে। আল্লাহ তোমাদের জন্য সহজ করতে চান, তোমাদের জন্য কঠিন করতে চান না। যাতে তোমরা সিয়ামের সংখ্যা পূর্ণ করতে পার। আর আল্ল্হা তা‘আলা তোমাদেরকে যে হিদায়াত দান করেছেন এর ওপর তাঁর বড়ত্ব বর্ণনা করতে পার এবং যাতে তাঁর শুকরিয়া আদায় করতে পার।

মুখতাসার

১৮৫. রোযার মাস হলো এমন মাস যার মাঝে বিশেষ করে কদরের রাতে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর উপর কুর‘আন নাযিল হওয়া শুরু হয়। আল্লাহ তা‘আলা তা নাযিল করেছেন মানব জাতির হিদায়েতের জন্য। তাতে রয়েছে হিদায়েতের সুস্পষ্ট প্রমাণাদি ও সত্য-মিথ্যার মাঝে পার্থক্যকারী উপকরণ। অতএব, কেউ সুস্থ ও মুকীম (নিজের এলাকায় অবস্থানকারী) অবস্থায় রমযান মাস পেলে সে যেন অবশ্যই রোযা রাখে। আর যে অসুস্থ - যার জন্য রোযা রাখা কষ্টকর - অথবা যে মুসাফির সে এসময় রোযা না রাখলেও চলবে। তবে রোযা না রাখলে তাকে অবশ্যই এ দিনগুলোর পরিবর্তে এর সমপরিমাণ দিন রোযা কাযা করতে হবে। আল্লাহ তা‘আলা রোযার এ বিধানের মাধ্যমে তোমাদের কাজ সহজ করে দিতে চান; কোন ধরনের কষ্ট দিতে চান না। যাতে করে তোমরা পুরো মাসের রোযার সংখ্যা ঠিক রাখতে পারো এবং রমযান মাসের শেষে বিশেষ করে ঈদের দিনে আল্লাহর মহত্ত্ব বর্ণনা করতে পারো। কারণ, তিনিই তো তোমাদেরকে রোযা রাখা ও তা পরিপূর্ণ করার তাওফীক দিয়েছেন। এমনিভাবে তোমরা যেন আল্লাহর কৃতজ্ঞতা আদায় করতে পারো। কারণ, তিনিই তো তোমাদেরকে এ পছন্দীয় ধর্মের দিশা দিয়েছেন।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

এখানে রমযান মাসের সম্মান ও মর্যাদার বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যে, এই পবিত্র মাসেই কুরআন কারীম অবতীর্ণ হয়েছে। মুসনাদ-ই-আহমাদের মধ্যে হাদীস রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ হযরত ইব্রাহীম (আঃ)-এর সহীফা রমযানের প্রথম রাত্রে, তাওরাত’ ৬ তারিখে, ইঞ্জীল' ১৩ তারিখে এবং কুরআন কারীম ২৪ তারিখে অবতীর্ণ হয়। অন্য একটি বর্ণনায় রয়েছে যে, যাবুর ১২ তারিখে এবং ইঞ্জীল’ ১৮ তারিখে অবতীর্ণ হয়। পূর্বে সমস্ত ‘সহীফা এবং তাওরাত, ইঞ্জীল’ ও ‘যাবুর' যে যে নবীর উপর অবতীর্ণ হয়েছিল, একবারই অবতীর্ণ হয়েছিল। কিন্তু কুরআন কারীম’ বায়তুল ইযাহ’ হতে দুনিয়ার আকাশ পর্যন্ত তো একবারই অবতীর্ণ হয়। অতঃপর মাঝে মাঝে প্রয়োজন হিসেবে পৃথিবীর বুকে অবতীর্ণ হতে থাকে। আল্লাহ তা'আলা বলেছেনঃ এবং (আরবি) এবং ভাবার্থ এটাই। অর্থাৎ কুরআন কারীমকে একই সাথে প্রথম আকাশের উপরে রমযান মাসের কদরের রাত্রে অবতীর্ণ করা হয় এবং ঐ রাতকে (আরবি) অর্থাৎ বরকতময় রাতও বলা হয়।হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) প্রমুখ মনীষী হতে এটাই বর্ণিত আছে। যখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) জিজ্ঞাসিত হন যে, কুরআন মাজীদ তো বিভিন্ন বছর অবতীর্ণ হয়েছে, তাহলে রমযান মাসে ও কদরের রাত্রে অবতীর্ণ হওয়ার ভাবার্থ কি: তখন তিনি উত্তরে এই ভাবার্থই বর্ণনা করেন (তাফসীর-ই-ইবনে মিরদুওয়াই। প্রভৃতি)। তিনি এটাও বর্ণনা করেন যে, অর্ধ রমযানে কুরআনে কারীম দুনিয়ার আকাশে অবতীর্ণ হয় এবং বায়তুল ইয্যায়’ রাখা হয়। অতঃপর প্রয়োজন মত ঘটনাবলী ও প্রশ্নাবলীর পরিপ্রেক্ষিতে অল্প অল্প করে অবতীর্ণ হতে থাকে এবং বিশ বছরে পূর্ণ হয়। অনেকগুলো আয়াত কাফিরদের কথার উত্তরেও অবতীর্ণ হয়। তাদের একটা প্রতিবাদ এও ছিল যে, কুরআন কারীম সম্পূর্ণটা একই সাথে অবতীর্ণ হয় না কেন: ওরই উত্তরে বলা হয় (আরবি) অর্থাৎ ‘যেন আমি এর দ্বারা তোমার অন্তরকে দৃঢ় রাখি এবং ওটা আমি স্পষ্ট করে বর্ণনা করেছি।' (২৫:৩২) অতঃপর কুরআন মাজীদের প্রশংসায় বলা হচ্ছে যে, এটা বিশ্ব মানবের জন্যে পথ প্রদর্শক এবং এতে প্রকাশ্য ও উজ্জ্বল নিদর্শনাবলী রয়েছে। ভাবুক ও চিন্তাশীল ব্যক্তিরা এর মাধ্যমে সঠিক পথে পৌছতে পারেন। এটা সত্য ও মিথ্যা, হারাম ও হালালের মধ্যে প্রভেদ সৃষ্টিকারী। সুপথ ও কুপথ এবং ভাল ও মন্দের মধ্যে পার্থক্য আনয়নকারী। পূর্ববর্তী কোন একজন মনীষী হতে বর্ণিত আছে যে, শুধু রমযান বলা মাকরূহ, (আরবি) অর্থাৎ রমযানের মাস বলা উচিত। হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) বলেছেনঃ “তোমরা রমযান' বলো না। এটা আল্লাহ তাআলার নাম। তোমরা (আরবি) অর্থাৎ রমযানের মাস’ বলতে থাকো।' হযরত মুজাহিদ (রঃ) এবং হযরত মুহাম্মদ বিন কা'ব (রঃ) হতেও এটা বর্ণিত আছে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) এবং হযরত যায়েদ বিন সাবিতের (রঃ) মাহযাব এর উল্টো। রামযান’ না বলা সম্বন্ধে একটি মার’ হাদীসও রয়েছে। কিন্তু সনদ হিসেবে এটা একেবারেই ভিত্তিহীন। ইমাম বুখারীও (রঃ) এর খণ্ডনে ‘অধ্যায় রচনা করে বহু হাদীস বর্ণনা করেছেন। একটিতে রয়েছে যে, যে ব্যক্তি বিশ্বাস রেখে ও সৎ নিয়্যাতে রমযানের রোযা রাখে তার পূর্বের সমস্ত পাপ ক্ষমা করে দেয়া হয়। মোট কথা। এই আয়াত দ্বারা সাব্যস্ত হচ্ছে যে, রমযানের চন্দ্র উদয়ের সময় যে ব্যক্তি বাড়ীতে অবস্থান করবে, মুসাফির হবে না এবং সুস্থ ও সবল থাকবে, তাকে বাধ্যতামূলকভাবেই রোযা রাখতে হবে। পূর্বে এদের জন্যে রোযা ছেড়ে দেয়ার অনুমতি ছিল; কিন্তু এখন আর অনুমতি রইল না। এটা বর্ণনা করার পর আল্লাহ তা'আলা রুগ্ন ও মুসাফিরের জন্যে রোযা ছেড়ে দেয়ার অনুমতির কথা বর্ণনা করেন। এদের জন্যে বলা হচ্ছে যে, এরা এই সময় রোযা রাখবে না এবং পরে আদায় করে নেবে। অর্থাৎ যে ব্যক্তির শরীরে কোন কষ্ট রয়েছে যার ফলে তার পক্ষে রোযা রাখা কষ্টকর হচ্ছে কিংবা সফরে রয়েছে সে রোযা ছেড়ে দেবে এবং এভাবে যে কয়টি রোযা ছুটে যাবে তা পরে আদায় করে নেবে। অতঃপর ইরশাদ হচ্ছে যে, এরূপ অবস্থায় রোযা ছেড়ে দেয়ার অনুমতি দিয়ে আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের প্রতি বড়ই করুণা প্রদর্শন করেছেন এবং ইসলামের নির্দেশাবলী সহজ করে দিয়ে তাঁর বান্দাদেরকে কষ্ট হতে রক্ষা করেছেন। এখানে এই আয়াতের সাথে সম্পর্ক যুক্ত গুটি কয়েক জিজ্ঞাস্য বিষয়ের বর্ণনা। দেয়া হচ্ছেঃ (১) পূর্ববর্তী মনীষীগণের একটি দলের ধারণা এই যে, কোন লোক। বাড়ীতে অবস্থানরত অবস্থায় রমযানের চাঁদ উদয়ের ফলে রমযানের মাস এসে পড়ে অতঃপর মাসের মধ্যেই তাকে সফরে যেতে হয় এই সফরে রোযা ছেড়ে দেয়া তার জন্যে জায়েয নয়। কেননা এরূপ লোকদের জন্যে রোযা রাখার পরিষ্কার নির্দেশ কুরআন পাকের মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। হাঁ, তবে ঐ লোকদের সফরের অবস্থায় রোযা ছেড়ে দেয়া জায়েয, যারা সফরে রয়েছে এমতাবস্থায় রমযান মাস এসে পড়েছে। কিন্তু এই উক্তিটি অসহায়। আবু মুহাম্মদ বিন হাযাম স্বীয় পুস্তক মুহাল্লীর মধ্যে সাহাবা (রাঃ) এবং তাবেঈগণের (রঃ) একটি দলের এই মাযহাবই নকল করেছেন। কিন্তু এতে সমালোচনা রয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সঃ) রমযানুল মুবারক মাসে মক্কা বিজয় অভিযানে রোযার অবস্থায় রওয়ানা হন। কাদীদ’ নামক স্থানে পৌছে রোযা ছেড়ে দেন এবং সাহাবীগণকেও রোযা ভেঙ্গে দেয়ার নির্দেশ দেন (সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম)। (২) সাহাবী (রাঃ) এবং তাবেঈগণের একটি দল বলেছেন যে, সফরের অবস্থায় রোযা ভেঙ্গে দেয়া ওয়াজিব। কেননা, কুরআন কারীমের মধ্যে রয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ তার জন্যে অপর দিন হতে গণনা করবে। কিন্তু সঠিক উক্তি হচ্ছে জমহূরের মাযহাব। তা হচ্ছে এই যে, তার জন্যে স্বাধীনতা রয়েছে, সে রাখতেও পারে, নাও রাখতে পারে। কেননা, রমযান মাসে সাহাবীগণ (রাঃ) রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে সফরে বের হতেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ রোযা রাখতেন আবার কেউ কেউ রাখতেন না। এমতাবস্থায় রোযাদারগণ বে-রোযাদারগণের উপর এবং বে-রোযাদারগণ রোযাদারগণের উপর কোনরূপ দোষারোপ করতেন না। সুতরাং যদি রোযা ছেড়ে দেয়া ওয়াজিব হতো তবে রোযাদারগণকে অবশ্যই রোযা রাখতে নিষেধ করা হতো। এমনকি স্বয়ং রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সফরের অবস্থায় রোযা রাখা সাব্যস্ত আছে। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের মধ্যে রয়েছে, হযরত আবু দারদা (রাঃ) বর্ণনা করেনঃ রমযানুল মুবারক মাসে কঠিন গরমের দিনে আমরা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে এক সফরে ছিলাম। কঠিন গরমের কারণে আমরা মাথায় হাত রেখে রেখে চলছিলাম। আমাদের মধ্যে রাসূলুল্লাহ (সঃ) ও হযরত আবদুল্লাহ বিন রাওয়াহা (রাঃ) ছাড়া আর কেউই রোযাদার ছিলেন না।(৩) ইমাম শাফিঈ (রঃ) সহ আলেমগণের একটি দলের ধারণা এই যে, সফরে রোযা না রাখা অপেক্ষা রোযা রাখাই উত্তম। কেননা, সফরের অবস্থায় রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর রোযা রাখা সাব্যস্ত আছে। অন্য একটি দলের ধারণা এই যে, রোযা না রাখাই উত্তম। কেননা, এর দ্বারা রুখসাতের’ (অবকাশের) উপর আমল করা হয়। অন্য একটি হাদীসে রয়েছে যে, সফরে রোযা রাখা সম্বন্ধে রাসূলুল্লাহ (সঃ) জিজ্ঞাসিত হলে তিনি বলেনঃ “যে ব্যক্তি রোযা ভেঙ্গে দেয় সে উত্তম কাজ করে এবং যে ভেঙ্গে দেয় না তার উপরে কোন পাপ নেই। অন্য একটি হাদীসে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তা'আলা তোমাদের যে অবকাশ দিয়েছেন তা তোমরা গ্রহণ কর। তৃতীয় দলের উক্তি এই যে, রোযা রাখা ও না রাখা দুটোই সমান। তাঁদের দলীল হচ্ছে হযরত আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত নিম্নের এই হাদীসটিঃ হযরত হামযা বিন আমর আসলামী (রাঃ) বলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমি প্রায়ই রোযা রেখে থাকি। সুতরাং সফরেও কি আমার রোযা রাখার অনুমতি রয়েছে:' রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, ইচ্ছে হলে রাখো, না হলে ছেড়ে দাও (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)।' কোন কোন লোকের উক্তি এই যে, যদি রোযা রাখা কঠিন হয় তবে ছেড়ে দেয়াই উত্তম। হযরত জাবির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) একটি লোককে দেখেন যে, তাকে ছায়া করা হয়েছে। তিনি জিজ্ঞেস করেনঃ ব্যাপার কি: জনগণ বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! লোকটি রোযাদার। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন বলেনঃ সফরে রোযা রাখা পুণ্য কাজ নয় (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)। এটা স্মরণীয় বিষয় যে, যে ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সুন্নাত হতে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে সফরের অবস্থাতেও রোযা। ছেড়ে দেয়া মাকরূহ মনে করে, তার জন্যে রোযা ছেড়ে দেয়া জরুরী এবং রোযা রাখা হারাম। মুসনাদ-ই-আহমাদ ইত্যাদির মধ্যে হযরত ইবনে উমার (রাঃ), হযরত জাবির (রাঃ) প্রভৃতি মনীষী হতে বর্ণিত আছে যে, যে ব্যক্তি আল্লাহ তা'আলার অবকাশকে গ্রহণ করে না, আরাফাতের পর্বত সমান তার পাপ হবে। (৪) চতুর্থ জিজ্ঞাস্য হলোঃ কাযা রোযাসমূহ ক্রমাগত রাখাই কি জরুরী না পৃথক পৃথকভাবে রাখলেও কোন দোষ নেই: কতকগুলো লোকের মাযহাব এই যে, কাযা রোযাকে হালী’ রোযার মতই পুরো করতে হবে। একের পরে এক এভাবে ক্রমাগত রোযা রেখে যেতে হবে। অন্য মাযহাব এই যে, ক্রমাগত রোযা রাখা ওয়াজিব নয়। এক সাথেও রাখতে পারে আবার পৃথক পৃথকভাবে অর্থাৎ মাঝে মাঝে ছেড়ে ছেড়েও রাখতে পারে। পূর্ববর্তী ও পরবর্তী মনীষীদেরও এই উক্তিই রয়েছে এবং দলীল প্রমাণাদি দ্বারা এটাই সাব্যস্ত হচ্ছে। রমযান মাসে ক্রমাগতভাবে এজন্যেই (রোযা) রাখতে হয় যে, ওটা সম্পূর্ণ রোযারই মাস। আর রমযানের মাস শেষ হওয়ার পর ওটা শুধুমাত্র গণনা করে পুরো করতে হয়। তা যে কোন দিনেই হতে পারে। এ জন্যেই তো কাযার নির্দেশের পরে আল্লাহ তাআলা তাঁর বান্দাদের যে সহজ পন্থা বাতলিয়েছেন, তার এই নিয়ামতের বর্ণনা দিয়েছেন। মুসনাদ-ই-আহমাদের মধ্যে একটি হাদীসে রয়েছে হযরত আবু উরওয়া (রাঃ) বলেনঃ “একদা আমরা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর জন্যে অপেক্ষা করছিলাম এমন সময়ে তিনি আগমন করেন এবং তার মাথা হতে পানির ফোটা টপটপ করে পড়ছিল। মনে হচ্ছিল যে, সবে মাত্র তিনি অযু বা গোসল করে আসলেন। নামায সমাপনান্তে জনগণ তাকে জিজ্ঞেস করতে আরম্ভ করেঃ হুজুর (সঃ)! অমুক কাজে কোন ক্ষতি আছে কি এবং অমুক কাজে কোন ক্ষতি আছে কি: অবশেষে তিনি বলেনঃ 'আল্লাহর দ্বীন সহজের মধ্যেই রয়েছে। এটাই তিনবার বলেন।‘মুসনাদ-ই-আহমাদ’ এরই আর একটি হাদীসে রয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ তোমরা সহজ কর,কঠিন করো না এবং সান্ত্বনা দান কর, ঘৃণার উদ্রেক করো না।' সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিম শরীফের হাদীসেও রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত মুআয (রাঃ) ও হযরত আবু মূসাকে (রাঃ) ইয়ামন পাঠাবার সময় বলেনঃ “তোমরা (জনগণকে) সুসংবাদ প্রদান করবে, ঘৃণা করবে, পরস্পর এক মতের উপর থাকবে, মতভেদ সৃষ্টি করবে না।' সুনান ও মুসনাদ সমূহে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আমি সুদৃঢ় এবং নরম ও সহজ বিশিষ্ট ধর্ম নিয়ে প্রেরিত হয়েছি।' হযরত মুহজিন বিন আদরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এক ব্যক্তিকে নামাযের অবস্থায় দেখেন। তিনি তাকে কিছুক্ষণ ধরে চিন্তা যুক্ত দৃষ্টির সাথে লক্ষ্য করতে থাকেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ “তুমি কি মনে কর যে, সে সত্য অন্তঃকরণ নিয়ে নামায পড়ছে: বর্ণনাকারী বলেন ‘আমি বলিঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! সমস্ত মদীনাবাসী অপেক্ষা সে বেশী নামাযী।' তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ তাকে শুনায়োনা, না জানি এটা তার ধ্বংসের কারণ হয়ে যায়। তারপরে তিনি বলেনঃ “নিশ্চয়। আল্লাহ তা'আলা এই উম্মতের উপর সহজের ইচ্ছা করেছেন, তিনি তাদের উপর কঠিনের ইচ্ছে করেননি। সুতরাং আয়াতটির ভাবার্থ হচ্ছে এই যে, রুগ্ন, মুসাফির প্রভৃতিকে অবকাশ দেয়া এবং তাদেরকে অপারগ মনে করার কারণ এই যে, আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা তাঁর বান্দাদের প্রতি ওটাই যা তাদের জন্যে সহজ সাধ্য এবং তাদের পক্ষে যা দুঃসাধ্য তার ইচ্ছা আল্লাহ তা'আলা পোষণ করেন না। আর কাযার নির্দেশ হচ্ছে গণনা পুরো করার জন্যে। সুতরাং তাঁর এই দয়া, নিয়ামত এবং সুপথ প্রদর্শনের জন্যে মহান আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব বর্ণনা করা তাঁর বান্দাদের উচিত। যেমন অন্য জায়গায় আল্লাহ তা'আলা হজ্বব্রত সম্পর্কে বলেছেনঃ (আরবি) অর্থাৎ ‘যখন তোমরা হজ্বের নির্দেশাবলী পুরো করে ফেললা তখন তোমরা আল্লাহর যিক্র করতে থাকো।' (২:২০০)অন্য জায়গায় তিনি জুম'আর নামাযের সম্বন্ধে বলেছেনঃ “যখন নামায পুরো হয়ে যায় তখন তোমরা ভূ-পৃষ্ঠে ছড়িয়ে পড় ও খাদ্য অনুসন্ধান কর এবং খুব বেশী করে আল্লাহর যিক্র করতে থাকো; যেন তোমরা মুক্তি পেয়ে যাও। অন্য স্থানে রয়েছেঃ (আরবি)অর্থাৎ ‘তুমি সূর্য উদয়ের পূর্বে এবং অস্তমিত হওয়ার পূর্বে তোমার প্রভুর পবিত্রতা বর্ণনা কর।' (৫০:৩৯) এ জন্যই রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর অনুসরণীয় পন্থা এই যে, প্রত্যেক ফরয নামাযের পর আল্লাহ তা'আলার হামদ, তাসবীহ এবং তাকবীর পাঠ করতে হবে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেনঃ “আমরা রাসূলুল্লাহ (সঃ) এর নামাযের সমাপ্তি শুধুমাত্র তাঁর আল্লাহু আকবার' ধ্বনির মাধ্যমেই জানতে পারতাম। এই আয়াতটি এই বিষয়ের দলীল যে, ঈদুল ফিরেও তাকবীর পাঠ করা উচিত।দাউদ বিন আলী ইসবাহানী যাহেরীর (রঃ) মাযহাব এই যে, এই ঈদে তাকবীর পাঠ করা ওয়াজিব। কেননা, এই বিষয়ে আদেশসূচক শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে। যেমন (আরবি) অর্থাৎ যেন তোমরা তাকবীর পাঠ কর।' ইমাম আবূ হানীফা (রঃ)-এর মাযহাব এর সম্পূর্ণ উল্টো। তার মাযহাব অনুসারে এই ঈদে তাকবীর পাঠ ‘মাসনূন’ নয়। অবশিষ্ট মনীষীবৃন্দ এটাকে মুসতাহাব বলে থাকেন, যদিও কোন কোন শাখার ব্যাখ্যায় তাদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। অতঃপর বলা হচ্ছে যে, যেন তোমরা কৃতজ্ঞ হও। অর্থাৎ আল্লাহ তা'আলার নির্দেশাবলী পালন করতঃ তাঁর ফরযগুলো আদায় করে, তার নিষিদ্ধ কাজগুলো হতে বিরত থেকে এবং তার সীমারেখার হিফাযত করে তোমরা তার কৃতজ্ঞ বান্দা হয়ে যাও।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

রমাদান মাস, এতে কুরআন নাযিল করা হয়েছে মানুষের হেদায়াতের জন্য এবং হিদায়াতের স্পষ্ট নিদর্শন ও সত্যাসত্যের পার্থক্যকারীরূপে। কাজেই তোমাদের মধ্যে যে এ মাস পাবে সে যেন এ মাসে সিয়াম পালন করে [১]। তবে তোমাদের কেউ অসুস্থ থাকলে বা সফরে থাকলে অন্য দিনগুলোতে এ সংখ্যা পূরণ করবে [২]। আল্লাহ্‌ তোমাদের জন্য সহজ চান এবং তোমাদের জন্য কষ্ট চান না। আর যাতে তোমরা সংখ্যা পূর্ণ কর এবং তিনি তোমাদেরকে যে হিদায়াত দিয়েছেন সে জন্য তোমরা আল্লাহ্‌র মহিমা ঘোষণা কর এবং যাতে তোমরা কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর।

[১] এই একটি মাত্র বাক্যে সাওম সম্পর্কিত বহু হুকুম-আহকাম ও মাসআলা-মাসায়েলের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। (شَهِدَ) শব্দটি (شُهُوْدٌ) থেকে গঠিত। এর অর্থ উপস্থিত ও বর্তমান থাকা। আরবী অভিধানে (الشَّهر) অর্থ মাস। এখানে অর্থ হলো রমাদান মাস। কাজেই বাক্যটির অর্থ দাঁড়াল এই যে, “তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি রমাদান মাসে উপস্থিত থাকবে, অর্থাৎ বর্তমান থাকবে, তার উপর রমাদান মাসের সাওম রাখা কর্তব্য"। ইতঃপূর্বে সাওমের পরিবর্তে ফিদইয়া দেয়ার যে সাধারণ অনুমতি ছিল এ বাক্যের দ্বারা তা মনসুখ বা রহিত করে দিয়ে সাওম রাখাকেই ওয়াজিব বা অপরিহার্য কর্তব্য করে দেয়া হয়েছে। রমাদান মাসে উপস্থিত বা বর্তমান থাকার মর্ম হলো রমাদান মাসটিকে এমন অবস্থায় পাওয়া, যাতে সাওম রাখার সামর্থ্য থাকে।

[২] আয়াতে রুগ্ন কিংবা মুসাফিরকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে যে, সে তখন সাওম না রেখে বরং সুস্থ হওয়ার পর অথবা সফর শেষ হওয়ার পর ততদিনের সাওম কাযা করে নেবে, এ হুকুমটি যদিও পূর্ববর্তী আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছিল, কিন্তু এ আয়াতে যেহেতু সাওমের পরিবর্তে ফিদইয়া দেয়ার ঐচ্ছিকতাকে রহিত করে দেয়া হয়েছে, কাজেই সন্দেহ হতে পারে যে, হয়ত রুগ্ন কিংবা মুসাফিরের বেলায়ও হুকুমটি রহিত হয়ে গেছে। সুতরাং এখানে তার পুনরোল্লেখ করা হয়েছে। [মাআরিফুল কুরআন]