Ash-Shu'ara
আশ-শুআরা: 192
26 আশ-শুআরা Ash-Shu'ara · 227 আয়াত الشعراء
মূল আরবি
وَإِنَّهُۥ لَتَنزِيلُ رَبِّ ٱلْعَـٰلَمِينَ
English Translations
And indeed, it [i.e., the Qur’ān] is the revelation of the Lord of the worlds.
And truly, this (the Quran) is a revelation from the Lord of the 'Alamin (mankind, jinns and all that exists),
This (Qur’ān) is the revelation of the Lord of the worlds.
Indeed this is a revelation from the Lord of the Universe;
And lo! it is a revelation of the Lord of the Worlds,
Verily this is a Revelation from the Lord of the Worlds:
বাংলা অনুবাদ
অবশ্যই এ কুরআন জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট হতে অবতীর্ণ।
আর নিশ্চয় এ কুরআন সৃষ্টিকুলের রবেরই নাযিলকৃত।
নিশ্চয়ই ইহা (আল কুরআন) জগতসমূহের রাব্ব হতে অবতারিত।
আর নিশ্চয় এটা (আল-কুরআন) সৃষ্টিকুলের রব হতে নাযিলকৃত।
নিশ্চয়ই এ কুরআন জগতসমূহের প্রতিপালক হতে অবতীর্ণ।
১৯২. নিশ্চয়ই মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) এর নাযিলকৃত এ কুর‘আন মূলতঃ সকল সৃষ্টির প্রতিপালকের কাছ থেকেই নাযিলকৃত।
তাফসীর
১৯২-১৯৫ নং আয়াতের তাফসীরসূরার শুরুতে কুরআন কারীমের বর্ণনা এসেছিল, ওরই বর্ণনা আবার বিস্তারিতভাবে দেয়া হচ্ছে। মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ এই কিতাব অর্থাৎ কুরআন কারীম আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বান্দা ও রাসূল হযরত মুহাম্মাদ মুস্তফা (সঃ)-এর উপর অবতীর্ণ করেছেন। রূহুল আমীন দ্বারা হযরত জিবরাঈল (আঃ)-কে বুঝানো হয়েছে যিনি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর নিকট অহী নিয়ে আসতেন। রূহুল আমীন দ্বারা যে হযরত জিবরাঈল (আঃ) উদ্দেশ্য এটা পূর্বযুগীয় বহু গুরুজন হতে বর্ণিত হয়েছে। যেমন হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ), হযরত মুহাম্মাদ ইবনে কা'ব (রঃ), হযরত কাতাদা (রঃ), হযরত আতিয়্যা (রঃ), হযরত সুদ্দী (রঃ), হযরত যুহরী (রঃ) হযরত ইবনে জুরায়েজ (রঃ) প্রমুখ।
হযরত যুহরী (রঃ) বলেন যে, এটা আল্লাহ তা'আলার নিম্নের উক্তির মতইঃ (আরবি) অর্থাৎ “বল-যে কেউ জিবরীল (আঃ)-এর শত্রু এই জন্যে যে, সে আল্লাহর নির্দেশক্রমে তোমার হৃদয়ে কুরআন পৌছিয়ে দিয়েছে, যা ওর পূর্ববর্তী কিতাবের সমর্থক।” (২:৯৭) এ ফেরেশতা এমন সম্মানিত যে, তাঁর শত্রু আল্লাহও শত্রু। হযরত মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, রুহুল আমীন (আঃ) যার সাথে কথা বলেন তাঁকে যমীনে খায় না। মহান আল্লাহ বলেনঃ “হে নবী (সঃ)! এই বুযর্গ ও মর্যাদা সম্পন্ন ফেরেশতা, যে ফেরেশতাদের নেতা, তোমার হৃদয়ে আল্লাহর ঐ পবিত্র ও উত্তম কথা অবতীর্ণ করে যা সর্ব প্রকারের ময়লা-মলিনতা, হ্রাস-বৃদ্ধি এবং বক্রতা হতে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত, যেন তুমি পাপীদেরকে আল্লাহর শাস্তি হতে বাঁচাবার পথ প্রদর্শন করতে পার।
আর যাতে তুমি আল্লাহর অনুগত বান্দাদের তাঁর ক্ষমা ও সন্তুষ্টির সুসংবাদ দিতে পার। এটা সুস্পষ্ট আরবী ভাষায় অবতারিত যাতে সবাই এটা বুঝতে এবং পড়তে পারে, তাদের যেন ওজর কবার কিছুই অবশিষ্ট না থাকে। আর যাতে এ কুরআন কারীম প্রত্যেকের উপর হুজ্জত হতে পারে।হযরত ইবরাহীম তাইমী (রঃ) তাঁর পিতা হতে বর্ণনা করেছেন যে, তিনি বলেন, একদা বাদলের দিনে রাসূলুল্লাহ (সঃ) স্বীয় সাহাবীদের সাথে ছিলেন এমন সময় তিনি অত্যন্ত প্রাঞ্জল ভাষায় মেঘের গুণাবলী বর্ণনা করেন। তখন একজন লোক তাকে বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনি তো সর্বাপেক্ষা বাকপটু ও প্রাঞ্জল ভাষী!” উত্তরে তিনি বলেনঃ “আমার ভাষা এরূপ পবিত্র, ত্রুটিমুক্ত এবং প্রাঞ্জল হবে না কেন?
কুরআন কারীমও তো আমার ভাষাতেই অবতীর্ণ হয়েছে।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন)হযরত সুফইয়ান সাওরী (রঃ) বলেন যে, অহী আরবী ভাষায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং প্রত্যেক নবী তাঁর কওমের জন্যে তাদের ভাষায় অনুবাদ করেছেন। কিয়ামতের দিন সুরইয়ানী ভাষা হবে। আর যারা জান্নাতে প্রবেশ করবে তারা আরবী ভাষায় কথা বলবে।
আর নিশ্চয় এটা (আল-কুরআন) সৃষ্টিকুলের রব হতে নাযিলকৃত।
[সূরা আশ-শুআরা (২৬): আয়াত ১৯২ থেকে ১৯৬] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আশ-শুআরা (২৬): আয়াত ১৯২ থেকে ১৯৬]নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ। (১৯২) বিশ্বস্ত আত্মা তা নিয়ে অবতরণ করেছেন। (১৯৩) আপনার হৃদয়ে, যাতে আপনি সতর্ককারীদের অন্তর্ভুক্ত হন। (১৯৪) সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়। (১৯৫) আর নিশ্চয়ই এর উল্লেখ পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে রয়েছে। (১৯৬)আল্লাহ তাআলার বাণী: (নিশ্চয়ই এটি বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ) এখানে সূরার শুরুতে মুশরিকদের কুরআন থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া সম্পর্কে যে আলোচনা করা হয়েছে, সেদিকেই পুনরায় ইঙ্গিত করা হয়েছে। (বিশ্বস্ত আত্মা আপনার হৃদয়ে তা নিয়ে অবতরণ করেছেন) এখানে 'নাজালা' শব্দটি নাফে, ইবনে কাসীর ও আবু আমর লঘুভাবে (তাশদীদ ছাড়া) পাঠ করেছেন।
অবশিষ্ট ক্বারীগণ 'নাযযালা' শব্দটি তাশদীদসহ পাঠ করেছেন এবং 'আর-রুহুল আমীন' শব্দটিকে 'মানসুব' বা কর্মকারক হিসেবে পড়েছেন। এটি আবু হাতেম ও আবু উবাইদ-এর পছন্দের পাঠরীতি, কারণ এর পূর্বে 'তানযীল' শব্দটি রয়েছে যা 'নাযযালা' ক্রিয়ামূল থেকে আগত। আর যারা লঘুভাবে পাঠ করেছেন তাদের সপক্ষে যুক্তি হলো এটি কোনো সুনির্দিষ্ট বিষয় নয়, বরং এর অর্থ হলো—নিশ্চয়ই এই কুরআন বিশ্বজগতের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে অবতীর্ণ এবং জিবরীল তা নিয়ে আপনার নিকট অবতীর্ণ হয়েছেন, যেমনটি আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "বলুন, যে জিবরীলের শত্রু হবে (সে জেনে রাখুক) নিশ্চয়ই তিনি আল্লাহর নির্দেশক্রমে তা আপনার হৃদয়ে অবতীর্ণ করেছেন।" অর্থাৎ তিনি আপনার নিকট তা পাঠ করেন এবং আপনার হৃদয় তা আত্মস্থ করে।
আবার কেউ কেউ বলেছেন: এর অর্থ হলো আপনার হৃদয়কে সুদৃঢ় করা। (সুস্পষ্ট আরবি ভাষায়) অর্থাৎ যাতে তারা এ কথা বলতে না পারে যে, আপনি যা বলছেন আমরা তা বুঝতে পারছি না। (আর নিশ্চয়ই এটি পূর্ববর্তীদের কিতাবসমূহে রয়েছে) অর্থাৎ এর অবতরণের সংবাদ পূর্ববর্তী নবীদের কিতাবসমূহে বিদ্যমান ছিল। আবার বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো মুহাম্মদ আলাইহিস সালামের উল্লেখ পূর্ববর্তী কিতাবসমূহে রয়েছে, যেমন আল্লাহ তাআলা বলেছেন: "তারা তাকে তাদের নিকট তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়।" 'যুবুর' অর্থ কিতাবসমূহ, যার একবচন 'যাবুর', যেমন 'রাসুল' এর বহুবচন 'রুসুল'। এটি ইতিপূর্বেও আলোচিত হয়েছে।
[সূরা আশ-শুআরা (২৬): আয়াত ১৯৭ থেকে ২০৩]বনী ইসরাঈলের আলেমগণ এ বিষয়ে অবগত হওয়া কি তাদের জন্য কোনো নিদর্শন নয়? (১৯৭) আর আমি যদি তা কোনো অনারব ব্যক্তির ওপর অবতীর্ণ করতাম, (১৯৮) অতঃপর সে তা তাদের নিকট পাঠ করত, তবে তারা তাতে বিশ্বাস স্থাপন করত না। (১৯৯) এভাবেই আমি তা অপরাধীদের হৃদয়ে সঞ্চারিত করেছি। (২০০) তারা এতে বিশ্বাস করবে না যতক্ষণ না তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে। (২০১) যা তাদের ওপর আকস্মিকভাবে আসবে এবং তারা টেরও পাবে না। (২০২) অতঃপর তারা বলবে, 'আমাদের কি অবকাশ দেওয়া হবে?' (২০৩)আল্লাহ তাআলার বাণী: (বনী ইসরাঈলের আলেমগণ এ বিষয়ে অবগত হওয়া কি তাদের জন্য কোনো নিদর্শন নয়?) মুজাহিদ বলেন: এর দ্বারা আবদুল্লাহ ইবনে সালাম, সালমান এবং যারা ইসলাম গ্রহণ করেছেন তাদের বোঝানো হয়েছে।
ইবনে আব্বাস বলেন: মক্কাবাসীগণ মদীনার ইহুদীদের নিকট লোক পাঠিয়েছিল...
