Ash-Shu'ara
আশ-শুআরা: 190
26 আশ-শুআরা Ash-Shu'ara · 227 আয়াত الشعراء
মূল আরবি
إِنَّ فِى ذَٰلِكَ لَـَٔايَةً ۖ وَمَا كَانَ أَكْثَرُهُم مُّؤْمِنِينَ
English Translations
Indeed in that is a sign, but most of them were not to be believers.
Verily, in this is indeed a sign, yet most of them are not believers.
Surely, in this there is a sign, but most of them are not believers,
Surely there is a Sign in this, but most of them would not believe.
Lo! herein is indeed a portent; yet most of them are not believers.
Verily in that is a Sign: but most of them do not believe.
বাংলা অনুবাদ
এতে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে। কিন্তু তাদের অধিকাংশই বিশ্বাস করে না।
নিশ্চয় এতে অনেক নিদর্শন রয়েছে। আর তাদের অধিকাংশই মুমিন ছিল না।
এতে অবশ্যই রয়েছে নিদর্শন, কিন্তু তাদের অধিকাংশই মু’মিন নয়।
এতে তো অবশ্যই রয়েছে নিদর্শন, আর তাদের অধিকাংশই মুমিন নয়।
এতে অবশ্যই রয়েছে নিদর্শন, এতদসত্ত্বেও তাদের অধিকাংশই মু’মিন নয়।
১৯০. উল্লিখিত শু‘আইব (আলাইহিস-সালাম) এর সম্প্রদায়ের ধ্বংসের মাঝে অবশ্যই শিক্ষা গ্রহণকারীদের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে। বস্তুতঃ তাদের অধিকাংশই মু’মিন ছিলো না।
তাফসীর
26:185
এতে তো অবশ্যই রয়েছে নিদর্শন [১], আর তাদের অধিকাংশই মুমিন নয়।
[১] শু‘আইব ‘আলাইহিস সালাম-এর জাতির ধ্বংসের কথা পবিত্র কুরআনে বিভিন্নভাবে এসেছে। এর কারণ হল, শু‘আইব ‘আলাইহিস সালাম-এর জাতির অপরাধ ছিল বিভিন্ন প্রকার। প্রত্যেক প্রকার অপরাধের জন্য তাদের শাস্তি হয়েছিল। সুতরাং আল্লাহ্ তা‘আলা যখন তাদের কোন অপরাধের কথা উল্লেখ করেছেন, তখন সেখানে সে অপরাধ মোতাবেক শাস্তির কথাও উল্লেখ করেছেন। যেমন সূরা আশ-শু‘আরায় এসেছে, তারা বলেছিলঃ তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে আমাদের জন্য আকাশের টুকরা ফেলে দাও। এর জবাবে আল্লাহ্ তা‘আলা তাদের শাস্তির কথা উল্লেখ করে বলেনঃ তাদেরকে ছায়ার দিনে শাস্তি পেয়ে বসল। [সূরা আশ-শু‘আরাঃ ১৮৯] যা তাদের দাবীর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
সূরা আল-আ‘রাফের ৮৮ নং আয়াতে তারা শু‘আইব ‘আলাইহিস সালাম ও তার সাথীদেরকে এমন ভয় দেখাল যে, তারা কেঁপে উঠেছিল। তারা বলেছিলঃ “হে শু‘আইব! আমরা তোমাকে এবং যারা তোমার উপর ঈমান এনেছে তাদেরকে আমাদের জনপদ থেকে বের করে দেব অথবা তোমরা আমাদের দলে ফিরে আসবে।” তাদের এ কথার জবাবে আল্লাহ্ তা‘আলা তাদের শাস্তির কথা উল্লেখ করে বলেছেনঃ “তাদেরকে পেয়ে বসল কম্পন।” [সূরা আল-আ‘রাফঃ ৯১] কিন্তু সূরা হূদের ৮৭ নং আয়াতে তারা শু‘আইব ‘আলাইহিস সালাম-এর সালাত নিয়ে ঠাট্টা করে তাকে অপমান করেছিল। সে ঠাট্টার জবাবে আল্লাহ্ তা‘আলা তাদের শাস্তি হিসাবে বলেছেনঃ “তাদেরকে পেয়ে বসল চিৎকার।” [সূরা হুদঃ ৯৪]
[সূরা আশ-শুআরা (২৬): আয়াত ১৭৬ থেকে ১৯১] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আশ-শুআরা (২৬): আয়াত ১৭৬ থেকে ১৯১]আইকাবাসীরা রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল (১৭৬) যখন শুআইব তাদের বললেন, ‘তোমরা কি ভয় করবে না?’ (১৭৭) ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রাসূল’ (১৭৮) ‘অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো’ (১৭৯) ‘আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না; আমার প্রতিদান তো কেবল জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে’ (১৮০)‘তোমরা মাপে পূর্ণ দাও এবং যারা মাপে কম দেয় তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না’ (১৮১) ‘এবং সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন করো’ (১৮২) ‘এবং মানুষকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিও না এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে ফিরো না’ (১৮৩) ‘এবং ভয় করো তাঁকে, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মকেও’ (১৮৪) তারা বলল, ‘তুমি তো কেবল যাদুগ্রস্তদের একজন’ (১৮৫)‘তুমি আমাদের মতোই একজন মানুষ বৈ নও এবং আমরা অবশ্যই তোমাকে মিথ্যাবাদীদের একজন মনে করি’ (১৮৬) ‘যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে আকাশের কোনো টুকরো আমাদের ওপর ফেলে দাও’ (১৮৭) তিনি বললেন, ‘তোমরা যা করছ সে সম্পর্কে আমার প্রতিপালক সম্যক অবগত’ (১৮৮) অতঃপর তারা তাকে অস্বীকার করল, ফলে মেঘাচ্ছন্ন দিনের শাস্তি তাদের পাকড়াও করল।
নিশ্চয় সেটি ছিল এক ভয়াবহ দিনের শাস্তি (১৮৯) নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশ ঈমান আনয়নকারী ছিল না (১৯০)আর নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক, তিনি তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু (১৯১)আল্লাহ তাআলার বাণী: (আইকাবাসীরা রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল)। ‘আইক’ অর্থ ঘন ডালপালাযুক্ত প্রচুর গাছপালা, যার একবচন হলো ‘আইকাহ’। যারা ‘আসহাবুল আইকাহ’ পাঠ করেছেন, তাদের নিকট এর অর্থ হলো গভীর বন। আর যারা ‘লাইকাহ’ পাঠ করেছেন, তাদের মতে এটি জনপদের নাম। বলা হয়ে থাকে যে, এই দুটি শব্দ ‘বক্কা’ ও ‘মক্কা’র মতো; আল-জাওহারী এটি উল্লেখ করেছেন। আন-নাহহাস বলেন: আবু জাফর ও নাফি' ‘কাদযযাবা আসহাবু লাইকাতা’ পাঠ করেছেন এবং সূরা ‘সোয়াদ’-এও অনুরূপ পড়েছেন।
তবে সকল ক্বারী সূরা ‘হিজর’ এবং সূরা ‘ক্বাফ’-এ শব্দটির শেষে ‘জের’ দিয়ে পড়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। সুতরাং যে স্থানে তারা মতভেদ করেছেন, সেটিকে সেই পাঠের দিকেই ফিরিয়ে নেয়া উচিত যেটিতে তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন, যেহেতু উভয়ের অর্থ এক। আর আবু উবায়দ যা বর্ণনা করেছেন—যে ‘লাইকাহ’ হলো সেই জনপদের নাম যেখানে তারা বাস করত এবং ‘আল-আইকাহ’ হলো দেশের নাম—তা প্রমাণিত নয় এবং এটি এমন কারো থেকে বর্ণিত হয়নি যার কথা নির্ভরযোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। যদি এর প্রবক্তা সম্পর্কে জানাও যেত, তবুও তা পর্যালোচনার বিষয় হতো; কারণ তাফসীর বিশেষজ্ঞ এবং আরবী ভাষাবিদগণ সর্বসম্মতভাবে এর বিপরীত মত পোষণ করেছেন।
