Ash-Shu'ara

আশ-শুআরা: 187

26:187
টেক্সট কপি

মূল আরবি

فَأَسْقِطْ عَلَيْنَا كِسَفًا مِّنَ ٱلسَّمَآءِ إِن كُنتَ مِنَ ٱلصَّـٰدِقِينَ

English Translations

Sahih International

So cause to fall upon us fragments of the sky, if you should be of the truthful."

Muhsin Khan

"So cause a piece of the heaven to fall on us, if you are of the truthful!"

Taqi Usmani

So cause a piece from the sky to fall down upon us, if you are one of the truthful.”

Abul Ala Maududi

So cause a piece of the sky to fall upon us if you are truthful."

Pickthall

Then make fragments of the heaven fall upon us, if thou art of the truthful.

Yusuf Ali

"Now cause a piece of the sky to fall on us, if thou art truthful!"

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

তুমি সত্যবাদী হলে আকাশের এক টুকরো আমাদের উপর ফেলে দাও।’

রাওয়াই আল-বায়ান

‘অতএব, তুমি যদি সত্যবাদী হও, তবে আসমান থেকে এক টুকরো আমাদের উপর ফেলে দাও’।

শাইখ মুজিবুর রহমান

তুমি যদি সত্যবাদী হও তাহলে আকাশের একটি খন্ড আমাদের উপর ফেলে দাও।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

‘সুতরাং তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে আকাশের এক খণ্ড আমাদের উপর ফেলে দাও।’

ফাতহুল মাজীদ

তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে আকাশের এক খণ্ড আমাদের ওপর ফেলে দাও।

মুখতাসার

১৮৭. তুমি নিজ দাবিতে সত্যবাদী হলে আমাদের উপর আকাশের কয়েটি টুকরো ফেলে দাও।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

26:185

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

‘সুতরাং তুমি যদি সত্যবাদী হও তবে আকাশের এক খণ্ড আমাদের উপর ফেলে দাও।’

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আশ-শুআরা (২৬): আয়াত ১৭৬ থেকে ১৯১] পূর্ণ পৃষ্ঠা

‌[সূরা আশ-শুআরা (২৬): আয়াত ১৭৬ থেকে ১৯১]আইকাবাসীরা রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল (১৭৬) যখন শুআইব তাদের বললেন, ‘তোমরা কি ভয় করবে না?’ (১৭৭) ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রাসূল’ (১৭৮) ‘অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো’ (১৭৯) ‘আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না; আমার প্রতিদান তো কেবল জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে’ (১৮০)‘তোমরা মাপে পূর্ণ দাও এবং যারা মাপে কম দেয় তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না’ (১৮১) ‘এবং সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন করো’ (১৮২) ‘এবং মানুষকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিও না এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে ফিরো না’ (১৮৩) ‘এবং ভয় করো তাঁকে, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মকেও’ (১৮৪) তারা বলল, ‘তুমি তো কেবল যাদুগ্রস্তদের একজন’ (১৮৫)‘তুমি আমাদের মতোই একজন মানুষ বৈ নও এবং আমরা অবশ্যই তোমাকে মিথ্যাবাদীদের একজন মনে করি’ (১৮৬) ‘যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে আকাশের কোনো টুকরো আমাদের ওপর ফেলে দাও’ (১৮৭) তিনি বললেন, ‘তোমরা যা করছ সে সম্পর্কে আমার প্রতিপালক সম্যক অবগত’ (১৮৮) অতঃপর তারা তাকে অস্বীকার করল, ফলে মেঘাচ্ছন্ন দিনের শাস্তি তাদের পাকড়াও করল।

নিশ্চয় সেটি ছিল এক ভয়াবহ দিনের শাস্তি (১৮৯) নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশ ঈমান আনয়নকারী ছিল না (১৯০)আর নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক, তিনি তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু (১৯১)আল্লাহ তাআলার বাণী: (আইকাবাসীরা রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল)। ‘আইক’ অর্থ ঘন ডালপালাযুক্ত প্রচুর গাছপালা, যার একবচন হলো ‘আইকাহ’। যারা ‘আসহাবুল আইকাহ’ পাঠ করেছেন, তাদের নিকট এর অর্থ হলো গভীর বন। আর যারা ‘লাইকাহ’ পাঠ করেছেন, তাদের মতে এটি জনপদের নাম। বলা হয়ে থাকে যে, এই দুটি শব্দ ‘বক্কা’ ও ‘মক্কা’র মতো; আল-জাওহারী এটি উল্লেখ করেছেন। আন-নাহহাস বলেন: আবু জাফর ও নাফি' ‘কাদযযাবা আসহাবু লাইকাতা’ পাঠ করেছেন এবং সূরা ‘সোয়াদ’-এও অনুরূপ পড়েছেন।

তবে সকল ক্বারী সূরা ‘হিজর’ এবং সূরা ‘ক্বাফ’-এ শব্দটির শেষে ‘জের’ দিয়ে পড়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। সুতরাং যে স্থানে তারা মতভেদ করেছেন, সেটিকে সেই পাঠের দিকেই ফিরিয়ে নেয়া উচিত যেটিতে তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন, যেহেতু উভয়ের অর্থ এক। আর আবু উবায়দ যা বর্ণনা করেছেন—যে ‘লাইকাহ’ হলো সেই জনপদের নাম যেখানে তারা বাস করত এবং ‘আল-আইকাহ’ হলো দেশের নাম—তা প্রমাণিত নয় এবং এটি এমন কারো থেকে বর্ণিত হয়নি যার কথা নির্ভরযোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। যদি এর প্রবক্তা সম্পর্কে জানাও যেত, তবুও তা পর্যালোচনার বিষয় হতো; কারণ তাফসীর বিশেষজ্ঞ এবং আরবী ভাষাবিদগণ সর্বসম্মতভাবে এর বিপরীত মত পোষণ করেছেন।