Ash-Shu'ara

আশ-শুআরা: 176

26:176
টেক্সট কপি

মূল আরবি

كَذَّبَ أَصْحَـٰبُ لْـَٔيْكَةِ ٱلْمُرْسَلِينَ

English Translations

Sahih International

The companions of the thicket [i.e., the people of Madyan] denied the messengers

Muhsin Khan

The dwellers of Al-Aiyka [near Madyan (Midian)] belied the Messengers.

Taqi Usmani

The people of Aaikah rejected the messengers

Abul Ala Maududi

The people of Aykah also gave the lie to the Messengers.

Pickthall

The dwellers in the wood (of Midian) denied the messengers (of Allah),

Yusuf Ali

The Companions of the Wood rejected the messengers.

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

বনের অধিবাসীরা রসূলদেরকে মিথ্যে বলে প্রত্যাখ্যান করেছিল।

রাওয়াই আল-বায়ান

আইকার অধিবাসীরা রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল।

শাইখ মুজিবুর রহমান

আইকাবাসীরা রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল –

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আইকাবাসীরা রাসূলগণের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল,

ফাতহুল মাজীদ

আয়কাবাসীরা রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল,

মুখতাসার

১৭৬. মাদয়ানের নিকটবর্তী ঘন গাছ বিশিষ্ট এলাকার অধিবাসীরা মূলতঃ সকল রাসূলকেই অস্বীকার করেছে যখন তারা নিজেদের নবী শু‘আইব (আলাইহিস-সালাম) কে অস্বীকার করে বসলো।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

১৭৬-১৮০ নং আয়াতের তাফসীরএ লোকগুলো মাদইয়ানের অধিবাসী ছিল। হযরত শুআইবও (আঃ) তাদেরই মধ্যে একজন ছিলেন। তাঁকে তাদের ভাই না বলার কারণ শুধু এই যে, তারা আয়কার পূজা করতো। আর এই আয়কার সাথেই তাদেরকে সম্পর্কযুক্ত করা হয়েছে। আয়কা ছিল একটি গাছ। এ কারণেই অন্যান্য নবীদেরকে বংশগত সম্পর্কের কারণে যেমন তাদের উম্মতের ভাই বলা হয়েছে, হযরত শুআইব (আঃ)-কে তাঁর উম্মতের ভাই বলা হয়নি, যদিও বংশগত হিসেবে তিনিও তাদের ভাই ছিলেন। যারা এই বিন্দু পর্যন্ত পৌছতে পারেননি তারা বলেন যে, এ লোকগুলো হযরত শুআইব (আঃ)-এর কম ছিল না বলেই তাঁকে তাদের ভাই বলা হয়নি।

তারা অন্য কওম ছিল। হযরত শুআইব (আঃ)-কে তাঁর নিজের কওমের নিকটও পাঠানো হয়েছিল এবং ঐ কওমের নিকটও তিনি প্রেরিত হয়েছিলেন। অন্য কেউ বলেন যে, তিনি তৃতীয় একটি কওমের নিকটও প্রেরিত হয়েছিলেন। যেমন হযরত ইকরামা (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, কোন নবীকে আল্লাহ দুই বার প্রেরণ করেননি, শুধু হযরত শুআইব (আঃ)-কে ছাড়া। একবার তাকে মাদইয়ানবাসীর নিকট পাঠানো হয়। তারা তাকে অবিশ্বাস করে। তখন বিকট চীৎকার দ্বারা তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়। দ্বিতীয়বার তাকে প্রেরণ করা হয় আয়কাবাসীর নিকট। তারাও তাকে অস্বীকার করে। ফলে তাদের উপর আল্লাহর মেঘাচ্ছন্ন দিনের শাস্তি নেমে আসে এবং তারা ধ্বংস হয়ে যায় ।হযরত কাতাদা (রঃ) বলেন যে, আসহাবে রস ও আসহাবে আয়কা হলো হযরত শুআইব (আঃ)-এর কওম।

একজন বুযর্গ ব্যক্তির উক্তি এই যে, আসহাবে আয়কা ও আসহাবে মাদইয়ান একই। এসব ব্যাপারে আল্লাহ তা'আলাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “কওমে মাদইয়ান ও আসহাবে আয়কা দু’টি উম্মত, যাদের নিকট আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী হযরত শুআইব (আঃ)-কে প্রেরণ করেছিলেন।” (এ হাদীসটি হাফিয ইবনে আসাকির (রঃ) বর্ণনা করেছেন। কিন্তু হাদীসটি গারীব এবং এর মারফু হওয়া সম্পর্কে সমালোচনা করা হয়েছে। খুব সম্ভব এটা মাওকুফ হাদীস) আর সঠিক কথা এই যে, দুটো একই উম্মত।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আইকাবাসীরা [১] রাসূলগণের প্রতি মিথ্যারোপ করেছিল,

[১] ইউসুফ ‘আলাইহিস সালাম-এর পরে আল্লাহ্‌ তা‘আলা শু‘আইব ‘আলাইহিস সালামকে পাঠান। তার জাতি ছিল মাদইয়ান জাতি। [সূরা আল-আ‘রাফঃ ৮৫] মাদইয়ান ছিল শু‘আইব ‘আলাইহিস সালাম-এর জাতির এক পূর্বপুরুষের নাম। অপরদিকে কখনো কখনো পবিত্ৰ কুরআনে শুয়াইব ‘আলাইহিস সালাম-এর কওম সম্পর্কে বলা হয়েছে, ‘আসহাবুল আইকাহ’ বা গাছওয়ালাগণ। [সূরা আশ-শুয়ারাঃ ১৭৬] অধিকাংশ মুফাসসিরদের মতে আইকাবাসী দ্বারা মাদইয়ান জাতিকে বুঝানো হয়েছে। [আদওয়া আল-বায়ান]

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আশ-শুআরা (২৬): আয়াত ১৭৬ থেকে ১৯১] পূর্ণ পৃষ্ঠা

‌[সূরা আশ-শুআরা (২৬): আয়াত ১৭৬ থেকে ১৯১]আইকাবাসীরা রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল (১৭৬) যখন শুআইব তাদের বললেন, ‘তোমরা কি ভয় করবে না?’ (১৭৭) ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রাসূল’ (১৭৮) ‘অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো’ (১৭৯) ‘আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না; আমার প্রতিদান তো কেবল জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে’ (১৮০)‘তোমরা মাপে পূর্ণ দাও এবং যারা মাপে কম দেয় তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না’ (১৮১) ‘এবং সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন করো’ (১৮২) ‘এবং মানুষকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিও না এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে ফিরো না’ (১৮৩) ‘এবং ভয় করো তাঁকে, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মকেও’ (১৮৪) তারা বলল, ‘তুমি তো কেবল যাদুগ্রস্তদের একজন’ (১৮৫)‘তুমি আমাদের মতোই একজন মানুষ বৈ নও এবং আমরা অবশ্যই তোমাকে মিথ্যাবাদীদের একজন মনে করি’ (১৮৬) ‘যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে আকাশের কোনো টুকরো আমাদের ওপর ফেলে দাও’ (১৮৭) তিনি বললেন, ‘তোমরা যা করছ সে সম্পর্কে আমার প্রতিপালক সম্যক অবগত’ (১৮৮) অতঃপর তারা তাকে অস্বীকার করল, ফলে মেঘাচ্ছন্ন দিনের শাস্তি তাদের পাকড়াও করল।

নিশ্চয় সেটি ছিল এক ভয়াবহ দিনের শাস্তি (১৮৯) নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশ ঈমান আনয়নকারী ছিল না (১৯০)আর নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক, তিনি তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু (১৯১)আল্লাহ তাআলার বাণী: (আইকাবাসীরা রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল)। ‘আইক’ অর্থ ঘন ডালপালাযুক্ত প্রচুর গাছপালা, যার একবচন হলো ‘আইকাহ’। যারা ‘আসহাবুল আইকাহ’ পাঠ করেছেন, তাদের নিকট এর অর্থ হলো গভীর বন। আর যারা ‘লাইকাহ’ পাঠ করেছেন, তাদের মতে এটি জনপদের নাম। বলা হয়ে থাকে যে, এই দুটি শব্দ ‘বক্কা’ ও ‘মক্কা’র মতো; আল-জাওহারী এটি উল্লেখ করেছেন। আন-নাহহাস বলেন: আবু জাফর ও নাফি' ‘কাদযযাবা আসহাবু লাইকাতা’ পাঠ করেছেন এবং সূরা ‘সোয়াদ’-এও অনুরূপ পড়েছেন।

তবে সকল ক্বারী সূরা ‘হিজর’ এবং সূরা ‘ক্বাফ’-এ শব্দটির শেষে ‘জের’ দিয়ে পড়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। সুতরাং যে স্থানে তারা মতভেদ করেছেন, সেটিকে সেই পাঠের দিকেই ফিরিয়ে নেয়া উচিত যেটিতে তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন, যেহেতু উভয়ের অর্থ এক। আর আবু উবায়দ যা বর্ণনা করেছেন—যে ‘লাইকাহ’ হলো সেই জনপদের নাম যেখানে তারা বাস করত এবং ‘আল-আইকাহ’ হলো দেশের নাম—তা প্রমাণিত নয় এবং এটি এমন কারো থেকে বর্ণিত হয়নি যার কথা নির্ভরযোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। যদি এর প্রবক্তা সম্পর্কে জানাও যেত, তবুও তা পর্যালোচনার বিষয় হতো; কারণ তাফসীর বিশেষজ্ঞ এবং আরবী ভাষাবিদগণ সর্বসম্মতভাবে এর বিপরীত মত পোষণ করেছেন।