Ash-Shu'ara

আশ-শুআরা: 83

26:83
টেক্সট কপি

মূল আরবি

رَبِّ هَبْ لِى حُكْمًا وَأَلْحِقْنِى بِٱلصَّـٰلِحِينَ

English Translations

Sahih International

[And he said], "My Lord, grant me authority and join me with the righteous.

Muhsin Khan

My Lord! Bestow Hukman (religious knowledge, right judgement of the affairs and Prophethood) on me, and join me with the righteous;

Taqi Usmani

O my Lord, give me wisdom, and make me join the righteous,

Abul Ala Maududi

(And then Abraham prayed): "My Lord, endow me with knowledge and wisdom and join me with the righteous,

Pickthall

My Lord! Vouchsafe me wisdom and unite me to the righteous.

Yusuf Ali

"O my Lord! bestow wisdom on me, and join me with the righteous;

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

হে আমার পালনকর্তা! আমাকে প্রজ্ঞা দান কর এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের অর্ন্তভুক্ত কর।

রাওয়াই আল-বায়ান

‘হে আমার রব, আমাকে প্রজ্ঞা দান করুন এবং আমাকে সৎকর্মশীলদের সাথে শামিল করে দিন’।

শাইখ মুজিবুর রহমান

হে আমার রাব্ব! আমাকে প্রজ্ঞা দান করুন এবং সৎ কর্মপরায়ণদের সাথে আমাকে মিলিত করুন।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

‘হে আমার রব! আমাকে প্রজ্ঞা দান করুন এবং সৎকর্মশীলদের সাথে মিলিয়ে দিন।

ফাতহুল মাজীদ

হে আমার প্রতিপালক! আমাকে জ্ঞান দান কর‎ এবং সৎকর্মপরায়ণদের মধ্যে শামিল কর‎।

মুখতাসার

৮৩. ইব্রাহীম (আলাইহিস-সালাম) তাঁর প্রতিপালককে ডেকে বললেন: হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমাকে ধর্মীয় বুঝ দিন এবং আমাকে আমার পূর্বের নেককার নবীদের সাথী বানান তথা আমাকে তাদের সাথে জান্নাতে প্রবেশ করান।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

৮৩-৮৯ নং আয়াতের তাফসীরএটা হলো হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর প্রার্থনা যে, তাঁর প্রতিপালক যেন তাকে হুকম দান করেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, ওটা (হু) হলো ইলম বা জ্ঞান। ইকরামা (রঃ) বলেন যে, ওটা হলো আকল। মুজাহিদ (রঃ) বলেন যে, ওটা হলো কুরআন। আর সুদ্দী (রঃ) বলেন যে, ওটা হলো নবুওয়াত। হযরত ইবরাহীম (আঃ) আল্লাহ তা'আলার নিকট দু'আ করেন যে, তিনি যেন তাকে এগুলো দান করে দুনিয়া ও আখিরাতে সৎ লোকদের সাথে মিলিত করেন। যেমন নবী (সঃ) জীবনের শেষ সময়ে বলেছিলেন (আরবি) অর্থাৎ “হে আল্লাহ! উচ্চ ও মহান বন্ধুর সাথে আমাকে মিলিত করুন।” একথা তিনি তিন বার বলেছিলেন।”হাদীসে নিম্নরূপে দু'আও রয়েছেঃ (আরবি) অর্থাৎ “হে আল্লাহ!

আমাকে মুসলমানরূপে জীবিত রাখুন, ইসলামের অবস্থায় মৃত্যু দান করুন এবং সৎ লোকদের সাথে মিলিত করুন, এমন অবস্থায় যে, না হয় কোন অপমান এবং না হয় কোন পরিবর্তন।”এরপর তিনি আরো দু'আ করেনঃ ‘আমাকে আমার পরবর্তীদের মধ্যে যশস্বী করুন। লোকেরা যেন আমার পরে আমাকে স্মরণ করে এবং কাজে কর্মে আমার অনুসরণ করে। সত্যি আল্লাহ তা'আলা তাঁর পরবর্তী বংশধরদের মধ্যে তাঁর আলোচনা বাকী রাখেন। প্রত্যেকেই তার উপর সালাম পাঠিয়ে থাকে। আল্লাহ তা'আলা তাঁর কোন সৎ বান্দার পুণ্য বৃথা যেতে দেন না। একটি জগত রয়েছে যার যবান তাঁর প্রশংসা কীর্তনে সদা সিক্ত থাকে। দুনিয়াতেও আল্লাহ তা'আলা তাঁকে উচ্চ মর্যাদা ও কল্যাণ দান করেন।

সাধারণতঃ প্রত্যেক মাযহাব ও মিল্লাতের লোক তার সাথে মহব্বত রাখে। তিনি আরো দু'আ করেনঃ “হে আমার প্রতিপালক! আখিরাতে আমাকে সুখময় জান্নাতের অধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন।” তিনি আরো প্রার্থনা করেনঃ “হে আল্লাহ! আমার পথভ্রষ্ট পিতাকেও আপনি ক্ষমা করে দিন। পিতার জন্যে এই ক্ষমা প্রার্থনা করা তাঁর একটি ওয়াদার কারণে ছিল। কিন্তু যখন তাঁর কাছে এটা প্রকাশ হয়ে পড়ে যে, তাঁর পিতা ছিল আল্লাহর শত্রু এবং সে কুফরীর উপরই মৃত্যু বরণ করেছে তখন তার প্রতি তাঁর মহব্বত দূর হয়ে যায় এবং এরপর তিনি তার জন্যে ক্ষমা প্রার্থনা করাও ছেড়ে দেন। হযরত ইবরাহীম (আঃ) ছিলেন বড়ই পরিষ্কার অন্তরের অধিকারী এবং খুবই সহনশীল।

আমাদেরকেও যেখানে হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর রীতি নীতির উপর চলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে সেখানে এটাও বলা হয়েছে যে, এ ব্যাপারে তাঁর অনুসরণ করা চলবে না।এরপর হযরত ইবরাহীম (আঃ) প্রার্থনায় বলেনঃ “হে আল্লাহ! আমাকে পুনরুত্থান দিবসে লাঞ্ছিত করবেন না।” অর্থাৎ যেই দিন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সমস্ত মাখলুককে জীবিত করে একই ময়দানে দাঁড় করানো হবে সেই দিন যেন তাঁকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করা না হয়।হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “কিয়ামতের দিন হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর তাঁর পিতার সাথে সাক্ষাৎ হবে। তিনি দেখবেন যে, তাঁর পিতার চেহারা লাঞ্ছনায় ও ধূলো-বালিতে আচ্ছন্ন রয়েছে।” (ইমাম বুখারী (রঃ) এ আয়াতের তাফসীরে এ হাদীসটি আনয়ন করেছেন)অন্য রিওয়াইয়াতে হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেই বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “হযরত ইবরাহীম (আঃ) তাঁর পিতার সাথে সাক্ষাৎ করবেন।

ঐ সময় তিনি বলবেনঃ “হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমার সাথে ওয়াদা করেছেন যে, পুনরুত্থান দিবসে আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না।” তখন আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ “জেনে রেখো যে, জান্নাত কাফিরদের জন্যে সম্পূর্ণরূপে হারাম।” আর একটি রিওয়াইয়াতে রয়েছে যে, পিতাকে ঐ অবস্থায় দেখে হযরত ইবরাহীম (আঃ) বলবেনঃ “তুমি আমার নাফরমানী করো না একথা কি আমি তোমাকে বলেছিলাম না?” পিতা উত্তরে বলবেঃ “আচ্ছা, আর নাফরমানী করবো।” তখন তিনি আল্লাহ তা'আলার নিকট আরয করবেন: “হে আমার প্রতিপালক! আপনি আমার সাথে ওয়াদা করেছিলেন যে, এই দিন আমাকে লাঞ্ছিত ও অপমানিত করবেন না। কিন্তু আজ এর চেয়ে বড় অপমান আমার জন্যে আর কি হতে পারে যে, আমার পিতা আপনার রহমত হতে দূরে রয়েছে?” উত্তরে আল্লাহ তা'আলা বলবেনঃ “হে আমার বন্ধু!

আমি তো জান্নাত কাফিরদের জন্যে হারাম করে দিয়েছি।” অতঃপর তিনি বলবেনঃ “হে ইবরাহীম (আঃ)! দেখো তো, তোমার পায়ের নীচে কি?” তখন তিনি দেখবেন যে, এক কুৎসিত বেজি কাদাপানি মাখা অবস্থায় দাঁড়িয়ে রয়েছে। ওর পা ধরে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। প্রকৃতপক্ষে ওটাই হবে তার পিতা যার ঐরূপ আকৃতি করে তার নির্দিষ্ট স্থানে পৌঁছিয়ে দেয়া হবে।মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোন কাজে আসবে না। ঐ দিন মানুষ যদি তার ক্ষতিপূরণ মাল-ধন দ্বারা আদায় করতে চায়, এমনকি যদি দুনিয়া ভর্তি সোনাও প্রদান করে তবুও তা নিষ্ফল হবে। ঐ দিন উপকার দানকারী হবে ঈমান, আন্তরিকতা এবং শিরক ও মুশরিকদের প্রতি অসন্তুষ্টি।

যাদের অন্তর পরিষ্কার হবে, অর্থাৎ অন্তর শিরক ও কুফরীর ময়লা আবর্জনা হতে পাক পবিত্র থাকবে, যারা আল্লাহ তা'আলাকে সত্য জানবে, কিয়ামতকে নিশ্চিত রূপে বিশ্বাস করবে, পুনরুত্থানের প্রতি ঈমান রাখবে, আল্লাহর একত্ববাদকে স্বীকার করবে এবং তদনুযায়ী আমল করবে, যাদের অন্তর কপটতা ইত্যাদি রোগ হতে মুক্ত থাকবে ও অন্তর ঈমান, ইখলাস ও নেক আকীদায় পূর্ণ থাকবে, যারা বিদআতকে ঘৃণা করবে এবং সুন্নাতের প্রতি মহব্বত রাখবে, সেই তারাই উপকৃত হবে।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

‘হে আমার রব! আমাকে প্রজ্ঞা দান করুন এবং সৎকর্মশীলদের সাথে মিলিয়ে দিন।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আশ-শুআরা (২৬): আয়াত ৮৩ থেকে ৮৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা

আরবদের কথাবার্তায় 'খাতায়া' (পাপসমূহ) শব্দটি সুপরিচিত। মহান আল্লাহর বাণী "অতঃপর তারা তাদের অপরাধ স্বীকার করল"-এ একবচন ব্যবহারের ওপর তারা (ভাষাবিদগণ) ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে, এখানে একবচন দ্বারা উদ্দেশ্য হলো তাদের অপরাধসমূহ (বহুবচন)। অনুরূপভাবে, "তোমরা সালাত কায়েম করো"—এর অর্থ হলো সালাতসমূহ। তেমনিভাবে, "আমার পাপ" যদি তা পাপসমূহ বুঝায়। আল্লাহই সর্বজ্ঞ। মুজাহিদ বলেন: তিনি 'তাঁর পাপ' বলতে নিজের এই উক্তিগুলোকে বুঝিয়েছেন: "বরং এদের এই বড়টিই তো তা করেছে", "নিশ্চয় আমি অসুস্থ", এবং সারাকে তাঁর বোন বলা। হাসান এর সাথে যোগ করেছেন নক্ষত্র সম্পর্কে তাঁর এই উক্তি: "এটি আমার রব"।

এ বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা ইতিপূর্বে অতিক্রান্ত হয়েছে। আয-যাজ্জাজ বলেন: আম্বিয়ায়ে কিরাম মানুষ, তাই তাঁদের পক্ষ থেকে ভুলত্রুটি হওয়া সম্ভব; তবে হাঁ, তাঁদের ক্ষেত্রে কবিরা গুনাহ হওয়া সম্ভব নয়, কারণ তাঁরা তা থেকে নিষ্পাপ (মাসুম)। (বিচার দিবসে) অর্থাৎ প্রতিদান দিবসে, যেখানে বান্দাদেরকে তাদের আমল অনুযায়ী প্রতিদান দেওয়া হবে। ইবরাহীম (আ.)-এর পক্ষ থেকে এটি ছিল তাঁর দাসত্বের বহিঃপ্রকাশ, যদিও তিনি জানতেন যে তাঁকে ক্ষমা করা হয়েছে। সহীহ মুসলিম-এ আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন, আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল! ইবনে জুদআন জাহেলিয়াত যুগে আত্মীয়তার বন্ধন রক্ষা করত এবং অভাবগ্রস্তকে খাবার দান করত, তবে কি তা তার কোনো উপকারে আসবে?

তিনি বললেন: "তা তার উপকারে আসবে না, কারণ সে কোনোদিন বলেনি: হে আমার রব! বিচার দিবসে আমার পাপ ক্ষমা করুন।" ‌‌[সূরা আশ-শুআরা (২৬): আয়াত ৮৩ থেকে ৮৯]হে আমার রব! আমাকে প্রজ্ঞা দান করুন এবং আমাকে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত করুন (৮৩) এবং পরবর্তীদের মধ্যে আমার সুখ্যাতি বজায় রাখুন (৮৪) আর আমাকে নেয়ামতপূর্ণ জান্নাতের উত্তরাধিকারীদের অন্তর্ভুক্ত করুন (৮৫) এবং আমার পিতাকে ক্ষমা করুন, নিশ্চয় সে ছিল পথভ্রষ্টদের অন্তর্ভুক্ত (৮৬) আর পুনরুত্থান দিবসে আমাকে লাঞ্ছিত করবেন না (৮৭)যেদিন ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি কোনো উপকারে আসবে না (৮৮) কেবল সেই ব্যক্তি ছাড়া, যে আল্লাহর নিকট বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে (৮৯)মহান আল্লাহর বাণী: (হে আমার রব!

আমাকে প্রজ্ঞা দান করুন এবং আমাকে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত করুন) ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, "প্রজ্ঞা" অর্থ হলো আপনার সম্পর্কে এবং আপনার নির্ধারিত সীমারেখা ও বিধানাবলি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা। মুকাতিল বলেন: এর অর্থ বোধশক্তি ও জ্ঞান, যা প্রথম অর্থের দিকেই ফিরে যায়। কালবী বলেন: এর অর্থ সৃষ্টির প্রতি নবুওয়াত ও রিসালাত। "এবং আমাকে নেককারদের অন্তর্ভুক্ত করুন" অর্থাৎ মর্যাদার দিক থেকে আমার পূর্ববর্তী নবীগণের অন্তর্ভুক্ত করুন। ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: জান্নাতবাসীদের অন্তর্ভুক্ত করুন; আর এটি তাঁর "আমাকে প্রজ্ঞা দান করুন" উক্তিরই তাকিদ বা সমর্থন।

মহান আল্লাহর বাণী: (এবং পরবর্তীদের মধ্যে আমার সুখ্যাতি বজায় রাখুন) ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন: এর অর্থ হলো তাঁর ওপর উম্মতসমূহের ঐক্যবদ্ধ হওয়া। মুজাহিদ বলেন: এটি হলো উত্তম প্রশংসা। ইবনে আতিয়্যাহ বলেন: মুফাসসিরগণের ঐকমত্য অনুযায়ী এটি হলো প্রশংসা ও মর্যাদার স্থায়িত্ব। আর এভাবেই আল্লাহ তাঁর প্রার্থনা কবুল করেছেন; প্রতিটি উম্মত তাঁকে সম্মান করে ও তাঁর আদর্শ অনুসরণ করে, আর তিনি ছিলেন সেই একনিষ্ঠ দ্বীনের ওপর যা মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) নিয়ে এসেছেন। মাক্কী বলেন: বলা হয়েছে এর অর্থ হলো তাঁর প্রার্থনা ছিল যেন শেষ যামানায় তাঁর বংশধরদের মধ্যে কেউ (নবী) থাকে।