Ash-Shu'ara

আশ-শুআরা: 210

26:210
টেক্সট কপি

মূল আরবি

وَمَا تَنَزَّلَتْ بِهِ ٱلشَّيَـٰطِينُ

English Translations

Sahih International

And the devils have not brought it [i.e., the revelation] down.

Muhsin Khan

And it is not the Shayatin (devils) who have brought it (this Quran) down,

Taqi Usmani

And this (Qur’ān) is not brought down by devils.

Abul Ala Maududi

The satans did not bring down this (Clear Book),

Pickthall

The devils did not bring it down.

Yusuf Ali

No evil ones have brought down this (Revelation):

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

শয়ত্বানরা তা (অর্থাৎ কুরআন) নিয়ে অবতরণ করেনি।

রাওয়াই আল-বায়ান

আর শয়তানরা তা নিয়ে অবতরণ করেনি।

শাইখ মুজিবুর রহমান

শাইতানরা ইহাসহ অবতীর্ণ হয়নি।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

আর শয়তানরা এটাসহ নাযিল হয়নি।

ফাতহুল মাজীদ

শয়তানরা তা-সহ (অর্থাৎ এ কুরআন) অবতীর্ণ হয়নি।

মুখতাসার

২১০. মূলতঃ এ কুর‘আন নিয়ে রাসূলের অন্তরের উপর কোন শয়তান নাযিল হয়নি।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

২১০-২১২ নং আয়াতের তাফসীরমহান আল্লাহ বলেন যে, এটা এমন এক পবিত্র কিতাব যার আশে পাশে মিথ্যা আসতে পারে না। কিতাব (আল-কুরআন) মহাবিজ্ঞানময় ও প্রশংসিত আল্লাহর নিকট হতে অবতারিত। এটাকে শক্তিশালী ফেরেশতা রূহুল আমীন (হযরত জিবরাঈল আঃ) আনয়ন করেছেন, শয়তান আনয়ন করেনি।অতঃপর শয়তান যে এটা আনয়ন করেনি তার তিনটি কারণ বর্ণনা করা হচ্ছে। যে, সে এর যোগ্যতাই রাখে না। তার কাজ হলো মাখলুককে পথভ্রষ্ট করা, সরল-সঠিক পথে আনয়ন করা নয়। ভাল কাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ এই কিতাবের বৈশিষ্ট্য। অথচ শয়তান এর সম্পূর্ণ বিপরীত। এই কিতাব হলো জ্যোতি ও হিদায়াত এবং এটা হলো দলীল।

আর শয়তানরা এই তিনটিরই উল্টো। তারা অন্ধকার-প্রিয়। তারা ভ্রান্তপথ প্রদর্শক এবং অজ্ঞতার পাগল। সুতরাং এই কিতাব ও শয়তানদের মধ্যে আকাশ পাতালের পার্থক্য রয়েছে। কোথায় তারা এবং কোথায় এই কিতাব! দ্বিতীয় কারণ এই যে, সে তো এটা বহন করার যোগ্যতাই রাখে না এবং তার মধ্যে এ শক্তিই নেই। এটা এমনই সম্মানিত ও মর্যাদা সম্পন্ন বাণী যে, যদি এটা কোন বড় পাহাড়ের উপর অবতীর্ণ হয় তবে ওকে ফাটিয়ে চৌচির করে ফেলবে। এরপর তৃতীয় কারণ বর্ণনা করা হচ্ছে যে, এই কুরআন অবতীর্ণ করার সময় শয়তানদেরকে তো সেখান থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল। তারা তো ওটা শুনতেই পায়নি।

আকাশের চতুর্দিকে প্রহরী নিযুক্ত ছিল। শুনবার জন্যে যখনই তারা আকাশে উঠতে যাচ্ছিল তখনই তাদের প্রতি অগ্নি বর্ষিত হচ্ছিল। এর একটি অক্ষরও শুনবার ক্ষমতা তার ছিল না। এর ফলে আল্লাহর কালাম নিরাপদ ও সুরক্ষিত পন্থায় তাঁর নবী (সঃ)-এর নিকট পৌঁছে যায় এবং তার মাধ্যমে আল্লাহর মাখলুকের কাছে এটা পৌঁছে। এজন্যেই মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ তাদেরকে তো শ্রবণের সুযোগ হতে দূরে রাখা হয়েছে। যেমন তিনি স্বয়ং জ্বিনদের উক্তির উদ্ধৃতি দিয়ে বলেনঃ (আরবি)অর্থাৎ “আমরা চেয়েছিলাম আকাশের তথ্য সংগ্রহ করতে কিন্তু আমরা দেখতে পেলাম কঠোর প্রহরী ও উল্কাপিণ্ড দ্বারা আকাশ পরিপূর্ণ।

আর পূর্বে আমরা আকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে সংবাদ শুনবার জন্যে বসতাম কিন্তু এখন কেউ সংবাদ শুনতে চাইলে সে তার উপর নিক্ষেপের জন্যে প্রস্তুত জ্বলন্ত উল্কাপিণ্ডের সম্মুখীন হয়। আমরা জানি না জগদ্বাসীর অমঙ্গলই অভিপ্রেত, না তাদের প্রতিপালক তাদের মঙ্গল চান।” (৭২: ৮-১০)

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

আর শয়তানরা এটাসহ নাযিল হয়নি।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আশ-শুআরা (২৬): আয়াত ২১০ থেকে ২১৩] পূর্ণ পৃষ্ঠা

[সূরা আশ-শুআরা (২৬): আয়াত ২১০ থেকে ২১৩]আর শয়তানরা এটি নিয়ে অবতীর্ণ হয়নি। (২১০) আর এটা তাদের জন্য সমীচীন নয় এবং তারা এর সামর্থ্যও রাখে না। (২১১) নিশ্চয়ই তারা শ্রবণ করা থেকে দূরে অপসারিত। (২১২) সুতরাং আপনি আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকবেন না, অন্যথায় আপনি শাস্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন। (২১৩)আল্লাহ তাআলার বাণী: (আর শয়তানরা এটি নিয়ে অবতীর্ণ হয়নি) অর্থাৎ কুরআন; বরং এটি নিয়ে অবতীর্ণ হন রুহুল আমিন (জিবরাঈল)। (আর এটা তাদের জন্য সমীচীন নয় এবং তারা এর সামর্থ্যও রাখে না। নিশ্চয়ই তারা শ্রবণ করা থেকে দূরে অপসারিত) অর্থাৎ উল্কাপিণ্ড নিক্ষেপের মাধ্যমে, যেমনটি ইতিপূর্বে সূরা "আল-হিজর"-এ এর ব্যাখ্যা অতিবাহিত হয়েছে।

আল-হাসান এবং মুহাম্মদ বিন আস-সামাইকা আয়াতটি 'শায়াতুন' শব্দে পাঠ করেছেন। আল-মাহদাবী বলেন: এটি আরবি ভাষায় ব্যাকরণগতভাবে অনুমোদিত নয় এবং লিপিশৈলীর পরিপন্থী। আন-নাহহাস বলেন: এটি সকল ব্যাকরণবিদের নিকট একটি ভুল। আমি আলী বিন সুলায়মানকে বলতে শুনেছি, তিনি মুহাম্মদ বিন ইয়াযিদকে বলতে শুনেছেন: এটি আলেমদের নিকট একটি ভুল, যা কেবল একটি সংশয় থেকে উৎপন্ন হয়েছে; যখন আল-হাসান শব্দের শেষে 'ইয়া' ও 'নুন' দেখলেন অথচ এটি রফ-এর (পেশ) স্থানে ছিল, তখন তিনি একে সুস্থ পুরুষবাচক বহুবচনের (জমা মুযাক্কার সালিম) সাথে গুলিয়ে ফেলেন এবং ভুল করেন। হাদীসে এসেছে: "বিদ্বানের পদস্খলন থেকে সতর্ক থাকো।" তিনি নিজেই সাধারণ মানুষের সাথে পাঠ করেছেন: "যখন তারা তাদের শয়তানদের সাথে একান্তে মিলিত হয়" (ইলা শায়াতিনিহিম)।

যদি এটি রফ-এর অবস্থায় 'ওয়াও' দিয়ে হতো, তবে সম্বন্ধ পদের (ইদাফাত) কারণে 'নুন' বিলুপ্ত করা আবশ্যক হতো। আস-সা'লাবী বলেন: আল-ফাররা বলেছেন, শাইখ—অর্থাৎ আল-হাসান—ভুল করেছেন। এই বিষয়টি আন-নাদর বিন শুমাইলের নিকট উল্লেখ করা হলে তিনি বলেন: যদি রু'বাহ ও আল-আজ্জাজ এবং তাঁদের সমগোত্রীয় কবিদের বক্তব্য দ্বারা ভাষাগত দলিল পেশ করা জায়েয হয়, তবে আল-হাসান এবং তাঁর সঙ্গীর বক্তব্য দ্বারাও দলিল পেশ করা জায়েয হওয়া উচিত; বিশেষ করে যখন আমরা জানি যে তাঁরা এই কিরাতটি কোনো নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে শুনেই পাঠ করেছেন। আল-মুআররিজ বলেন: যদি 'শয়তান' শব্দটি 'শাতা-ইয়াশীতু' (দগ্ধ হওয়া বা ধ্বংস হওয়া) ধাতু থেকে নিষ্পন্ন হয়, তবে তাঁদের কিরাতের একটি ব্যাকরণগত দিক পাওয়া যায়।

ইউনুস বিন হাবিব বলেন: আমি জনৈক আরব বেদুইনকে বলতে শুনেছি, "আমরা বাগানে (বাসাতিনা) প্রবেশ করেছি যার পেছনে আরও বাগান (বাসাতুনা) ছিল।" আমি বললাম: এটি আল-হাসানের কিরাতের সাথে কতই না সাদৃশ্যপূর্ণ! আল্লাহ তাআলার বাণী: (সুতরাং আপনি আল্লাহর সাথে অন্য কোনো উপাস্যকে ডাকবেন না, অন্যথায় আপনি শাস্তিপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন) বলা হয়েছে: এর অর্থ হলো—যারা কুফরি করেছে তাদের উদ্দেশ্যে এটি বলুন। আবার বলা হয়েছে: এটি নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের প্রতি সম্বোধন, যদিও তিনি এমন কাজ করবেন না; কারণ তিনি নিষ্পাপ (মাসুম) ও মনোনীত, তবে তাঁকে সম্বোধন করে মূলত অন্যদের উদ্দেশ্য করা হয়েছে।

এর প্রমাণ হলো আল্লাহর বাণী: "এবং আপনি আপনার নিকটাত্মীয়দের সতর্ক করুন।" অর্থাৎ তারা যেন কেবল তাদের বংশমর্যাদা ও আত্মীয়তার ওপর নির্ভর করে বসে না থাকে এবং তাদের ওপর অর্পিত আবশ্যিক কর্তব্যসমূহ ত্যাগ না করে।(১). দেখুন ১০ম খণ্ড, ১০ পৃষ্ঠা এবং পরবর্তী অংশ, প্রথম বা দ্বিতীয় মুদ্রণ। [ ..... ]