Ash-Shu'ara
আশ-শুআরা: 64
26 আশ-শুআরা Ash-Shu'ara · 227 আয়াত الشعراء
মূল আরবি
وَأَزْلَفْنَا ثَمَّ ٱلْـَٔاخَرِينَ
English Translations
And We advanced thereto the others [i.e., the pursuers].
Then We brought near the others [Fir'aun's (Pharaoh) party] to that place.
Then We brought others close to that place.
We also brought the other party close to the same spot,
Then brought We near the others to that place.
And We made the other party approach thither.
বাংলা অনুবাদ
আমি সেখানে অপর দলটিকে পৌছে দিলাম।
আর আমি অপর দলটিকে সেই জায়গায় নিকটবর্তী করলাম,
আমি সেখানে উপনীত করলাম অপর দলটিকে।
আর আমরা সেখানে কাছে নিয়ে এলাম অন্য দলটিকে,
আমি সেথায় উপনীত করলাম অপর দলটিকে,
৬৪. আর আমি ফিরআউন ও তার সম্প্রদায়কে পরস্পরের নিকটবর্তী করলাম। ফলে তারা সেগুলোকে চলার উপযোগী রাস্তা মনে করে সাগরে ঢুকে পড়লো।
তাফসীর
26:60
আর আমরা সেখানে কাছে নিয়ে এলাম অন্য দলটিকে,
[সূরা আশ-শুআরা (২৬): আয়াত ৫২ থেকে ৬৮] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আশ-শুআরা (২৬): আয়াত ৫২ থেকে ৬৮]আর আমি মূসার প্রতি ওহী পাঠালাম যে, ‘তুমি আমার বান্দাদের নিয়ে রাতে বেরিয়ে পড়ো; নিশ্চয়ই তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে।’ (৫২) অতঃপর ফিরআউন শহরগুলোতে সংগ্রাহক পাঠালো। (৫৩) (সে বলল,) ‘নিশ্চয়ই এরা এক ক্ষুদ্র দল মাত্র।’ (৫৪) ‘এবং নিশ্চয়ই তারা আমাদের রাগান্বিত করেছে।’ (৫৫) ‘আর নিশ্চয়ই আমরা এক সতর্ক দল।’ (৫৬)অতঃপর আমি তাদেরকে উদ্যান ও ঝরণাসমূহ থেকে বের করে দিলাম। (৫৭) এবং ধনভাণ্ডার ও সম্মানজনক স্থানসমূহ থেকেও। (৫৮) এভাবেই; এবং আমি বনী ইসরাঈলকে সেগুলোর উত্তরাধিকারী বানালাম। (৫৯) এরপর তারা সূর্যোদয়কালে তাদের পশ্চাদ্ধাবন করল।
(৬০) যখন উভয় দল পরস্পরকে দেখল, তখন মূসার সাথীরা বলল, ‘নিশ্চয়ই আমরা পাকড়াও হতে যাচ্ছি!’ (৬১)(মূসা) বললেন, ‘কখনোই নয়! নিশ্চয়ই আমার প্রতিপালক আমার সাথে আছেন, তিনি আমাকে পথ প্রদর্শন করবেন।’ (৬২) তখন আমি মূসার প্রতি ওহী পাঠালাম যে, ‘তোমার লাঠি দ্বারা সমুদ্রে আঘাত করো।’ ফলে তা বিভক্ত হয়ে গেল এবং প্রত্যেক ভাগ বিশাল পাহাড়ের মতো হয়ে গেল। (৬৩) আর আমি সেখানে অপর পক্ষকে নিকটবর্তী করলাম। (৬৪) এবং আমি মূসা ও তার সাথে যারা ছিল তাদের সকলকে উদ্ধার করলাম। (৬৫) অতঃপর অপর পক্ষকে নিমজ্জিত করলাম। (৬৬)নিশ্চয়ই এতে রয়েছে একটি নিদর্শন; কিন্তু তাদের অধিকাংশ মুমিন ছিল না।
(৬৭) আর নিশ্চয়ই আপনার প্রতিপালক, তিনি তো পরাক্রমশালী, পরম দয়ালু। (৬৮)মহান আল্লাহর বাণী: (আর আমি মূসার প্রতি ওহী পাঠালাম যে, ‘তুমি আমার বান্দাদের নিয়ে রাতে বেরিয়ে পড়ো; নিশ্চয়ই তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে’)। যেহেতু তাঁর বান্দাদের প্রতি মহান আল্লাহর সুন্নাত হলো যে, তিনি তাঁর বন্ধুদের মধ্য থেকে সেই সত্যনিষ্ঠ মুমিনদের নাজাত দান করেন যারা তাঁর রাসূল ও নবীদের রিসালাতের স্বীকৃতি দেয়, আর তাঁর শত্রুদের মধ্য থেকে সেই কাফিরদের ধ্বংস করেন যারা তাদেরকে মিথ্যাপ্রতিপন্ন করে; তাই তিনি মূসাকে নির্দেশ দিলেন যাতে তিনি বনী ইসরাঈলকে নিয়ে রাতে বের হয়ে যান।
তিনি তাদের ‘আমার বান্দা’ বলে অভিহিত করেছেন কারণ তারা মূসার প্রতি ঈমান এনেছিল। আর ‘নিশ্চয়ই তোমাদের পশ্চাদ্ধাবন করা হবে’ কথাটির অর্থ হলো—ফিরআউন ও তার কওম তোমাদের ফিরিয়ে আনার জন্য তোমাদের অনুসরণ করবে। এই কথার অন্তর্নিহিত মর্ম ছিল তাদেরকে অবগত করা যে, আল্লাহ তাদেরকে তাদের হাত থেকে উদ্ধার করবেন। অতঃপর মূসা (আলাইহিস সালাম) শেষ রাতে বনী ইসরাঈলকে নিয়ে বের হলেন। তিনি সিরিয়া যাওয়ার মূল রাস্তা বাম পাশে রেখে সমুদ্রের দিকে অগ্রসর হলেন। বনী ইসরাঈলের কোনো ব্যক্তি যখন পথ পরিবর্তনের বিষয়ে তাঁকে কিছু জিজ্ঞাসা করত, তখন তিনি বলতেন: ‘আমাকে এভাবেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’ যখন সকাল হলো এবং ফিরআউন বনী ইসরাঈলকে নিয়ে মূসার রাতের সফরের কথা জানতে পারল, তখন সে তাদের পিছু নিল এবং মিশরের শহরগুলোতে সংবাদ পাঠাল যাতে সৈন্যবাহিনী তার সাথে এসে যুক্ত হয়।
বর্ণিত আছে যে, সে যখন তাদের নাগাল পেল, তখন তার সাথে অন্যান্য রঙের ঘোড়া ছাড়াও এক লক্ষ ঘোর কৃষ্ণবর্ণের ঘোড়সওয়ার ছিল। আরও বর্ণিত আছে যে, বনী ইসরাঈল সংখ্যায় ছিল ছয় লক্ষ সত্তর হাজার। এর সত্যতা সম্পর্কে আল্লাহই ভালো জানেন। তবে এই আয়াত থেকে যে বিষয়টি অকাট্যভাবে নিশ্চিত হওয়া যায় তা হলো—মূসা (আলাইহিস সালাম) এক বিশাল জনতা নিয়ে বের হয়েছিলেন...
