Ash-Shu'ara

আশ-শুআরা: 181

26:181
টেক্সট কপি

মূল আরবি

۞ أَوْفُوا۟ ٱلْكَيْلَ وَلَا تَكُونُوا۟ مِنَ ٱلْمُخْسِرِينَ

English Translations

Sahih International

Give full measure and do not be of those who cause loss.

Muhsin Khan

"Give full measure, and cause no loss (to others).

Taqi Usmani

Give full measure, and do not be among those who bring loss to others.

Abul Ala Maududi

Fill up the measure and do not diminish the goods of people,

Pickthall

Give full measure, and be not of those who give less (than the due).

Yusuf Ali

"Give just measure, and cause no loss (to others by fraud).

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

মাপে পূর্ণ মাত্রায় দাও আর যারা মাপে কম দেয় তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না।

রাওয়াই আল-বায়ান

‘মাপ পূর্ণ করে দাও এবং যারা মাপে ঘাটতি করে, তোমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না’।

শাইখ মুজিবুর রহমান

তোমরা মাপে পূর্ণ মাত্রায় দিবে; যারা মাপে কমতি করে তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়োনা।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

‘মাপে পূর্ণ মাত্রায় দেবে; আর যারা মাপে কম দেয় তোমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না

ফাতহুল মাজীদ

মাপে পূর্ণ মাত্রায় দিবে; যারা মাপে কম দেয় তোমরা তাদের অন্ত‎র্ভুক্ত হয়ো না।

মুখতাসার

১৮১. তোমরা বেচা-বিক্রির সময় মাপে পূর্ণ মাত্রায় দাও। তোমরা ওদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না যারা মানুষের কাছে বিক্রির সময় মাপে কম দেয়।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

১৮১-১৮৪ নং আয়াতের তাফসীরহযরত শুআইব (আঃ) ওজন ও মাপ ঠিক করার হিদায়াত করছেন। মাপে ঘাটতি করতে তিনি নিষেধ করছেন। তিনি বলছেনঃ “যখন তোমরা কাউকে কোন জিনিস মেপে দেবে তখন পূর্ণমাত্রায় দেবে, তার প্রাপ্য হতে কম দেবে না। অনুরূপভাবে কারো নিকট থেকে যখন কোন জিনিস নেবে তখন বেশী নেয়ার চেষ্টা করো না। এটা কেমন বিচার যে, নেয়ার সময় বেশী নেবে এবং দেয়ার সময় কম দেবে? লেন-দেন ঠিকভাবে করবে। দাঁড়িপাল্লা সঠিক রাখবে যাতে ওজন সঠিক হয়। ন্যায়ের সাথে ওজন করবে, ডান্ডি মারবে না এবং কম দেবে না।কাউকেও তার জিনিস কম দেবে না। চুরি-ডাকাতি এবং লুটপাট করবে না।

লোকদেরকে ভয় দেখিয়ে তাদের মাল-ধন ছিনিয়ে নেবে না। ঐ আল্লাহর শাস্তিকে তোমরা ভয় করো যিনি তোমাদেরকে ও তোমাদের পূর্ববর্তী সমস্ত লোককে সৃষ্টি করেছেন। যিনি তোমাদের ও তোমাদের বড়দের প্রতিপালক।” এ শব্দটিই। (আরবি) (৩৬:৬২) এই আয়াতেও এই অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। অর্থাৎ “শয়তান তো তোমাদের বহু দলকে বিভ্রান্ত করেছিল।”

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

‘মাপে পূর্ণ মাত্রায় দেবে; আর যারা মাপে কম দেয় তোমরা তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আশ-শুআরা (২৬): আয়াত ১৭৬ থেকে ১৯১] পূর্ণ পৃষ্ঠা

‌[সূরা আশ-শুআরা (২৬): আয়াত ১৭৬ থেকে ১৯১]আইকাবাসীরা রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল (১৭৬) যখন শুআইব তাদের বললেন, ‘তোমরা কি ভয় করবে না?’ (১৭৭) ‘নিশ্চয় আমি তোমাদের জন্য একজন বিশ্বস্ত রাসূল’ (১৭৮) ‘অতএব তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং আমার আনুগত্য করো’ (১৭৯) ‘আমি এর জন্য তোমাদের কাছে কোনো প্রতিদান চাই না; আমার প্রতিদান তো কেবল জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকট রয়েছে’ (১৮০)‘তোমরা মাপে পূর্ণ দাও এবং যারা মাপে কম দেয় তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না’ (১৮১) ‘এবং সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন করো’ (১৮২) ‘এবং মানুষকে তাদের প্রাপ্য বস্তু কম দিও না এবং পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করে ফিরো না’ (১৮৩) ‘এবং ভয় করো তাঁকে, যিনি তোমাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তোমাদের পূর্ববর্তী প্রজন্মকেও’ (১৮৪) তারা বলল, ‘তুমি তো কেবল যাদুগ্রস্তদের একজন’ (১৮৫)‘তুমি আমাদের মতোই একজন মানুষ বৈ নও এবং আমরা অবশ্যই তোমাকে মিথ্যাবাদীদের একজন মনে করি’ (১৮৬) ‘যদি তুমি সত্যবাদী হও, তবে আকাশের কোনো টুকরো আমাদের ওপর ফেলে দাও’ (১৮৭) তিনি বললেন, ‘তোমরা যা করছ সে সম্পর্কে আমার প্রতিপালক সম্যক অবগত’ (১৮৮) অতঃপর তারা তাকে অস্বীকার করল, ফলে মেঘাচ্ছন্ন দিনের শাস্তি তাদের পাকড়াও করল।

নিশ্চয় সেটি ছিল এক ভয়াবহ দিনের শাস্তি (১৮৯) নিশ্চয় এতে নিদর্শন রয়েছে, কিন্তু তাদের অধিকাংশ ঈমান আনয়নকারী ছিল না (১৯০)আর নিশ্চয় তোমার প্রতিপালক, তিনি তো মহাপরাক্রমশালী, পরম দয়ালু (১৯১)আল্লাহ তাআলার বাণী: (আইকাবাসীরা রাসূলগণকে অস্বীকার করেছিল)। ‘আইক’ অর্থ ঘন ডালপালাযুক্ত প্রচুর গাছপালা, যার একবচন হলো ‘আইকাহ’। যারা ‘আসহাবুল আইকাহ’ পাঠ করেছেন, তাদের নিকট এর অর্থ হলো গভীর বন। আর যারা ‘লাইকাহ’ পাঠ করেছেন, তাদের মতে এটি জনপদের নাম। বলা হয়ে থাকে যে, এই দুটি শব্দ ‘বক্কা’ ও ‘মক্কা’র মতো; আল-জাওহারী এটি উল্লেখ করেছেন। আন-নাহহাস বলেন: আবু জাফর ও নাফি' ‘কাদযযাবা আসহাবু লাইকাতা’ পাঠ করেছেন এবং সূরা ‘সোয়াদ’-এও অনুরূপ পড়েছেন।

তবে সকল ক্বারী সূরা ‘হিজর’ এবং সূরা ‘ক্বাফ’-এ শব্দটির শেষে ‘জের’ দিয়ে পড়ার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। সুতরাং যে স্থানে তারা মতভেদ করেছেন, সেটিকে সেই পাঠের দিকেই ফিরিয়ে নেয়া উচিত যেটিতে তারা ঐক্যমত পোষণ করেছেন, যেহেতু উভয়ের অর্থ এক। আর আবু উবায়দ যা বর্ণনা করেছেন—যে ‘লাইকাহ’ হলো সেই জনপদের নাম যেখানে তারা বাস করত এবং ‘আল-আইকাহ’ হলো দেশের নাম—তা প্রমাণিত নয় এবং এটি এমন কারো থেকে বর্ণিত হয়নি যার কথা নির্ভরযোগ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। যদি এর প্রবক্তা সম্পর্কে জানাও যেত, তবুও তা পর্যালোচনার বিষয় হতো; কারণ তাফসীর বিশেষজ্ঞ এবং আরবী ভাষাবিদগণ সর্বসম্মতভাবে এর বিপরীত মত পোষণ করেছেন।