As-Saffat
আস-সাফফাত: 123
37 আস-সাফফাত As-Saffat · 182 আয়াত الصافات
মূল আরবি
وَإِنَّ إِلْيَاسَ لَمِنَ ٱلْمُرْسَلِينَ
English Translations
And indeed, Elias was from among the messengers,
And verily, Iliyas (Elias) was one of the Messengers.
And surely, Ilyās is one of the messengers.
Surely, Elias too was among the Messengers.
And lo! Elias was of those sent (to warn),
So also was Elias among those sent (by Us).
বাংলা অনুবাদ
ইলিয়াসও ছিল অবশ্যই রসূলদের একজন।
আর ইলইয়াসও ছিল রাসূলদের একজন।
ইলিয়াসও ছিল রাসূলদের একজন।
আর নিশ্চয় ইলইয়াস ছিলেন রাসূলগণের একজন।
আর নিঃসন্দেহে ইলিয়াসও ছিলেন রাসূলদের মধ্যে অন্যতম।
১২৩. আর ইলিয়াস (আলাইহিস-সালাম) স্বীয় প্রতিপালকের পক্ষ থেকে প্রেরিত ছিলেন। আল্লাহ তাঁকে নবুওয়াত ও রিসালত দ্বারা ধন্য করেছেন।
তাফসীর
১২৩-১৩২ নং আয়াতের তাফসীর: হযরত কাতাদা (রঃ) ও মুহাম্মাদ ইবনে ইসহাক (র) বলেনঃ “বলা হয় যে, ইলিয়াস ছিল হযরত ইদরীস (আঃ)-এর নাম। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেন যে, ইলিয়াসই ছিলেন ইদরীস (আঃ)। যহাক (রঃ) বলেন যে, আল্লাহ তা'আলা হযরত হাকীল নবী (আঃ)-এর পরে তাঁকে বানী ইসরাঈলের মধ্যে প্রেরণ করেন। বানী ইসরাঈল ঐ সময় ‘বা'আল’ নামক মূর্তির পূজা। করতো। হযরত ইলিয়াস (আঃ) তাদেরকে আল্লাহর দিকে ডাকলেন এবং আল্লাহ ছাড়া অন্যের উপাসনা করতে নিষেধ করলেন। তাদের বাদশাহ তা কবুল করে নেয়। কিন্তু পরে সে মুরতাদ (ধর্মত্যাগী) হয়ে যায়। অতঃপর তারা সবাই ভ্রান্ত পথেই রয়ে যায়।
তাদের কেউই তার উপর ঈমান আনলো না। আল্লাহর নবী (আঃ) তাদের উপর বদ দূআ করেন। ফলে তিন বছর ধরে সেখানে বৃষ্টিপাত বন্ধ তাকে। তখন তারা সবাই হযরত ইলিয়াস (আঃ)-এর কাছে এসে বলেঃ “আপনি দুআ করুন! আমাদের উপর বৃষ্টিপাত হলেই আমরা কসম করে বলছি যে, আমরা ঈমান আনয়ন করবো।” হযরত ইলিয়াস (আঃ)-এর দু'আর ফলে আল্লাহ তাদের উপর বৃষ্টি বর্ষণ করলেন। কিন্তু এর পরেও তারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করে কুফরীর উপরই অটল থেকে গেল। তাদের এ আচরণ দেখে হযরত ইলিয়াস (আঃ) আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করলেন যে, তাঁকে যেন আকাশে উঠিয়ে নেয়া হয়। হযরত ইয়াসা ইবনে উখতূব (আঃ) তাঁর নিকটই লালিত পালিত হয়েছিলেন।
হযরত ইলিয়াস (আঃ)-এর এই দু’আর পর তাকে নির্দেশ দেয়া হলো যে, তিনি যেন অমুক নির্দিষ্ট স্থানে গমন করেন এবং সেখানে যে যানবাহন পাবেন তাতেই যেন আরোহণ করেন। যথাস্থানে পৌঁছে তিনি নূরের একটি ঘোড়া দেখতে পান এবং তাতেই আরোহণ করেন। আল্লাহ তাকেও জ্যোতির্ময় করলেন এবং পাখা প্রদান করলেন। তিনি ফেরেশতাদের সাথে স্বীয় পাখার উপর ভর করে উড়তে লাগলেন। এই ভাবে একজন মানুষ আসমানী ও যমীনী ফেরেশতায় পরিণত হয়ে গেলেন। (অহাব ইবনে মুনাব্বাহ (রঃ) আহলে কিতাব হতে এটা বর্ণনা করেছেন। এসব ব্যাপারে সঠিক জ্ঞানের অধিকারী একমাত্র আল্লাহ)মহান আল্লাহ বলেন যে, ইলিয়াস (আঃ) স্বীয় সম্প্রদায়কে বললেনঃ “তোমরা কি আল্লাহকে ভয় কর না যে, তাকে ছেড়ে অন্যের উপাসনা কর?” হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, (আরবী) অর্থ হলো ‘রব’ বা প্রতিপালক।
ইকরামা (রঃ) বলেন যে, এটা ইয়ামনীদের ভাষা। কাতাদা (রঃ) বলেন যে, এটা ইযদ শানুআদের ভাষা। ইবনে ইসহাক (রঃ) বলেন:“আমাকে সংবাদ দেয়া হয়েছে যে, তারা একটি মহিলার মূর্তির পূজা করতো। তার নাম ছিল বা'আল। আবদুর রহমান (রঃ) বলেন যে, ওটা একটা মূর্তি ছিল। শহরবাসীরা ওর পূজা করতো। ঐ শহরের নামও ছিল বাআলাক'। হযরত ইলিয়াস (আঃ) তাদেরকে বললেনঃ “তোমরা সকলের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহকে ছেড়ে মূর্তিপূজায় লিপ্ত হয়েছে? অথচ আল্লাহ তো তোমাদের ও তোমাদের পূর্বপুরুষদের সৃষ্টিকর্তা এবং প্রতিপালক। একমাত্র তিনিই তো ইবাদতের যোগ্য।" প্রবল প্রতাপান্বিত আল্লাহ বলেনঃ “কিন্তু তারা তাকে মিথ্যাবাদী বলেছিল, কাজেই তাদেরকে অবশ্যই শাস্তির জন্যে উপস্থিত করা হবে।
তবে আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দাদের কথা স্বতন্ত্র ।” তাদেরকে তিনি রক্ষা করবেন। আল্লাহ তা'আলার বাণীঃ আমি ইলিয়াস (আঃ)-এর জন্যে পরবর্তী লোকদের উত্তম প্রশংসা প্রচলিত রেখেছি যে, প্রত্যেক মুসলমান তার উপর দরূদ ও সালাম প্রেরণ করে থাকে।(আরবী) শব্দের দ্বিতীয় রূপ (আরবী) রয়েছে। যেমন (আরবী) কে (আরবী) বলা হয়। এটা বানু আসাদ গোত্রের ভাষা। অনুরূপভাবে (আরবী) -কে (আরবী) এবং (আরবী) কে (আরবী) বলা হয়ে থাকে। ফল কথা, এটা আরবে সুপ্রচলিত শব্দ। হযরত ইবনে মাসউদ (রাঃ)-এর এক কিরআতে (আরবী) পড়া হয়েছে। অর্থাৎ (আরবী) বা মুহাম্মাদ (সঃ)-এর বংশধর। মহান আল্লাহ বলেনঃ “এই ভাবে আমি সৎকর্মশীলদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি।
নিশ্চয়ই সে ছিল আমার মুমিন বান্দাদের অন্যতম।” এর তাফসীর পূর্বেই গত হয়েছে। এসব ব্যাপারে আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।
আর নিশ্চয় ইলইয়াস ছিলেন রাসূলদের একজন [১]।
[১] কাতাদা বলেন, ইলইয়াস ও ইন্দ্রীস একই ব্যক্তি। [তাবারী] অন্যদের নিকট তাদের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। [ইবন কাসীর] সে মতে তিনি ছিলেন, ইলইয়াস ইবনে ফিনহাস ইবনে আইযার ইবনে হারূন ইবনে ইমরান। তারা বালি নামীয় এক মূর্তির পূজা করত। তিনি তাদেরকে তা থেকে নিষেধ করেন। কিন্তু তারা তা থেকে বিরত হয় না। [ইবন কাসীর]
[সূরা আস-সাফফাত (৩৭): আয়াত ১২৩ থেকে ১৩২] পূর্ণ পৃষ্ঠা
[সূরা আস-সাফফাত (৩৭): আয়াত ১২৩ থেকে ১৩২]আর নিশ্চয় ইলিয়াস ছিলেন রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত। (১২৩) যখন তিনি তাঁর কওমকে বললেন, "তোমরা কি তাকওয়া অবলম্বন করবে না?" (১২৪) "তোমরা কি 'বাল' দেবতার পূজা করছ এবং সর্বোত্তম স্রষ্টাকে বর্জন করছ?" (১২৫) "আল্লাহ তোমাদের প্রতিপালক এবং তোমাদের পূর্বপুরুষদেরও প্রতিপালক।" (১২৬) কিন্তু তারা তাকে অস্বীকার করল, ফলে তারা অবশ্যই (শাস্তির জন্য) উপস্থিত করা হবে। (১২৭)আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দাগণ ব্যতীত। (১২৮) এবং আমরা পরবর্তীদের মধ্যে তার সুখ্যাতি বজায় রেখেছি। (১২৯) ইলিয়াসীন-এর ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।
(১৩০) এভাবেই আমরা সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করে থাকি। (১৩১) নিশ্চয় তিনি ছিলেন আমাদের মুমিন বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত। (১৩২)মহান আল্লাহর বাণী: "আর নিশ্চয় ইলিয়াস ছিলেন রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত।" মুফাসসিরগণ বলেন: ইলিয়াস ছিলেন বনী ইসরাঈলের একজন নবী। ইবনে মাসউদ (রাযিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন: ইসরাঈল হলেন ইয়াকুব এবং ইলিয়াস হলেন ইদরীস। তিনি কিরাত পাঠ করতেন: "আর নিশ্চয় ইদরীস..." এবং ইকরিমাও একই কথা বলেছেন। তিনি আরও বলেন: আব্দুল্লাহ (ইবনে মাসউদ)-এর মাসহাফে এটি এভাবে আছে: "আর নিশ্চয় ইদরীস ছিলেন রাসূলগণের অন্তর্ভুক্ত।" তবে তিনি এই মতটিতে একক ছিলেন।
ইবনে আব্বাস (রাযিয়াল্লাহু আনহুমা) বলেন: তিনি ছিলেন আল-ইয়াসা'-এর চাচা। ইবনে ইসহাক ও অন্যান্যরা বলেন: ইউশার পরে বনী ইসরাঈলের বিষয়াদি পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন কালিব ইবনে ইউক্বনা, তারপর হিযকীল। অতঃপর যখন আল্লাহ নবী হিযকীলকে উঠিয়ে নিলেন, তখন বনী ইসরাঈলের মধ্যে ফিতনা-ফাসাদ বেড়ে গেল, তারা আল্লাহর অঙ্গীকার ভুলে গেল এবং তাঁকে বাদ দিয়ে মূর্তিপূজা শুরু করল। তখন আল্লাহ তাদের কাছে নবী হিসেবে ইলিয়াসকে পাঠালেন এবং আল-ইয়াসা' তাঁর অনুসরণ করলেন ও তাঁর প্রতি ঈমান আনলেন। যখন বনী ইসরাঈল তাঁর প্রতি অবাধ্যতা প্রদর্শন করল, তখন তিনি তাঁর প্রতিপালকের কাছে দোয়া করলেন যেন তিনি তাদের থেকে তাঁকে মুক্তি দেন।
তখন তাঁকে বলা হলো: অমুক অমুক দিনে অমুক অমুক স্থানে বেরিয়ে যাও, তোমার সামনে যা কিছু আসবে তাতে আরোহণ করো এবং ভয় পেয়ো না। তিনি বের হলেন এবং তাঁর সাথে আল-ইয়াসা'ও ছিলেন। আল-ইয়াসা' বললেন: হে ইলিয়াস, আপনি আমাকে কী আদেশ করেন? তখন তিনি উচ্চাকাশ থেকে তাঁর চাদরটি নিচের দিকে নিক্ষেপ করলেন। এটি ছিল বনী ইসরাঈলের ওপর তাঁকে (আল-ইয়াসা'কে) তাঁর স্থলাভিষিক্ত করার প্রতীক। এবং এটাই ছিল তাঁর সাথে শেষ সাক্ষাৎ। আল্লাহ ইলিয়াসের পানাহারের স্বাদ রহিত করে দিলেন, তাকে পালক দিয়ে আবৃত করলেন এবং নূর বা জ্যোতি পরিধান করালেন। অতঃপর তিনি ফেরেশতাদের সাথে উড়তে থাকলেন।
ফলে তিনি মানুষ হওয়া সত্ত্বেও ফেরেশতাসুলভ এবং আসমানি হওয়া সত্ত্বেও জমিনবাসী হয়ে রইলেন। ইবনে কুতায়বা বলেন: আল্লাহ তাআলা ইলিয়াসকে বলেছিলেন: "আমার কাছে চাও, আমি তোমাকে দান করব।" তিনি বললেন: "আপনি আমাকে আপনার কাছে তুলে নিন এবং আমার থেকে মৃত্যুর স্বাদ পিছিয়ে দিন।" এরপর তিনি ফেরেশতাদের সাথে উড়তে থাকলেন। কেউ কেউ বলেন: তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন এবং মৃত্যুর পদধ্বনি অনুভব করে কাঁদছিলেন। তখন আল্লাহ তাঁর কাছে ওহি পাঠালেন: "তুমি কেন কাঁদছ? দুনিয়ার প্রতি লোভের কারণে, নাকি মৃত্যুর ভয়ে, নাকি আগুনের আতঙ্কে?" তিনি বললেন: "না, আপনার ইজ্জতের কসম, এগুলোর কোনোটিই নয়।
আমার আকুলতা তো কেবল এজন্য যে, আমার পরে প্রশংসাকারীরা আপনার প্রশংসা করবে অথচ আমি করব না! তারা আপনাকে স্মরণ করবে..."(১). কোনো কোনো মুফাসসির বলেছেন, তিনি ছিলেন আল-ইয়াসা'-এর চাচাতো ভাই। [ ..... ]
