As-Saffat
আস-সাফফাত: 171
37 আস-সাফফাত As-Saffat · 182 আয়াত الصافات
মূল আরবি
وَلَقَدْ سَبَقَتْ كَلِمَتُنَا لِعِبَادِنَا ٱلْمُرْسَلِينَ
English Translations
And Our word [i.e., decree] has already preceded for Our servants, the messengers,
And, verily, Our Word has gone forth of old for Our slaves, the Messengers,
And Our Word has already come to pass in favor of Our servants, the messengers
We have already given Our promise to Our Messengers
And verily Our word went forth of old unto Our bondmen sent (to warn)
Already has Our Word been passed before (this) to our Servants sent (by Us),
বাংলা অনুবাদ
আমার প্রেরিত বান্দাহদের সম্পর্কে আমার এ কথা আগেই বলা আছে যে,
আর নিশ্চয় আমার প্রেরিত বান্দাদের জন্য আমার কথা পূর্ব নির্ধারিত হয়েছে যে,
আমার প্রেরিত বান্দাদের সম্পর্কে আমার এই বাক্য পূর্বেই স্থির হয়েছে যে,
আর অবশ্যই আমাদের প্রেরিত বান্দাদের সম্পর্কে আমাদের এ বাক্য আগেই স্থির হয়েছে যে,
আমার বান্দাদের মধ্যে রাসূলদের সম্পর্কে আমার এ কথা আগেই নির্ধারিত হয়েছে যে,
১৭১-১৭৩. আমার রাসূলদের ক্ষেত্রে আমার প্রত্যাহার ও রদবদলমুক্ত ফয়সালা ইতিপূর্বেই হয়ে গেছে যে, তাঁরাই আল্লাহ প্রদত্ত প্রমাণ ও ক্ষমতা বলে স্বীয় শত্রুদের উপর বিজয়ী হবেন। আর বিজয় আমার বাহিনীর জন্যই। যারা আল্লাহর বাণীকে উড্ডীন করার নিমিত্তে তাঁর পথে যুদ্ধ করে।
তাফসীর
১৭১-১৭৯ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ আমি পূর্ববর্তী কিতাবসমূহেও লিপিবদ্ধ করেছি এবং পূর্ববর্তী নবীদের (আঃ) মাধ্যমেও দুনিয়াবাসীকে শুনিয়ে দিয়েছি যে, দুনিয়া ও আখিরাতে আমার রাসূল ও তাদের অনুসারীদের পরিণামই হবে উত্তম। যেমন তিনি অন্য জায়গায় বলেছেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “আল্লাহ্ লিপিবদ্ধ করে রেখেছেনঃ অবশ্যই আমি ও আমার রাসূলরাই জয়যুক্ত থাকবো, নিশ্চয়ই আল্লাহ্ শক্তিশালী ও মহা পরাক্রমশালী ।”(৫৮:২১) আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “নিশ্চয়ই আমি আমার রাসূলদেরকে ও মুমিনদেরকে সাহায্য করবো পার্থিব জীবনে এবং যেদিন সাক্ষীরা দণ্ডায়মান হবে।” (৪০:৫১) এখানেও মহান আল্লাহ্ ঐ কথাই বলেনঃ আমার রাসূলদের সাথে আমার এই ওয়াদা হয়ে গেছে যে, অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে।
আমি নিজেই তাদেরকে সাহায্য করবো। তুমি তো জান যে, কিভাবে তাদের শত্রুদেরকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে। তুমি মনে রেখো যে, আমার বাহিনীই হবে বিজয়ী। তুমি একটা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত ধৈর্য সহকারে তাদের ব্যাপারটা দেখতে থাকো। তাদের দেয়া কষ্ট সহ্য করে যাও। তুমি তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করতে থাকো যে, কিভাবে আল্লাহ তাদেরকে পাকড়াও করবেন এবং কিভাবে তারা হবে অপমানিত ও লাঞ্ছিত! তারা নিজেরাও শীঘ্রই তা প্রত্যক্ষ করবে।বড়ই বিস্ময়ের ব্যাপার যে, তারা বিভিন্ন প্রকারের ছোট ছোট আযাবের শিকার হওয়া সত্ত্বেও এখনো বড় আযাবকে অসম্ভব মনে করতে রয়েছে!
আর বলছে যে, ঐ আযাব কখন আসবে? তাই তাদেরকে জবাবে বলা হচ্ছেঃ তাদের আঙিনায় যখন শাস্তি নেমে আসবে ওটা তাদের জন্যে খুবই কঠিন দিন হবে। তাদেরকে সেদিন সমূলে ধ্বংস করে দেয়া হবে।সহীহ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিমে হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) অতি প্রত্যুষে খায়বারের মাঠে উপস্থিত হন। জনগণ অভ্যাসমত চাষের যন্ত্রপাতি নিয়ে শহর হতে বের হয়েছে। হঠাৎ তারা আল্লাহর সেনাবাহিনী দেখে পালিয়ে যায় এবং শহরবাসীকে খবর দেয়। ঐ সময় রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলে ওঠেনঃ “আল্লাহ্ বড়ই মহান। খায়বারবাসীর জন্যে বড়ই বিপদ। যখন আমরা কোন কওমের ময়দানে অবতরণ করি তখন ঐ সতর্কিকৃতদের বড়ই দুর্গতি হয়ে থাকে।”পুনরায় মহান আল্লাহ্ স্বীয় নবী (সঃ)-কে জোর দিয়ে বলেনঃ হে নবী (সাঃ)!
কিছুকালের জন্যে তুমি তাদেরকে উপেক্ষা করতে থাকো এবং তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করে যাও। শীঘ্রই তারা নিজেরাও (তাদের দুর্গতি) প্রত্যক্ষ করবে।
আর অবশ্যই আমাদের প্রেরিত বান্দাদের সম্পর্কে আমাদের এ বাক্য আগেই স্থির হয়েছে যে,
[সূরা আস-সাফফাত (৩৭): আয়াত ১৭১ থেকে ১৭৯] পূর্ণ পৃষ্ঠা
তারা বলেন: "ইন" শব্দটি "মা" (না-বোধক) এবং "লাম" বর্ণটি "ইল্লা" (ব্যতীত) অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আরও বলা হয়েছে: "যদি আমাদের নিকট কোনো উপদেশ আসত" এর অর্থ হলো—পূর্ববর্তী নবীগণের কিতাবসমূহের মধ্য থেকে কোনো কিতাব। "তবে আমরা অবশ্যই আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা হতাম" অর্থাৎ, যদি আমাদের নিকট তেমন কোনো উপদেশ আসত যেমনটি পূর্ববর্তীদের নিকট এসেছিল, তবে আমরা কেবল আল্লাহর জন্যই ইবাদতকে একনিষ্ঠ করতাম। "অতঃপর তারা তা অস্বীকার করল" অর্থাৎ এই উপদেশকে। আল-ফাররা এর ব্যাখ্যায় একটি উহ্য বিষয় ধরেছেন, তা হলো—অতঃপর মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) তাদের নিকট উপদেশ নিয়ে আসলেন, কিন্তু তারা তা অস্বীকার করল।
এটি তাদের আচরণের প্রতি বিস্ময় প্রকাশস্বরূপ; অর্থাৎ, তাদের নিকট একজন নবী আসলেন এবং তাদের নিকট এমন একটি কিতাব অবতীর্ণ হলো যাতে তাদের প্রয়োজনীয় সবকিছুর সুস্পষ্ট বর্ণনা ছিল, তবুও তারা তা অস্বীকার করল এবং আগে যা বলেছিল তা পূর্ণ করল না। "অচিরেই তারা জানতে পারবে।" আয-যাজ্জাজ বলেন: তারা তাদের কুফরির অশুভ পরিণাম জানতে পারবে। [সূরা আস-সাফফাত (৩৭): আয়াত ১৭১ থেকে ১৭৯]আমার প্রেরিত বান্দাদের ব্যাপারে আমার কথা ইতিপূর্বেই সাব্যস্ত হয়েছে যে (১৭১), অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে (১৭২), আর আমার বাহিনীই হবে বিজয়ী (১৭৩)। অতএব আপনি কিছুকালের জন্য তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন (১৭৪)।
আর তাদের পর্যবেক্ষণ করুন, অচিরেই তারা তা দেখতে পাবে (১৭৫)।তারা কি তবে আমার আযাব ত্বরান্বিত করতে চায় (১৭৬)? কিন্তু যখন তা তাদের আঙিনায় আপতিত হবে, তখন সতর্কীকৃতদের সকাল হবে কতই না মন্দ (১৭৭)! আর আপনি কিছুকালের জন্য তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন (১৭৮)। আর দেখতে থাকুন, অচিরেই তারা দেখতে পাবে (১৭৯)।মহান আল্লাহর বাণী: "আমার প্রেরিত বান্দাদের ব্যাপারে আমার কথা ইতিপূর্বেই সাব্যস্ত হয়েছে।" আল-ফাররা বলেন: অর্থাৎ সৌভাগ্যের ব্যাপারে। আবার বলা হয়েছে: এখানে 'কথা' বলতে মহান আল্লাহর এই বাণীকে বোঝানো হয়েছে: "আল্লাহ লিখে রেখেছেন যে, অবশ্যই আমি ও আমার রাসূলগণ বিজয়ী হব" [আল-মুজাদালাহ: ২১]।
হাসান বলেন: শরীয়তপ্রাপ্ত রাসুলদের মধ্যে কাউকে কখনও হত্যা করা হয়নি। "অবশ্যই তারা সাহায্যপ্রাপ্ত হবে" অর্থাৎ, দলিল-প্রমাণ ও বিজয়ের মাধ্যমে তাদের সাহায্য করার যে প্রতিশ্রুতি, তা ইতিপূর্বেই অতিক্রান্ত হয়েছে। "আর আমার বাহিনীই হবে বিজয়ী"এটি অর্থের দিক বিবেচনা করে বলা হয়েছে (বহুবচনে), যদি শব্দের গঠন অনুযায়ী হতো তবে তা একবচনে হতো, যেমনটি হয়েছে: "সেখানে সম্মিলিত দলসমূহের এমন এক বাহিনী রয়েছে যারা পরাজিত হবে" [ছোয়াদ: ১১]। শায়বানী বলেন: এখানে এটি বহুবচন রূপে এসেছে যেহেতু এটি আয়াতের অন্ত্যমিল। মহান আল্লাহর বাণী: "অতএব আপনি তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন" অর্থাৎ তাদের উপেক্ষা করুন।
"কিছুকালের জন্য"—কাতাদাহ বলেন: মৃত্যু পর্যন্ত। আয-যাজ্জাজ বলেন: তাদের যে সময় পর্যন্ত অবকাশ দেওয়া হয়েছে সে সময় পর্যন্ত। ইবনে আব্বাস বলেন: এর অর্থ হলো বদর যুদ্ধে তাদের নিহত হওয়া পর্যন্ত। কেউ কেউ বলেন এর অর্থ হলো মক্কা বিজয়। আবার বলা হয়েছে: এই আয়াতটি 'তলোয়ারের আয়াত' দ্বারা রহিত হয়ে গেছে। "আর তাদের পর্যবেক্ষণ করুন, অচিরেই তারা দেখতে পাবে।" কাতাদাহ বলেন: তারা তখন দেখতে পাবে যখন দেখা তাদের কোনো উপকারে আসবে না। আর আল্লাহর পক্ষ থেকে 'হয়তো' বা 'অচিরেই' শব্দগুলো নিশ্চয়তা প্রকাশ করে। এখানে 'দেখা' শব্দটির মাধ্যমে বিষয়ের নিকটবর্তী হওয়াকে বোঝানো হয়েছে, অর্থাৎ অচিরেই তারা দেখতে পাবে।
কেউ কেউ বলেন: এর অর্থ হলো তারা শাস্তিকে দেখতে পাবে সেদিন...
