As-Saffat

আস-সাফফাত: 180

37:180
টেক্সট কপি

মূল আরবি

سُبْحَـٰنَ رَبِّكَ رَبِّ ٱلْعِزَّةِ عَمَّا يَصِفُونَ

English Translations

Sahih International

Exalted is your Lord, the Lord of might, above what they describe.

Muhsin Khan

Glorified be your Lord, the Lord of Honour and Power! (He is free) from what they attribute unto Him!

Taqi Usmani

Pure is your Lord, the Lord of all might and honor, from what they describe

Abul Ala Maududi

Exalted be your Lord, the Lord of Glory, above what they attribute to Him,

Pickthall

Glorified be thy Lord, the Lord of Majesty, from that which they attribute (unto Him)

Yusuf Ali

Glory to thy Lord, the Lord of Honour and Power! (He is free) from what they ascribe (to Him)!

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

সকল সম্মান ও ক্ষমতার রব্ব, তোমার প্রতিপালক পবিত্র ও মহান সে সকল কথাবার্তা হতে যা তারা আরোপ করে।

রাওয়াই আল-বায়ান

তারা যা ব্যক্ত করে তোমার রব তা থেকে পবিত্র মহান, সম্মানের মালিক।

শাইখ মুজিবুর রহমান

তারা যা আরোপ করে তা হতে পবিত্র ও মহান তোমার রাব্ব, যিনি সকল ক্ষমতার অধিকারী।

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

তারা যা আরোপ করে, তা থেকে পবিত্র ও মহান আপনার রব, সকল ক্ষমতার অধিকারী।

ফাতহুল মাজীদ

তারা যা বলে থাকে তা থেকে তোমার‎ প্রতিপালক পবিত্র মহিমান্বিত সকল ক্ষমতার অধিকারী।

মুখতাসার

১৮০. হে মুহাম্মদ! আপনার প্রতিপালক মুশরিকদের ক্রুটিপূর্ণ আখ্যা থেকে বহু উর্দ্ধে ও পবিত্র।

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

১৮০-১৮২ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ্ তা'আলা সেই সমুদয় বিষয় হতে নিজের পবিত্রতা বর্ণনা করছেন যেগুলো যালিম ও মিথ্যাবাদী মুশরিকরা তাঁর প্রতি আরোপ করে থাকে। যেমন তারা বলে যে, আল্লাহর সন্তান আছে ইত্যাদি। আল্লাহ্ তা'আলা অতি মহান এবং এমন মর্যাদার অধিকারী যা কখনো নষ্ট হবার নয়। ঐ মিথ্যাবাদী ও মিথ্যারোপকারী মুশরিকদের অপবাদ হতে তিনি সম্পূর্ণরূপে মুক্ত ও পবিত্র। আল্লাহর রাসূলদের (আঃ) প্রতি শান্তি বর্ষিত হোক। কেননা, তাঁদের কথাগুলো ঐসব দোষ হতে মুক্ত যেসব দোষ মুশরিকদের কথাগুলোর মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। নবীরা যেসব কথা বলেন এবং তারা মহান আল্লাহর সত্তার যে শাবলী বর্ণনা করে থাকেন সেগুলো সবই সঠিক ও সত্য।

তাঁর সত্তার জন্যেই প্রশংসা শোভনীয়। দুনিয়া ও আখিরাতে শুরুতে ও শেষে প্রশংসা একমাত্র তাঁরই প্রাপ্য। সর্বাবস্থায়ই প্রশংসা প্রাপ্তির যোগ্য শুধুমাত্র তিনিই। তাঁর মহিমা ঘোষণা দ্বারা সর্ব প্রকারের ক্ষতি তাঁর পবিত্র সত্তা হতে দূর প্রমাণিত হয়। তাহলে এটা অতি আবশ্যকীয় যে, সর্বপ্রকারের পূর্ণতা তাঁর একক সত্তার মধ্যে থাকবে। এটাকেই পরিষ্কার ভাষায় হামদ বা প্রশংসা দ্বারা সাব্যস্ত করা হয়েছে, যাতে ক্ষতিসমূহ না সূচক হয় এবং পূর্ণতা হ্যা সূচক হয়। কুরআন কারীমের বহু আয়াতে তাসবীহ্ ও হামদের একই সাথে বর্ণনা দেয়া হয়েছে।হযরত কাতাদা (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যখন তোমরা আমার উপর সালাম পাঠাবে তখন অন্যান্য নবীদের উপরও সালাম পাঠাবে।

কেননা, তাঁদেরই মধ্যে আমিও একজন নবী।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন। মুসনাদে আহমাদেও এটা বর্ণিত আছে)হযরত আবু সাঈদ (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) যখন সালামের ইচ্ছা করতেন তখন এই আয়াত তিনটি পড়ে সালাম করতেন। (এ হাদীসটি হাফিয আবু ইয়ালা (রঃ) বর্ণনা করেছেন। কিন্তু এর ইসনাদ দুর্বল)হযরত শা’বী (রঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি কিয়ামতের দিন পরিমাপ যন্ত্র ভর্তি পুণ্য লাভ করতে চায় সে যেন কোন মজলিস হতে উঠে যাওয়ার সময় এই আয়াত তিনটি পাঠ করে।” (এ হাদীসটি ইবনে আবি হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন।

মুসনাদে আহমাদে এ রিওয়াইয়াতটি হযরত আলী (রাঃ) হতে মাওকুফরূপে বর্ণিত হয়েছে)ইমাম তিবরানী (রঃ)-এর হাদীস গ্রন্থে হযরত আরকাম (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ্ বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয নামাযের পরে এ আয়াত তিনটি তিনবার পাঠ করবে সে পরিমাপ যন্ত্র ভরে ভরে পুণ্য লাভ করবে।”মজলিসের কাফফারার ব্যাপারে বহু হাদীসে নিম্নোক্ত কালেমাটি পাঠ করার কথা এসেছেঃ (আরবী) অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আমি আপনার পবিত্রতা ঘোষণা করছি এবং আপনার প্রশংসা করছি। আপনি ছাড়া কোন মাবুদ নেই। আপনার নিকট আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি ও আপনার নিকট তাওবা করছি।” এই মাসআলার উপর আমি একটি স্বতন্ত্র কিতাব লিখেছি।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

তারা যা আরোপ করে, তা থেকে পবিত্র ও মহান আপনার রব, সকল ক্ষমতার অধিকারী।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আস-সাফফাত (৩৭): আয়াত ১৮০ থেকে ১৮২] পূর্ণ পৃষ্ঠা

কিয়ামত। "তবে কি তারা আমাদের শাস্তিকে ত্বরান্বিত করতে চায়?" তাদের চরম মিথ্যাচারের দরুন তারা বলত যে, এই শাস্তি কখন আসবে? অর্থাৎ তোমরা একে দ্রুত চেয়ো না, কারণ এটি তোমাদের ওপর আপতিত হবেই। মহান আল্লাহর বাণী: "অতঃপর যখন তা তাদের আঙিনায় অবতরণ করবে" অর্থাৎ যখন শাস্তি আসবে। আল-যাজ্জাজ বলেছেন: এদের শাস্তি ছিল হত্যার মাধ্যমে। আল-সুদ্দী ও অন্যান্যদের মতে, "তাদের আঙিনায়" অর্থ তাদের বসতবাড়িতে। ভাষাগতভাবে 'সাহাহ' এবং 'সাহসাহ' বলতে গৃহের প্রশস্ত আঙিনাকে বোঝায়। আল-ফাররা বলেন: "তাদের আঙিনায় অবতরণ করল" এবং "তাদের ওপর অবতরণ করল" একই কথা।

"সতর্কীকৃতদের প্রভাত কতই না মন্দ" অর্থাৎ যাদেরকে শাস্তির মাধ্যমে সতর্ক করা হয়েছিল, তাদের ভোর কতই না নিকৃষ্ট। এখানে একটি উহ্য ভাব রয়েছে, তা হলো—প্রভাতে তাদের যে অবস্থা হবে তা হবে অত্যন্ত মন্দ। এখানে প্রভাতকে নির্দিষ্ট করে উল্লেখ করা হয়েছে, কারণ শাস্তি সাধারণত সেই সময়েই তাদের নিকট আসত। এই প্রসঙ্গে আনাস (রা.) হতে বর্ণিত হাদীস রয়েছে, তিনি বলেন: যখন রাসূলুল্লাহ (সা.) খয়বরে আসলেন, তখন তারা (খয়বরবাসী) তাদের কোদাল নিয়ে খামারের দিকে বের হচ্ছিল। তারা বলল: মুহাম্মদ ও তাঁর সৈন্যবাহিনী। তখন তারা তাদের দুর্গের দিকে ফিরে গেল। রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন: "আল্লাহু আকবার, খয়বর ধ্বংস হয়েছে!

যখন আমরা কোনো জাতির আঙিনায় অবতরণ করি, তখন সতর্কীকৃতদের প্রভাত কতই না মন্দ হয়।" এটি "অতঃপর যখন তা তাদের আঙিনায় অবতরণ করবে" আয়াতের অর্থ পরিষ্কার করে, যার দ্বারা নবী (সা.) নিজেকে উদ্দেশ্য করেছেন। "এবং আপনি কিছু সময়ের জন্য তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিন" – আয়াতটি পুনরায় উল্লেখ করা হয়েছে তাকিদ বা গুরুত্ব প্রদানের জন্য। একইভাবে "এবং লক্ষ্য করুন, শীঘ্রই তারা দেখতে পাবে" – এটিও তাকিদ বা তড়িৎ পরিণাম বুঝানোর জন্য। ‌‌[সূরা আস-সাফফাত (৩৭): আয়াত ১৮০ থেকে ১৮২]আপনার মহিমান্বিত প্রতিপালক তারা যা আরোপ করে তা থেকে পবিত্র। (১৮০) এবং শান্তি বর্ষিত হোক রাসূলগণের ওপর।

(১৮১) এবং সকল প্রশংসা সারা জাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য। (১৮২)এখানে চারটি মাসয়ালা রয়েছে: প্রথমত—মহান আল্লাহর বাণী: "পবিত্রতা আপনার প্রতিপালকের" এখানে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা মুশরিকরা তাঁর প্রতি যা আরোপ করে তা থেকে নিজেকে পবিত্র ঘোষণা করেছেন। "সম্মানের অধিকারী" শব্দটি এখানে 'বদল' (পরিবর্তিত শব্দ) হিসেবে এসেছে। এটি প্রশংসা হিসেবে 'নসব' (জবর) যুক্ত হওয়া এবং 'তিনি সম্মানের অধিকারী' অর্থে 'রফা' (পেশ) যুক্ত হওয়াও ব্যাকরণগতভাবে বৈধ। "তারা যা বর্ণনা করে" অর্থাৎ সঙ্গিনী ও সন্তান গ্রহণের যে বর্ণনা তারা আল্লাহর প্রতি আরোপ করে।

রাসূলুল্লাহ (সা.)-কে "আল্লাহর পবিত্রতা বর্ণনা" (সুবহানাল্লাহ) এর অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন: "এটি আল্লাহকে সকল প্রকার মন্দ থেকে পবিত্র ঘোষণা করা।" সূরা আল-বাকারায় এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা অতিক্রান্ত হয়েছে। দ্বিতীয়ত—মুহাম্মদ ইবনে সাহনুনকে "সম্মানের প্রতিপালক" (রাব্বুল ইজ্জাহ) এর অর্থ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল যে, এটি কেন বলা বৈধ হলো যখন 'সম্মান' আল্লাহর একটি সত্তাগত গুণ? অথচ 'ক্ষমতার প্রতিপালক' বা সত্তাগত অন্যান্য গুণের ক্ষেত্রে 'প্রতিপালক' শব্দটি এভাবে ব্যবহার করা হয় না। তিনি বললেন: সম্মান বা ইজ্জত হতে পারে...(১).

আল-খামিস অর্থ সৈন্যবাহিনী।(২). দেখুন খণ্ড ১, পৃষ্ঠা ২৭৬ ও ২৮৫ এবং পরবর্তী অংশ, দ্বিতীয় বা তৃতীয় মুদ্রণ; এবং খণ্ড ২, পৃষ্ঠা ৭৬ ও পরবর্তী অংশ, দ্বিতীয় মুদ্রণ।