As-Saffat

আস-সাফফাত: 149

37:149
টেক্সট কপি

মূল আরবি

فَٱسْتَفْتِهِمْ أَلِرَبِّكَ ٱلْبَنَاتُ وَلَهُمُ ٱلْبَنُونَ

English Translations

Sahih International

So inquire of them, [O Muḥammad], "Does your Lord have daughters while they have sons?

Muhsin Khan

Now ask them (O Muhammad SAW): "Are there (only) daughters for your Lord and sons for them?"

Taqi Usmani

So ask them, “Does your Lord have daughters while they have sons?”

Abul Ala Maududi

So ask their opinion: “(Are you convinced) that your Lord should have daughters and you should have sons?

Pickthall

Now ask them (O Muhammad): Hath thy Lord daughters whereas they have sons?

Yusuf Ali

Now ask them their opinion: Is it that thy Lord has (only) daughters, and they have sons?-

বাংলা অনুবাদ

তাইসিরুল কুরআন

এখন তুমি তাদেরকে (অর্থাৎ মক্কার কাফিরদেরকে) জিজ্ঞেস কর ‘কন্যাগুলোই কি তোমাদের প্রতিপালকের জন্য, আর তাদের নিজেদের জন্য পুত্রগণ?

রাওয়াই আল-বায়ান

অতএব তাদেরকে জিজ্ঞাসা কর, ‘তোমার রবের জন্য কি কন্যা সন্তান এবং তাদের জন্য পুত্র সন্তান’?

শাইখ মুজিবুর রহমান

এখন তাদেরকে জিজ্ঞেস করঃ তোমার রবের জন্য কি রয়েছে কন্যা সন্তান এবং তাদের জন্য পুত্র সন্তান?

ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া

এখন তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন, 'আপনার রবের জন্যই কি রয়েছে কন্যা সন্তান এবং তাদের জন্য পুত্র সন্তান?'

ফাতহুল মাজীদ

তুমি তাদের জিজ্ঞাসা কর : তোমার প্রতিপালকের জন্য কি কন্যা সন্তান রয়েছে, আর তাদের জন্য পুত্র সন্তান?

মুখতাসার

১৪৯. হে মুহামম্মদ! আপনি মুশরিকদেরকে নেতিবাচক প্রশ্ন করতঃ তাদেরকে জিজ্ঞেস করো, তোমরা কি আল্লাহর জন্য কন্যা সন্তান দাবি করছো যা তোমরা নিজেদের জন্য অপছন্দ করো। আর নিজেদের জন্য ছেলে সন্তান দাবি করছো যা তোমরা নিজেদের জন্য পছন্দ করো?! এটি কোন্ ধরনের বন্টন নীতি?!

তাফসীর

তাফসীর ইবনে কাসীর

১৪৯-১৬০ নং আয়াতের তাফসীর: আল্লাহ তাআলা মুশরিকদের অহমিকার বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তারা নিজেদের জন্যে তো পুত্র সন্তান পছন্দ করছে, আর আল্লাহর জন্যে নির্ধারণ করছে কন্যা সন্তান। তাদের কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করেছে শুনলে তাদের মুখ কালো হয়ে যায়, অথচ তারা আল্লাহর জন্যে ওটাই সাব্যস্ত করে। তাই মহান আল্লাহ বলেনঃ তাদেরকে জিজ্ঞেস কর তো যে, এটা কি ধরনের বন্টন যে, তোমাদের জন্যে তো পুত্র সন্তান, আর আল্লাহর জন্যেই রয়েছে কন্যা সন্তান?এরপর আল্লাহ পাক বলেনঃ আমি কি ফেরেশতাদেরকে নারীরূপে সৃষ্টি করেছিলাম, আর তোমরা তা প্রত্যক্ষ করছিলে? যেমন তিনি অন্য জায়গায় বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ “তারা ঐ ফেরেশতাদেরকে নারী রূপে সাব্যস্ত করেছে যারা রহমানের (আল্লাহর) বান্দা, তারা কি তাদের সৃষ্টি প্রত্যক্ষ করেছে?

সত্বরই তাদের সাক্ষ্য লিপিবদ্ধ করা হবে এবং তারা জিজ্ঞাসিত হবে।”(৪৩:১৯) প্রকৃতপক্ষে এটা তাদের মিথ্যা উক্তি মাত্র যে, আল্লাহর সন্তান রয়েছে, অথচ তিনি সন্তান থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্ত ও পবিত্র। এর ফলে তাদের তিনটি মিথ্যা ও তিনটি কুফরী পরিলক্ষিত হয়। (এক) ফেরেশতারা আল্লাহর সন্তান। (দুই) তারা আবার কন্যা। (তিন) তারা নিজেরাই ফেরেশতাদের পূজা করে। পরিশেষে এমন কোন জিনিস আল্লাহকে বাধ্য করেছে যে, তিনি নিজের জন্যে পুত্র গ্রহণ করেননি, বরং গ্রহণ করেছেন কন্যা? অন্য আয়াতে আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “তোমাদেরকে তিনি দান করেছেন পুত্র আর নিজের জন্যে ফেরেশতাদেরকে গ্রহণ করেছেন কন্যারূপে?

এটা তো তোমাদের অতি নিম্ন পর্যায়ের বাজে ও ভিত্তিহীন কথা!” আরো বলা হয়েছেঃ “তোমাদের কি বিবেক বুদ্ধি নেই যে, তোমরা যুক্তিহীন কথা বলছো? তোমরা কি বুঝ না যে, আল্লাহর উপর মিথ্যারোপ করা খুবই বড় অপরাধ? তবে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না? তোমাদের কি সুস্পষ্ট দলীল প্রমাণ আছে? যদি থেকে থাকে তবে তা পেশ কর? অথবা তোমাদের কাছে যদি কোন ঐশী বাণী থাকে তবে তাই আনয়ন কর? এটা এমনই এক বাজে কথা যে, এর স্বপক্ষে কোন জ্ঞানসম্মত ও শরীয়ত সম্মত দলীল প্রমাণ নেই। থাকতেই পারে না। মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ তারা আল্লাহ ও জ্বিন জাতির মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক স্থির করেছে।

অথচ জ্বিনেরা জানে যে, তাদেরকেও শাস্তির জন্যে উপস্থিত করা হবে।‘ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা' মুশরিকদের এই দাবীর পরিপ্রেক্ষিতে হযরত আবু বকর (রাঃ) প্রশ্ন করেনঃ “তাহলে তাদের মাতা কারা?” উত্তরে তারা বলেঃ “জ্বিন প্রধানদের কন্যারা।” অথচ অবস্থা এই যে, স্বয়ং জ্বিনেরা জানে এবং বিশ্বাস করে যে, যারা এই রূপ বলে, কিয়ামতের দিন তাদেরকে কঠিন শাস্তি প্রদান করা হবে। তাদের মধ্যে আল্লাহর কতক শত্রু এমনই চরম পরিচয় দেয় যে, শয়তানকে তারা আল্লাহর ভাই বলে থাকে। (নাউযুবিল্লাহি মিন যালিকা) আল্লাহ তাআলা এ থেকে আমাদেরকে নিরাপদে রাখুন! তারা যা বলে আল্লাহ তা থেকে পবিত্র ও বহু ঊর্ধে রয়েছেন।

পরে যে ইসতিসনা বা স্বতন্ত্র করা। হয়েছে তা হলো ইসতিসনা মুনকাতি এবং তা (আরবী)-এর সাথে করা হয়েছে। কিন্তু এ অবস্থায় (আরবী) ক্রিয়া পদটির সর্বনামে সমগ্র মানব জাতিকে বুঝাবে। এতে ঐ সব লোককে পৃথক করা হবে, যারা সত্যের অনুগত এবং সমস্ত নবী রাসূলের প্রতি ঈমান রাখে। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) বলেন যে, এই ইসতিসনা হচ্ছে (আরবী)-এর জন্যে অর্থাৎ তাদের সকলকেই আযাবে পতিত হতে হবে, কিন্তু তারা নয় যারা আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা। এ উক্তিটির ব্যাপারে চিন্তা-ভাবনার অবকাশ রয়েছে। এসব ব্যাপারে আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।

তাফসীর আবু বকর যাকারিয়া

এখন তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন, 'আপনার রবের জন্যই কি রয়েছে কন্যা সন্তান [১] এবং তাদের জন্য পুত্র সন্তান?'

[১] বিভিন্ন বর্ণনায় এসেছে আরবের কুরাইশ, জুহাইনা, বনী সালামাহ, খুযা’আহ এবং অন্যান্য গোত্রের কেউ কেউ বিশ্বাস করতো, ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা। কুরআন মজীদের বিভিন্ন স্থানে তাদের এ জাহেলী আকীদার কথা বলা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ দেখুন সূরা আন নিসা, ১১৭ ; আন নাহল, ৫৭-৫৮; আল-ইসরা, ৪০ ; আয্‌ যুখরুফ, ১৬-১৯ এবং আন নাজম, ২১-২৭ আয়াতসমূহ।

তাফসীর আল-কুরতুবী

[সূরা আস-সাফফাত (৩৭): আয়াত ১৪৯ থেকে ১৫৭] পূর্ণ পৃষ্ঠা

‌[সূরা আস-সাফফাত (৩৭): আয়াত ১৪৯ থেকে ১৫৭]অতএব আপনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন, আপনার রবের জন্য কি কন্যাসন্তান এবং তাদের জন্য কি পুত্রসন্তান রয়েছে? (১৪৯) নাকি আমি ফেরেশতাদের নারী হিসেবে সৃষ্টি করেছি আর তারা তা প্রত্যক্ষ করছিল? (১৫০) জেনে রেখো, তারা তাদের মিথ্যাচারের বশবর্তী হয়ে অবশ্যই বলে থাকে— (১৫১) "আল্লাহ সন্তান জন্ম দিয়েছেন"; আর নিশ্চয়ই তারা চরম মিথ্যাবাদী। (১৫২) তিনি কি পুত্রদের ওপর কন্যাদের অগ্রাধিকার দিয়েছেন? (১৫৩)তোমাদের কী হয়েছে? তোমরা কেমন ফয়সালা করছ? (১৫৪) তবে কি তোমরা উপদেশ গ্রহণ করবে না? (১৫৫) নাকি তোমাদের কাছে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ রয়েছে?

(১৫৬) তবে তোমরা যদি সত্যবাদী হও, তবে তোমাদের কিতাব নিয়ে এসো। (১৫৭)মহান আল্লাহর বাণী: "অতএব আপনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করুন, আপনার রবের জন্য কি কন্যাসন্তান এবং তাদের জন্য পুত্রসন্তান রয়েছে"—যখন তিনি নবী (সা.)-এর সান্ত্বনার জন্য পূর্ববর্তী জাতিদের সংবাদ উল্লেখ করলেন, তখন কুরাইশ কাফিরদের সেই দাবির বিরুদ্ধে দলিল পেশ করলেন যাতে তারা বলেছিল: ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা। তাই তিনি বললেন: "সুতরাং আপনি তাদের জিজ্ঞাসা করুন।" এটি সূরার শুরুতে অনুরূপ শব্দের সাথে সংযুক্ত (আতাফ), যদিও উভয়ের মাঝে ব্যবধান অনেক। অর্থাৎ হে মুহাম্মদ, আপনি মক্কাবাসীদের জিজ্ঞাসা করুন: "আপনার রবের জন্য কি কন্যাসন্তান?" এর কারণ হলো জুহাইনা, খুযাআহ, বনী মালিহ, বনী সালামাহ এবং আবদুদ দার গোত্রের লোকেরা দাবি করত যে ফেরেশতারা আল্লাহর কন্যা।

এটি একটি তিরস্কারমূলক প্রশ্ন। "নাকি আমি ফেরেশতাদের নারী হিসেবে সৃষ্টি করেছি আর তারা তা প্রত্যক্ষ করছিল?" অর্থাৎ আমি যখন তাদের নারী হিসেবে সৃষ্টি করি, তারা কি তখন উপস্থিত ছিল? এটি মহান আল্লাহর সেই বাণীর মতো: "এবং তারা ফেরেশতাদেরকে নারী সাব্যস্ত করেছে যারা দয়াময় আল্লাহর বান্দা; তারা কি তাদের সৃষ্টি প্রত্যক্ষ করেছিল?" [যুখরুফ: ১৯]। অতঃপর তিনি বললেন: "জেনে রেখো, তারা তাদের মিথ্যাচারের বশবর্তী হয়ে"—আর এটি হলো নিকৃষ্টতম মিথ্যা—"অবশ্যই বলে থাকে: আল্লাহ সন্তান জন্ম দিয়েছেন; আর নিশ্চয়ই তারা মিথ্যাবাদী" তাদের এই দাবিতে যে আল্লাহর সন্তান আছে, অথচ তিনি এমন সত্তা যিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং জন্ম নেননি।

আর "আলা" শব্দের পর "ইন্না" শব্দটিতে যের (কাসরা) হয়েছে, কারণ এটি বাক্য প্রারম্ভকারী শব্দ। সিবওয়াইহ বর্ণনা করেছেন যে "আমা" শব্দের পর যবর বা যের উভয়ই হতে পারে, যেখানে যবর হবে এই ভিত্তিতে যে "আমা" শব্দটি "আলা" এর অর্থে ব্যবহৃত। আন-নাহহাস বলেন: আমি আলী বিন সুলায়মানকে বলতে শুনেছি যে, "আমা" এর সাথে সাদৃশ্য রেখে "আলা" এর পর যবর প্রদান করা জায়েয, তবে আলোচ্য আয়াতে যের (কাসরা) ছাড়া অন্য কিছু জায়েয নেই, কারণ এর পরবর্তী শব্দটি রফ (পেশ) অবস্থায় আছে। "মিথ্যাবাদী" পর্যন্ত কথাটি শেষ হয়েছে। এরপর "তিনি কি বেছে নিয়েছেন" (আ-সতাফা) বাক্যটি ধমক ও তিরস্কারের অর্থে শুরু হয়েছে, যেন তিনি বলছেন: তোমাদের জন্য আক্ষেপ, "তিনি কি কন্যাদের বেছে নিয়েছেন" অর্থাৎ তিনি কন্যাদের পছন্দ করলেন আর পুত্রদের বর্জন করলেন।

সাধারণ পাঠরীতি হলো "আ-সতাফা" এর শুরুতে হামযায়ে ক্বতঈ (বিচ্ছিন্নকারী হামযা) পাঠ করা, কারণ এটি একটি প্রশ্নবোধক হামযা যা শব্দে প্রবেশ করেছে...